রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল
আরবি শিক্ষার নামে জামায়াতের নেতাদের বই পড়া বাধ্যতামূলক!
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সিলেবাসের বাইরে আরবি শিক্ষার নামে জামায়াতের নেতাদের লেখা বিভিন্ন বই বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল সুত্র জানায়, স্কুলে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জামায়াতের নেতা আবুল কালাম আজাদ ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর লেখা বিভিন্ন বই বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো হচ্ছে। এনসিটিবির সিলেবাসে এসব ক্লাসে ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক রাখা হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ স্কুলে মৌলবাদী শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করতে বিভিন্ন ক্লাসে ধর্ম শিক্ষার পাশাপাশি আরবি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে।
রবিউল করিম নামের একজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, ‘আমার মেয়ে এ স্কুলে পড়ালেখা করছে। কিন্তু আরবি শিক্ষার নামে এখন থেকেই যদি তাকে জামায়াতের নেতাদের লেখা বই পড়ানো হয়, তাহলে সে স্বাভাবিকভাবেই মৌলবাদী চিন্তাভাবনা নিয়ে বড় হবে।’ তিনি স্কুলে আরবি শিক্ষার নামে এই কর্মকান্ড পরিচালনা করাকে দেশে মৌলবাদী শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করার সুদুরপ্রসারী নীলনকশা বলে উল্লেখ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই স্কুলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও তাদের স্কুলে বাধ্যতামূলকভাবে আরবি পড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে ২০০৭ সালে ১২ জন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের চাকরির বয়স ৬৫ বছর পার হলে তাঁরা চাকরি পাঁচ বছর বাড়ানোর আবেদন করেন। কিন্তু তাঁদের কারও সময় বাড়ানো হয়নি। মূলত এর পর থেকেই স্কুলের পরিচালনা পর্যদের সভাপতি ও কট্টর জামায়াতপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম ও আরেক কট্টর জামায়াতপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত স্কুলের অধ্যক্ষ এ বি এম কমরুদৌলা স্কুলে মৌলবাদী শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করতে তৎপর হয়ে ওঠেন। এই দুজন ও উপাধ্যক্ষ আব্দুল্লা-আল-মাহমুদ জামায়াত-শিবির সমর্থিত পাঁচজন শিক্ষক নিয়োগ করেন। এ ছাড়া স্কুলের শিক্ষার্থীদের আরবি পড়ানোর জন্য আকতারুজ্জামান আনসারী ও ইসরাফিল নামের কট্টর জামায়াতপন্থী দুজনকে পার্টটাইম শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে স্কুলের অধ্যক্ষ কমরুদৌলা দাবি করেন, এনসিটিবির বাইরে স্কুলে বাধ্যতামূলকভাবে আরবি পড়ানো হলেও বর্তমানে তা পড়ানো হচ্ছে না। তিনি বলেন, স্কুলের পরিচালনা পর্যদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ধর্ম শিক্ষার পাশাপাশি আরবি পড়ানো হতো।
পরিচালনা পর্যদের সভাপতি নজরুল ইসলাম স্কুলে এসসিটিবির সিলেবাসের ধর্ম শিক্ষার বাইরে শিক্ষার্র্থীদের আরবি পড়ানোর বিষয় সম্পর্কে অবগত নন বলে দাবি করেন। কমরুদৌলা ও নজরুল ইসলাম মৌলবাদী শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করার অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুস সোবহান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



