আমার প্রিয় পোস্ট
- ইন্ডিয়ান মিউজিশিয়ানদের জোচ্চুরি
(আসুন কিছু হিন্দি গানের অর্জিনাল ভার্সন শুনি) - আলআমিন মিরাজ
- স্মৃতি ১৯৭১ (শেষ পর্ব) - সুরঞ্জনা
- ফিরে দেখা ২০১০ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সব বই ডাউনলোড করুন - মো: হারুন-অর-রশিদ
- সামহোয়্যারইন ব্লগ : সপ্তাহের নির্বাচিত পোস্ট (১৬ আগস্ট - ২২ আগস্ট) - ফিউশন ফাইভ
- এবার প্রেসের কাজে বাংলা লিখুন ইউনিকোডেই একদম সরাসরি ফটোশপ (মেহেদী ভাইয়ের নতুন পোস্ট) - টেকি মামুন
- পলিটিক্স কে পলিটিক্স ছাড়া কোনো সুশীল তরীকায় মোকাবেলা করা যায় না! - কৌশিক
- যেকোন Webpage থেকে বিজ্ঞাপন অপসারন করুন, বিজ্ঞাপনহীন ওয়েবের জগতে আপনাকে স্বাগতম! (রিপোস্ট)
- নাফিস ইফতেখার
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমগ্র রচনাবলী অনলাইনে - বংশী নদীর পাড়ে
- ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধান - অরূপ
- গুগলের বই ডাউনলোড - মানিক হাসান
- কিভাবে আপনার উইন্ডোজের গতি বাড়াবেন? - কমপিউটার জগৎ
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- চলমান পুঁজিবাদী সংকট থেকে উত্তরণ ( - দিনমজুর
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- জিএম শস্যের ভালো মন্দ - দিনমজুর
কি দাঁড়ালো: প্রণব ও বাউচারের সফরের পর - ১
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:০২
সফর শেষ হয়েছে। সফরের ফলে কি হলো তা নিয়ে অনেক আলোচনা, পর্যালোচনা দরকার। আমার সময় সামর্থ দিয়ে এখান থেকে শুরু করলাম।
BIPA:
ট্রানজিট আর টাক্সফোর্স নিয়ে আমরা এতই আলোচনা তুলেছি যে অন্যদিকে কী হয়ে যাচ্ছে - আমরা বোধহয় মিস করছি। আমি সেদিকে নজর ফিরিয়ে কথা শুরু করব। দুটা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে; একটাকে ১৯৮০ সালের চুক্তি, bilateral trade agreement নবায়নের কথা বলা হচ্ছে যেটা আসলে মূলত ট্রানজিটের নামে করিডোরের নীতিগত একমতের দলিল। এরপরবর্তীতে, ট্রানজিট বা করিডোর শব্দ বদলে এখন যেটাকে connectivity বলা হচ্ছে তা নিয়ে আগামিতে আর একটা চুক্তি করবে। এপ্রসঙ্গে পরে সময় করে যাব। কিন্তু দ্বিতীয় চুক্তিটা কী? এটাই আমাদের চোখের আড়ালে পরে আছে।
দ্বিতীয় চুক্তিটার আইনি নাম হলো, Bilateral Investment Promotion and Protection Agreement (BIPA)। আইনি টেকনিক্যাল টার্মে উপস্হাপন বলে - কি ঘটে গিয়েছে এতে তা নিয়ে সাধারণ্যে হৈ চৈ আপত্তি কম। কিন্তু এটা অন্য চুক্তির তুলনায় আমার হিসাবে কম নয়, বরং বেশি গুরুত্ত্বপূর্ণ।
BIPA মানে আসলে কী বুঝব? এর খাস মানে হলো, ভারতীয় বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসবে - এর শনৈ শনৈ উন্নতি (Promotion) ও এর মুনাফা ও আসল বিনিয়োগের নিরাপত্তা (Protection) বাংলাদেশের রাষ্ট্র দিচ্ছে বা দিবে বলে কবুল করেছে - এই চুক্তিতে। মুনাফা ও আসল বিনিয়োগের নিরাপত্তা - এর আরও খাস মানে হলো - ব্যবসার মুনাফা এবং মূল-ক্যাপিটাল কখনও উঠিয়ে নিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করে চলে যেতে চাইলে রাষ্ট্র বাধা দিতে পারবে না, কোন কারণে বায়োজাপ্ত করতে পারবে না শুধু নয় বরং সাহায্য করবে।
এরপর এর একটা দ্বিতীয় অংশ আছে - এটাই মারাত্মক। ভারতীয় ঐ কথিত বিনিয়োগে অবশ্য ভারতীয় বে-সরকারি প্রাইভেট ব্যবসায়ী বিনিয়োগ। বাংলাদেশের কোন প্রাইভেট ব্যবসায়ী ওর ছোট পার্টনার বা সাব-কন্ট্রাকটর হিসাবে থাকতে পারে বা নাও পারে। কিন্তু ঐ বিনিয়োগের গ্রারান্টার (Guaranter) হবে বাংলাদেশ সরকার। অর্থাৎ ভারতীয় বিনিয়োগের কোন ক্ষতি, বিপর্যয় হলে বাংলাদেশ সরকারকে তার দায় নিবে। একথা স্বীকার করে ঐ চুক্তি হয়েছে।
Investment Promotion and Protection - এই বিষয়ে বিনিয়োগ নিতে চায় - এমন গরীব সবদেশকে বাধ্যতামূলক আইন পাশ করতে হবে - শর্ত আকারে সর্বপ্রথম তা গ্রহণ করতে বাধ্য করা শুরু করেছিল বিশ্বব্যাঙ্ক, গেল সত্তরের দশকে। সবদেশকে নিজেই এই আইন করতে বাধ্য করা বিশ্বব্যাঙ্কের সাধারণ মৌলিক নীতির অংশ। আমরা জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাঙ্কের সাথে শর্তযুক্ত দলিলে স্বাক্ষর করে, নিজের Foreign Investment Promotion and Protection Act ১৯৮০ জারি করি। এটা যে কোন দেশের প্রাইভেট বা সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের প্রচারপত্রে দেখা যাবে ফলাও করে বলা থাকে আমরা ঐ আইন বানানো দেশ। এর মূল কারণ ছিল কোন "জাতীয় সরকার" কোন বিবাদের কারণে বিদেশী বিনিয়োগ যাতে বায়োজাপ্ত বা "জাতীয়করণ" না করতে পারে তার জন্য রক্ষাকবচ। এরচেয়ে বেশি এখন এখানে বলতে চাচ্ছি না। পোষ্টের আকার বড় হয়ে যাবে।
এখন তাহলে দুটো প্রশ্ন। ঐ আইনের আওতা ও সুবিধা যেহেতু সবদেশের বিনিয়োগের জন্য প্রযোজ্য - তাহলে ভারতের সাথে আবার আলাদা করে আমাদের সরকার BIPA চুক্তি করলো কেন? এর দরকারটা কী? আবার এই চুক্তি করে বাড়তি কোন একটা সুবিধা নিশ্চয় ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের দেয়ার দরকার হয়েছে। সেটা কী?
১৯৮০ সালের Foreign Investment Promotion and Protection Act - জারি করা মানে এটা বিদেশী বিনিয়োগে বাংলাদেশ রাষ্ট্র আপনাআপনি গ্রারান্টার (Guaranter) হয়ে যাবে এমন কোন ক্লজ নাই। গ্রারান্টার (Guaranter) এর কোন ধারণা Foreign Investment Promotion and Protection Act ধারণা করে না। ফলে আলাদা করে চুক্তি করার এই বাজে উদাহরণ সৃষ্টি করা হলো। এতে একদিকে কেবল ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা ও মুনাফা কামাতে আরাম করে দেওয়া হলো। আরও তাদের ব্যবসা ও মুনাফা কামাতে যা কিছু রিস্ক সব আমাদের রাষ্ট্রের কাঁধে দেওয়া হলো। মানে আমরা সবাই তা বহন করব। বাংলাদেশের স্বার্থের দিক থেকে পাঠক বুঝতেই পারছেন, আমরা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছি।
ব্যবসা ও মুনাফা যদি ব্যক্তিগত মালিকানায় হয় তবে এর যা কিছু রিস্ক তা জনগণ নেবে কেন? এখানে আমরা কিন্তু, ব্যবসা ও মুনাফা ব্যক্তিগত মালিকানায় হোক তাতে আমরা আপত্তি করছি না। তবে আরও গুরুত্ত্বপূর্ণ হলো, এটা আবার একটা বিদেশী বিনিয়োগের ব্যবসা ও মুনাফা। আমরা আমাদের দেশীয় বিনিয়োগকারীদেরকেও তো রাষ্ট্র থেকে এই সুবিধা দেই না। অন্য কোন বিদেশী বিনিয়োগকারীকেও দেই না। এর কারণটা সোজা। ব্যক্তিগত মালিকানার কোন ব্যবসা ও মুনাফার লজিকের সাথে রাষ্ট্রের এই দায় নেবার কোন সম্পর্ক নাই। তাহলে ভারতীয় বিনিয়োগকে কেন? এতে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের প্রতিযোগিতার দিক থেকে তুলনায় সবার চেয়ে উপরে রাখছি, পক্ষপাতিত্ত্ব করছি। কেন? কার স্বার্থে? এটাই এই চুক্তির সবচেয়ে মারাত্মক দিক।
BIPA চুক্তিটা আইনত একটা উভয় দেশের জন্য খাটে, সুবিধা পায় এমন একটা চুক্তি হলেও কার্যত, প্রয়োগের দিক থেকে এটা কেবল ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের চুক্তি। উপরের আলোচনা তাই এর কার্যত মানে কেবল ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের একটা চুক্তি ধরে নিয়ে কথা বলেছি।
ফলে চুক্তিতে BIPA which, seeks to promote and protect investments from either country in the territory of the other -, এখানে লেখা থাকলেও তা একটা বড় ধরণের কথার ফুলঝুড়ি ও চালাকি। এখানে কাল্পনিক বাংলাদেশী বিনিয়োগকারি ধরে নিয়ে কথা বলে খামোখা চুক্তির আকার বড় করা হয়েছে; ফলে বলা যায় either country লিখে সরকারের জনস্বার্থ রক্ষার ব্যর্থতা, মুখরক্ষার একটা অক্ষম প্রচেষ্টা নিয়েছেন। এটাকে অনেকে টেবিল টকে বা রাজনৈতিক ময়দানে "আমরা কোন অসম চুক্তি করি নাই। বাংলাদেশের জন্যও সমান সুবিধা আমরা আদায় করে এনেছি বলে - বাজিমাত করতে বা নিজের আহাম্মকি ঢাকার চেষ্টা করতে পারে। এটা অনেকটা এভাবে বলা, আমারে জুতা মারতে মারতে জুতা ছিড়ে ফেলাইছে, কিন্তু আমি জুতার দাম দেই নাই। পাঠক, কেউ কী বিশ্বাস করেন আমরা বিদেশে বিনিয়োগের জাতি হয়ে গেছি, আমাদের দেশী বিনিয়োগকারীদের বিদেশে বিনিয়োগ করার মারাত্মক সমস্যা আছে, একেবারে জাতীয় সমস্যা? তাহলে যা আমাদের জন্য ইস্যুই না তা কথার ফুলঝুড়িতে ও চালাকি শব্দে চুক্তিতে লেখার জন্য যে কালিকলম সময়টা ব্যয় হয়েছে ওটাই তো অপচয়।
অপচয়ে ও অর্থহীন করে হলেও লিখে রাখার এসব কথা বলতে চায়, এই চুক্তি বলে বিনিয়োগের বিশেষ সুবিধা আমরা পাব। কোথায়? - না, ভারতে। কোন ভারতে? যে ভারতের মাত্র এক কোণে পূর্বভারতে আগরতলা থেকে আসাম পর্যন্ত - আমাদের সাবান, সিমেন্ট, ব্যাটারীর মত সুবিধাজনক ছোটখাট পণ্য রপ্তানী আটকে দিয়েছে অ-শুল্কজাত চার্জ আরোপ ও তাদের পণ্যমানের বাজে দোহাই দিয়ে - তারা? আবার এরাই আমাদের বুকের উপর দিয়ে ট্রানজিটের গাড়ি চালিয়ে গিয়ে ঐ বাজারের দখল চাচ্ছে - এরা আমাদের কী বিনিয়োগের বিশেষ সুবিধা দিতে পারে অনুমেয়? ভারতের সাথে যে কোন চুক্তি মানে ওটা ওয়ানওয়ে - আমাদের অভিজ্ঞতা তাই বলে। আর আমাদের বিনিয়োগ সামর্থ থাকলেও তা বহু দেশই আকর্ষণীয় হতে পারে, ভারতের তুলনায়। ভারত নিজেই এখন বিনিয়োগে মাতাল ওখানে ভারতের সুন্দর সদিচ্ছা (যা কখনও কোন কিছুতে নাই) থাকলেও আমাদের জায়গা হবার কারণ নাই। আমাদের নিজ বিদেশী বিনিয়োগ এর মানে হলো গ্রামীন প্রবাদের মত; হবে ছাওয়াল ডাকবে বাপ তবে জুড়াব মনের তাপ। সেই আকাশ কুসুমের কথা ভারতও জানে। ফলে BIPA বিনিয়োগ চুক্তিতে এসব বাহাদুরি কথা থাকলেই বা কী না থাকলেই বা কী - এতে ভারতের হারাবার কিছু নাই, লিখে কোন ক্ষতি নাই। লাভ হলো এটাকে একটা either country কে সুবিধা দিয়ে করা চুক্তি বলে, বাংলাদেশের হাতে মোয়া ধরিয়ে দেয়া গেল।
আজব ব্যাপার হলো, এই চুক্তিটা করা হয়েছে ভারতের সাথে আমাদের বছরে এক বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতির দোহাই দিয়ে। এনিয়ে অনেক কথা বলার ছিল। বন্ধু মোহম্মদ আরজুসহ অনেকের কথা শুনে পোষ্ট বড় করব না। আর, দুই লাইনে কথা শেষ করব। ভারতীয় বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে পণ্য বানিয়ে তা আবার ভারতে রপ্তানি করলে তবেই অন্তত কাগজপত্রে ওটা বাংলাদেশের রপ্তানি বলে খাতায় উঠবে। ফলে অন্তত খাতাপত্রে আমরাই কিছু রপ্তানী করেছি বলে দেখানো যাবে। কিন্তু ভারতীয় বিনিয়োগকারী যে ভারতেই রপ্তানি করবে এর নিশ্চয়তা কেউ কী দিয়েছে? কোথায় দিয়েছে? হওয়ার কোন কারণও নাই। ভারতের আমদানি নীতি দেখুন। যা ভারত তৈরি করতে সক্ষম সেটা আমদানির বিপক্ষে যত ধরণের শুল্ক, অ-শুল্ক, পণ্যের মান সার্টফিকেট দিয়ে বাধা দেওয়া যায় সব সেখানে আরোপ হবে। ফলে ভারতীয় বিনিয়োগকারীর বাংলাদেশে পণ্য ভারতে রপ্তানি করা যাচ্ছে না অজুহাত তুলে তৃতীয় দেশে যেখানে পাবে সেখানে রপ্তানি করবে। এখন বলেন, এর সাথে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতির কথার সাথে এর আর কোন সম্পর্ক থাকলো? তাহলে আমাদের বিশেষ বিনিয়োগ সুবিধার মানে কোথায় এসে ঠেকল?
ফলে সুবিধা দিয়ে একটা ভারতীয় বিনিয়োগের বাজার হবে ঠিকই তবে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এর কাজ বা লক্ষ্য নয়। লক্ষ্য অন্য কোন খানে। বাণিজ্য ঘাটতি যে কমবে না এটা প্রণব মুখার্জিও জানেন। তাই না কমার জন্য গতকাল আমাদের "সহনশীলতার" নতুন কথা শিখিয়ে গেছেন।
আচ্ছা আসলে বাণিজ্যে ঘাটতি থাকলে সমস্যা কী? এটা কার জন্য "সহনশীলতার" প্রশ্ন? এসবের উত্তর আমাদের পেতে হবে। সেটা আর একদিন।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ট্রেড ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: 'নিক্সন ফ্রস্ট' দেখেন ভালো কথা। কিন্তু বিষয়টা সিরিয়াস। কাইল কথা চাই।
লেখক বলেছেন: আপনার সাথে মনজুরুলও একই কথা কইছে।
ধন্যবাদ আপনাকে আমার চোখ পড়ানোর উদ্যোগের জন্য।
ব্যতিক্রমী বলেছেন:
সময় করে পড়ব। তবে যেটুকুই পড়লাম ভালো লাগল।
লেখক বলেছেন: সময় করে পড়বেন। মন্তব্য লিখবেন।
মনজুরুল হক বলেছেন:
দিনমজুরের দুটি পোস্ট। একটি বাউচারকে নিয়ে, অন্যটি "বিপা" নিয়ে। আপনি বোধ হয় একটু গ্যাপ দিয়েছেন। নজরে পড়লে বোধ হয় এভাবে না দিয়ে অন্যভাবে দিতেন।
যাহোক, এই পোস্টে আলোচনা এভাবে এগুতে পারে..... বাউচার কেন এখনই টিফা স্বাক্ষর করাতে চাইল না, এবং প্রণব কেন করিডোরের কথা পাড়ল না?
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ মনজুর। আসলেই আমি দিনমজুরের পোষ্ট দুটা দেখিনি। আমি আসলেই ভাল কিছু মিস করেছি। সুতরাং আপনি ঠিকই বলেছেন, "নজরে পড়লে বোধ হয় এভাবে না দিয়ে অন্যভাবে দিতেন"। আমি এখনও দিনমজুরের পোষ্টে মন্তব্য লিখিনি, লিখতে যাব।
পরের প্রসঙ্গ আপনি যেভাবে বলেছেন সেটাই প্রথম প্রসঙ্গ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিপার প্রসঙ্গটা উপেক্ষিত মনে করে ওটাই প্রথম প্রসঙ্গ করেছি। পরের প্রসঙ্গ করব, টাক্সফোর্স নিয়ে। এরপর দেখা যাবে বাকীগুলো কী করা যায়। অংশগ্রহণ চাই।
লেখক বলেছেন: আপনার উপমাকে নিয়ে কতদূর আগালেন খবর নেয়া হয়নি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও।
মার্ক জুবাবের বলেছেন:
সময় নিয়ে পড়তে হবে। পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: পড়বেন। আলোচনা সমালোচনা করবেন আশা রাখি।
ধীবর বলেছেন:
যারা চুক্তি করেছেন, তারা এসব তথ্য বিলক্ষণ জানেন। কিন্তু যে কারণে বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতি এই চুক্তি করেছে, তাদেরকে মালিকি-কারজাই এর চেয়ে আলাদা কিছু মনে হচ্ছে না। লেখককে অনুরোধ যেন এ ধরণের তথ্যবহুল বিশ্লেষনধর্মি লেখা আরো লেখার জন্য। প্লাস। বি দ্রঃ যে দুজন এই পোস্টে চোরের মত মাইনাস দিয়ে পালিয়েছে, তাদের বক্তব্য শুনতে পারলে ভালই হতো।
লেখক বলেছেন: ধীবর আপনি ঠিক ধরেছেন। আপনার মনে হওয়াটা ঠিক। আমরা একটা মালিকি-কারজাই পেতে যাচ্ছি। সম্ভবত, এমন আরো মালিকি-কারজাই সামনে পাব।
মাইনাস দেয়াতে আপত্তির কিছু নাই। একমত, চোরের মত পালিয়ে মাইনাস দেওয়ার চেয়ে আমাদের সামনা সামনি মোকাবিলা করুক এটাই আমরা চাই। তাদের বক্তব্য আমরা শুনতে চাই।
অিপ্রয় সত্য বলেছেন:
আমাদের আরেকটা যুদ্ধের সময় এসে পরেছে। ধন্যবাদ পোষ্টের জন্য। +
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ তাই। খাঁড়া কথাটা একদম খাঁড়া বুঝেছেন।
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন:
প্রনবের "সহনশীলতার" কথা শুনে মনে পড়ে গেল মধ্য্ যুগে তথাকথিত সভ্য ইউরোপে জারি করা ' সহনশীলতার ফরমানে'র কথা' . Click This Linkভারত তার স্বার্থ দেখবে সেটাই স্বাভাবিক
কিন্তু অস্বাভাবিক হল আমাদের ভুমিকা (!)
নিজের বুঝ নাকি পাগলও বুঝে
আমরা বুঝি না
তাই বারবার নাকের বদলে নরুন পাই ।
এখানে নতজানু হওয়ায় দেশপ্রেম (!)
সত্যি কি বিচিত্র এই দেশ সেলুকাস !
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মানিক। প্রণব এখনও বাংলাদেশকে চিনে নাই। যে একবার সশস্ত্র যুদ্ধ করতে পেরেছে সে কী করতে পারে প্রণবের জানা নাই। আমাদের সভ্যতা শেখাবার দিন বহু আগেই শেষ হয়েছে। এবার সভ্যতা শেখাবার দিন। ট্রাজেডিটা হলো, এই চুক্তির বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষরদাতা হলো দিলীপ বড়ুয়া। "বামপন্থী" সাম্যবাদী দল।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
মুন্সী,বড় উপকার হইলো লেখাটা পড়ে। টিফা, ট্রানজিট অমাক তমুক এইসব চুক্তিগুলার কোনো অনলাইন উৎস জানা আছে আপনের?
বা এইগুলা কি কোনো ভাবে আলোচনার জন্য ব্লগে দেওয়া যায়?
লেখক বলেছেন: আরজু দিনমজুরের যে লিঙ্কটা দিয়েছে ওটা গুরুত্ত্বপূর্ণ।
সাধারণভাবে, আসল চুক্তির কপি তো বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষরদাতা "বামপন্থী" দিলীপ বড়ুয়াও পড়েছে বলে আমি মনে করি না। এই স্বাক্ষরের মানে কী এটা বুঝার ক্ষমতা তাঁর নাই। কোথায় সই করে নিজেকে বাংলাদেশের ইতিহাসের আস্তাকুড়ে জায়গা করে নিলেন সে হুশও নাই। এসব নির্বোধ, বিকারহীন লোক জেতা নাই, জিন্দা লাশ।
যাই হোক, অন্য উৎস খুজছি। আপাতত নিচের লিঙ্কটা দেখতে পারেন, টিফার জন্য
Click This Link
হাত লাগান। একটু তুমুল আলোচনা করে আমাদের হোমওয়ার্কটা যদি সেরে নিতে পারি তো কাজ আমরা অনেক দূর আগাতে পারি।
ধন্যবাদ।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
দিনমজুরের পোস্টে লিংক দেয়া আছে।
ভারতের অর্থ মন্ত্রনালয়ের এই লিংকে বিস্তারিত লেখা আছে।
লেখক বলেছেন: আরজু,
ভারতের সাথে সাবান-যুদ্ধ নিয়ে গতকাল একটা ছোট্ট রিপোট বের হয়েছে। Click This Link
একটু খবর নিতে পারেন কিনা দেখুন,
তপন চৌধুরি-প্রণব মুখার্জ বিখ্যাত দেশ বিরোধী আতাত মনে আছে নিশ্চয় চালকে কেন্দ্র করে দেশ বন্ধক দেবার পোষ্ট আপনি দেখেছেন। এখন দেখেন সাবান বেচার নামে এবার দেশের আর কিছু বেচল নাকি।
লেখক বলেছেন: বন্ধু শুভ৭৭, আমার কোন আপত্তি নাই যদি আপনি ব্যবস্হা করতে পারেন। আমার অভিজ্ঞতা ভালো না।
কাটা ছেড়া করবে, বা একমাস ফেলে রাখবে এগুলো আমার পছন্দ না। এছাড়া, এটা আওয়ামি লীগ না বিএনপি না জামাতের পত্রিকা হোল তা নিয়ে লেখার গুরুত্ত্ব বেকে যাবার ঝামেলা তো আছেই।
যাই হোক, আপনি পারলে, এই জবাবটাকে অনুমতি মনে করে ছাপতে পারেন। তবে কাটা ছেড়া হতে দিবেন না, আর আমাকে একটু জানাবেন কোথায় ছাপা হলো।
অনিশ্চিত বলেছেন:
বিপা নিয়ে চুক্তি আমাদের মানসিকতার দেউলিয়াত্বই প্রকাশ করেছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, শুধু মানসিকতাই নয়, চুক্তির ভাষা বুঝার সামর্থেরও অভাব রয়েছে আমাদের। না হলে চুক্তিটা করার আগে একবার পড়লে স্বাভাবিক কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন কারোরই সেটি মানার কথা নয়।তবে এ নিয়ে দিগন্তর লেখাটিই গুরুত্বের দাবিদার। এ ধরনের চুক্তি নাকি হরহামেশাই বিভিন্ন দেশের সাথে করা হচ্ছে। সেগুলোর আলোকেও কথা বলা দরকার।
আপনার লেখাটির চাইতে দিনমজুরের লেখাটি ভালো লেগেছে। কারণ তার মধ্যে ভারতপ্রীতি যেমন নেই, ভারতবিরোধিতাও নেই। একজন মানুষ হিসেবে তিনি বঞ্চিতদের পক্ষে লেখাটি তৈরি করেছেন।
আপনার আর দিনমজুরের লেখার উদ্দেশ্য এক হলেও আপনার লেখায় সবসময়ই ভারতবিরোধিতার 'সুবাতাস' পাওয়া যায়। যে কারণে লেখার মূল বিষয় পছন্দ হলেও টোনটা পছন্দ হয় না।
তারপরও লেখার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনার প্রথম প্যারার সাথে দ্বিতীয় প্যারা অসামজ্ঞস্যপূর্ণ ও বিরোধী। বিপা চুক্তি করাকে আপনি বলছেন, "মানসিকতার দেউলিয়াত্বই প্রকাশ", "বুঝার সামর্থেরও অভাব", "স্বাভাবিক কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন কারোরই সেটি মানার কথা নয়" - বলছেন।
আবার দ্বিতীয় প্যারায় বলছেন, "এ ধরনের চুক্তি নাকি হরহামেশাই বিভিন্ন দেশের সাথে করা হচ্ছে"।
এর মানে কী দাড়ালো, আপনি নিজেই মেনে নিয়েছেন, হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীরা "মানসিকতার দেউলিয়া", বুঝার সামর্থেরও অভাব", "স্বাভাবিক কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন"হীন সম্পন্ন। এরপর আবার "এ ধরনের চুক্তি নাকি হরহামেশাই বিভিন্ন দেশের সাথে করা হচ্ছে"। একথা বলে আপনার আগের মানা কথাকে এবার আড়াল করার মানে কী? বিভিন্ন দেশের সাথে এই ধরণের কথিত চুক্তির কথা সত্যি হলে কি - হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীরা "মানসিকতার দেউলিয়া", বুঝার সামর্থেরও অভাব", "স্বাভাবিক কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন"হীন সম্পন্ন - যেগুলো আপনি বলেছেন সব মিথ্যা হয়ে যাবে?
আপনি আসলেই অনিশ্চিত।
আপনার সমস্যা হলো, চুক্তি বিষয় নিয়ে বিবেচনা করতে বসার আগেই আপনার এই সরকার বা দলকে বিরোধীতা করতে হয় এমন জায়গায় আপনি যাবেন না - এই আগাম অনুমান নিয়ে বসে গেছেন।
এই সরকার বা দলের সমর্থক মনটাকে বাইরে রেখে চিন্তার স্বাধীন গতিপথ নিশ্চিত করতে না পারলে আপনি সবসময় অনিশ্চিতই থেকে যাবেন। আর এরকম স্ববিরোধী বাক্য বের হয়ে আসবে। এটা যে স্ববিরোধী এটাও টের পাবেন না।
আমার বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বার্থ নিয়ে কথা বলা আপনার কাছে কেন ভারতবিরোধিতার 'সুবাতাস' বলে মনে হচ্ছে - এর কারণ আপনাকেই খুঁজে বের করতে হবে। একটা সাহায্য করতে পারি দেখেন কাজে লাগে কিনা।
সম্ভবত আমরা যে একটা আলাদা রাষ্ট্র, ভারত একটা আলাদা রাষ্ট্র। আর বাই ডিফল্ট রাষ্ট্র মানের নিজের স্বার্থ এবং রাষ্ট্র মানেই সীমানার বাইরের সব রাষ্ট্র তার শত্রু। এটা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেমন সত্য ভারতের ক্ষেত্রেই তাই। এই কথাটা শুনতে আপনার খারাপ লাগতে পারে, প্রলেপ লাগিয়ে নরম করে শুনতে চাইতে পারেন - কিন্তু কোন লাভ নাই।
আমি তো বাংলাদেশে বসে আমাদের রাষ্ট্রের স্বার্থের কথা বলছি। এটা একমাত্র ভারতে বসে তাদের রাষ্ট্রের স্বার্থের দিক থেকে দেখলে ভারতবিরোধিতার 'সুবাতাস' মনে হবার কারণ আছে। এবং আসলেই আমি যা বলেছি তা তাদের রাষ্ট্রের স্বার্থের দিক থেকে দেখলে ভারতবিরোধিতার 'সুবাতাস'। অবশ্যই সন্দেহ নাই।
এখন আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোথায় রাষ্ট্রে বসে দেখবেন। আপাতত আপনি বাংলাদেশে বসে আছেন ঠিকই কিন্তু কষ্ট পাচ্ছেন ভারত রাষ্ট্রের দিক থেকে দেখলে ভারতবিরোধিতার 'সুবাতাস' টের পাচ্ছেন বলে।
এই স্ববিরোধ কাটাতে একমাত্র আপনি আপনাকে মুল সাহায্যটা করতে পারেন।
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন:
আসতেছি, পরে আলাপ করবো। কিছু তথ্য যোগায়া লই।
লেখক বলেছেন: আইসেন।
দিগন্ত বলেছেন:
আপনার বক্তব্য অনুসারে আমি একমত যে বাংলাদেশের লাভের ঘরে এ চুক্তি থেকে বিশেষ কিছু আসে না। কিন্তু সেভাবে একটা চুক্তি কে আলাদা করে দেখলে তেমন কোনো লাভ নেই - যদি না বিনিয়োগকে লাভ বলে আদৌ মনে করেন। সাফটা থেকে আবার ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের লাভই বেশী, কারণ এতে দুদেশই উভয়কে নিঃশুল্ক আমদানী-রপ্তানীর সুযোগ দেবে। যেহেতু ভারত বাংলাদেশের পণ্যে বেশী শুল্ক আরোপ করে, তাই শুল্ক উঠলে বাংলাদেশের লাভ বেশী। সেজন্য, পশ্চিমবঙ্গে সাফটার বিরোধী কথাবার্তা বেশী হয়, বাংলাদেশে স্বাভাবিকভাবেই বিপা-র বিরোধী কথা বেশী হবে। মজার কথা, ডাব্লিউ-টি-ও র অধীনে সব দেশই একে অপরকে এই সুবিধাগুলো দেবার অঙ্গীকার করবে কিছুদিনের মধ্যেই। আমার লেখায় লিখেছি, বাংলাদেশ এইজাতীয় চুক্তি আগেই অনেক দেশের সাথে করেছে, তাই আলাদা কিছু ফল হবার সম্ভাবনা নেই।
সবশেষে বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে আসি। বাংলাদেশের রপ্তানীদ্রব্যের মধ্যে ৭০%এরও বেশী হল গারমেন্টস। ভারত বাইরে থেকে খুব কমই গারমেন্টস আমদানী করে। তাই বাংলাদেশের পক্ষে ভারতে বিশাল কিছু রপ্তানীর সম্ভাবনা আপাতত কমই। অপরদিকে বাংলাদেশ ভারত থেকে যা আমদানী করে তা অন্য দেশ সস্তায় পেলে থেকেও আমদানী করতে পারে। বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর এটাই একমাত্র পথ আপাতত। চিন ছাড়া আর কেউ সস্তায় জিনিস দেবার নেই। তাই ভারতের সাথে ঘাটতি কমলে চিনের সাথে বাড়বে। মজার কথা, চিনে বাংলাদেশের রপ্তানীর সম্ভাবনা আরও কম। তাই, বাংলাদেশের পক্ষে ভারত ও চিনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর চিন্তা না করে আমেরিকা ও ইউরোপে যত সম্ভব রপ্তানী বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। এটা খুবই স্ট্যান্ডার্ড একটা পদ্ধতি।
লেখক বলেছেন: ভালো আপনি এখানে এসে অন্তত এতটুকু একমত হতে পেরেছেন যে "বাংলাদেশের লাভের ঘরে এ চুক্তি থেকে বিশেষ কিছু আসে না"। আপনার মন্তব্য ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ।
আমি মনে করি আপনার প্রথম প্রসঙ্গে কিছু ফ্যাক্টস রিডিংয়ে ভুল আছে, পরে আসছি। তার আগে: তর্কটা আপনি অনেক সহজ করে দিয়েছেন একথা বলে, "বাংলাদেশের পক্ষে ভারত ও চিনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর চিন্তা না করে আমেরিকা ও ইউরোপে যত সম্ভব রপ্তানী বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। এটা খুবই স্ট্যান্ডার্ড একটা পদ্ধতি"।
তাহলে ভারতের সাথে "বাণিজ্য ঘাটতি"র ভয় দেখিয়ে অজুহাত তুলে যে বিপা চুক্তি করা হলো এর ন্যায্যতাই তো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল। কারণ বিপা চুক্তি দাড়িয়ে আছে - আমাদের দুই দেশের "বাণিজ্য ঘাটতি" দূর করা দরকার - এই কথার উপরে। এখন আপনিও আমার সাথে একমত বলে মনে করতে পারি যে, "বাণিজ্য ঘাটতি" দূর করার ক্ষেত্রে বিপা চুক্তির কোন ভুমিকা নাই।
কিন্তু আমার প্রশ্ন আরও গভীরে। ভারতের সাথে বা যে কোন দেশের সাথে বাংলাদেশের "বাণিজ্য ঘাটতি" থাকা মানেই কী তা বাংলাদেশের ক্ষতি বা ঠগে আছি। থাকলে কোথায়? এটা কি আমাদের ক্ষতি না ভারতের ক্ষতি? আরও স্পষ্ট করে বলি এটা কি এমন যে আমরা ভারতের পণ্য আমদানি করেছি কিন্তু মূল্য পরিশোধ করিনি বা করতে প্রায়ই সমস্যায় পড়ছি? ফলে ভারতের সমস্যা হচ্ছে?
এর উত্তর হলো - না। এটা মূল্য পরিশোধ জনিত বিষয় নয়। ফলে সেদিক থেকে এটা আমাদের বা ভারতের মূল্য পরিশোধ জনিত সমস্যা নয়। তবু, এই ধরণের একটা পপুলার ধারণা ছড়িয়ে রাখা হয়েছে ভয় দেখানোর জন্য। অথচ "বাণিজ্যে ঘাটতি" কথাটার তাৎপর্য আমাদের স্বার্থের দিক থেকে বুঝতে হবে।
১. সুনির্দিষ্ট কোন দুটো দেশের বাণিজ্যে ঘাটতি থাকতেই পারে। যেমন ভারতে রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশী - শুধু এই ফিগার এটা আমাদের দেশের অর্থনীতির সঙ্কট বা সমস্যা নির্দেশ করে না।
৩. কেবল ভারতের সাথে বিশাল ভারসাম্যহীনতা (বছরে প্রায় বিলিয়ন ডলার) নয়, দেশের সামগ্রিক সবদেশের সাথে আমদানি ও রপ্তানির ফিগার মিলিয়ে টোটাল Trade Deficit (ঘাটতি) হলে এই ফিগার অবশ্যই সমস্যা নির্দেশ করে। এটা কাটাতেই তখন আইএমএফের কাছে ধার করতে গিয়ে শর্তের ফাঁদে পড়তে হয়।
৪. কেবল ভারতের সাথে বিশাল ভারসাম্যহীনতা (বছরে প্রায় বিলিয়ন ডলার) - এই ভারসাম্যহীনতা থাকতে পারে এতে আমাদের কোন সরাসরি ক্ষতি নেই যদি আমরা অন্য কোন দেশে সুবিধাজনক বলে বেশি রপ্তানি করে এই ঘাটতি মিটাতে বা কমাতে পারি।
৫। এই ফিগার কী তাহলে কোন কিছুই নির্দেশ করে না?
করে, তবে ঠিক সমস্যা না। এই ফিগারের সাথে যদি দেখা যায় বাংলাদেশ যা রপ্তানি করতে পারে তা ভারতে প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে। তবে এখানে ঐ বাণিজ্য ঘাটতির ফিগার আমাদের জন্য গুরুত্ত্বপূর্ণ লজিক হতে পারে। আবার যেমন আমরা নতুন কোন অর্থনৈতিক উদ্যোগ, পরিকল্পনা নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যবসা বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে আর কী করতে পারি সেসব বিবেচনা, সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে কোন কোন দেশ আমাদেরকে রপ্তানি বেশি আমদানি কম করছে সেখানে কিছু করা যায় কিনা দেখতে এই ফিগারের নির্দেশনা গুরুত্ত্বপূর্ণ।
মজার ব্যাপার হলো, ভারত এটাই উল্টা করে করতে চাচ্ছে। সে আমাদের দেশে বেশি রপ্তানি করে অথচ বাণিজ্য ঘাটতির কথা তুলে আমাদের দেশে এসে বিশেষ বিনিয়োগ সুবিধা বাগিয়ে নিজেই রপ্তানি করবে বলে ভাব ধরেছে।
এইজন্যই আমি প্রশ্ন তুলেছি - ভারতের সাথে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতির ব্যাখ্যা ও করণীয় বলে ভারত যে প্রস্তাব ও চুক্তি করেছে এই ব্যাখ্যা ও চুক্তি আমাদের স্বার্থ রক্ষা করে না। ভারতের ব্যাখ্যা সোজাসাপ্টা ভয় দেখিয়ে বিশেষ বিনিয়োগ সুবিধা বাগিয়ে নিজেই রপ্তানিকারক হতে চাওয়া।
ভারতের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি মিটানো আমাদের দিক থেকে কোন সমস্যাই না - এই অর্থে যে অন্য কোথাও তুলনামূলক বেশি সুবিধা, রপ্তানির যোগ্যতা আমাদের আছে। বরং ভারতে আমরা যা কিছু রপ্তানি করতে পারি তা না দেয়ার ক্ষেত্রে ভারত বাধা দিয়ে রেখেছে - এটাই সমস্যা।
ফলে "ভারতের সাথে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি" ভারত যেভাবে ব্যবহার করে তার স্বার্থ-যুক্তি সাজাচ্ছে, একটা দূর্বল সরকার ক্ষমতায় বসিয়ে যেমন খুশি চুক্তি করিয়ে নিচ্ছে - এটা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বা আমাদের স্বার্থ বিরোধী।
লেখক বলেছেন: এখানে কথা চলছে ভারতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বার্থ নিয়ে।
দিগন্ত আপনি ভারতীয় নাগরিক। এই তর্কে অংশগ্রহণের আগে আপনার এই পরিচয়টা পাঠকে জানিয়ে না রেখে আপনি অসততা করেছেন। ভারতীয় স্বার্থ ন্যায্য না অন্যায্য সেটা প্রশ্ন নয়। এটা বাংলাদেশের স্বার্থের সাথে বিরোধী, সংঘাত আছে এখানে।
ফলে আপনার পরিচয় প্রকাশ না করাটা অসততা ও বাংলাদেশের পাঠককে বিভ্রান্ত করা।
নীল লাল সবুজ বলেছেন:
ভাল লিখছেন। আরো লেখার অনুরোধ রইল।
লেখক বলেছেন: ভালো।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
না। 'নিক্সন ফ্রস্ট' দেখা হইলো না। রুমমেটরা কয় 'স্লো' মুভি দেখবো না। তাই 'স্লামডগ মিলিনেয়ার' দেখলাম।-------------------------
এই পোস্টে মন্তব্য করার আগ্রহ হারায়া ফেলছি বোধ হয়। কি হইবো। দিনমজুর এবং আপনে যা লেখছেন তাতে বুঝা যাইতেছে এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য লাভজনক না।
কিন্তু সরকার এই চুক্তি করছে। অথচ দিনমজুর এবং আপনার মতো কইরে দেশের অন্য কোন দৈনিকে বা টিভিতে বলা হয়নাই এ বিষয়ে। সামুর এই পোস্ট দেশের কজন মানুষের কাছে পৌছায়? সংবাদ মাধ্যমগুলোর বড় অংশ বর্তমান সরকারে থাকা দলটারে 'রাজনৈতিক ভাবে বিপদে না ফেলা'র এডিটোরিয়াল নীতি নিয়া চলতাছে।
তাইলে আর এইখানে এইসব বইলা লাভ কি! জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারনী পর্যায়ে এইসব কথাবার্তা পৌছানো দরকার ছিল।
লেখক বলেছেন: ব্লগের সীমায় যা করা সম্ভব তাই করতে হবে।
[অফটপিক]
'স্লামডগ মিলিনেয়ার' কেমন দেখলেন? অমিতাভের অভিযোগটা হলো, "ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাইনি" এর - মত। ভারতীয় টিভি যে পুরা জাতিকে নিয়া জুয়ার আসর বসাইছে -এটা কারও নজর পরে নাই। এটা আবার আইনি চোখে জায়েজ।
অনিশ্চিত বলেছেন:
আপনি আমার কথা বুঝেন নাই বলার চেয়ে বলা ভালো আমি আপনাকে আমার কথা বুঝাতে পারি নাই। আমি বললাম, এই ধরনের চুক্তি, দিগন্তের কথানুসারে, আগে থেকেই হয়ে আসছে। এটা নতুন কিছু না। বরং সেগুলোরই ধারাবাহিকতা। সেগুলোকেও নিয়ে কথা বলা দরকার। না হলে সামগ্রিক চিত্রটা বেরিয়ে আসবে না। আপনি আজকে এতো কথা বলছেন; আমার ধারণা দলটা বিএনপি হলে আপনা মুখ দিয়ে এতো কথা বেরুত না। বিষয়টা ইসলামাইজেশন করা গেলে তো আরো না।আমি আওয়ামী লীগ করি না। বাংলাদেশেই থাকি, মনটাও ভারতে নাই। আমি ভারতের পক্ষেও না, বিপক্ষেও না। যে কাজ করলে আমার দেশের উপকার হবে, আমি সেটার পক্ষে। সুতরাং সেই আগের কথাটা আবার বলি- আপনি আমার কথা বুঝেন নাই বলার চেয়ে বলা ভালো আমি আপনাকে আমার কথা বুঝাতে পারি নাই।
আপনার সবগুলো লেখাই আমার মোটামুটি পড়া আছে। সেখান থেকে আপনার মধ্যে জমে থাকা 'ভারতবিরোধী' মনোভাব থেকে থেকেই প্রকাশ হয়ে উঠে। একইপ্রসঙ্গে দিনমজুরের লেখাটা আমার ভালো লেগেছে, কারণ তিনি কাউকে চিরশত্রু বা চিরমিত্র মনে করে লিখেননি। তিনি শুধু বাংলাদেশের পক্ষেই লিখেছেন।
লেখক বলেছেন: ধারাবাহিকতা মানে কী ? এগুলো চলতে দিতে হবে?
আর আপনি বসে আছেন "সেগুলোকেও নিয়ে কথা বলা দরকার। না হলে সামগ্রিক চিত্রটা বেরিয়ে আসবে না" বলে। আর ওদিকে চুক্তি হয়ে বসে আছে - আপনার কাছে "চিত্র হয়ে বেরিয়ে আসার অপেক্ষা"য় কেউ নেই।
আমি এবার বললাম, আপনাকে আমার কথা বুঝাতে পারি নাই। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উত্থান মানে সীমানার বাইরের সব রাষ্ট্রই মৌলিকভাবে বাংলাদেশের শত্রু। আমাদের সাথে অন্য রাষ্ট্রের কোন ইস্যুতে স্বার্থের মিল হতে পারে। তা তাসত্ত্বেও আদতে আমরা শত্রু এবং ঐ সাময়িক ইস্যুতে স্বার্থের মিল থাকার সময়ও শত্রুই থেকে যাই। ফলে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক বাই ডিফল্ট ভারতবিরোধী, ঠিক যেমন ভারতীয়রা বাই ডিফল্ট বাংলাদেশবিরোধী। এটা নৈতিক না অনৈতিক তার মামলা নয়, রাষ্ট্র স্বার্থের মামলা। আমার 'ভারতবিরোধী' মনোভাব দেখে আপনার কষ্ট বা পীড়া হলে বুঝতে হবে আপনি ভারতীয় নাগরিকের দিক থেকে দেখা দৃষ্টি হয়ত আপনার উপর ভর করেছে।
লেখক বলেছেন: আপনি ভারতীয় নাগরিক "দিগন্তের" ফ্যারে পরেছেন।
নীল লাল সবুজ বলেছেন:
ভালো লিখছেন। আরো লেখার অনুরোধ রইল।
লেখক বলেছেন: লিখব।
দিগন্ত বলেছেন:
আমি তো আগেই একমত হয়েছি যে এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের সরাসরি কোনো লাভ নেই। দ্বিতীয়ত, এর ফলে ভারতের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে বলে যে প্রচার, সেটাও সঠিক নয়। অঙ্কের অর্থে হয়ত কমতে পারে, মানে কিছু ভারতীয় কোম্পানী বাংলাদেশে জিনিস বানিয়ে ভারতে রপ্তানী করে কিছু ঘাটতি কমালেও সেই কোম্পানীর লাভ আবার ভারতেই চলে যাবে। তাই হরেঘরে মিলে কোনো লাভ নেই। তবে আপনি আমার যে প্রশ্নের উত্তর দেন নি - সেটা হল আরো ২৪টা (১৬টা ডকুমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে ইন্টারনেটে) দেশের সাথে যে চুক্তি আছে, সেই চুক্তি ভারতের সাথে করতে গেলেই সমস্যাটা কোথায়? আপনার একটা বক্তব্য ভাল লেগেছে, আপনি রাষ্ট্রকে স্বার্থপর হিসাবে দেখাচ্ছেন - সেটাই আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ধারণা। কিন্তু এটাও ঠিক, বাংলাদেশ আর সব দেশকে বিনিয়োগের জন্য সুবিধা না দিলে সেসব দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারও পাবে না। সুতরাং এই চুক্তিতে লাভ না থাকলেও সাফটা চুক্তিতে লাভ আছে। সেটাই আপনাকে বলেছিলাম, সাফটা থেকে ভারতের কোনো লাভ নেই, আবার বিপা থেকে বাংলাদেশের কোনো লাভ নেই।
এখন, আপনাকে তো এটাও ভাবতে হবে যে কিছুদিনের মধ্যেই বিনিয়োগ ও শুল্কের ক্ষেত্রে ডাব্লিউ টি ও র অধীনে এই সব চুক্তি একরকম সব দেশের সাথেই করতে হবে। তখন কি করা হবে? বাংলাদেশ কি ডাব্লিউ টি ও থেকে বেরিয়ে আসবে?
লেখক বলেছেন: এটা কোন একটা প্রশ্ন হলো? আমার রাষ্ট্র আপনার কথিত ২৪ টা চুক্তি করছে বলে আমাকে ২৫ নম্বরটাও করার পক্ষে থাকতে হবে, ন্যায্য মানতে হবে - এটা কোন যুক্তি হতে পারে না।
গণস্বার্থ বিরোধী এই ধরণের চুক্তি ঠেকাতে নাগরিক জনগণকে সচেতন সর্তক ও সংগঠিত করা আমার দায়িত্ত্ব। আগে পারিনি এখন পারছি - তো সেই সুযোগ আমাকে অবশ্যই নিতে হবে। কখনও না কখনও তো আমার সুযোগ মিলবে এবং তাই হয়েছে। আমাকে এই ধরণের চুক্তি ঠেকানোর সুযোগ করেও নিতে হবে। এই পচিশ নম্বরে আপনার দেশ পড়ে গেছে বলে আমার কিছু করা উচিত নয় - এটা কী একটা আবদার? আমি তো পারলে, শক্তি সঞ্চয় করতে পারলে আপনার কথিত ঐ গত ২৪টাও চুক্তিও উল্টে দিতে চেষ্টা করব। এটাই আমার কাজ।
রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে স্বার্থ আর অস্তিত্ত্ব সমার্থক। ব্যক্তি নিজের বেলাতেও কথাটা সত্য। আপনার existence আছে মানে আপনার একটা স্বার্থ আছে। এটা স্বার্থপরতা নয়। সংকীর্ণতাও নয়। তবে সংকীর্ণ স্বার্থপরভাবে, ভুল করে কেউ নিজেকে উপস্হাপন করে ফেলতে পারে। এখানে সংকীর্ণ স্বার্থপরতার মানে হলো - যেটা লংটার্মে অথবা সামগ্রিকভাবে বিচার করে দেখা হয় নাই যে এতে নিজেরই ক্ষতি আছে। এক্ষেত্রে এর খাস মানেটা হলো, আসলে নিজের স্বার্থটা কী, কোনটা আপনার স্বার্থ তা না বুঝে নিজের জাহির করলে যা হয়। তবে এতে অবশ্য, খালি খালি আশেপাশের মানুষজনকেও জ্বালানো হয়ে যায় - সারা জীবন। মানে হলো, সর্টকাট পথ ধরে এখন নিজের বিপদ ডেকে আনা আর, সবাইরে বিপদে ফেলানো। যেমন ভারতের পররাষ্ট্রনীতিটাকে দেখুন। এর বাংলাদেশ নীতিটা সবসময় গায়ের জোরের উপর ভরসা করে তৈরি ও পথ হেটেছে। ফরাক্কা বাঁধ করে ভাবলেন কেবল নিজের পানি সমস্যার সমাধান করবেন। ভালো কথা করেন। আমাদেরকে বললেন পরীক্ষামূলকভাবে অনুমতি দেন। দিলাম। কিন্তু গায়ের জোড়ে এটাকেই পারমানেন্ট করে নিলেন। এরপর আবার অন্য কারণে যখন আমাদের সাথে কথা বলার দরকার পড়লো সেই সুযোগে আমরা যখন জিজ্ঞাসা করলাম কথাবার্তা না বলে পানির নিয়ন্ত্রণ নিলেন, পানি দেন না কেন? এবার উত্তর দিচ্ছেন আমরাই কলকাতা বন্দর নাব্য করতে পারছি না আপনাদের দিব কী করে। দেখেন এখানে কথা কিন্তু ঘুরে গেছে। বলতে চাচ্ছেন আগে আপনার নিজের পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার পর পানি থাকলে তবেই দিবেন। আন্তর্জাতিক নদী আইন কিন্তু তা বলে না। সে যাই হোক, আজকে তেত্রিশ বছর পরে বিচার করেন, গায়ের জোড়ই শেষ কথা মনে করে যা করছেন এতে কী কী ফল হয়েছে। ১. বাংলাদেশের মানুষের মন বিষায়ে ফেলছেন। সাধারণ মানুষ আপনাদের কোন কথা বিশ্বাস করে না বরং সন্দেহের চোখে দেখে। আর জামাতিরা এইটাকে ভাল করে কাজে লাগায়। ২. কলকাতা বন্দরের নাব্যতা বাড়ছে? ধরে রাখতে পারছেন? পারেন নাই। কোন লাভ হয় নাই। ৩. উল্টা এখন কী শুরু হয়েছে মালদহ, মুর্শিদাবাদের লোক প্রতিবছর বন্যায় ডুবতেছে।
বন্যা হলে নিজের দেশেরই তো লোক ফেলাইয়া তো দিতে পারবেন না, কিন্তু বন্যা সামলাতে একটা খরচ তো আছে। আবার বন্যায় যা ক্ষয়ক্ষতি হইছে তারও তো একটা হিসাব আছে। করেন দেখেন ডাইনে বামে মিলান। গায়ের জোড়ে পানি নিয়ে লাভ হইছে, না ক্ষতি? এদিকে দিনকে দিনকে এমন অবস্হার দিকে যাচ্ছে যে দেখেন বাঁধ ভেঙ্গেও এখন নিজেকে বাঁচতে পারবেন কীনা।
তাহলে কী হলো? নিজের স্বার্থটা কী, কোনটা আপনার স্বার্থ তা বুঝার যোগ্য হয়ে কাম করতে পারছেন? নাকি সংকীর্ণ স্বার্থপর রাষ্ট্র হইছেন?
তাহলে রাষ্ট্রের স্বার্থ বলতে আমি কী বুঝিয়াছি আপনি বুঝেন নাই। আপনি সংকীর্ণ স্বার্থপরতাই বুঝছেন।
কথাগুলো মজা করে প্রতীকিভাবে বললাম। দেখেন তিনশ বছর দুনিয়া দাবরে রেখে উপনিবেশী দখল কায়েম করে বৃটেন সম্পদ কম জড়ো করে নাই। কিন্তু তাতেও কুলায় নাই। এক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কোনমতে দেশ, মাটি বাচাতে হিমশিম কিন্তু দেউলিয়া হওয়া ঠেকাইতে পারে নাই। এখনও শিক্ষা হয় নাই। তেলের লোভে লোক মেরে বেড়াইতেছে, আর মানুষের বদদোয়া কামাইতেছে। তাহলে কী হইলো?
এই পররাষ্ট্র নীতি দিয়ে ভারতের অর্থনৈতিক পরাশক্তি হওয়ার খায়েস পূরণ হবে না। ভারতের দশটাকা লাভ হলে বাংলাদেশের ক্ষতি নাই। কিন্তু বাংলাদেশের এতে যদি ২ টাকাও লাভ না হয়, উল্টা ক্ষতি হয় এতে ভারতের দশটাকা হবে না, হতে পারে না। ব্যবসা আমি একাই করব, ভাল ব্যবসা বুঝা লোক হলে একাজ কখনও করবে না। ভারত বাণিজ্যিক বাণিজ্যিক বলে চিৎকার করে ঠিকই, যখন যেটা কাজে লাগে সেটাই বলে। এর মানে সে ভাল ব্যবসা-বাণিজ্য বুঝে তা কিন্তু না। এখন আমেরিকাকে সাথে পেয়েছে বলে গায়ের জোড়ের পররাষ্ট্রনীতি আরও জোরদার করলে লাভ হবে - এটা ভালো ব্যবসায়ীর বুঝ না। দিয়ে খেতে জানতে হয়, নইলে না খেয়ে মরতে হয়।
গায়ের জোরের পররাষ্ট্রনীতি জীবিত থাকতে - শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার, সাফটা চুক্তি এগুলোর কোন ফল নাই, বাস্তবে নাই।
ডাব্লিউটিও নিয়ে ভয় দেখাইতেছেন কেন বুঝলাম না। এইটা কী আল্লার কালাম নাজেল বা অবতারের প্রত্যাদেশ নাকি? গ্লোবাল অর্থনীতির যে মন্দা লাগছে, ১৯৩০ এর মন্দার চেয়েও নাকি এটা ভয়াবহ - এটা শুনেন নি? এই ধাক্কা কাকে কোথায় নিয়ে যায় কেউ জানে না। দুনিয়া-পুঁজির বিকাশ শ্রীবৃদ্ধির নিশ্চিত করার কথা সব বুঝে গিয়েছে - এমন মনে করে আইএমএফ-বিশ্বব্যাঙ্ক-ডাব্লিউটিও করে তাহলে কী হলো? এখন তো আইএমএফ-বিশ্বব্যাঙ্ক-ডাব্লিউটিও এসব প্রতিষ্ঠানের নিজেরই যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে। ডাব্লিউটিও নিজেই কী হয় তাই ঠিক নাই, যেখান থেকে মনোযোগ অন্য কোথাও সরে গেছে। সেখানে আমাদের আগে অন্যেরাই বের হয়ে যায় কিনা দেখেন। মনে রাখবেন, আইএমএফ-বিশ্বব্যাঙ্ক-ডাব্লিউটিও এর স্বার্থ মানেই সবসময় আমেরিকার স্বার্থ নয়। তাহলে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করার জোয়ার না তুলে সবাই ডাব্লিউটিও'র জন্য বসে অপেক্ষা করত।
কথা শেষ।
ভারত আর ইসরাইল রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে ইদানিং একটা মিল লক্ষ্য করছি। ইসরাইল রাষ্ট্র, ও তার নাগরিকদের যেমন একটা ভাব নিতে দেখা যায়, আচার আচরণ উচ্চারণে, শরীরের ভাষায় (আপনারা যেটাকে রোয়াব বলেন ঐরকম) সে আমেরিকান নাগরিক, বিশ্বক্ষমতা তার পায়ে চুমা দিতেছে - প্যালেস্টাইনিদেরকে হয়ত একটা হুদাই ধমক দিয়ে দিল আর এতে দুনিয়ার মানুষের কাছে মনে হলো উনি একটা শয়তান, শয়তান ভর করছে ওর উপর - সেই রকম ইদানিং ভারতীয়দের মধ্যেও বিশেষ করে হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জনকে দেখে ওলমার্টের কথা কেন মনে হয় বুঝার চেষ্টায় আছি।
যুক্তির জোড়ে যুদ্ধে জেতা যায় না বন্দুকের জোড়ে জিততে হয়। আবার কথায় জেতা যায় সুন্দর যুক্ত দিয়ে বন্দুকের জোড়ে না। দুইটার ব্যবহার ও মজা দুইরকম। একটার লগে আর একটা মিলিয়ে বেকুব হওয়া যাবে না।
দিগন্ত বলেছেন:
আপনি তো আমাকে রেসিস্ট আক্রমণ শুরু করেছেন। এরকম হলে বৃথা তর্ক। আমি আর কমেন্টে গেলাম না।
লেখক বলেছেন: আপনি তর্ক আগাতে না চাইলে না তো আমি একা আপনার সাথে তর্ক আগাতে পারবো না।
কিন্তু আমি সবিনয়ে বলব আপনার রিডিং ভুল হচ্ছে বা আমি আমার কথা কোন কারণে আপনার কাছ পর্যন্ত পৌছাতে পারিনি। আমি কোন রেসিস্ট আক্রমণ করিনি। এরকম কোন কিছুর প্রতি আমার আগ্রহ নাই।
আমি "রেসিস্ট আক্রমণ" করছি এটা বলে তো আপনি একটা লেবেল লাগালেন। কিভাবে, কী বলার জন্য এই লেবেল তা আপনি বলেন নাই। ফলে আমার বুঝার উপায় রাখেন নি। ধরে নেয়া যাক, আমার কোন কথা থেকে সত্যি সত্যিই "রেসিস্ট আক্রমণ" বলে মানে করার সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে আমি যদি ওটা সংশোধন করে নিতেও চাই তো আপনি সেটা চান না - তাই হয়ে গেলো না?
আপনাকেও আমি "রেসিস্ট আক্রমণ" বলে লেবেল লাগিয়ে দিতে পারি। আমার মনের ঝাল মিটবে হয়ত এতে। কিন্তু লেবেল আর ভিতরের মাল একই - এটা প্রতিষ্ঠা করতে পারা আর এক জিনিষ।
বুদ্ধিমান ব্যবসায়ী গায়ের জোরের ভরসা করে না। বরং লংটার্মের কথা ভেবে, দিয়ে খাবার কথা চিন্তা করে - এটাই ছিল আমার কথার সারাংশ। যেটা ভারতের বাংলাদেশ নীতিতে মারাত্মকভাবে অনুপস্হিত।
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
একটা কথার মানে বোঝা গেল না, এখানে কমেন্ট করতে গেলে কী তার দেশের পরিচয় জানিয়ে তারপর করতে হবে?? এমন ধারা আইন চালু হয়েছে নাকি? "যুক্তির জোড়ে যুদ্ধে জেতা যায় না বন্দুকের জোড়ে জিততে হয়। আবার কথায় জেতা যায় সুন্দর যুক্ত দিয়ে বন্দুকের জোড়ে না। দুইটার ব্যবহার ও মজা দুইরকম। একটার লগে আর একটা মিলিয়ে বেকুব হওয়া যাবে না।"----------------এইটা আপনার দিকেই থাকুক।
দিগন্ত বলেছেন: আপনি তো আমাকে রেসিস্ট আক্রমণ শুরু করেছেন।
-------এই বিষয়টা কেন বুঝতে পারি না, রেসিস্ট ব্যপার আসে কেন? শুধু আপনার এখানে না, আর অনেক পোস্টেও দেখেছি।
তাহলে ক্যাতা করে আর বাংলা ব্লগ বলার মানে হয় না, বলতে হয় অন্যকিছু। ইন্টারনেট পেজ কী দেশ কালে রাজনৈতিক সীমায় আটকে থাকার জন্য।
সৌজন্য, সভ্যতা----------------এই রেসিস্ট কমেন্ট গুলি দেখলে বলতে ইচ্ছা করে আবার এখানেই অনেক প্রকৃত বন্ধুও আছে আমার। কৈ তারা তো এমন বলে না।
"যে একবার সশস্ত্র যুদ্ধ করতে পেরেছে সে কী করতে পারে প্রণবের জানা নাই।"---------------এরপর তো আর যুক্তি চলে না।
বাংলাদেশের মানুষ কী ভারতের সাথে যুদ্ধ চায়? আমার ত মনে হয় না।
তর্কের খাতিরে তা ধরতে গেলেও, তার ফলাফল পরিনাম........থাক ভাবের ঘরে আর চুরি পোষায় না।
আর যে কথাটা মূল বিষয় তা হল পুঁজিবাদী এই দুনিয়ায়, বিনিয়োগ সাম্য আনবে-এই ধারনা করাটাই ত ঠিক না।সে বাংলাদেশও সেই ধারারই। ব্যতিক্রম কিছু নয়। পুজিবাদ কী মানুষ কে অধিকার দেয় বাঁচার?
সমস্যা যেখানে সেখানে আঘাতটা করলেই ভাল।
যাইহোক
আমার দেশে'র পরিচয়, না বোঝার কোনও কারন নেই।
লেখক বলেছেন: তার মানে আপনি আমার আর দিগন্তের কথার মাঝে দিগন্তের পক্ষ কথা বলতে চাচ্ছেন। আমি ধরে নিয়েছি এই নিকটা আলাদা।
ভালো কথা আমি তৈরি।
"এখানে কমেন্ট করতে গেলে কী তার দেশের পরিচয় জানিয়ে তারপর করতে হবে??" - সাধারণভাবে সব ইস্যুতে এর উত্তর হলো না। হবে না।
কিন্তু কিছু কিছু ইস্যু থাকবে, তৈরি হবে যেমন ভারতের স্বার্থ ও বাংলাদেশের স্বার্থ নিয়ে বিতর্ক - এখানে একটা conflict of interest যেহেতু আছে তাই, পরিচয় প্রকাশ করে নিয়ে কথা বলা হবে সততা। কিন্তু কোন ভারতীয়র যুক্তি অথচ উনাকে বাংলাদেশী বলে - পাঠক ধরে নিচ্ছেন - এই ধারণার ঘোরে রেখে ভারতীয় স্বার্থের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হবে অসততা, পাঠককে বিভ্রান্ত করা।
"অনিশ্চিত" নিকটা এই ধরণের বিভ্রান্তিতে পরে বলছেন, "দিগন্তর লেখাটিই গুরুত্বের দাবিদার। এ ধরনের চুক্তি নাকি হরহামেশাই বিভিন্ন দেশের সাথে করা হচ্ছে"।
ভারতের স্বার্থ আছে এটা স্বাভাবিক। আবার দিগন্তেরও এর পক্ষে দাড়ানো - এটাকে আমি কোন অন্যায় মনে করি না। এটা নৈতিকতার মামলা নয়। ফলে নৈতিকভাবে এটা ঠিক না বেঠিক ন্যায় না অন্যায় -এই বিচারে আমি বসবো না। এটা রাষ্ট্রের স্বার্থের মামলা। রাষ্ট্রস্বার্থের মামলা নৈতিকতা দন্ড খাড়া করে আমি বিচার বসি না। করাটাও বেকুবি হবে।
ভারত তারঁ স্বার্থের কথা আমাদের কাছে পাড়বে বলেই ওটা খারাপ এমন বিচারও আমি করছি না। আমি খালি বাংলাদেশ দিক থেকে তার রাষ্ট্রের স্বার্থ বিচারে এটা দেখতে চেয়েছি। এতে কোথাও বিরোধীতার মানে এই না এটা "ভারত বিরোধীতা"। এটা ভারতীয় স্বার্থের সাথে নিজের স্বার্থের মিল দেখছি না বা নিজের স্বার্থ দেখতে পাচ্ছি না বলে ভারতীয় উপস্হাপিত স্বার্থের বিরোধীতা করছি। একই সাথে সমস্যাটা কোথায়, কী হলে বিশেষ এই ইস্যুতে উভয়ে পরস্পরের মধ্যে নিজের স্বার্থ খুঁজে পেতে পারে তার কিছু ধারণা নিয়ে কথা বলেছি।
"যে একবার সশস্ত্র যুদ্ধ করতে পেরেছে সে কী করতে পারে প্রণবের জানা নাই।" - কথাটা বলেছিলাম নুরুজ্জামান মানিককে, ওর বিক্ষুব্ধ হতাশার ছোয়া লাগা নিচের লাইনগুলোর প্রেক্ষিতে:
ভারত তার স্বার্থ দেখবে সেটাই স্বাভাবিক
কিন্তু অস্বাভাবিক হল আমাদের ভুমিকা (!)
নিজের বুঝ নাকি পাগলও বুঝে
আমরা বুঝি না
তাই বারবার নাকের বদলে নরুন পাই ।
এখানে নতজানু হওয়ায় দেশপ্রেম (!)
সত্যি কি বিচিত্র এই দেশ সেলুকাস !
আমি তাকে সাহস দিতে চেয়েছি। বলতে চেয়েছি জনগণের স্বার্থ, রাষ্ট্রের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ত্ব বর্তমান সরকারে হচ্ছে না দেখে যে সমস্যা, ক্ষোভ, হতাশা - তা কাটানোর পথের উদাহরণ আমাদের সামনে আছে।
যে জনগোষ্ঠি একটা সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্যে স্বাধীন হয়, নিজের জনগোষ্ঠির আশা আকাঙ্খাকে যে এক বিন্দুতে মিলিয়ে তার নেতা শেখ মুজিবের আঙুলের ডগায় জড়ো করে আঙুল তুলে শাসিয়ে বলতে পারে "আর দাবায় রাখতে পারবা না" সেই জনগোষ্ঠিকে যুদ্ধের ভয় দেখিয়ে লাভ কী? জনগণের স্বার্থ, রাষ্ট্রের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ত্ব নিশ্চিত করতে নতুন রাষ্ট্র কায়েম করা - তাঁর জন্য কোন নতুন অভিজ্ঞতা নয়। আমরা জানি এটা কী করে করতে হয়। ফলে সেটা স্মরণ করিয়ে সাহসী হতে বলেছি।
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
পরস্পরের মধ্যে নিজের স্বার্থ খুঁজে পেতে পারে তার কিছু ধারণা নিয়ে কথা বলেছি ----এই পর্যন্ত আপনার জবাব ---কোনও বক্তব্য নেই। কিন্তু তারপর-----------সেই জনগোষ্ঠিকে যুদ্ধের ভয় দেখিয়ে লাভ কী? কে আপনাকে যুদ্ধের ভয় দেখাচ্ছে? কীসে আপনি তা দেখতে পাচ্ছেন?
বরঞ্চ, " আর যে কথাটা মূল বিষয় তা হল পুঁজিবাদী এই দুনিয়ায়, বিনিয়োগ সাম্য আনবে-এই ধারনা করাটাই ত ঠিক না।সে বাংলাদেশও সেই ধারারই। ব্যতিক্রম কিছু নয়। পুজিবাদ কী মানুষ কে অধিকার দেয় বাঁচার?
সমস্যা যেখানে সেখানে আঘাতটা করলেই ভাল।"-=এই জায়গাটায় কথা বলা দরকার।
যাইহোক, কিছু মনে করবেন না, আপনার আগের পোস্ট ২/১ টা এখন পড়লাম তাতে আপানকে, আবারও বলছি কিছু মনে করবেন না, আপনাকে অন্ধ ভারতবিদ্বেষী( অন্ধ বা উগ্র জাতিয়তাবোধ কী যা আন্তর্জাতিকতায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় বা হিটলারের জন্ম দেয়) বলে মনে হচ্ছে। তবে আপনি আমাকে যে জবাব দিয়েছেন তাতে কিন্তু আমার তেমন মনে হয়নি, হয়েছে অন্য পোস্ট-টোস্ট পড়ে, সমগ্রভাবে।
যাইহোক, আপনাকে দু:খ দেবার বা ছৎ করার কোনও ইনটেনশন আমার নেই, শুধু আমার মনে হওয়াটা জানালাম। রেসিস্ট মনে হয়েছে কিছুটা।
বি:দ্র: দিগন্ত বা অন্যকিছু আমার নিক নয়। সেটা কী করে ভারচুয়ালি প্রমান সহ উপস্থাপন করা যাবে তা জানি না।
"আমি ধরে নিয়েছি এই নিকটা আলাদা।
ভালো কথা আমি তৈরি।"---------------আপনার সাথে যুদ্ধ করার ইচ্ছা আমার নেই আমার লড়াই ভারত-বাংলা ভাগ করে হয় না, হয় যেকোনও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। এবং তাতে আমি জানি সেই গোত্রীয়রাও লক্ষ্যবস্তুর মধ্যেই পড়ে।
আমি আপনারি মত ধরে নিচ্ছি আপনি যুক্তি বোঝেন এবং প্রস্তুত সাম্যের লড়াইয়ে।
প্রথমত আপনি কোথায় পেলেন "বিনিয়োগ সাম্য আনবে" - এই ধারণাটা আমার?
"বিনিয়োগ সাম্য" আমার আইডিয়া নয়, আপনার। আমি "বিনিয়োগ সাম্য" নিয়ে লড়ছি না, এটা আমার কাম্যও নয়। "বিনিয়োগ সাম্য" না থাকাটা নৈতিকভাবে অন্যায় কীনা এটা আমার বিষয় নয়। এটা স্বার্থের প্রশ্ন, নৈতিকতার না। আএটা আমি মনে করি না। তবে এটা নিয়ে আপনার লজিকটা হলো, "পুঁজিবাদের দুনিয়ায় যেহেতু বিনিয়োগ সাম্য" নাই তাই বিনিয়োগ নিয়ে নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের মধ্যে বিশেষ সুযোগ নেয়, একা সবসুবিধা নেয়, গায়ের জোরের পররাষ্ট্রনীতি নীতি দিয়ে চাপ সৃষ্টি করে, আমেরিকান লিভারেজ দিয়ে যাতা দেয় - তো এটাই স্বাভাবিক। কারণ দুনিয়ায় তো "বিনিয়োগ সাম্য" বলতে কিছু নাই।
তাই এনিয়ে আমার কিছু বলা উচিত নয়, মেনে নেয়া উচিত। শুধু তাই নয় আমি বললে আপনার কাছে আবার মনে হবে, আমি ভারত বিদ্বেষী, ভারত-বিরোধী, আমি "হিটলার অন্ধ বা উগ্র জাতিয়তাবাদী"।
সত্যিই আপনি একজন খাটি ভারতীয়।
তবে লক্ষ্য করলাম সাম্যের প্রতি ভালবাসাটা আপনার, আপনি "প্রস্তুত সাম্যের লড়াইয়ে"। সাম্য একটা বুর্জোয়া ধারণা, আমি এর খাতক না।
তবে আমাদের সামনে সরাসরি আসবেন। "আন্তর্জাতিকতাবাদ", সাম্য এগুলোর আড়াল নিবেন না আশা করি। পরিচয় আড়াল করে বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করাটা অনৈতিক।
আপনার সাথে আমার তফাৎটা দেশের স্বার্থের, নৈতিকতার না। এটা যদি বুঝেন ও মানেন তবে আর তর্ক করার প্রয়োজন থাকে না।
আনি জিজ্ঞাসা করেছেন, কে আপনাকে যুদ্ধের ভয় দেখাচ্ছে? উত্তর হলো আপনি। বলেছেন, "বাংলাদেশের মানুষ কী ভারতের সাথে যুদ্ধ চায়"? আমার প্রথম যুদ্ধ প্রসঙ্গে মন্তব্য আপনি ভুল বুঝা থেকে এর যাত্রা শুরু করেছিলেন। আমার সশস্ত্র যুদ্ধের রেফারেন্সটার মানে হলো, তুলনা করি, একটা সশস্ত্র যুদ্ধের ভিতর দিয়ে হাজির একটা রাষ্ট্র বাংলাদেশ আর ঘরে বসে বৃটিশদের সঙ্গে চুক্তিনামায় সই করে হাজির করা রাষ্ট্র ভারত - এই দুইয়ের মধ্যে তুলনায় রাষ্ট্রের গাঠনিক তন্তুতে (social fibre) তফাৎ হবে, সমাজ কতটুকু রাজনৈতিক সত্ত্বা (polity) হয়েছে তার মাত্রায় তফাৎ হবে। ফলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধার জন্য এখানে জন গণের কথা না শুনা রাষ্ট্রকে সংস্কার বা পুণর্গঠন (reconstitute) করা সহজ। জন গণেরও একটা পূর্ব-অভিজ্ঞতা এজন্যই মনে করিয়ে দেয়া আমরা সশস্ত্র যুদ্ধের ভিতর দিয়ে হাজির একটা রাষ্ট্র - এটা মনে করিয়ে দিয়ে আমার জনগণকে সাহসী করার চেষ্টা করেছি। এটাই শস্তাভাবে আপনার কাছে মনে হয়েছে আমি
ভারতের সাথে যুদ্ধ চাই"।
আমি সশস্ত্র যুদ্ধের ভিতর দিয়ে একটা রাষ্ট্র হাজির হবার তাৎপর্য বয়ান করলাম বটে - কিন্তু এটা আপনার মনে ইমপ্যাক্ট ফেলতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস কম। কারণ এটা অভিজ্ঞতারও ব্যাপার বটে।
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
"যাইহোক আমার দেশে'র পরিচয়, না বোঝার কোনও কারন নেই।" এটা আমি আগের কমেন্টেই বলেছি শুরুও করেছিলাম তাই দিয়ে--------পরিচয় গোপন করার কোনও দরকারই নেই আমার, তাছাড়া এই রকম ওপেনস্পেস তো দাদা ভৌগলিক সীমানায় আটকে রাখা যায় না। আমার ব্লগ তো আপনি দেখেছেন মনে হয়েছে কী আমি পরিচয় নিয়ে লুকোচুড়ি খেলছি-কেনই বা করব?
শুনুন দাদা, সাম্যকে আপনি "সাম্য একটা বুর্জোয়া ধারণা" -এটা মনে করতে পারেন কিন্তু আমি তো তা করি না। আমার সাথে আপনার কথাটা শুরু হয়েছিল অন্য জায়গা থেকে, এই পোস্টের বিষয় নিয়ে মূলত নয়।
"খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ একটা কথা বলেছেন আপনি"---হ্যাঁ কথাটা গুরুত্বপূর্নতো বটেই।
"আন্তর্জাতিকতাবাদ", সাম্য এগুলোর আড়াল নিবেন না আশা করি। পরিচয় আড়াল করে বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করাটা অনৈতিক।"----------কথাটা আরেকটু পরিস্কার করুন দয়া করে।
"বিভ্রান্ত" করতে যাব কেন? কী হবে তা দিয়ে?
"আপনার সাথে আমার তফাৎটা দেশের স্বার্থের, নৈতিকতার না"--------নৈতিকতা বর্জিত কোনও কিছু কী কাম্য, যদি তাই হত, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনেই বলি তাহলে কী পশ্চিম পাকিস্তানের সেই ভূমিকা কাঙ্খিত ছিল? ছিল না কারন সেটা নৈতিকতা বর্জিত জাতিয়তা ছিল তাই না? যা পাকিস্তান তার নিজের স্বার্থেই করেছিল।
এই ব্লগ বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত হয় বলে তো সেটা শুধু মাত্র সেখানের মানুষ জনই ব্যবহার করবে তা হয় না, যেমন ধরুন ইয়াহু.....
অথবা আপনি কতৃপক্ষের মতটাও নিতে পারেন আমি অন্তত এক জায়গায় দেখেছি তারা বলেছেন উভয়দিকের লোকের জন্যই এই ব্লগ।
আশার কথা এটাই যে আমার সাম্যের প্রতি ভালবাসা আমাকে গন্ডিযুক্ত করেনি এবং এই ব্লগ গত ৩ মাসেই এমন সব বন্ধুদের ভালবাসা দিয়েছে যে আমি ঢাকা আসছি কয়েক দিনের মধ্যেই বেড়াতে এবং এইরকম হার বা যুদ্ধে আত্মসমর্পন করতে আমি অগুনতি বার রাজি। বলে রাখা ভাল আমি পরিচয় গোপন করে আসছি না বরং পরিচয় জানিয়েই বেশি উষ্ণতা পেয়েছি।
দেখবেন আমার শেষের কথাগুলো আবার ইমোশনাল ব্ল্যাকমেলিং হিসাবে দেখবেন না কারন 'আপনাদের' নয় আমারতো 'আপনার' ব্যপারে 'অভিজ্ঞতা' কম এবং এটা একটা অভিজ্ঞতারও ব্যাপার বটে।
লেখক বলেছেন: "এই রকম ওপেনস্পেস তো দাদা ভৌগলিক সীমানায় আটকে রাখা যায় না।", "যেমন ধরুন ইয়াহু..... "
"ওপেনস্পেস" কে ভৌগলিক সীমানায় আটকে রাখা যায় না সত্য। কিন্তু রাষ্ট্রস্বার্থ ভৌগলিক সীমানায় আটকে যাবে - এটা স্বাভাবিক। এবং আমি তাতে বিচলিত নই।
এই পোষ্টে অনেকবার বলেছি, শেষ বারের মত বলি।
চিন্তাকে "ভৌগলিক সীমানায় আটকে রাখা যায় না"। আমার এর পক্ষপাতি করা মানে হবে বেকুবি। আমি নিশ্চিত আমি বেকুব না।
আপনারা সামহয়ারইনে আসবেন কথা বলবেন। কোন সমস্যা নাই। বরং চিন্তাচর্চায় অংশগ্রহণ করা দরকার আছে। আমরা কী ভাবছি এটা আপনাদের মাধ্যমে দিল্লী পর্যন্ত পৌছান সহজ। আগামি বাংলাদেশের ছবি আমি যেমন দেখি তাতে আমরা নতুন চিন্তাগুলো কেমন ভাবছি, অগ্রসর চিন্তাগুলো কেমন আপনাদের এটা জানা থাকলে আমরা আপনারা উভয়েই লাভবান হব বলে আমার দৃঢ বিশ্বাস। এখানে আপনার ভারতীয় পরিচয়টা আলাপের আগে বলে রাখাটা জরুরী নয়।
কিন্তু কিছু কিছু বিষয়, ইস্যু আসবে, যেমন ভারতীয় রাষ্ট্র স্বার্থ বনাম বাংলাদেশের রাষ্ট্রস্বার্থ, যেখানে ভারত চাপ প্রয়োগ করে একটা চুক্তি করিয়ে নিয়েছে- এটাই প্রতিপাদ্য অভিযোগ, তখন ওখানে অংশগ্রহণের আগে পরিস্কার ভাষায় আপনার পরিচয়টা উল্লেখ না করলে অসততা হবে। কারণ ওখানে আপনি ভারতীয় বলে একটা conflict of interest আছে। এটা অনেকটা আসামি আত্মীয় হলে বিচারক যেমন বিব্রতবোধ করে, বা সন্তান পরিক্ষার্থী হলে পাবলিক শিক্ষাবোর্ডের চাকুরীরত বাবা যেমন সিদ্ধান্তের সভায়, বা প্রশ্নতৈরির সভায় অংশগ্রহণে নিজেকে বিরত রাখেন, বা নিজে তেল কোম্পানি মালিক হলে যেমন যুদ্ধ বা তেলমন্ত্রী হওয়া উচিত না - এটা সেরকম মামলা। এটা এমন না যে নিরপেক্ষভাবে তারা নিজের পেশগত কাজ করতে পারতেনই না। কিন্তু নাও পারতে পারেন। সন্দেহ তৈরি হবে। কারণ বিচারকের বেলায় ধরুন, একটা তার বিচারক পেশাদারি স্বার্থ, অন্যটা আত্মীয়ের প্রতি সম্ভাব্য সহানুভুতি প্রকাশ হয়ে পড়া জনিত স্বার্থ - এই পরিস্হিতিটাকেই বলে conflict of interest পরিস্হিতি। ভারতীয় রাষ্ট্রের নাগরিক আপনি আর ব্যক্তি হিসাবে আপনি স্বাধীন চিন্তার উপরে দাড়িয়ে কথা বললেও - দুটোর মধ্যে একটা conflict of interest আছে। ফলে কেবল এই ধরণের পোষ্ট সক্রিয় অংশগ্রহণ এড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ। ব্যক্তিগত সততা integrity ইমেজের স্বার্থ মানুষ তাই করে। তবু আমি কিন্তু আপনাকে বা দিগন্তকে অংশগ্রহণ করতে না করিনি। বলেছি নাগরিক পরিচয়টা মন্তব্যে উল্লেখ করে রাখতে। আরও বলেছি এজন্য যে আপনাদের যুক্তিকে আমার যুক্তির বিরুদ্ধে কোন কোন বাংলাদেশী ব্লগার রেফার করে, আশ্রয় করে বলছে,
"দিগন্তর লেখাটিই গুরুত্বের দাবিদার। এ ধরনের চুক্তি নাকি হরহামেশাই বিভিন্ন দেশের সাথে করা হচ্ছে। সেগুলোর আলোকেও কথা বলা দরকার"।
এটাকেই আমি অসততা বলছি। এটা বাউন্ডারি ক্রস করে গেছে। কারণ ঐ পাঠক বিভ্রান্ত হয়েছে আপনাদের মতামতে। তাই আমার অভিযোগ আরও গভীরে। আপনাদের নাগরিকত্ত্বের স্বার্থ আর ব্যক্তিগত অবস্হান একাকার হয়ে গেছে - আমি এতে বিচলিত নই, হতেই পারে। কিন্তু আপনাকে অবশ্যই পরিচয় প্রকাশ করতে হবে। এজন্য এটাকে আমি বিভ্রান্তি তৈরি করার অভিযোগ করছি। জেনেশুনে করছেন কীনা - এটা আমি জানি না। ফলে এনিয়ে কোন প্রশ্ন তুলি নাই।
এজন্য দিগন্তকে বলেছিলাম: "এখানে কথা চলছে ভারতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বার্থ নিয়ে।
দিগন্ত আপনি ভারতীয় নাগরিক। এই তর্কে অংশগ্রহণের আগে আপনার এই পরিচয়টা পাঠকে জানিয়ে না রেখে আপনি অসততা করেছেন। ভারতীয় স্বার্থ ন্যায্য না অন্যায্য সেটা প্রশ্ন নয়। এটা বাংলাদেশের স্বার্থের সাথে বিরোধী, সংঘাত আছে এখানে।
ফলে আপনার পরিচয় প্রকাশ না করাটা অসততা ও বাংলাদেশের পাঠককে বিভ্রান্ত করা"।
আমি দিগন্তকে অংশগ্রহণ করতেও না করিনি। আপনাকেও করছি না।
আমি সেনসটিভ, কোনটা "ইমোশনাল ব্ল্যাকমেলিং" আর কোনটা pure ইমোশন আমি তফাৎ করতে জানি। কদরও করতে জানি। আবার কোথায় ইমোশন নয়, বুদ্ধি আর ইন্দ্রিয়পরায়ণতা ব্যবহার করতে হবে সে হুশ হারাই না। ফলে আস্হা রেখে আপনি শেষ বাক্যগুলো না লিখলেও আমি এই জবাবটা একই লিখতাম।
তবে হিটলারের কাছে আপনি ইমোশন প্রকাশ করছেন দেখে আমি একটু অবাক হয়ে আছি।
ভিন্নকথা:
সাম্য কোন বিপ্লবী ধারণা নয়। আমার বন্ধু ব্লগার ভূপর্যটক এর একটা পোষ্ট আছে দেখতে পারেন, Click This Link
ভালো থাকবেন।
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
আমার পরিচয় না জানিয়ে অসদউপায় নিয়েছি?-----------------আপনি আমার কমেন্টগুলো আর একবার ভাল করে পড়েন। এবং আমার পরিচয় বুঝতে আমার পোস্ট দেখুন দয়া করে। আমি আগে অনিশ্চিতের কমেন্ট খুঁটিয়ে পড়িনি, পড়লাম এবং তার লাইন কোট করেই আমি মন্তব্য করা শেষ করছি।
(তবে নৈতিকতা বিষয়ক যে 'গুরুত্বপুর্ন' কথাটা জানতে চেয়েছিলাম আর যা আমি "এই মন্তব্য স্পর্শ করি নাই আপনি নিজ গুণে বুঝে চুপ করে যাবেন" করতে পারছি না সেটা সম্পর্কে আপনার মত এবং "মানে হলো উল্টা, আমার স্পর্শ না করাতে আপনার মনে ধারণা হয়েছে খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ একটা কথা বলেছেন আপনি''র মতই কিছু বলবেন)
কিন্তু "আমি সেনসটিভ, কোনটা "ইমোশনাল ব্ল্যাকমেলিং" আর কোনটা pure ইমোশন আমি তফাৎ করতে জানি। কদরও করতে জানি। ফলে আস্হা রেখে আপনি শেষ বাক্যগুলো না লিখলেও আমি এই জবাবটা একই লিখতাম" --আপনার উপর অন্তত এই জায়গায় বিশ্বাস রাখতে ইচ্ছা করছে এবং শেষ লাইগুলো ফেলে দিন।
এবং "তবে হিটলারের কাছে আপনি ইমোশন প্রকাশ করছেন দেখে আমি একটু অবাক হয়ে আছি"----খুব সম্ভবত আপনার কোনও প্রি-কনসপেসন আপনার ভেতরে আমার কথাগুলো ঠিক ঠিক ঠুকছে না, হিটলার আপনাকে বলিনি যে সেটা আপনি বুঝতে পারেন নি সত্যি?
"আবার কোথায় ইমোশন নয়, বুদ্ধি আর ইন্দ্রিয়পরায়ণতা ব্যবহার করতে হবে সে হুশ হারাই না।"-------এটা করুন।
যাইহোক আর একবার আসব জবাব দেখতে,
যে লাইন কোট করব বলেছিলাম তা হল:
সেখান থেকে আপনার মধ্যে জমে থাকা 'ভারতবিরোধী' মনোভাব থেকে থেকেই প্রকাশ হয়ে উঠে। একইপ্রসঙ্গে দিনমজুরের লেখাটা আমার ভালো লেগেছে, কারণ তিনি কাউকে চিরশত্রু বা চিরমিত্র মনে করে লিখেননি। তিনি শুধু বাংলাদেশের পক্ষেই লিখেছেন।
আপনার আর দিনমজুরের লেখার উদ্দেশ্য এক হলেও আপনার লেখায় সবসময়ই ভারতবিরোধিতার 'সুবাতাস' পাওয়া যায়। যে কারণে লেখার মূল বিষয় পছন্দ হলেও টোনটা পছন্দ হয় না।
---------------------------------
বি: দ্র: আপনার বুর্জোয়া শ্রেনী চরিত্র মোটামুটি আমি বুঝতে পরেছি এবং "এটা অভিজ্ঞতারও ব্যাপার বটে"।
লেখক বলেছেন: আমার মনে হয় কোন ধরণের পোষ্ট পরিচয় দেয়া উচিত - সে বিষয়ে অনেক হয়েছে, এবার আর কিছু নিয়ে কথা বলতে পারি কিনা দেখি। আসলে আমারই বলে দেয়া উচিত ছিল হয়ত যে, শেষ পোষ্টটা এই বিষয়ে একটা সাম-আপ মাত্র, নতুন করে তর্ক তোলার জন্য না।
যাই হোক, নৈতিকতা: আপনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, "নৈতিকতা বর্জিত কোনও কিছু কী কাম্য" কী না?
আপনি যে জায়গায় দাড়িয়ে কথা বলছেন -সেটা আমার অবস্হানের চেয়ে বিস্তর দূরে। মাঝের দূরত্ত্বটা ঘুচাতে বহু কথা খরচ করতে হবে। নইলে আপনার বোধের সীমায় আমার কথা পৌছাবে না। ১. এটা করতে একটা আলস্য লেগেছে। ২. এটা একটা ব্লগ মাধ্যম ফলে কতটা করতে পারব সেই সীমাবদ্ধতা আছে। ৩. আবার বহু কথা খরচ করার পর সবটা পৌছাবে না আমি নিশ্চিত বরং নতুন আরো অনেক প্রসঙ্গের ডালপালা বের হবে। ৪. ইতোমধ্যেই সম্ভবত আমরা এই পোষ্টের প্রসঙ্গের বাইরে চলে গেছি অথবা যাবার পথে। ৫. এই পোষ্টে কেবল আপনি আর আমি রয়ে গেছি - ভাঙ্গা হাটের মত। ফলে আমাদের আলোচনা শুনার লোক কম। ইত্যাদি...।
মনে করে দেখুন, আমি সশস্ত্র যুদ্ধের কথা বলাতে - সেটা আপনার কাছে পৌছায়নি। সেটা আবার কমপক্ষে আরও দুইবার জবাব দেবার পর মোটামুটি আপনার বুঝার জায়গায় একটা জায়গা পেয়েছে, আপনাকে ধাতস্ত করা গেছে মনে হচ্ছে। তবু আমি এখনও আপনার থেকে প্রায় সবঅর্থেই দূরেই। আমি আমার কথা আপনাকে গ্রহণ করাতে, মানাতে পেরেছি কিনা তা বলছি না। বলছি, আমি কী বলতে চাই তা মানা নয়, বুঝা গেছে কী না।
আমার কুড়েমি করার পেছনের কারণ এগুলো।
আপনার সাথে আমার চিন্তার বিশাল দূরত্ত্ব ঘুচাতে পারলে বা না থাকলে আমার চেয়ে বেশি খুশি কেউ হতো না। দূরত্ত্ব ঘুচানো আমার কাজ বলেও মানি। কিন্তু সবসময় মন তা করতে ইচ্ছা করবে না - বিশেষত কথা বুঝার (মেনে নেওয়া নয়) চেয়ে যখন দেখি কেউ আমার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত যেতে চাচ্ছে দ্রুত। তবু আমি মনের উপর বুদ্ধির জোর খাটিয়ে আরও দুইবার জবাবের মাধম্যে আপনার কাছে পৌছানোর উদ্যোগ নিতে পেরেছিলাম। তাই বলে সবসময় কী পারব?
তবু এবার প্রসঙ্গে আসি।
আপনি একবার বলেছিলেন, আমার সব পোষ্ট দেখেছেন।
নৈতিকতা ও স্বার্থ - ব্যাপারটা বুঝাতে আপনাকে আর একবার কষ্ট করে দেখতে অনুরোধ করবো - "রাষ্ট্র ভাবনা: একাত্তরে চীন কেন আমাদের সমর্থন করতে পারে নাই" - দুই খন্ডের এই পোষ্টটা। শিরোনামে চীন রেখেছিলাম পপুলার পাঠক পর্যন্ত পৌছানোর জন্য। আসলে ওটা রাষ্ট্র ভাবনা; রাষ্ট্র বিষয়ক তত্ত্ব, চিন্তাভাবনা - এই জটিল বিষয় এর প্রসঙ্গ। রাষ্ট্রস্বার্থ আর আন্তর্জাতিকতাবাদী কোন তত্ত্ব - এই দুইয়ের মধ্যে আমার দাবি একটা সংঘাত আছে। কমিউনিষ্ট আন্দোলনে এই প্রশ্নটা অমীমাংসিত; নজরই হয়নি ঠিক মত। এটাই ওখানে আমার বলবার বিষয় হয়ে আছে।
আপনাকে দেখতে বলার কারণ হলো ওখানে রাষ্ট্রস্বার্থ প্রশ্নটা কিভাবে আমি নাড়াচাড়া করেছি সেটা আপনাকে দেখতে বলছি। দেখবেন বলেছি জনগোষ্ঠি রাষ্ট্র কায়েম করতে সক্ষম হবে কী হবে না এটা ওর পিছনে নৈতিক বল আছে কীনা তার উপর নির্ভর করে না। এটা একদম মল্লযুদ্ধের শক্তি, গায়ের জোরের ব্যাপার। আরও খোলাখুলি বললে বন্দুকের নলের ক্ষমতার ব্যাপার। আমার কথা শুনতে আপনার হয়ত খারাপ লাগছে। একটা উদাহরণ দেই, দেখি খারাপ লাগাটা দূর করতে পারি কীনা। আমি জানিনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস আপনি কেমন জানেন।
আমাদের জনগোষ্ঠির উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ত্ব চাই - এটাই ছিল ৬০ এর দশকের শেষে আমাদের রাজনৈতিক কোর ইস্যু। সেই আন্দোলনের এক পর্যায়ে '৬৯ সালে একটা নির্বাচন মাধ্যমে আয়ুব খান আমাদেরকে তা নিশ্চিত করে দিবে কথা দেওয়াতে আমরা নির্বাচনে গেলাম। উজার করে ভোট দিয়েছিলাম শেখ মুজিবকে। এতে শেখ মুজিবকে ক্ষমতা দিতে হবে এরই স্বপক্ষে একটা ন্যায্যতা তৈরি হয়েছিল। একটা নৈতিকতা তৈরি হয়েছিল মাত্র। ন্যায্যতা ও নৈতিকতা - মানে একটা লজিক, reasoning বা rationality যা বুঝেন অসুবিধা নাই, তারই বল ছিল ওর পিছনে। কিন্তু এই বলে বলীয়ান হয়ে শেখ মুজিব কী ক্ষমতা পেয়েছিলেন? নৈতিকতা কিন্তু উনার পক্ষে, আমাদের জনগোষ্ঠির পক্ষে। কিন্তু এই নৈতিকতার জোর তাঁকে বা আমাদেরকে ক্ষমতায় নিতে পারে নাই। আমাদের উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ত্বও নিশ্চিত করতে পারি নাই। তাহলে উনি ক্ষমতায় আসীন হয়েছিলেন কী করে? এর একদম বাংলা উত্তর গায়ের জোরে, গায়ের জোরের মুরোদ দেখাতে হয়েছিল আমাদেরকে। মাসল প্রয়োগ করতে হয়েছিল আমাদেরকে। একেবারে বন্দুকের নলের জোর, সশস্ত্রতা, সশস্ত্র এবং যুদ্ধ - সশস্ত্রযুদ্ধ। রাষ্ট্রের সাথে সশস্ত্রতার সম্পর্ক তাই ঘোরতর। শক্তিশালী নৈ্তিকতা বা লজিকের ক্ষমতা প্রয়োগে করে রাষ্ট্র হাসিল, কায়েম বা একে টিকিয়ে রাখা যায় না। নৈ্তিকতা বা লজিক দিয়ে আপনি বড় জোড় গায়ের জোরের সহায়ক কিছু একটা হইতে পারেন। কিন্তু রাষ্ট্র ক্ষমতা হতে পারবেন না। তবে রাষ্ট্র কায়েমের পর আবার একটা নৈতিকতা লাগবে। নতুন রাষ্ট্রের কনষ্টিটিউশন বা গঠনতন্ত্র হলো নতুন নৈতিকতা, আইনের ভিত্তি বা উৎস। রাষ্ট্রের দ্রোহীতা করলে মৃত্যদন্ড - একথা কনষ্টিটিউশন সূত্রে আইনেই লেখা থাকে। আবার, নাগরিক জনগণের দ্বারা ঐ রাষ্ট্রক্ষমতাটা আমার বলে স্বীকার - একটা স্বীকৃতি লাগে, যেটাকে ক্ষমতার অভিষেক বলতে পারি।
স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়ার পর সে এখন অস্তিত্ত্বমান, একটা রিয়েলিটি। এই অস্তিত্ত্বমানতা মানেই এর স্বার্থ - সমার্থক। আইডিয়েলি বললে, রাষ্ট্রস্বার্থ মানে আসলে নাগরিক জনগণের সাধারণ স্বার্থ। আইডিয়েলি বললাম এজন্য যে, এরপর আবার রাষ্ট্রকে জনগণের আশা আকাঙ্খা, স্বার্থের প্রতীক করে গড়ে তুলার একটা পালা আছে।
এখন লক্ষ্য করুন, রাষ্ট্র কী নৈতিকতার জোরে দাড়িয়ে আছে না কি আগে গায়ের জোর খাটিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে। তারপর নিজেকে চালানোর জন্য একটা নৈতিকতা, আইন তৈরি করেছে বটে কিন্তু তখনও নিজেকে টিকিয়ে রাখার, রক্ষা করার উপায় ঐ বল প্রয়োগের ক্ষমতাই। ফলে রাষ্ট্রস্বার্থ - ওটাও নৈতিকতার জোরে তৈরি নয়। নাগরিক জনগণের স্বার্থটাকেই রাষ্ট্র বল প্রয়োগের সক্ষম ক্ষমতা পকেটে রেখে বাইরে অন্য সবার রাষ্ট্রের কাছে নিজেকে উপস্হাপন করছে।
রাষ্ট্রের এই ক্ষমতাটা সার্বভৌম। বাইরের কেউ এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবে না। নৈতিকতার তো নয়ই। কারণ রাষ্ট্রের নাগরিক ব্যক্তি সার্বভৌম। প্রত্যেক নাগরিক নিজের সার্বভৌম ক্ষমতাটা কতগুলো শর্তে, যা কনষ্টিটিউশনে মৌলিক অধিকার চ্যাপ্টারে লেখা আছে, রাষ্ট্রকে ঐ সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দিয়েছে। রাষ্ট্রগুলো তাই একে অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ত্ব স্বীকার ও সম্মান করবে - এটা মেনে নেবার পরই রাষ্ট্রপুঞ্জ বা জাতিসংঘ গঠিত হতে পেরেছে, রাষ্ট্রগুলোও সদস্য পদ পেয়েছে।
এখন নিজেই উত্তর দেবার চেষ্টা করেন, "নৈতিকতা বর্জিত কোনও কিছু কী কাম্য" কীনা! প্রশ্ন করুন, রাষ্ট্রের স্বার্থ থাকাটা কী নৈতিক? ভারতীয় রাষ্ট্রের বা এর ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ স্বার্থ থাকাটা কী নৈতিক?
তাহলে, নৈতিকতার প্রশ্নটা তখনই করলে একটা মানে থাকবে যখন ওটার একটা নৈতিক ভিত্তি আছে। ফলে, মানে দাড়ালো "নৈতিকতা বর্জিত" হলেও কিছু জিনিষ "কাম্য" হতে পারে।
খেয়াল করবেন, আমি ভারতীয় পররাষ্ট্র নীতির বিনিয়োগ স্বার্থের নৈতিকতা কী তা নিয়ে আমি প্রশ্ন করিনি। বলেছি এটা গায়ের জোর খাটিয়ে কেবল নিজের স্বার্থ দেখবো এমন কোন প্রস্তাবে - এই নীতিটা ফল দিবেনা, এভাবে আগালে কারোই লাভ হবে না। এই নীতির কারণে ভারতের প্রতি আমাদের যে অনাস্হা তৈরি হয়ে আছে এটা কাটাতে হবে। ব্যবসা আমি একাই করব, এটা বুদ্ধিমান ব্যবসায়ী বা ভাল ব্যবসা বুঝা লোকের কথা না।
বি: দ্র: আপনি এখনও আমাকে কিছুই বুঝেন নি। আমি নিশ্চিত। তবে "আমার বুর্জোয়া শ্রেনী চরিত্র" বুঝার আফে নিশ্চিত হয়ে নিয়েন বুর্জোয়া কী?। যাই হোক যা বুঝেছেন তা আপনার। আমি কেবল সাবধান করব, পড়াশুনা হয়ে গেছে ভেবে সব খাতাপত্র দ্রুত বন্ধ করবেন না। সিদ্ধান্ত একটু দেরীতে টানলে আপনার জন্য ভালো হতে পারে। আর তাছাড়া "এটা অভিজ্ঞতারও ব্যাপার বটে"।
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
মুন্সীভাই, অনেক কচকচি হইল, আর কমেন্ট করতাম নাও কইছিলাম কিন্তু একেই বোধহয় বলে সব কিছু'র পড়েও আমরাতো ব্যাসিক্যালি একই ছা-পোষা মানুষ, আমাদের যন্ত্রানার বিষয়গুলিও তো এক, স্হান, কাল, পাত্র ভেদে হয়ত চেহারা পাল্টায়। কিন্তু যেকারনে আমি আবার কমেন্ট করছি, আমার হঠাৎ করে একটা জিনিস খেয়াল করে হাসি পাচ্ছে, না সেটা কোনও ব্যঙ্গ, বিদ্রুপ করে নয় ---------- কোনও অভিসন্ধি মূলক নয়,কেবলই নিজক মজা লাগছে,
আমি ও আপনি একে অপরের উপর কেরদানি করতে গিয়ে কতবার ব্যবহার করলাম,"এটা অভিজ্ঞতারও ব্যাপার বটে"।
হা হা হা হা হ হা হা হা
অন্যবিষয়ে কথা না কারন সে বিষয়ে কথা বলব না বলেছিলাম।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
পরিমল কায়সার বলেছেন:
সুমন রহমান ভাইয়া আমাকে বললেন,১০ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:৫৭
লেখক বলেছেন: বিব্রত হওয়ার কি আছে? নিকবালক হিসেবে খাড়া করানোই তো আপনার কাজ, নাকি?
আমি তাকে বললাম,
ভাইয়া এ কথা সত্য যে আমি আপনার মত নিক নিয়ে দীর্ঘদিন লিখালিখি করিনা। আপনি বাপজানের দেয়া দীন মোহাম্মদ নামখানা শোকেসে তুলে রেখে সুমন রহমান নিকে সর্বত্র গত কয়েকশত বৎসর যাবত লিখালিখি করছেন। আমি আপনার তুলনায় নবীন। আমি নিকবালক হলে আপনি নিকবৃদ্ধ। আপনার মত নিকপাকনা হতে আমার আরো কয়েকশত বৎসর লাগবে। কিন্তু আপনি অন্যের খাড়া করা জিনিস কিভাবে ও কেন কাজে লাগাতে চান ভাইয়া?
এরপর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াকু সৈনিক দীন মোহাম্মদ ওরফে সুমন রহমান ভাইয়া আমার কথাটি মুছে দিলেন। আমাকে তার ব্লগে ব্লক করলেন।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















কাইল কথা কমু।
এখন 'নিক্সন ফ্রস্ট' দেখুম।