আজ বাংলাদেশ সময় সকাল ৯.৩০। আমেরিকার উদ্দেশ্যে উড়ে গেল কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট। আর সেই সাথে বুঝতে পারলাম আমার জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুটি চলে গেল। সেই স্কুল জীবন থেকেই একটু ইন্ট্রোভার্ট ছিলাম আমি। সেই কারণে বন্ধুর সংখ্যা নেই বললেই চলে। সংখ্যাটা আসলে শুন্যই ছিল। এরপর কলেজ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়, তারপর কর্মজীবন। পরিচয়ের পরিধি বাড়তে থাকে। আমার এই বন্ধুটির সাথে পরিচয় কর্মজীবনে এসে। একই ইউনিভার্সিটি, তবে ডিপার্টমেন্ট আলাদা। হলে আমার রুমে আসতো, সেই থেকে শুধু নাম জানতাম। কথা বলে খুবই কম। তাই সখ্যতা গড়ে ওঠেনি তখন। প্রকৃত বন্ধু বলতে যদি কিছু থেকে থাকে, তাহলে আমার এই বন্ধুটিই থাকবে সবার আগে। যাবার আগ মুহূর্তটি পর্যন্ত বন্ধু আমাকে ফোন করে জানাচ্ছিল কোথায় সেই মুহূর্তে সে। বাসা থেকে বের হবার সময়টাতে একবার, এয়ারপোর্টে পৌঁছে একবার, ইমিগ্রেশনে ঢুকবার পর আবার, প্লেনে ওঠবার পর আবার আমাকে ফোন করেছে। সকালে ফ্লাইট থাকার কারণে খুব ভোরে বের হয়েছিল। আমি তখনও ঘুম। যেতে পারিনি এয়ারপোর্টে। প্রতিবার ঘুম ভেঙে ফোনটা ধরেছি। শেষবার বন্ধু যখন ফোন করল ৯.৩৮ এ, তখন ধরতে পারিনি। অন্য রুমে ছিলাম। দৌড়ে এসে ধরতে ধরতে মিসডকল হয়ে গেল। সাথে সাথে কলব্যাক করলাম। তখন দেখি অন্যপ্রান্তে এক নারীকণ্ঠ আমাকে জানাচ্ছে বন্ধু আমার সীমানা ছাড়িয়ে। বন্ধুটি নেটওয়ার্কের শেষ সীমা পর্যন্ত আমাকে স্মরণ করেছে!!
জানিনা কখনও দেখা হবে কীনা, দুজন এখন দুই মহাদেশে। জীবনের কাঁটাগুলো খোঁচাবে এখন থেকে আরো বেশি করে। তারপরও আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আবার দেখা হবে বন্ধু। কারণ পৃথিবীটা এখন অনেক ছোট।
খালেদ, যেখানেই থাকো, এটা জেনো, তোমার এই বন্ধুটির শুভকামনা তোমার পাশেই থাকবে, আজীবন।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


