somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আনন্দ-নিরানন্দের ঈদ: প্রেক্ষিত পরবাস

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ আর ঈদের শাব্দিক অর্থ বলার দরকার নেই। মুসলিম মাত্রই বুঝেন ঈদ মানে অনন্দ, খুশী সর্বোপরি জাতীয় উৎসব। তাই বলে সবখানে, সবার ভাগ্যে কি সেই নির্মল আনন্দ বা খুশী জুটে? আনন্দ বা উৎসব যে বড়ই আপেক্ষিকও বটে। মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশই নিজেদের আভ্যন্তরীণ অসন্তেষে বিধ্বস্ত কিংবা বিশ্ব পরাশক্তির চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে খন্ড-বিখন্ড। তাই স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে ঈদের আনন্দকে সাদর স্বাগত জানাবে সেই ভূখন্ড কই! সম্মিলিত আক্রমণে ক্ষত-বিক্ষত সম্পদে-সৌন্দর্যে অপরূপ সুপ্রাচীন ঐতিহ্যে গরিয়ান ইরাক। জঙ্গি দমনের নামে এক সময়ের আফগান শার্দুলদের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিচ্ছে মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত সামরিক অভিযান এবং তারই বিরূপ প্রভাবে পার্শবর্তী দেশ পাকিস্তানকে দিতে হচ্ছে চরম মাশুল। সর্বোপরি আজ এখানে তো কাল সেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মলিন করে দিচ্ছে ঈদ বা উৎসবের শত আয়োজনকে। তবু কোথাও না কোথাও সন্ধ্যার কালো মেঘ মাড়িয়ে উঁকি দেয় ঈদের বাঁকা চাঁদ, স্মিথ হেসে জানান দেয় শ্বাশত উৎসব-আনন্দের আগমনী।
বিলেত। বাঙালি মুসলমানের উল্লেখযোগ্য অংশের কাংঙিক্ষত বসবাস। যারা মনে করেন ‘পৃথিবী আমার ঘর’ তাদের মনে আজ আর পরবাস বলে কোনো আপসোস নেই। তাছাড়া সপরিবারে বসবাস, স্বকীয় সভ্যতা-সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ আর নিজ ভাষার মিডিয়া প্রচারণা সর্বোপরি গ্লোবালাইজেশন প্রবাসী বাঙালিদের সাত সমুদ্রের দূরত্বকে বহু পূর্বেই মিলিয়ে দিয়েছে একটি চ্যানেলের সীমান্ত রেখায়। তাই আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় বিলেত তথা প্রবাস জীবনে ঈদের আনন্দ।
যারা প্রবাসী, তাদের জীবনে কেমন আনন্দের ঢালি নিয়ে আসে ঈদ? কেমনই বা কাটে ঈদের দিন? এ কথা ঠিক যে, অনেক প্রবাসী পরিবার-পরিজন নিয়ে বিলেতে স্থায়ীভাবে বসবাস করার ফলে ঈদের দিনটি বেশ ভালোভাবেই কাটে। একে অন্যের খুব কাছাকাছি বসবাস সৃষ্টি করেছে একিট সমৃদ্ধ বাঙালি কমিউনিটির। মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুল কলেজ, কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে নিজেদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ড করে চলছে নিজেদের মতো করে। ঈদগাহ ঈদ উপযাপনে এক মহীয়ান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। মুসলিম বিশ্বে দুই ঈদের নামাজ আদায়ের ঐক্যের এক অন্যন্য নিদর্শন স্থাপত্য শৈলী সম্বলিত পৃথক ঈদগাহ। সেই গরিয়ান ঐতিহ্যের চর্চা বিলেতেও শুরু হয়েছে। গত বছর বিলেতেও খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায়ের আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছে মুসলিম কমিউনিটি। এতে করে ঈদগাহের খোলা আকাশের নীচে ঈদের নামাজ আদয়ের এতোদিনকার অপূর্ণ আশাও ঘুচালো। এসব বিবেচনায় বলা যায় অধিকাংশেরই ঈদের দিন কাটে আনন্দ আহলাদে। কিন্তু যাদের পরিবার-পরিজন নেই অথবা পরিবার থেকেও নেই তাদের জীবনে ঈদ ধরা দেয় না তার পূর্ণ অবয়বে।
বৃটেনের বেশীরভাগ বাংলাদেশী লোকজন রেস্টুরেন্ট বা ক্যাটারিং সেক্টরের সাথে জড়িত। কিন্তু পুরো বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করেও বছরের দু’টি মাত্র ঈদ বা অনন্দ উৎসবে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ বা ফুসরত মিলে না। এমনকি এই মহোৎসবে মিলিত হবার জন্য ছুটি দাবী করারও সাহস হয়না চাকুরী হারাবার ভয়ে। একবার ভেবে দেখবেন কি পুরো একটি মাস রোযা বা সংযম সাধনের পর রোযা ভাঙ্গার পরের দিনই আমরা ভীষণ স্বার্থপর হয়ে যাই। ঈদের মতো শ্রেষ্ঠ উৎসবে নিজে এবং অন্যকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেবার মতো ত্যাগও আমরা দেখাতে ব্যর্থ হই। বরং কারো কারো কর্মব্যস্ততায় মনে হয় নিয়মিত লেন-দেনে ঈদ যেন বাড়তি উপদ্রব। যতো তাড়াতাড়ি পারা যায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সেরে ফেলেই বাঁচি।
সকল ধর্মে, সব জাতিতে কম-বেশী উৎসবের রেওয়াজ রয়েছে। তা না হলে মানুষের দৈনিন্দন জীবন-যাপন এক ঘেঁয়ে হয়ে যেতো। মুসলিম সমাজে বছরে দুই ঈদ সর্বোচ্চ আনন্দের এবং মহিমান্বিত মহোৎসব। আসন্ন ঈদ জীবনের সকল ধাপে, বিশ্বের সব মানুষের জীবনে নিয়ে আসুক সুখও সমৃদ্ধি Ñ এটাই হোক এবারের মহোৎসবক্ষণের প্রত্যাশা।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×