somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সহজাত

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Youtube video link
অফিস ফাইলের ব্যস্ততার পাহাড় অতিক্রম করে
ক্ষিপ্ত মন, ক্লান্ত দেহটাকে টানতে টানতে বাড়ি ফিরছিলাম
হটাত মাঝপথে একটা নার্সারিতে দৃষ্টি আটকে গেল
কত কত সুন্দর সুন্দর ফুল তাতে খেলে আছে
হলুদ, সাদা, লাল, নী্ল, বেগুনি
আমি কখনই ফুল পিয়াসী ছিলাম না
তবুও কি জানি কি মনে করে
একটা গোলাপের চারা কিনে বাড়ি ফিরলাম।
তারপর সব বদলে গেল
আমার দিন, রাত্রি-ভোর
অলস সময়, ব্যস্ততা সব-
প্রতিদিন পরিচর্যায় অনাকাঙ্ক্ষিত পোকা মাকড়
থেকে রক্ষা করতে আমার সে কি প্রচেষ্টা।
কত অলস বিকেল, ক্লান্ত দুপুর
জ্যোৎস্না রাত কেটেছে আমাদের অগোছালো গল্পে ।
এক সকালে ঘুম ভাঙ্গা ঝাপসা চোখে দেখি
চারা গাছে কলি এসেছে।
আমি আনন্দে আত্মহারা হয়েছিলাম
তীব্র আন্দের স্রোত খেলছিল আমার ভেতরে
সারাটা দিন কি খুসিতেই না আমার কেটেছে।
একদিন কলিটা ফুল হয়ে ফুটলো, টসটসে লাল
সে এখন প্রস্তুত কেশবতি বালিকার খোপার শোভা বারাতে
কাপা কাপা হাতে কোন এক প্রেমিকের ইতিহাস হতে।
এক বিকেলে বাড়ি ফিরে দেখি
একটা অচেনা, অজানা ভ্রমর তাতে বসে আছে
মুহূর্তেই তীব্র হিংসা আমার মাথা চারা দিয়ে উঠলো
রক্ত লাভার মত ফুটতে থাকলো
আমি এক থাবায় ভ্রমরটাকে মুষ্টি বদ্ধ করে ফেললাম
নৃশংস ভাবে পায়ের তলায় পিষে মারলাম
তারপর, গাছের প্রতি আমার আর কোন মোহ ছিল না
আমি ফিরেও তাকায়নি।
এক সকালে হটাত চোখ পরতেই দেখি
ফুলটা চুপসে গেছে, নেতিয়ে পড়েছে
সব জৌলুস নিভে গেছে
তবে কি প্রেমিকের মৃত্যুতেই সে আকালে প্রাণ দিলো
ব্যাথার দহনেই তার এই করুণ পরিণতি?
আমার ক্ষোভ বাড়তে থাকলো
রাগে সমস্ত শরীর কেপে উঠলো
এক টানে শিকর সহ গাছটাকে উপড়ে ফেললাম
হাতের মুঠোয় দুমরে মুচড়ে ছুরে দিলাম নোংরা ডাস্টবিনে
আমার প্রতি তীব্র এই অবহেলা আমি সইতে পারিনি।
রাগ ঠান্ডা হতেই দেখি হাত ভর্তি রক্তের দাগ
ধুয়ে ফেলতে গিয়ে তীব্র জ্বলুনি অনুভব করলাম
অসম্ভব যন্ত্রণা আর অসংখ্য ক্ষত চিহ্নে কাঁতর হলাম
বেদনায় উপর্যুক্ত ভরপুর আমি
তবুও আমার ঘৃণা এক বিন্দু কমেনি।
এখনও আমি প্রতি রাতে স্বপ্নে দেখি
একটি চারা গাছ, লাল টকটকে গোলাপ
একটা অজানা অচেনা ভ্রমর পায়ের তলায় পিষ্ট
অজস্র রক্ত, অসংখ্য ক্ষত চিহ্ন।
স্বপ্ন ঘোরেই আমি হিংসায় জ্বলি রাগে ফুঁসি
স্বপ্ন ঘোরেই আমি তীব্র ভয়ে সঙ্কুচিত হই।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৫৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঢাকার পথে পথে- ২

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:১১


১। ঢাকা শহরে এখন আর খালি জায়গা নেই। সবাই বিল্ডিং করে ফেলছে। খুব হাঁসফাঁস লাগে।


২। আগোরা'তে গেলাম ঝুড়িসহ ফল কিনতে দাম নিলো সাড়ে তিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্কাইপ বন্ধে সমস্যা কি?

লিখেছেন nahih09, ২০ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ২:০৭

স্কাইপ বন্ধে সমস্যা কি? এ বিষয়ে আলোচনার আগে এটা জানতে হবে বাংলাদেশে স্কাইপ ব্যাবহার করে টা কে?



বাংলাদেশে স্কাইপ ব্যবহারকারী খুবই কম। তবে যে কয়জন ব্যবহার করে তাদের প্রায় এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঘুঘু পাখির বসত গড়ি!

লিখেছেন নীল আকাশ, ২০ শে নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:১৫


ছবিঃ ১ - আমার বারান্দায় ঘুঘু পাখি

আজকাল প্রায় সকাল বেলাই আমার ঘুম ভাঙ্গে বিভিন্ন পাখিদের সুমধুর ডাকে। কি যে ভালো লাগে! সকালে উঠেই মনটা একদম অন্য রকম হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালী, মানুষকে খেতে দেয়, দরিদ্রদের খেতে দেয়!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২০ শে নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:০৩



এই ঘটনাটি ঘটেছিলো আমার দশম শ্রেণীর শুরুর দিকে: আমার ঘনিষ্ঠ ক্লাশমেট, মেশকাত ইলেকটিভ ম্যাথে একটু কাঁচা ছিলো; সে আমার দলে ফুটবল খেলতো; তাই, তাকে অংকে সাহায্য করতে হতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

উন্নয়ন ফর্মূলা কি মার খেয়ে যাচ্ছে?

লিখেছেন খাঁজা বাবা, ২০ শে নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৫৯




নমিনেশন ফর্ম বিক্রি শেষ। এখন চলছে সাক্ষাতকার। বি এন পির স্বাক্ষাতকার পর্বে তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সে প্রার্থীদের সাক্ষাতকার নিচ্ছিলেন। এতে প্রথম আওয়ামীলীগ নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করে। যা নির্বাচন কমিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×