রাতের নিস্তব্ধতা, না বলা কথাগুলো যেন সুর হয়ে চোখে স্বপ্ন এঁকে দিচ্ছে। নিশ্চুপ রাত কানে কানে কী যেন বলে যায়। আর ওদিকে পিয়ানো, বেহালা-সবকিছু যেন রাতের ঐ সুরপরীটার ছোঁয়ায় হৃদয় ভরে দিতে চায় সপ্তসুরের ভালোবাসায়। রাতের বলে যাওয়া কথাগুলোর সেই কম্পোজিশনকে বলে "নকটার্ন (Nocturne)"। অষ্টাদশ শতকে প্রথম এই ধারাটি আলাদা করে সামনে চলে আসে। অবশ্য রাতের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ ছিল। ঊনিশ শতকে আইরিশ কম্পোজার জন ফিল্ডের হাত ধরে রোমান্টিক নকটার্নের পরিপূর্ণ প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠা। রাত বাড়ছে, আর মন শুধু সেই সুরেই ভেসে চলেছে অন্য কোন জগতে, যেখানে নেই কোন কোলাহল, পঙ্কিলতা। শুধুই রাতের জন্যে আজকের সবগুলো সুর।
জন ফিল্ডের ১২তম নকটার্ন
এরপরেই যার নাম বলতে হয়, তিনি হলেন চপিন ওয়াল্টজ- আমার অন্যতম প্রিয় কম্পোজার। চপিনের ২১টি নকটার্নের মধ্যে একটি দিলাম
বিথোভেন এর মুনলাইট সোনাটার কথা তো বলতেই হবে।
ফ্রেঞ্চ কম্পোজার এরিক সাতি পাঁচটি ছোট নকটার্নের একটি সিরিজ কম্পোজ করেছিলেন। এরমধ্যে আমার সবচাইতে ভালো লাগা কম্পোজিশনটি দিলাম।
নব্য-ক্লাসিকাল যুগের আইরিশ-নরওয়েজিয়ান যুগল বাদ্যযন্ত্রী "সিক্রেট গার্ডেন" এর নকটার্ন।
এনইয়া এর "ইভিনিং ফলস" যদিও নকটার্ন নয়, তারপরও শুনছি এটা এখন।
ফ্যান্টম অব অপেরার "মিউজিক অব দ্যা নাইট"- রাতে আমার লিস্টে।
সবশেষে পল দ্যা সেনেভিল্লের কম্পোজিশন এবং রিচার্ড ক্ল্যাডারমেন এর "ব্যালে পুওর আদালিনে"- ভেসেই যাচ্ছি, ভেসেই যাচ্ছি।
এই পোস্টটির সবশেষ কম্পোজিশনটি এই মূহুর্তে ঘুমিয়ে থাকা আমার ভালোবাসার পরীটার জন্যে, যার সেই লক্ষী হয়ে ঘুমানো চেহারা আমি চোখ দুটো বন্ধ করলেই দেখতে পাই। জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে আসা চাঁদের আলো যার ঐ ঘুমিয়ে থাকা চোখে স্বপ্ন এঁকে দিচ্ছে সেই সুরের মায়ায়।
আগের দুপুরটি কেটেছে বাঁশির মোহন মায়ায়
তার আগের রাতটি ছিল পিয়ানোর
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০০৯ ভোর ৫:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


