জামাত রাজনীতির রাজনৈতিক বিচার
২৫ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:০৬
লেখাটা লিখতে প্ররোচিত হয়েছি মাইনুলের নিচের ব্লগটা পড়ে। মইনুলকে ধন্যবাদ।
Click This Link
জামাত বিষয়ক গালাগালি, তর্কবির্তক করতে যদি আমরা সাবালকত্ত্বের পরিচয় দিতে পারি তবে এই লেখা সার্থক বিবেচনা করা যাবে।
মইনুলের লেখাটার বিষয় হিশাবে নতুন নয়। যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক গ্লানি জামাতের বিশেষ করে জামাতের তরুণ কর্মীদের ব্যতিব্যস্ত করে। আমি সেভাবেই দেখেছি। মইনূল লিখছেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে জামাত বাংলাদেশকে মেনে নিয়েছে এবং বাংলাদেশে একটা শক্তিশালী দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক দল হিসাবে আবির্ভুত হয়েছে। "জামাত বাংলাদেশকে মেনে নিয়েছে " -- এখান থেকেই জামাতের রাজনীতির রাজনৈতিক বিচার শুরু করা যেতে পারে। তবে তার আগে কোর্টকাচারির আইনী দৃষ্টিতে জামাতের রাজনীতির বিচার নিয়ে কিছু কথা শেষ করবো।
স্বাধীনতাযুদ্ধ, জামাত, যুদ্ধপরাধ ইত্যাদি বিষয়ে যেকোন আলোচনা প্রায় সবসময়েই আমরা প্রপাগান্ডার লড়াই হিসাবে থেকে যেতে দেখেছি, সিরিয়াস কোন আলোচনায় এর উত্তরণ ঘটেনি। রাজনৈতিক দিক অথবা সাংবিধানিক আইনী দিক - কোন দিক থেকেই পরিপক্কতা দেখিয়ে কোন আলোচনা তুলে আমরা প্রমাণ পারিনি যে ৩৮ বছর ধরে যে আবেগ প্রকাশ বা প্রপাগান্ডা করেছি এবার একে ছাড়িয়ে আমরা সাবালক জাতি হয়েছি; আমরা এখন রাষ্ট্র গঠন, এর রাজনৈতিক দল, সাংবিধানিক আইন নিয়ে কথা বলার মত বয়স্ক হয়েছি। আমাদের মধ্যে এখনও এই ধারণাই প্রবল - ও জা-আ-মাত? ওর কথা নিয়ে আর কী আলোচনা করবো!
প্রপাগান্ডার একটা দিক সব রাজনৈতিক দলের জন্য সবসময় গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয়, বিশেষত ভোটের রাজনীতিতে। সিরিয়াস রাজনীতি বা মতাদর্শ তৈরীতেও একে খাটো করে দেখার কোন কারণ থাকতে পারে না। তবে প্রপাগান্ডা ওখানে শেষ কথা নয়।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্যে দিয়ে পরাশক্তি বিষয়ক ঠান্ডাযুদ্ধের রাজনীতি সমাপ্ত হয়েছে। তবে ভুলে যাওয়া চলবে না ঐ ঠান্ডাযুদ্ধের বরাবর গুরুত্ত্বপূর্ণ মিত্র থেকেছিল জামাত। আজকের চিত্র ভিন্ন। আমেরিকান "সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের " রাজনীতি ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করতে না পারলেও পুরানো মিত্রের হিসাব উলটপালট হয়ে গেছে; ইসলামের নাম নিয়ে কোন সাংবিধানিক নির্বাচনী রাজনীতির প্রতিও আমেরিকানদের ভয় ঢুকে গিয়েছে। এর পররাষ্ট্র নীতি এখন জামাতকে এমনকি নির্বাচনী রাজনীতিতে দেখতে চায় কী না সে প্রশ্ন উঠেছে, সংশয়ে আছে। মিত্রের স্হান হারিয়ে ক্ষমতার করিডোরে জামাতের রাজনৈতিক ক্ষমতা নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে সত্য অথচ এর উপরই ভর করেই তো এতদিন জামাত সামাজিক রাজনৈতিক ক্ষমতা তৈরীর রাজনীতি করে গিয়েছিল । দল হিসাবে টিকে থাকতে অতএব ব্যপক জনগণের কাছে যাওয়া ছাড়া এখন এর গত্যন্তর নাই। আবার গিয়েও নিজের গণভিত্তি-ক্ষমতার জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে কী না - এর উপর সবকিছু নির্ভর করছে । এখনই বলা মুস্কিল। তবে লক্ষণ বিচার করা যেতে পারে।
জামাতের রাজনীতি নিয়ে আমরা যদ্দুর হতে দেখছি তাকে বলা যায় কোর্টকাচারির আইনী দৃষ্টিতে জামাতের রাজনীতির বিচার। এতে সমাজের একটা রাজনৈতিক নয়, আইনী চোখ দাড় করানো গিয়েছিল ঠিকই যাকে যুদ্ধাপরাধ বলা হচ্ছে। তাও যে আবার খুব কাজের হয়ে উঠেছে বলা যাবে না, নানান কারণে। শুরুর দিকে ডকুমেন্টেশনের নামে শাহরিয়ার কবিররা যা করেছেন তা আসলে ঐ সময়ের পত্রিকার কাটিং সংগ্রহ ও সংকলন। তার উপর ভিত্তি করে আন্দোলনও হয়েছে। মনে করিয়ে দেই জামাতের রাজনীতির বিচারের এই পথ আইনী দৃষ্টিতে, ওর দিক থেকে। অর্থাৎ আমাদের কোর্টকাচারির আইনী চোখে বিচার পদ্ধতি মেনে বিচারক জামাতের রাজনীতিকে কী বলে - সেই বিচার। ঐ বিচার পদ্ধতি চলে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অথচ সাক্ষ্যপ্রমাণের বিষয়টাকে তুচ্ছ জ্ঞান করেই ঐ পথ আমরা কেউ পছন্দ করেছি ; কোর্টের দৃষ্টিতে পত্রিকার কাটিং যে কোন প্রমাণ নয় সেই জ্ঞানটুকুও না রেখে জামাতের রাজনীতির বিচারে নিজেকে যোগ্য ভেবেছি। এই বালখিল্যতা আবেগ এমনই থাপ্পর খেয়েছে যে, রাজনৈতিক বিচারে নয় আইনী বিচারে উল্টা গোলাম আজমের নাগরিকত্ত্বের বিষয় সমাধান হয়ে গেছে। আর বিচারে হেরে জনগণের ক্ষোভ ভোটের বাক্সের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ নীট লাভ ঘরে তুলে দেয়া ছাড়া কোন কাজে আসে নি। ইদানিং কালে আবার যুদ্ধাপরাধের দাবী আগের মত আন্দোলন ও পথে। এবার এর উদ্দেশ্য নিয়ে আরও প্রশ্ন ও সংশয় তৈরী হয়েছে, বিশেষ করে ঘাদানির সাথে ইন্ডিয়ার সম্পর্ক ওর পররাষ্ট্র (বাংলাদেশ) নীতি, সঙ্কটের সময় বাংলাদেশে চালের দাম উঠানামার ক্ষমতা ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেওয়া, মঈনের সফর, ইন্ডিয়ান অব: জেনারেলদের দাওয়াত করে এনে তাদের দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার চাওয়ানো ইত্যাদিতে। আবার অন্যদিকে আমেরিকান পররাষ্ট্র নীতি এখন জামাতকে এমনকি নির্বাচনী রাজনীতিতে দেখতে চায় না বলে "যুদ্ধাপরাধের দাবী" তোলার মানে আমেরিকান "সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের " রাজনীতিতে বাংলাদেশকে সামিল করা ও রণক্ষেত্র বানানোর সামিল - এটা আর এখন জামাতের রাজনীতির বিচারের আইনী অর্থেও কোর্টকাচারির বিচার নয়।
ইতোমধ্যে পুরানো অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি আন্তরিকভাবে চাইলেও আইনী দিক থেকে জামাতের রাজনীতির বিচারের পথ কত অসম্ভব। তাসত্ত্বেও আবার যুদ্ধাপরাধের দাবী তুলে জনগণকে এর আগেও মত বিক্ষুব্ধ করতেও দেখছি। আমরা চাই না চাই বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামাত বিষয়ক জটিলতা সমস্যা আছে। আমরা কিভাবে এর সমাপ্তি দেখতে চাই? সম্ভব না হলেও আমরা আইনী দিক থেকে জামাতের রাজনীতির বিচারের পথে যেতে দেখেছি। এর পরিণতি কী হয়েছে? একদিকে দাবী তুলে জনগণকে বিক্ষুব্ধ করা গেছে কিন্তু বিচারের ফল দেখে হতাশা আর গুপ্ত ক্ষোভ নিয়ে তাকে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। বিগত না হওয়া নির্বাচনের আগে, ২২ নভেম্বর রাস্তায় জামাত কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশের উপর দাপাদাপি করে জিঘাংসা মিটানো গেছে সত্য। এটাই আমাদের বাড়ি ফিরা গুপ্ত ক্ষোভ আর হতাশার প্রকাশ নয় কী? বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামাত বিষয়ক জটিলতা সমস্যা আমরা কি এভাবেই এর সমাপ্তি দেখতে চাচ্ছি? এটাই কী আমাদের কাঙ্খিত সমাধান না শরীর খুঁড়ে পুরানো ঘা কে দগদগে করা। এক '৪৭ এর দাঙ্গার রক্তের দাগ আমরা আজ ৬০ বছর পরেও মুছে ফেলতে পারিনি। প্রায়ই তা এখনও আমাদের যেকোন দুজনের মাঝে হানা দেয়। মানবিক জাতি হিসাবে দাড়াতে আগামিতে আরও কতবার পুরানো এই স্মৃতি আমাদের ব্যঙ্গ করবে কে জানে! অজ্ঞানে এরকম আরও পুনরাবৃত্তি হওয়ার আগে এবার আমরা যাই করি তা যেন আমরা সজ্ঞানে দায় নিয়েই করি, এই আমার বিনীত নিবেদন। আর একালের গৃহযুদ্ধের অর্থ কিন্তু অন্যরকম। একালে গৃহযুদ্ধের পরিণতি বিদেশী দখলদার বাহিনীর অথবা জাতিসংঘ শান্তিবাহিনীর আগমন। অনেকের কাছে ব্যাপারটা থ্রীলিং মনে হতে পারে। কিন্তু মনে রাখা ভালো, ব্যক্তির দিক থেকে বিদেশে শান্তিবাহিনীতে চাকরি পাওয়া লোভনীয় হলেও কর্মদোষে যে জাতির ভাগ্যে শান্তিবাহিনী জুটবে তার মত দুর্ভাগা আর অভিশপ্ত জাতি দুনিয়ায় নাই।
আগে যেভাবে বলছিলাম, ইসলামের নাম নিয়ে কোন সাংবিধানিক নির্বাচনী রাজনীতির প্রতিও আমেরিকানদের আল-কায়েদা ভয় ঢুকে গিয়েছে। মিত্রের স্হান হারিয়ে ক্ষমতার করিডোরে জামাতের রাজনৈতিক ক্ষমতা নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে অথচ এর উপরই ভর করে এতদিন সামাজিক রাজনৈতিক ক্ষমতা তৈরীর রাজনীতি করে গিয়েছিল জামাত। দল হিসাবে টিকে থাকতে অতএব ব্যপক জনগণের কাছে যাওয়া ছাড়া এর গত্যন্তর নাই। আবার গিয়েও নিজের গণভিত্তি-ক্ষমতা জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে কী না - সেই প্রশ্ন রেখেছিলাম। আমি মইনুলকে আশ্বস্ত করতে চাই কোর্টকাচারির আইনী দৃষ্টিতে আপনার কথার বা জামাতের রাজনীতি বিচার এখানে করবো না। কিন্তু রাজনৈতিক বিচার করবো।
আপনি লিখছেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে জামাত বাংলাদেশকে মেনে নিয়েছে - ১, এই মেনে নেওয়া মানে কী? এটা কী জামাতের দলীয় নীতিনির্ধারক স্তরের সভার প্রস্তাব ?
২, আপনি আমি জামাতের সমর্থক সদস্য হই বা না হই, আমাদের সকলের এটা জানা দরকার আছে। নইলে সমাজে কোন কোণেই এধরণের আলোচনা অর্থহীন হবে। পরিণতি হবে গালাগালি শব্দ প্রয়োগ, কারো ভোটের বাক্স ভর্তি। এইসব হতে বাধ্য।
৩, দলের নাম জামায়েতে ইসলামী বাংলাদেশ রাখার সিদ্ধান্ত যে সভায় নেয়া হয়েছিল ওখানে কী যুক্তি বা আলোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল? জানতে হবে।
৪, আপনি লিখেছেন, ১৯৭০ সালে নির্বাচনে যখন আওয়ামীলীগ জয়ী হয় তখন জামাত পাকিস্থান সরকারের কাছে বার বার দাবী জানায় আওয়ামীলীগ কে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য - মানলাম সত্য কথা । কিন্তু নির্বাচিতকে ন্যায্য ক্ষমতা হস্তান্তর যখন করা হলো না বরং নিজের জনগণের উপর ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট চালিয়ে পাকিস্তানি শাসকের নির্মম অত্যাচার আর হত্যাযজ্ঞ চালালো তার প্রতিবাদের বদলে ঐ নিপীড়ক সামরিক শাসন ক্ষমতার অধীনে সরকারের অংশীদার হয়ে মন্ত্রীত্ত্ব নেয়ার সপক্ষে দলীয় সিদ্ধান্ত প্রস্তাব কী ছিল? কী ছিল এর যুক্তি?
৫, জামাতের এইসব নানান সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের মূল্যায়ন অবশ্যই হতে হবে। এরপর যদি মনে হ্য় ঐসব সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল তাও জনগণকে জানাতে হবে, যদি ভুল হয়ে থাকে তাও জনগণকে জানাতে হবে। নইলে দলের ভিতরের নিজের নৈতিক সঙ্কট কাটতে পারে না।
৬, বঙ্গবন্ধু খেতাব পাওয়া শেখ মুজিব মহানুভবতায় যদি ত্রিদেশীয় চুক্তিতে বলতে পারেন, বাঙালী ক্ষমা করতে জানে তবে তাঁর দূরদর্শী জাতি-পুনর্গঠনের আহ্বানে যে সাড়া দিতে পারে না ব্যর্থতার দায়ভার সম্পূর্ণ তার উপরই বর্তায়।
৭, আপনি লিখছেন, এটা একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আর এই সিদ্ধান্ত নেবার পিছনে আরেকটা কারণ ও ছিল। বাংলাদেশের চারপাশে ইন্ডিয়া ঘিরে রেখেছে। এই অবস্থায় জামাত বা ইসলামী দলগুলি মনে করেছিল , বাংলাদেশ আলাদা হয়েগেলে হয়তো ইন্ডিয়া বাংলাদেশকে দখল করে নিবে। যেভাবে ইন্ডিয়া - আজ বলার অপেক্ষা রাখে না আপনি বাংলাদেশের নাগরিক, অন্তত কাশ্মীর দখলের অর্থেও ইন্ডিয়া বাংলাদেশকে দখল করে নাই। জামাতের এই মুল্যায়ন ভুল বরং এই ধরণের সাফাই গেয়ে রাজনীতি চালিয়ে যাবার কারণে জেনুইন ভারতের বাংলাদেশ নীতির বিরোধীতা সময়ে জনগণের কাছে সাম্প্রদায়িক প্রচারণার অভিযোগ থেকে বাচতে পারেনি।
৭, দলের সাথে দলের রাজনৈতিক অবস্হানের ভিন্নতা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা, এমনকি তাতে দলীয় খুনোখুনীও ঘটে যায় কখনও কখনো। কিন্তু এই ভিন্নতার কারণে, নিজের জনগণের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ, অথবা জনগণের বিরুদ্ধে ঐ নিপীড়ক অস্ত্রধারী শাসক সরকারের মণ্ত্রীত্ত্ব - না, এটা রাজনৈতিক অবস্হানের ভিন্নতার সংজ্ঞার সীমা পার হয়ে রাজনৈতিক অপরাধ হয়ে গেছে।
৮, একাত্তরের যুদ্ধ ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ছিল না। আকার ইঙ্গিতে যারা এমন মানে দেবার সুযোগ নিয়েছে তার পিছনে কম হলেও জামাতের অবদান আছে।
৯, না মইনুল আপনার এই পদ্ধতি আপনি, জামাত, ইসলাম বা বাংলাদেশ কাউকে সাহায্য করত পারবেন না। আভ্যন্তরীণভাবে হলেও জামাতকে নিজের ৭১ এর রাজনীতি দ্রুত মুল্যায়নে যেতেই হবে। এতে কিছু হলেও আলো যদি দেখা যায়, গেলেও যেতে পারে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): জামাত রাজনীতি ;
মাইনুল বলেছেন:
সুন্দর বিশ্লেষন ধর্মী এই লেখার জন্য ধন্যবাদ। আপনি অনেকগুলি প্রশ্ন করেছেন। সেগুলির উত্তর দেয়া সময় সাপেক্ষ ব্যাপার , সময় করে দিব। আপাতত এতটুকুই বলতে চাই, আমাদের মনে হয় অতীত মুখীতা ঝেড়ে ফেলে দেশের ভবিষ্যত নিয়ে রাজনীতি করা উচিত।
রাফা বলেছেন:
মইনুলরা এসব যুক্তির তোয়াক্কা করেনা।কারন তাদের মগজের ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে যে কোন মূল্যে একে অপ পাকিস্তানের কলোনী বানাতে হবে। আমি অন্তর থেকে বিশ্বাস করি এই দেশের দিকে পুনরায় যদি কেউ থাবা বিস্তার করে তাহলে ৭১এর মত আলীগ কর্মিরাই আবার রুখে দারাবে।
লেখক বলেছেন: রাফাকে : পড়ার ও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে বলছি,
মানুষ অপার সম্ভাবনাময়। আস্হা হারাবেন না। আস্হা হারালে আর কার কাছে যাবেন। মানুষই একমাত্র আশরাফুল মুখলুকাত। মানুষই অন্যায় করে, ভুল করে আবার সে সংশোধন করতে জানে বলেই আরও-মানুষ হয়, এএক অফুরন্ত সম্ভবনা।
কলোনী বানানোর চিন্তা দূরে থাক, পাকিস্তান রাষ্ট্র ৭১ এর অত্যাচারী নিপীড়ক গণহত্যাকারী ভুমিকার কথা আজ পাকিস্তানের জনগণের কাছে অন্যায় অপরাধ হিসাবে গৃহীত। বেলুচে নিপীড়নের প্রসঙ্গে প্রায়ই ওখানে টক শোতে উদ্ধৃত হচ্ছে, এটাও হ্য়তো বাংলাদেশের মত আলাদা হয়ে যাবে। দুবাই ভিত্তিক পাকিস্তানি টিভি চ্যানেলগুলো প্রতি বছর ২৫ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর আয়োজিত বিশেষ টক শো তে ভুট্টোর পিপিপি আর সেনাবাহিনী প্রশ্নবানে কীভাবে ঘাড় হেঁট করে, ঘৃণা কুড়ায় লক্ষ্য করে দেখতে পারেন।কলোনী বানানোর চিন্তা করার মত বাস্তবতা কোথাও নাই।
৭২ এর পর কিছু বছর বাদ ছাড়া, পাকিস্তান আমল থেকেই পূর্ব-পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশ ISI ও R&AW উভয়ের কাছেই বিশেষ তৎপরতার এলাকা। স্ব স্ব রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রয়োজনে স্বাভাবিকভাবে প্রভাব বিস্তার, তথ্য সংগ্রহ ইত্যাদি রুটিন কাজ হিসাবে একে দেখতে হবে। আমাদেরও রাষ্ট্রের স্বার্থ, প্রয়োজনের মাত্রা, একাজে ব্যয় করার মত সামর্থ্য, সবল ক্ষমতায় কুলালে আমরাও একই কাজ করবো। তবে সাম্প্রতিককালের ISI এর হাসিনা পর্যন্ত পৌছাতে ও তাকে রাজি করাতে পারা, এতে R&AW এর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও আওয়ামী লীগের উপর হাসিনার প্রভাব খর্ব করার উদ্যোগ সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। কাজেই "পাকিস্তানের কলোনী" বানানোর লিপ্সার গল্প এক সময় হয়তো ছিল, আমরাও অনেক বলেছি --এবার বিচার বিশ্লেষণে ব্য়স্ক হয়ে এজাতীয় হাল্কা কথাবার্তার বাইরে আসতে হবে আমাদের। তাই নয় কী?
"পুনরায় যদি কেউ থাবা বিস্তার করে তাহলে ৭১এর মত আলীগ কর্মিরাই আবার রুখে দাড়াবে" - কর্মীদের ক্ষেত্রে হয়তো কথা ঠিক আছে। পরিতাপের বিষয় কিন্তু নেতাদের লক্ষণ ভালো নয়, ভরসা পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের চালের সঙ্কটের সময়ই দেখুন। এটা ১০০ বা ১০০০ কোটি টাকার দূর্নীতির মামলার মত নয় যে গরীব মানুষের উপর এর প্রভাব অপ্রত্যক্ষ্। এটা চালের মামলা। গরীব মানুষ তাঁর আয় দিয়ে একবেলার ভাত জোগাড় করতে পারবে কী না, সেই বাঁচা-মরার প্রশ্ন। বাংলাদেশে চালের দাম উঠানামার ক্ষমতা ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিয়ে উপদেষ্টা তপন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের ঐ ধারার নেতা সকলে মিলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতীয় প্রভাব খাটানোর মোক্ষম সময় হিসাবে একে কাজে লাগালো। সত্যিই আমরা ধন্য এই মানবিকবোধ আর দেশপ্রেম দেখে! এর চেয়ে বড় "থাবা বিস্তার" আর কী হতে পারে। দেশের মানুষই যদি বাঁচাতে না পারি তবে ছাতার ভূখন্ড আমাদের কোন কাজে আসবে? মারণবোমা নয় খাদ্য আজ রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য মুখ্য নিয়ামক বিষয়। অথচ আমাদের চেতনার মাত্রা দেখুন। যুদ্ধাপরাধ নিয়ে দেশে জোয়ার, জেনারেলদের আনাগোনা, ভারতের সমর্থন আর আমেরিকার উস্কানি দেখে আমরা কেবল অনুভব করছি যুদ্ধাপরাধ নিয়ে এর আগে আর কখনও এমন 'ঐক্যমত্য' দেখিনি। বাংলাদেশে আজ আমরা জেনারেল অরোরোর (ওনার যতটুকু প্রাপ্য অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও বলছি) জন্মদিন পালন করতে দেখছি। জিন্দাবাদ যুদ্ধাপরাধের রাজনীতি!
মো: শাহরিয়ার কবির ( রনি ) বলেছেন:
রাফা বলেছেন:আমি অন্তর থেকে বিশ্বাস করি এই দেশের দিকে পুনরায় যদি কেউ থাবা বিস্তার করে তাহলে ৭১এর মত আলীগ কর্মিরাই আবার রুখে দারাবে।দেশটা কি কার ও বাপের সম্পতি ! আপনার কি মনে হয় লাল , নীল , বেগুনী দল এই স্বাধীনতার রক্ষক ? আর একটা কথা ৭১ এ কোন একটা দল দেশের জন্য যুদ্ধ করেনি । দেশ স্বাধীন করেছে এই দেশের প্রতিটি স্বাধীনচেতা মানুষ । দয়া করে এই ভূল আর করেবেন না ।
পি মুন্সী বলেছেন:
রনি ঠিকই বলেছেন। দেশ রক্ষার দায় প্রতিটি নাগরিকের। তবে একাজে কে কতটুকু নিজেকে করে গড়ে তুলতে পারছি, প্রস্তুতি নিচ্ছি এর উপর নির্ভর করবে আমরা উপযুক্ত ও সক্ষম কী না।সকলে এই বোধ থেকে জাতির সাথে সাথে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উঠবেন -- এই কামনায়.
মুসতাইন জহির বলেছেন:
রাজনীতিকে রাজনৈতিক (মতাদর্শিক) লড়াই দ্বারা মোকাবেলা না করার অক্ষমতাই আইন-আদালত দিয়ে চেপে ধরার ক্যারিকেচারে পরিণত হয়েছে। স্মরণ রাখা দরকার বর্তমান উপদষ্টা সরকার নামক পরাশক্তির ভাড়াটিয়ারাও একই তরিকায় অগ্রসর হতে গিয়ে মুখথুবড়ে পড়ার উপক্রম।আর যুদ্ধাপরাধ প্রশ্নটা কোন দিক থেকে আমরা বিচার করবো? যদি কারো রাজনৈতিক অবস্থান বা সিদ্ধান্তকেই 'অপরাধ' গণ্য করার জন্য এই প্রশ্ন তোলা হয় তাহলে সেটা একটা আর যদি যুদ্ধকালিন সময়ে অনৈতিক ও নিরস্ত্র মানূষকে হত্যা জখম ইত্যাদির প্রশ্ন হয় তাহলে তা ভিন্ন হতে বাধ্য। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে এখন যারা যুদ্ধাপরাধ নিয়ে আন্দোলন করছেন তাদের কোন নীতিগত অবস্থান নাই। কেননা তারা বিহারি বা অপরাপর অন্যায় ও অনৈতিক হত্যাকান্ড যা বাঙ্গালিদের দ্বারা সংগঠিত হয়েছে সে সর্ম্পকে কোন কথা বলেন না। যেন সেটা করা জায়েজ।
রিফাত হাসান বলেছেন:
আইনি এবং রাজনৈতিক ফায়সালা সম্পূর্ণ ভীন্ন ব্যাপার, আমিও মনে করি। জামায়াতের ব্যাপারে আপনার যে প্রশ্ন আমাদের অনেকেরই সেইসব প্রশ্ন তৈরী হয়ে আছে। জামাত বিষয়ে আমাদের স্পর্শকাতরতাসমূহ এবং একাত্তর নিয়ে জামাতের স্পর্শকাতরতাগুলো আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি একই সাথে বুদ্ধিবৃত্ত্বিকতাকে একটা সংকটে ফেলেছে। জামাত বিষয়ক আমাদের স্পর্শকাতরতায় এবং এ বিষয়ক প্রপাগান্ডাতে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বুদ্ধিজীবীগণ এত ব্যস্ত যে, আমাদের ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট কী সেটা ভাববার এবং নির্ধারণ করবার সুযোগটুকু এখনো তাদের হয় নি। আমি মনে করি আমাদের শত্রু মিত্র নির্ধারিত হবে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট কী তার উপর ভিত্তি করে। সেই এলজাব্রায় কে কোন পাশে থাকছে সেটা বিবেচনার বিষয়।আমার ক্ষুদ্র একটা পোষ্ট দেখার আমন্ত্রণ জানাই।
Click This Link
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
চমৎকার বিশ্লেষণ। মুগ্ধ হইলাম।
পি মুন্সী বলেছেন:
সারওয়ার চৌধুরীর মন্তব্য আকারে আমাকে জানাচ্ছেন,.............................
""খুবই নৈর্ব্যক্তিক বুদ্ধিদীপ্ত আলোচনা করেছেন পি, মুন্সি। আমিও মনে করি সবকিছু খুলেমেলে বিশ্লেষণের সময় এসেছে। প্রপাগান্ডাভিত্তিক রাজনৈতিক লড়াই এই জাতিকে কোনোদিনই সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবে না।
মুসতাইন জহিরের মন্তব্যটিও গুরুত্বপূর্ণ। আলোকিত মত প্রকাশ করেছেন তিনি।""
. . . এখনো খুঁজি বলেছেন:
মুসতাইন জহির বলেছেন: এখন যারা যুদ্ধাপরাধ নিয়ে আন্দোলন করছেন তাদের কোন নীতিগত অবস্থান নাই। কেননা তারা বিহারি বা অপরাপর অন্যায় ও অনৈতিক হত্যাকান্ড যা বাঙ্গালিদের দ্বারা সংগঠিত হয়েছে সে সর্ম্পকে কোন কথা বলেন না। যেন সেটা করা জায়েজ।খুব নির্লজ্জ্বের মত কথা হলো। যুগে যুগে বিজয়ীরাই বিজিতদের বিচার করেছে। আর আপনি বলছেন জয়ী হওয়ার পরও বাংলাদেশকে নিজের বিচার করতে হবে বিজিতদের সাথে সাথে ! যে বিহারীরা সোৎসাহে বাঙালী জবাই করতো তাদের বাঁধা দেয়াটা ছিলো অনৈতিক হত্যাকান্ড ? যে জামাতিরা পাকিস্তানীদের পথ চিনিয়ে চিনিয়ে নিয়ে গেছে সারা বাংলা তাদের বাঁধা দেয়াটা অবৈধ ছিলো ? যারা ধর্ষণ লুটতরাজ হত্যার নতুন রেকর্ড করেছে তাদের প্রতি আক্রোশের বদলে বাঙালিদের করা "অন্যায় অবিচার" নিয়ে আপনার বুকে ব্যাথা বেশি কেন ? এই বাক্য কোন সেন্টিমেন্ট প্রকাশ করে - " . . . যেন সেটা করা জায়েজ।" ?
"আর যুদ্ধাপরাধ প্রশ্নটা কোন দিক থেকে আমরা বিচার করবো? যদি কারো রাজনৈতিক অবস্থান বা সিদ্ধান্তকেই 'অপরাধ' গণ্য করার জন্য . . . "
-কচি খোকা আপনি ? যুদ্ধাপরাধ কিভাবে হয়, হত্যা, ধর্ষণ কিভাবে হয় আপনি জানেন না ? কারো রাজনৈতিক অবস্থানকে কবে যুদ্ধাপরাধ বলা হয়েছে ? যে রাজনৈতিক দল, দলীয় সিদ্ধান্তে হত্যা, ধর্ষণ , লুট করেছে তাদের কে যুদ্ধাপরাধী বলা হচ্ছে ! বিহারীরাও সংগঠিত হয়েই এসব করেছিলো।
যুদ্ধাপরাধীদের অপরাধ আর বিহারীদের হত্যা একই পাল্লায় মাপা যায়না, কচি খোকা !
বিহারী, জামাতি, পাকিস্তানীরা আক্রমণকারী। বাঙালীরা নিজেদের মাটিতে তাদের আক্রমণ ঠেকিয়েছে।
যুদ্ধাপারাধীদের বিচার আইনের আদালতে কবে হবে জানিনা, তবে ন্যায়ের আদালতে বিহারী, জামাতি, পাকিস্তানী সেনাদের সাথে সাথে আপনার মত মানুষদের ও অপরাধী হিসেবেই গণ্য করা হয়।
হায়দার কািরগর বলেছেন:
ধন্যবাদ জহির ভাই । আপনার লেখাটা অনেক পরে দেখলাম। হ্যা এখন বিশ্লেষনের সময় এসেছে। এদেশের তথাকথিত রাজনিতীবীদরা সহজ সরল মানুষদের নিয়ে কোর্টকাচারী আর কলা আর মুলোর খেলা খেলেছে খেলছে খুব সহজ কথা হলেও ইতিহাসে আবার ফিরে তাকানো উচিত। যখন প্রধান দুই রাজনীতিক দল চাল চুরির কাহিনীতে জড়ায় তখন তারা ইতিহাস চুরী করেনি কে বলতে পারে ? যখন প্রমোশন অথবা অন্যুন উদ্দেশ্যে এদেশের শিক্ষাগুরু বৃন্দ লাল, নীলে রঙ্গীন হয় আর ৯টা ৫টায় সাদা ছাত্রদের প্ররোচিত করে তখন তাদের এই ইতিহাসও লেখা হোক তাদের ভাষায়।আবারো ধন্যবাদ
সমাজ্ঞী বলেছেন:
মজা এবং একই সাথে ভাল লাগল চমৎকার ইতিবাচক এবং বাস্তবমুখী আলোচনার বিস্তার দেখে। এভাবে চলে যেতে থাকলে আমাদের তরুনদের মধ্যে একটি সচেতন দল গড়ে উঠতে বেশী দেরী হবেনা- যারা নিজেদের চিনবে; নিজেদের রাজনৈতিক সত্ত্বাকে খুঁজে নিবে। এবং সেই সুবাদে আপন রাজনৈতিক স্বার্থের পাটাতনে দাঁড়িয়ে শত্রু-মিত্র নির্ধারণও করে নিতে সক্ষম হবে। ও হ্যা মুসতাইন জহিরেরর মন্তব্য কিছুটা হয়ত অষ্পষ্ট এবং আগোছালোও। আমি মনে করি- সেটা পরিষ্কার একটি দায় তিনি নিজ কাধে তুলে নিবেন। কিন্তু তাই বলে যেভাবে এখনো খুজি নিকের ব্লগার তাকে আক্রমন করেছেন- বিশেষ কাজের তো নয়ই; বরং অনেকটাই অপরিপক্ব আবেগী মেজাজের ইঙ্গিত বহন করে। সম্ভবত পি মুন্সি এ ব্যাপারে তার লেখার শুরুতেই কিছুটা খোলাসা করে নিয়েছেন। এখনো খুঁজি কী মূল লেখাটাই মনোযোগের সাথে পড়েন নি ? হতেও পারে। বিশেষ আশ্চর্যের কিছু নয়। এ রকম অনেক ব্লগারই আছেন।
আমার কাছে মনে হয়েছে, যদি তিনি মুসতাইন জহিরেরর পয়েন্ট ধরে ধরে তার অবস্থান পরিস্কার করতে বলতেন, এবং ততটুকুর মধ্যে নিজের মন্তব্য সীমাবদ্ধ রাখতেন, সেটা ভাল হত। তাই না ?
তবে মুসতাইন জহির ! বিষয়গুলি কিন্তু আমার মনেও প্রশ্ন জাগিয়েছে। আশা করি খোলাসা করবেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। তরুণদের ভরসায় বুক বাঁধলাম।
সমাজ্ঞী বলেছেন:
ভাল লেখেছেন।
লেখক বলেছেন: দেরীতে হলেও এখনও অনেকে পড়ে জেনে ভালো লাগলো।
মুসতাইন জহির বলেছেন:
একটি গঠনমূলক আলোচনা বা বাহাস হলে আমি আনন্দের সাথে অংশগ্রহণ করতে রাজি।কিন্তু শস্তা সেন্টিমেন্ট নিয়া কেউ যদি আক্রমণ করতেই উদ্দত থাকে তাহলে সেখানে তো সময় ক্ষেপন করা নিরর্থক, তাইনা? কারণ হাতাহাতি করার জায়গা তো ব্লগ না।
এখন সমাজ্ঞী আপনি দয়া করে বলেন, কোন প্রশ্নটার দায় আমি বহন করি?
রাজনৈতিক আর আইনী এই ভেদ, নাকি মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ যে কোন অনৈতিক কর্মকান্ডের বেলায় নীতিগত অবস্থানের মামলা, কোনটা?
গ্রুপেন ফুয়েরার বলেছেন:
একমাত্র সহনশীল ডায়ালগই সমস্যা সমাধান করতে পারে। প্লাস
লেখক বলেছেন: সরি উত্তর দিতে দেরি হলো।
একমাত্র আপনাকেই পেলাম আমার এই লেখার উদ্দেশ্যকে স্পর্শ করতে পেরেছে। কোন ডায়লগের সুযোগ আছে কী না তা পরখ করার ছিল এই লেখার উদ্দেশ্য। সত্যিই হতাশ হয়েছি।
কানা বাবা বলেছেন:
আমাদের মানসিক অপরিপক্কতার বিষয়টি আপনার বিশ্লেষণে বেশ চমৎকারভাবে উঠে এসেছে... অ-নে-ক অ-নে-ক ধন্যবাদ আপনাকে...
লেখক বলেছেন: কী চমৎকার!
এতদিন পরে হলেও আপনি পড়েছেন শুধু না মন্তব্য করেছেন।
ভালো লাগলো।
রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধী বলে ভোটের বাক্স ভরানোর উর্ধে ভাববার মত পরিপক্ক যদি হতে পারি তবেই আমার লেখার সার্থকতা থাকবে।
লেখক বলেছেন: এতদিন পর এই পুরানো ব্লগে আপনার আগ্রহ দেখে ভালো লাগলো।
আপনার প্রশ্নের মধ্যে দুটো ধারণা জড়িয়ে গিয়ে দুই ধরণের প্রশ্ন হয়ে আছে। এর একটা হতে পারে এরকম,
একাত্তরে বাঙালি কী ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়েছে?
অথবা দ্বিতীয় অর্থে,
একাত্তরে বাঙালি কী ধর্মভিত্তিক নয় এমন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা জন্য লড়ছে?
প্রশ্ন দুটোকে এক জায়গায় আনলে দাড়ায় এরকম, ১৯৭১ এর যুদ্ধ ও তদসংক্রান্ত ভাবনায়, কোন ধরণের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধের আমরা লড়েছি আর কেমন ধরণের রাষ্ট্র আমরা গড়তে চাই - তা কেমন প্রকাশিত ছিল? ঐ লড়াই সংগ্রামে সশস্ত্রতায় রাষ্ট্রভাবনা কেমন ছিল?
তো আপনার প্রশ্ন যেটাই হোক আমার উত্তর হবে এরকম:
সাধারণভাবে পুরো ঘটনায় আমাদের রাষ্ট্রভাবনা খুবই দূর্বল ছিল। আরও স্পষ্ট করে বললে কী ধরণের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়ছি বা কেমন রাষ্ট্র কায়েম করতে চাই সেটা ফোকাস ছিল না। এটা দোষের কথা না, পরিস্হিতির কথা। তবে আলাদা রাষ্ট্র দরকার - অবশ্য অবশ্যই তা ছিল ভালোভাবে। সে অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চাই এটা আপনাআপনিই আসে। আবার, পাকিস্হানী আইনি রাষ্ট্রের সীমার মধ্যে আইনি ধারার আন্দোলন হওয়া সত্ত্বেও আলাদা রাষ্ট্রের চেতনায় আমরা সফলভাবেই আন্দোলনের ভিতর দিয়ে জনগণকে শিক্ষিত করে তুলতে পেরেছিলাম। এমনকি গণআন্দোলনের এক পর্যায়ে এলএফও (LFO) এর অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সঠিক সিদ্ধান্তে নির্বাচনে গেলেও জনগণকে "আলাদা রাষ্ট্র দরকার" এই চেতনা থেকে বিচ্যুত করিনি।
একাত্তরের বাঙালির "একাত্তর" বলতে যদি ১৯৬৬ এর ছয় দফা থেকে থেকে শুরু করে ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচন, ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ এমনকি ১৯৭১ এর এপ্রিল পর্যন্ত ধরেন - তবে এর সবটা সময়ই পাকিস্তান রাষ্ট্রটা ধর্মভিত্তিক কী না এদিকে সচেতন ও সঠিকভাবেই জনগণের দৃষ্টি নেইনি। বরং এদিকটা নেতৃত্ত্বের দিক থেকে সচেতনভাবে উহ্য রেখেছি। কারণ বারবার আমাদের দাবীকে উপেক্ষা করা, খাটো করা, অন্যায্য প্রমাণ করার জন্য বলা হতো - এতে জনগণের সম্পৃক্ততা নাই, ভারতে প্ররোচনায় আমরা আন্দোলন করছি - এসব। শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে আগরতলা মামলাটাই তো এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। শেখ মুজিব অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে সফলভাবে এসময়ে আমাদের নেতৃত্ত্ব দিতে এসব অভিযোগ এড়াতে পেরেছিলেন।
বরং আজকে আমরা অনেকেই যেভাবে ব্যাখ্যা করি, পাকিস্তান ইসলামী রাস্ট্র ছিল বলে এর বিরুদ্ধেই আমরা সংগ্রাম করেছি, এই পরিচয়ের দিকে আঙুল তুলে আওয়াজ তুলেছি - এটা সত্যি না; ঐতিহাসিক ফ্যাক্টসটা এরকম নয়। বরং এটাই মুসলিম লীগ বা জামাতে ইসলামের মূল্যায়ন বা প্রতিক্রিয়া। আমার আমাদের দাবির কথা বলে গিয়েছি, পূর্ব পশ্চিমের অসাম্য, নিস্পেষক রাষ্ট্রের দমন নিপীড়ন কথা বলে জনগণকে সংগঠিত করা, মুখে না বললেও আলাদা রাষ্ট্রের জন্য প্রস্তুতি সবই আমরা করে গিয়েছি। এরই প্রতিক্রিয়ায় মুসলিম লীগ বা জামাতে ইসলাম ও শাসক আয়ুব খান প্রচার চালানোর চেষ্টা করেছে বলেছে আমরা ইসলামের বিরুদ্ধাচারণ করছি, পাকিস্তান ইসলামি রাষ্ট্রকে দূর্বল করছি, ভারতের হাতে পরে ওর ষড়যন্ত্রের পুতুল হয়েছি, ইসলাম ধর্মভিত্তিক পাকিস্তান রাষ্ট্রকে পদানত করার চেষ্টা করছি - ইত্যাদি।
ফলে আজকে যদি মূল্যায়ন করা হয় যে '৭১ এ আমরা ধর্মভিত্তিক প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়েছি তবে মুসলিম লীগ, জামাতে ইসলাম ও শাসক আয়ুব খানের প্রতিক্রিয়ার ব্যাখ্যা মূল্যায়ন ও অভিযোগকে সত্যি ও সঠিক প্রমাণ করবো। আজকের জামাতে ইসলামী এখনও যে নিজের কাছে ৭১ এ নিজের অপকর্মকে ব্যাখ্যা করতে অক্ষম, নিজের জনগণের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণকে ন্যায্যাতা প্রতিষ্ঠা করতে যে ব্যাখ্যা দেয় সেই ব্যাখ্যাকেই গ্রহণ করা হবে।
লক্ষ্য করেছেন নিশ্চয় "একাত্তর" বলতে আমি ভাগ করেছি, বলেছি এপ্রিল পর্যন্ত এটা একরকম ছিল।
১৯৭১ এর ২৫ মার্চের পর মাত্র কয়েকটা দিন, ১০ এপ্রিলের মধ্যে কোন দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়াই তাজউদ্দিনকে নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করতে হয়েছিল, এই পরিচয়ে ইন্দিরা গান্ধীর সাথে দেখা করতে হয়েছিল, সর্বপরি আমাদের আগামি রাষ্ট্রের চরিত্র রূপরেখা নিজের সিদ্ধান্তে আঁকতে ও বলতে হয়েছিল ইন্দিরা গান্ধীর কাছে। (মূলধারা '৭১ বইটা দেখুন)। ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলতে হয়েছিল এমনভাবে যা ভারতীয় রাষ্ট্রের ভাষায়, কায়দায়; প্রতিবেশী রাষ্ট্র কেমন সে দেখতে চায় তার কথা ভেবে। কারণ, এর সাথে জড়িয়ে আছে আমরা শরণার্থী কেমন আশ্রয় পাবো, দ্রুত ট্রেনিং এর ব্যবস্হা হবে কী না, একাজে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাথে সম্পর্ক কেমন হবে আর সর্বপরি নির্ধারক প্রশ্ন ছোট ভারী সব অস্ত্র পাবো কী না।
একাজে আমরা আজ তাজউদ্দিনের সমালোচনা করতে পারি। ভাবতে পারি এটা আর অন্য কোনভাবে হতে পারত কী না। কিন্তু ফ্যাক্টস হলো এটা এভাবেই ঘটেছে। আমাদের রাষ্ট্রের চরিত্র রূপ এভাবেই ঠিক হয়েছে। সবার সাথে আলোচনা করে এমনকি দল হিসাবে আওয়ামি লীগের কোন কোর গ্রুপ, কেন্দ্রিয় কমিটি বা পার্লামেন্টারি সভা বা জনগণের আন্দোলন সংগ্রামের মাঠে থেকে আমাদের রাষ্ট্রের রূপ বৈশিষ্ট নির্ধারণ নিয়ে এই গুরুত্ত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আমরা নিতে পারিনি। যেমন ধরুন, আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র করতে চাই একথা বলার পর আবার তা ধর্মনিরপেক্ষ বলার দরকার কী? এ কেমন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কথা তাহলে ভেবেছি যা আবার ধর্মনিরপেক্ষ না বললে এই নাগরিক রাষ্ট্র ধর্মীয় পরিচয়ের উর্ধে উঠতে পারে না? আবার দেখুন ভারত রাষ্ট্রের মত সমাজতন্ত্র পরিচয় মাথায় রাখতে হলো কেন? ইন্দিরা গান্ধীসহ সবাই আমরা জানা সত্ত্বেও হাসির খোরাক বানিয়ে এই বাহুল্য পরিচয়ের পালক কেন লাগালাম? আমরা আজও নিশ্চিত নই ধর্মনিরপেক্ষ বা সমাজতন্ত্র না বললে ইন্দিরা গান্ধীকে স্বমতে আনা যেত না। এরকম অনেক প্রশ্নই আজ আমরা তুলতে পারি।
আগেই বলেছি, এগুলো এভাবে হয় নাই এটাই সত্যি; ফলে এখন বলার উদ্দেশ্য হতে পারে একটাই পর্যালোচনা অর্থে, যাতে ভবিষ্যতে এটা কোন কাজে লাগে।
আজ এখানেই শেষ করছি। আপনার প্রতিক্রিয়া পেলে আবার এগোনো যাবে।
লেখক বলেছেন: "ইসলামের সন্ত্রাস" বলাটা ঠিক হবে না। ইসলাম নিজে সন্ত্রাস করেনি। এটা ইসলাম যারা পালন করে সেই কর্তা অর্থে মুসলমানেরা সন্ত্রাস করেছে বা মানুষ হত্যা করেছে - এমন বর্ণবাদী শোনাবে।
এছাড়া এটাই ভারতীয় ব্যাখ্যা; মানে ভারত রাষ্ট্রের স্বার্থের দিক থেকে করা মূল্যায়ন। এতে আমাদের অসুবিধা নাই। ওরা বলুক। আমাদের তা গ্রহণ করারও প্রয়োজন পরে না। আমাদের জনগণের আন্দোলন সংগ্রাম ও এতে প্রকাশিত আমাদের আলাদা রাষ্ট্রের আকাঙ্খা এতে তুচ্ছ হয়ে যায়। গায়ের রক্ত দিয়ে আমাদের ইচ্ছা আকাঙ্খা বাস্তবায়নের চেষ্টা আমরা করেছি। ভারতীয় রাষ্ট্র ও এর শাসক এর মধ্যে নিজের স্বার্থ দেখেছিল বলে আমাদের সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছিল। ফলে ১৯৭১ এ এই দুই স্বার্থের একটা এ্যলায়েন্স ঘটেছিল। এতে যার যার স্বার্থ ও তা সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যা তার তার। ভারতীয় ব্যাখ্যা আমরা গ্রহণ করলে আমাদের জনগণের সংগ্রামে ইচ্ছা আকাঙ্খাকে খাটো করবো। আমাদের সংগ্রাম জেগেছিল বলেই ভারতীয় রাষ্ট্র এতে তার নিজের স্বার্থ খুঁজে পেয়েছিল। স্মরণ করুন, ভারতীয় রাষ্ট্র ও এর জনগণের কাছে ১৯৭১ একটা ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধের বেশি কিছু নয়।
আর আমাদের সংগ্রাম ছিল ইসলামের বিরুদ্ধে এভাবে মূল্যায়নটা কিন্তু জামাতের। একদিকে জামায়াত, মুসলিম লীগ কিম্বা অন্যান্য সব ইসলামী দলসহ পাকিস্তানী সামরিক খুনি শাসকের ব্যাখ্যা অন্যদিকে, ভারতীয় রাষ্ট্র ও এর জনগণের স্বার্থের ব্যাখ্যা - এই উভয় গোষ্টির কাছে তাদের ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে নিজের রক্ত ঢেলে সশস্ত্র সংগ্রাম করে আমাদের প্রমাণ করতে হয়েছে আমরা বাঙালি। আমাদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করে বলতে পেরেছি আমরা মুসলমানেরাও বাঙালি বটে। ১৯৪৭ এর আগে থেকেই হিন্দু বাঙালিকে কেবল বাঙালি বলে পশ্চিমবঙ্গ মানত আর পূর্ববঙ্গের বাসিন্দা ছিল মুসলমান মাত্র। নিরোদচন্দ্র চৌধুরীর ( বা তাঁর সমকালীন) বিখ্যাত সাহিত্যিকরা মুসলমানেরা বাঙালি হতে পারে একথা মানতেন না। সেই বিশ্বাসের জের ধরে, এইতো ১৯৯৯ সালেও দেশ পুজা সংখ্যায় পত্রিকায় প্রকাশিত লেখায় নিরোদচন্দ্র চৌধুরী তাঁর না মানার কথা পুনোচ্চারিত করে হৈ চৈ বাধিয়ে ফেলেছিলেন, পত্রিকা বাংলাদেশে ব্যান্ড করে দেয়া হয়েছিল।
ফলে ১৯৭১ এ আমাদের নীট অর্জন হলো (ভাষার ভিত্তিতে হোক আর যাই হোক) আমাদের নতুন আত্মপরিচয় আমরা বাঙালি, মুসলমানেরাও বাঙালি। আমাদের নির্দিষ্ট ভূখন্ডে, কেবল আমাদের ভূখন্ডে হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে সবাই বাঙালি। কারণ আমাদের আত্মপরিচয়ের ভিত্তি ভাষা। এবং অবশ্যই স্বাভাবিকভাবে তাতে আমরা ভারতীয় বাঙালিকে প্রতিনিধিত্ত্ব করি না।
এতদূর করতেই যে বেগ পেতে হয়েছে তাতে, আমরা কেমন আলাদা রাষ্ট্র চাই তা আর গুছিয়ে স্পষ্ট করে বলা হয়ে উঠেনি।
আজ এপর্যন্তই। লক্ষ্য করেছেন বোধহয় আপনার মন্তব্য সরাসরি প্রকাশ হচ্ছে না, মডারেশন এর পর হচ্ছে। এটা ইচ্ছাকৃত নয়। এটা আমার প্রথম ব্লগ ছিল বলে মডারেশনে টিক মার্ক দেয়া হয়ে গেছিল যেটা এখন ডিএকটিভেট করলেও কার্যকরি হচ্ছে না। ফলে আমার অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি ক্ষমা করবেন।
লেখক বলেছেন: তো দেরি কেন? শুরু করে দেন।
আপনাকে স্বাগতম।
এছাড়া এটাই ভারতীয় ব্যাখ্যা; মানে ভারত রাষ্ট্রের স্বার্থের দিক থেকে করা মূল্যায়ন। এতে আমাদের অসুবিধা নাই। ওরা বলুক। আমাদের তা গ্রহণ করারও প্রয়োজন পরে না। আমাদের জনগণের আন্দোলন সংগ্রাম ও এতে প্রকাশিত আমাদের আলাদা রাষ্ট্রের আকাঙ্খা এতে তুচ্ছ হয়ে যায়। গায়ের রক্ত দিয়ে আমাদের ইচ্ছা আকাঙ্খা বাস্তবায়নের চেষ্টা আমরা করেছি। ভারতীয় রাষ্ট্র ও এর শাসক এর মধ্যে নিজের স্বার্থ দেখেছিল বলে আমাদের সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছিল। ফলে ১৯৭১ এ এই দুই স্বার্থের একটা এ্যলায়েন্স ঘটেছিল। এতে যার যার স্বার্থ ও তা সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যা তার তার। ভারতীয় ব্যাখ্যা আমরা গ্রহণ করলে আমাদের জনগণের সংগ্রামে ইচ্ছা আকাঙ্খাকে খাটো করবো। আমাদের সংগ্রাম জেগেছিল বলেই ভারতীয় রাষ্ট্র এতে তার নিজের স্বার্থ খুঁজে পেয়েছিল। স্মরণ করুন, ভারতীয় রাষ্ট্র ও এর জনগণের কাছে ১৯৭১ একটা ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধের বেশি কিছু নয়।
আমার প্রশ্নরে ভারতের বক্তব্য কইয়া ঠিক আমি ভুলে যা করছিলাম হুবহু সেই ভুলটাই করলেন মনে হয়। আর ভারতের বক্তব্য মানে সেইটারে নাকচ করতে হইবো এই অ্যাটিচ্যুডটারেও আমার রেসিস্ট লাগে। ধর্মভিত্তিক সন্ত্রাসের প্রতিবাদ করলে সেইটা ভারতীয় অবস্থান হইবো এইরম ব্যখ্যা খুবই জোলো হয়। আমাগো জনগণরে বরং তাতে খাটো করন হয়। তারাও যে ধর্মভিত্তিকতারে উপলব্ধি করতে পারে একটা নেতিবাচক অবস্থান হিসাবে সেইটারে অবমাননা করা হয়। কেবল ভারতের মানুষ আর সরকারই পারে আমরা পারুমনা বা পারতাম না এই বিশ্লেষণ কেবল রেসিস্ট না আরো অন্য কোন কিছুর ধারাবাহিকতা লাগে আমার কাছে।
কমেন্ট মডারেশন বিষয়টা রাখবেন কি রাখবেন না এইটা একান্তই আপনের ইচ্ছা, আমি আপনের কৌশলী সিদ্ধান্তরে নেতিবাচক দেখি না। যদিও আমি যে কোন ধরণের মন্তব্যই আমার পোস্টে রাখি...মডারেশন ছাড়াই।
লেখক বলেছেন: "ভারতের বক্তব্য মানে সেইটারে নাকচ করতে" আপনাকে আমি বলছি না, কেবল খেয়াল রাখলে বলছি এটা ভারতের দৃষ্টিভঙ্গী। আপনি নাকচ করবেন বা না করবেন সে তো আপনি অবশ্য করবেন, সেটাই স্বাভাবিক। আমাদের অনেকই তো খেয়াল করে বা না করে এটা গ্রহণ করেছে। এটা নিয়ে বলবার কিছু নাই।
কমেন্ট মডারেশন বিষয়টা মনে হচ্ছে আমি আপনাকে বুঝাতে পারি নাই। বাদ থাক, এটা কোন বড় বিষয় নয়।
জামায়াতে ইসলামী যদি রাজনৈতিক কারনেই সিদ্ধান্ত নেয়...তবুও তারা যুদ্ধাপরাধী হয়, না নিলেও পরিনতিটা একই।
লেখক বলেছেন: থ্যঙ্ক উ। আমি এইটাই বুঝাতে চেয়েছি। একদিকে জামাতি কুটিল ব্যাখ্যা অন্য দিকে ভারতের নিজস্ব ব্যাখ্যা - এই দুই ব্যাখ্যার চাপে আমাদের নিজের গৌরবের দিকটা যেন ভুলে না যাই। এটা শুধু গৌরবের ঢোল পিটানোর জন্য না, মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ফ্যাক্টসও বটে।
আমি জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক বিচার প্রসঙ্গে কথা তুলাতে আমাদের অভ্যস্ত কানে অপরিচিত লেগেছে অনেকের। কারণ জামাতের সমালোচনা বলতে গণহত্যা ধর্ষণের দিক থেকে সেনসেটাইজ করে শুনাতে ও শুনতেই কেবল আমরা অভ্যস্ত। আমি যে দিকটায় সবার চোখ ফেরাতে চেয়েছি তা হলো, কোন দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত মানে সংগঠিতভাবে সচেতনে যখন দল নিজে কোন পদক্ষেপ নেয় বা গণহত্যাকে সমর্থন দেয় বা অংশগ্রহণ করে তখন এর গুরুত্ত্ব ঘটনাচক্রে (রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়) ঘটে যাওয়া দাঙ্গায় হত্যা বা ধর্ষণের চেয়ে অনেক বেশি। যেমন ধরুন, ২৫ মার্চের রাতে, নিরস্ত্র জনগণের উপর সামরিক আক্রমণ এবং গণহত্যা, বাঙালি বলে পুলিশ ব্যারাকে গণহত্যা, বিডিআর ব্যারাকে গণহত্যা, বেঙ্গল রেজিমেন্টে সৈনিক হত্যা - প্রতিক্রিয়ায় কাধেঁ কাঁধ মিলিয়ে সৈনিক-জনতার গণবিদ্রোহ ঘটেছিল। এই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় জামাতের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ থাক বা না থাক রাজনৈতিক দল হিসাবে জামাতের মূল্যায়ন কী ছিল এবং এখনও আছে - এটা খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কারণ এর একদিকে রয়েছে গণহত্যা ধর্ষণ, পাকিস্তান রাষ্ট্রের খুনী উদোম চেহারা অন্যদিকে প্রথম ব্যাপক ছড়িয়ে পরা সশস্ত্র প্রতিরোধ গণবিদ্রোহ; এমনকি দেখুন এঘটনার সময়ে তখনও ভারতের কোন সংশ্লিষ্টতা নাই। ২৫ মার্চের এপরিস্হিতি নিয়ে জামাতের মূল্যায়ন কী ছিল, এবং এখনও আছে, কোন দিকে ছিল জামাত - এটা খুবই ক্রশিয়াল প্রশ্ন। এর জবাব আমরা জামাতের কাছ থেকে আদায় করিনি। গণহত্যা ধর্ষণ নিয়ে জামাতের বিরুদ্ধে জনমতকে লোমহর্ষকভাবে তুলে ধরা যতটা আবেগের ততটাই আবেগ দূরে রেখে নিরাবেগে রাজনৈতিক বিচারে ২৫ মার্চের ঘটনার কাঠগড়ায় আমরা জামাতের বিচার করতে শিখিনি। আজ হোক কাল হোক, জামাতকে বলতে হবে সে কোন দিকে ছিল, এখনই বা কী মনে করে। এই রাজনৈতিক বিচারের কাঠগড়ায় জামাতের বক্তব্য কী - জামাতকে বলতে হবে; আর আমাদের শুনতেই হবে, শুনতে চাই।
এটা করতে পারলে তা আমাদের রাজনৈতিক পরিপক্কতারও লক্ষণ বটে।
নইলে যেকাজ আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্হা পারে নাই, এখন যুদ্ধাপরাধ বলে দাবি তোলা মানে ফকরুদ্দিনের কাঁধে বন্দুক রেখে আমেরিকার "ওয়ার এন্ড টেররের" রাজনীতির কাছে নিজেদের বিক্রি করে দেয়া।
আমাদের কোর্টই আমরা কিছু করতে পারিনি, আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্ট, আইসিসি তে আমরা কী করতে পারব? প্রতিষ্ঠান হিসাবে আইসিসি নিজেই ভ্রুনাবস্হা, নিজের ন্যায্যাতা প্রমাণ শেষ করতে পারে নাই। প্রশ্ন উঠেছে আইসিসির উত্থান কী রাজনৈতিক রিকন্সিলেশন, জাতিগত ক্ষত নিরাময় ও পুনর্গঠনের পথে বাঁধা; কঙ্গো, সুদান (দারফুর ও এলআরএ উভয় ক্ষেত্রে) বা রুয়ান্ডায় মামলায় অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের শিক্ষা কী, কঙ্গোর এক ওয়ার লর্ডের উপর গণহত্যার চার্জের মামালায় আইসিসি তাকে প্রমাণাভাবে বেকসুর খালাশের দিতে যাচ্ছে। নিউজ পেপার কাটিং দিয়ে আর যাই হোক বিচার প্রক্রিয়ায় কিছুই প্রমাণ করা যায় না - এতো আমরা হাতে হাতেই ফল দেখেছি। আইসিসিতে যদি আমরা যেতেও পারি,আমরা কী একইভাবে নিজেদের মিডিয়ায় হাসির খোরাক বানাব?
আশা করি ভেবে দেখবেন।
পি মুন্সী বলেছেন:
"সহজ কিছু কথা " কিছু বুজলাম না।

















