কি প্রশ্ন শুনে অবাক হলেন? ধর্ম আবার জন্ম দেয় কিভাবে?
ঘটনা ১:
একটা ছেলে একটা মেয়ে পরস্পরকে ভালোবাসে। তাদের ভালোবাসার ফসল হিসেবে আসে ফুটফুটে একটি শিশু। নতুন রুপ নেয় তাদের ভালোবাসা। দুইজনের ভালোবাসায় সিক্ত হয় শিশুটি। বলেন তো, শিশুটি কি আলাদা আপনার আমার থেকে? তার হাত, পা, চোখ, নাক, মুখ, এমনকি রক্ত, মাংশ, কোষ, কনিকা, ক্রমোজোম সবকিছুতেই মানুষের বৈশিষ্ট ঠিক আপনার মত আমার মত। কিন্তু আপনি তো তা মানবেন না। শিশুটির নাম দিবেন জারজ। কি তার দোষ? এই যে তার জন্মদানকারি বাবা মা তার জন্মের আগে প্রচলিত নিয়মের অর্থহীন একটা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে যায়নি, অর্থহীন কিছু বুলি আর শ্লোক আউড়ায়নি অথবা কার নামে সপথ করে বলেনি আমরা বিবাহিত। এইমাত্র আপনার ধর্ম জন্ম দিল একটা জারজ!
ঘটনা ২:
মেয়েটির কোলে সুন্দর একটি বাচ্চা। কার জিগেস করতেই মেয়েটি বলল কার আবার আমার। বাহ খুব সুন্দর তো বাচ্চাটা। বাচ্চার বাবা কি করে? কথার পিঠে জিগেস করতেই রেগেউঠে জবাব দেয় নাই। নাই মানে? কৌতুহলি প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত জানা যায় মেয়েটি ভালোবাসতো একটি ছেলেকে। ছেলেটি বাসত কিনা যানাযায়নি। কিন্তু মেয়েটি যখন অন্ত:সত্বা হয়ে ছেলেটির কাছে যায় ছেলেটি এবর্শনের কথা বলে। মেয়েটি রাজি না হয়ে নেয় এই সাহসী পদক্ষেপ। পরে আর কোন যোজাযোগ রাখেনি ছেলেটির সাথে। আপনি এখন মেয়েটিকে বাহবা বা ছেলেটিকে ঘৃনা না করে চিৎকার করে উঠবেন জারজ বলে। সুন্দর বাচ্চাটি আর সুন্দর থাকবেনা। আপনার ধর্ম জন্ম দিবে আরেকটা জারজ!
ঘটনা ৩:
এবার একটি সুখি দম্পতির গল্প। না ভয় নেই তারা আনুষ্ঠানিক দম্পতি। সুখি ও সচ্ছল ভালোবাসার সংসার। একটা মেয়ে স্কুল শুরু করেছে সবে। তাই নিয়ে তাদের ব্যাস্ততা। স্কুলে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা। নতুন বই।, খাতা, কলম, পেনসিল, জামা, জুতো সব নিয়ে হুলুস্থুল। কিন্তু তাদের পেছনের কাহিনি শুনবেন? তখন বিয়ের ১০ বছর পার হয়েছে কোন বাচ্চা নেই তাদের। হবেও না কোনদিন ডাক্তার জানিয়ে দিয়েছে। তবে একটা আশা তাদের দিয়েছে ডাক্তার তা হল মঝে মাঝে হাসপাতালে এতিম বাচ্চা পাওয়া যায় এমন পাওয়া গেলে জানাবে তাদের। একদিন ফোন এলো ডাক্তারের বলল বাচ্চা পাওয়া গেছে। ছুটে যায় দম্পতি হাসপাতালে। ডাক্তার জানায় বাচ্চার বাবা মায়ের কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি জন্মের পরেই বাচ্চাটি ফেলে চলেগেছে বাচ্চার মা। কোন সমস্যা নেই। বার্থসার্টিফিকেট বা আইনি যাবতিয় কাগজপাতি রেডিকরে ফুটফুটে বাচ্চা নিয়ে বাড়ি ফেরে দম্পতির। আপনি কি করবেন এখন? ডিএনএ টেস্ট? মিলবে না আর আপনি উল্লাসে রি রি করে উঠবেন জারজ বলে। আপনার ধর্ম জন্ম দিল আরেকটি জারজ!
শেষ করি আরেটা গল্প দিয়ে না এইবার গল্প না সত্যি। “স্টিভ জবস্” নাম শুনে থাকবেন। হ্য অ্যাপেল এর কর্নধর। তার গল্পটা কি জানেন? ২নং ঘটনাটা পড়েন। হ্যা অনেকটা এমনই। তার মা ছিলেন একজন অবিবাহিত তরুণী, পড়ালেখা শেষ হয়নি তখনও। তিনি পৃথিবিতে এসে পড়েন অনেকটা অসময়েই। বাধ্য হয়ে তার মা তাকে দত্তক দিয়ে দেয় অন্য এক পরিবারের কাছে।
কি নাক কুঁচকাচ্ছেন? হ্যা আপনি তাকে জারজই বলবেন। কারন এইমাত্র আপনার ধর্ম জন্ম নিল আরেকটি জারজ। আপনার কানে যে আইপড, পকেটে যে আইফোন, কোলে যে ম্যকবুক, স্বপ্নে যে আইপ্যাড সবকিছুর পেছনে এই জারজ।
মানুষ জারজ হয়ে জন্মায় না। মানুষ জারজ জন্ম দেয় না। জারজ হয়ে সে জন্ম নেয় মানুষের মনে। ধর্মই সেই জারজের জন্মদানকারী।
দ্বিমত থাকলে যুক্তি দেখিয়ে দিয়ে মাইনাস দিয়ে যান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


