ছিনতাইকারী ধরতে বোরকা পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মাঠে নেমেছিল। কিন্তু আমাদের পুলিশের সোনার সদস্যরা বোরকা পরে নিজেরাই ছিনতাই করে অবশেষে বোরখা অভিযান ব্যর্থ করে দিয়েছে। মহা চিন্তিত প্রশাসন। ডিএমপি কমিশনারের মাথায় নয়া এক বুদ্ধি গজাল। অভিনব এক কৌশল আবিস্কার করলো তারা ছিনতাইকারী পাকড়াও করতে। একটা গল্প দিয়ে শুরু করি। গল্প নয় সত্যি ঘটনা।
গতকাল বাসা থেকে বের হয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলাম। পিছন থেকে এক ভদ্র লোক ডাক দিল। থামলে কাছে এসে জানতে চাইল, “ভাইজান ঢাকা ব্যাংকটা কোন দিকে?” আমি বললাম, কোন ব্রাঞ্চ? ভদ্রলোক ব্রাঞ্চের নাম বলতে পারলোনা। বললো, “যে কোন এক ব্রাঞ্চ হলেই হবে” (আসলে অপারেটর হিসাবে সে ছিল অনভিজ্ঞ। তাই দক্ষতার পরিচয় দিয়ে ব্রাঞ্চের নাম বলতে পারেনি)। যাই হোক, আমি তাকে শাপলা চত্বরের কাছাকাছি সারা টাওয়ারে অবস্থিত ঢাকা ব্যাংকের একটি ব্রাঞ্চ দেখিয়ে দিলাম। যথারীতি আমি আমার পথে রওয়ানা দিলে লোকটি পেছন থেকে আমাকে আবার ডাক দিল। আমি আবারও দাঁড়ালাম। খুব কাছে এসে তার কাছে রক্ষিত ব্যাগের চেইন খুলে ভেতর থেকে একটি চেক দেখাল আমাকে। আমি দেখলাম চেকটি ঢাকা ব্যাংকেরই। চেকে টাকার পরিমান ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা উল্লেখ করা থাকলেও কোন ব্রাঞ্চের নাম উল্লেখ করা নাই। বিষয়টা আমাকে অবাক করলেও আমি তাকে কিছুই বললাম না। চেকটি দেখিয়ে সে আমাকে বললো, “অফিস থেকে এসেছি এই চেকটা জমা দিয়ে টাকা তুলতে কিন্তু ব্যাংক খুঁজে পাচ্ছিনা।” আমি আবারও তাকে ব্যাংকের ব্রাঞ্চ দেখিয়ে দিলাম। এবার আমার বিদায়ের পালা। আমি চলে যাচ্ছি। পেছন ফিরে দেখি আমার দেখানো পথে লোকটি ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কিছুদুর যাওয়ার পর কার সাথে যেন মোবাইলে আলাপ করে ব্যাংকে ঢুকলো। ভদ্রলোকের নাটক এখানেই শেষ। কিন্তু আমার মনে কিছু প্রশ্নের উদ্রেক ঘটেছিল।
১। ব্র্যাঞ্চ দেখিয়ে দেয়া স্বত্ত্বেও ভদ্রলোক সেই পথে যেতে দেরী করলো কেন?
২। ব্যাগ খুলে আমাকে বড় অংকের চেকটি দেখানোর উদ্দেশ্য কি?
৩। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতিতে এক লক্ষ টাকার একটি চেক এমন বোকা লোককে দিয়ে ব্যাংকে পাঠানোর উদ্দেশ্য কি?
৪। চেকের মধ্যে ব্রাঞ্চের নাম উল্লেখ নাই কেন কিংবা ভদ্রলোক আমাকে যে কোন ব্রাঞ্চ হলেই চলবে এমন কথা বললো কেন?
প্রশ্নের উত্তর পেতে এবার আমার গল্পের শুরু। ডিফেন্স অফিসার এক বন্ধুকে ঘটনাটা মোবাইলে খুলে বলতে সে আমাকে জানালো রাস্তায় ছিনতাইকারী ধরতে ডিএমপি নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। সাদা পোষাকের পুলিশ এই রকম আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে রাস্তায় সন্দেহজনক লোকজনকে দেখিয়ে তাদেরকে ফলো করবে। চেকের ব্যাপারটি ছিল এই রকম। কাউকে চেকটি দেখাল। সে যদি অপরাধমুলক কাজে জড়িত থাকে তাহলে চেক বহনকারী লোককে ফলো করবে। আবার তাকে ফলো করবে সাদা পোষাকে পুলিশের আরেকটি টীম। তারপর চোর পুলিশ খেলা শুরু।
গল্প শুনে আমি হাসলাম। শেষ পর্যন্ত আমাকে পুলিশের সন্দেহ হলো! ও ভালো কথা, ইদানিং মাথার চুলটা একটু বড় রাখার চেষ্টা করছি। এটাই বোধহয় পুলিশের মাথাব্যথা।
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: মাথার চুল বড় রাখা থেকে আপাতত বিরত থাকুন। পুলিশি অভিযান শেষ হলেই আবার মাথার চুল বড় করুন। বলাতো যায়না আমাদের সোনার পুলিশ আপনাকে নিয়ে আবার কি কান্ড করে বসে!
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



