আমার প্রিয় পোস্ট
- ইন্ডিয়ান মিউজিশিয়ানদের জোচ্চুরি
(আসুন কিছু হিন্দি গানের অর্জিনাল ভার্সন শুনি) - আলআমিন মিরাজ
- স্মৃতি ১৯৭১ (শেষ পর্ব) - সুরঞ্জনা
- ফিরে দেখা ২০১০ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সব বই ডাউনলোড করুন - মো: হারুন-অর-রশিদ
- সামহোয়্যারইন ব্লগ : সপ্তাহের নির্বাচিত পোস্ট (১৬ আগস্ট - ২২ আগস্ট) - ফিউশন ফাইভ
- এবার প্রেসের কাজে বাংলা লিখুন ইউনিকোডেই একদম সরাসরি ফটোশপ (মেহেদী ভাইয়ের নতুন পোস্ট) - টেকি মামুন
- পলিটিক্স কে পলিটিক্স ছাড়া কোনো সুশীল তরীকায় মোকাবেলা করা যায় না! - কৌশিক
- যেকোন Webpage থেকে বিজ্ঞাপন অপসারন করুন, বিজ্ঞাপনহীন ওয়েবের জগতে আপনাকে স্বাগতম! (রিপোস্ট)
- নাফিস ইফতেখার
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমগ্র রচনাবলী অনলাইনে - বংশী নদীর পাড়ে
- ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধান - অরূপ
- গুগলের বই ডাউনলোড - মানিক হাসান
- কিভাবে আপনার উইন্ডোজের গতি বাড়াবেন? - কমপিউটার জগৎ
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- চলমান পুঁজিবাদী সংকট থেকে উত্তরণ ( - দিনমজুর
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- জিএম শস্যের ভালো মন্দ - দিনমজুর
বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ - গ্লোবাল অর্থনীতি (২)
০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:৩৪
প্রথম পর্বের জন্য দেখুন Click This Link
দ্বিতীয় পর্ব:
[বিভিন্ন আরও কিছু তথ্য ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে তথ্যের ভারে আটকা পরে গিয়েছিলাম। দেরির জন্য পাঠকের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এই পর্ব কোন দিক থেকে শুরু করব তা নিয়ে একটা দোটানাও কাজ করছিল। আগের ঘোষণা মতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাঙ্ক জন্মানোর পশ্চাদ-পটভুমি নিয়ে দ্বিতীয় পর্ব শুরু করার কথা। কিন্তু পশ্চাদ পটভুমির span বা ওসার-বিস্তার কি হবে, কত পিছন থেকে টেনে কথা শুরু করব - এটা ছিল একটা গুরুত্ত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত; বেশি বিস্তারে গেলে প্রসঙ্গ খেই হারিয়ে ফেলবে জানি। আবার, বিস্তার বেশি না হলে কথা অস্পষ্ট থেকে যাবে। কাজেই এই দুইয়ের একটা ভারসাম্য ঠিক করতে বেশ সময় গিয়েছে। এই পর্ব অনেক বড়, এক পোষ্টে আটানো যায় নাই। ফলে প্রসঙ্গ পরের পোষ্টেও জারি রাখতে হয়েছে, চলবে। তবে পরের কনটিনিউ পোষ্ট, তৃতীয় পর্ব বলে প্রকাশ করব।]
International Monetary Fund (IMF) বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের জন্ম ১৯৪৪ সালের ১-২২ জুলাই আমেরিকার নিউ হ্যাম্পসায়ারের ব্রেটন উড শহরের মাউন্ট ওয়াশিংটন হোটেলে; ২২ দিন ব্যাপী জারি এক কনফারেন্সের ফলাফলের মধ্য দিয়ে। এই কনফারেন্সের আয়োজক উদ্যোক্তা সংগঠন জাতিসংঘ অর্থাৎ যার নামে এই সভা ডাকা হয়েছিল। সভার নামটা ছিল এরকম: United Nations Monetary and Financial Conference at Bretton Woods - এটা তাই Bretton Woods Conference নামেও খ্যাত। ঐ একই সভা থেকে একই সাথে, আরও অনুষঙ্গ করণীয় হিসাবে, IBRD (International Bank for Reconstruction and Development) বা সংক্ষেপে World Bank এর জন্ম হয়।
জাতিসংঘের নামে আয়োজনটা আহ্বান হয়েছিল ঠিকই যখন জাতিসংঘ নিজেই সবেমাত্র জন্ম নেয়া শিশুও নয়, বরং এর হাতপা, আকার কেমন হবে সেই কথাবার্তার ফরমেটিভ স্তরে সে ছিল; তবে এই সন্তান যে গর্ভাবস্হায় এসে গেছে, আছে এমন একটা ঘোষণা (Declaration by United Nations, ১৯৪২) ইতোমধ্যে জারি হয়ে গিয়েছিল। জন্ম নিলে কারা সদস্য হয়ে জাতিসংঘ গঠনের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করবে, সেধরণের সভা তখনও ডাকা হয় নাই। কারণ, আলোচ্য জাতিসংঘের সদস্যপদ, ভোটিং রাইট - যেটা পরে পাঁচদেশের বিশেষ ভেটো ক্ষমতা দিয়ে সমাধান টানা হয় - এগুলো নিয়ে আলোচনা তখন নিগোশিয়েশনের পর্যায়ে ছিল। সেই স্বাক্ষর-সভা ডাকা হয় আইএমএফ-বিশ্বব্যাঙ্কের জন্মের আরও দশ মাস পরে, ৫০ দেশের প্রতিনিধি নিয়ে ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল আমেরিকার সান ফ্রান্সসিকোতে।
তাহলে কথা দাড়ালো এরকম: জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিক আইনী সংগঠন হিসাবে ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল জন্ম লাভের আগেই কেবল Declaration by United Nations, ১৯৪২ এর উপর ভরসা করে জাতিসংঘের নামে Bretton Woods Conference ডেকে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাঙ্কের জন্ম হয়েছিল ১৯৪৪ সালের জুলাইয়ে। জাতিসংঘের অধীনেই আইএমএফ ও বিশ্বব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান দুটো কাজ করবে - শুরুতে ভাবনা এমনটাই কাজ করেছিল, তাই। কিন্তু পরবর্তিতে আভ্যন্তরীণ পরিচালনার নিয়ম কানুন বিধি তৈরির দুই বছরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাঙ্ক বেকে বসে। ব্যাঙ্ক, টাকার কারবারি, টাকার মার্কেটে (capital market) নিজস্ব আস্হা বিষ্তারের বিষয় আছে - ফলে নিজস্ব সিদ্ধান্তই শেষ কথা এর উপর কেউ নাই - এই যুক্তিতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাঙ্ক জাতিসংঘের সাথে সম্পর্ক আলগা করে ফেলে। বিস্তর ঝগড়াঝাটির পর শেষে একটা রফা হয়। বিশ্বব্যাঙ্কের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট John Jay McCloy এর আমলে (১৯৪৭-৪৯) ও উদ্যোগে, ১৯৪৭ সালের নভেম্বরে ঘোষণা করা হয় আইএমএফ ও বিশ্বব্যাঙ্ক জাতিসংঘের specialized agency তবে, সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব বোর্ড অফ গভর্নরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ব্যপ্তকাল ১৯৩৯-৪৫, পরিসমাপ্ত হয় ১৯৪৫ সালের আগষ্টে। ১৯৪৪ সালের মাঝামাঝি থেকেই একদিকে যেমন পরিস্কার হচ্ছিল হিটলার ও তার অক্ষশক্তি (জর্মানী, ইটালি ও জাপান) হারছে, হারবে ফলে অন্যদিকে আগামি যুদ্ধোত্তর দুনিয়া বিশেষত ইউরোপের চেহারা আকার কেমন হবে, বিজয়ী মুল ক্ষমতাবানেরা কে কেমন দুনিয়া-ইউরোপ দেখতে চায়, কেমন দেখতে হলে পরস্পরের স্বার্থ, কনসার্ন, উদ্বেগগুলোর সমাধা হতে পারে, পরস্পরকে কোনখানে কতটুকু জায়গা করে দিতে পারে - এসব নিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ফ্রাকলিন রুজভেল্ট, সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ষ্টালিন ও বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী চার্চিলের নেতৃত্ত্বে যুদ্ধের সম্ভাব্য বিজিত শক্তিত্রয় লম্বা সময় ধরে বিস্তর আলোচনা, নিগোশিয়েশনের মুলামুলি চালিয়ে গিয়েছিলেন। ১৯৪৪ সাল থেকে এই নিগোশিয়েশন তুঙ্গে উঠলেও মোটামুটি ভাবে ১৯৪১ -১৯৪৫ সাল - এই সময়কাল ছিল আজকের পৃথিবীকে আমরা যেমন দেখছি তার নির্ধারক ঘটনাগুলো ভ্রুণ আকার লাভের সময়। প্রতিষ্ঠান হিসাবে জাতিসংঘ, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাঙ্কের তাই একই আলোচনা নিগোশিয়েশনের সমবৈশিষ্টীয়, সমকালীয় ফলাফল। আবার প্রাতিষ্ঠানিক কাজকারবার শুরুও করে প্রায় একই সময় থেকে। যুদ্ধোত্তর দুনিয়ার রাজনৈতিক দিক মিটমাটের প্রতিষ্ঠান হিসাবে জাতিসংঘ আর অর্থনৈতিক দিক মিটমাটের বিষয় যেমন, মুখ থুবড়ে পড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, যুদ্ধের রসদ হিসাবে ইউরোপকে আমেরিকানদের দেয়া দেনা পরিশোধের উপায়,ইউরোপকে নতুন ঋণ ও যুদ্ধোত্তর পুণর্গঠন ইত্যাদি - সামলানোর জন্য আইএমএফ ও বিশ্বব্যাঙ্ক - এভাবে একই বৃন্তের তিন ফুল জাতিসংঘ, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাঙ্কের আবির্ভাব। তিনটা আলাদা প্রতিষ্ঠান হিসাবে হাজির হলেও একই উদ্দেশ্যে গাথা বেনুনীর মত (interwoven) এরা সম্পর্কিত।
উদ্দেশ্যের এই গাথা বেনুনীর আসল কনসার্ন আবার একটাই, একটা "collective security" খুঁজছিল সকলে। এটা হয়ত বুঝা সহজ প্রত্যেক রাষ্ট্র নিজের security এর জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে ছিল, কিন্তু কেন, কার বিরুদ্ধে security, নিরাপত্তা? এই প্রশ্ন্বের উত্তর সহজ নয়। সাদা চোখে অনেকের মনে হতে পারে এটা ত্রি-রাষ্ট্র-শত্রুঅক্ষশক্তি - জার্মান, ইটালি ও জাপানের - বিরুদ্ধে পশ্চিমের সকলের। আমরা অনেকে এভাবেই ইতিহাস বুঝে এসেছি। কিন্তু এই ত্রি-রাষ্ট্র কী বাকীদের সবসময়ের শত্রু? ছিল বা আছে? ঐ তিন রাষ্ট্র ও তার গঠন, কাঠামোই কী সব সমস্যার মূলে?
না! ইতিহাস তা বলে না। কাছেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) ঘটনাবলিতে যদি দেখি - ইটালি ও জাপান প্রত্যেকেরই অবস্হান তখন জার্মানের বিরুদ্ধে বিজয়ীদের দলে। বৃটিশ ও ফ্রান্স পরস্পরের সাথে অনেক যুদ্ধ লড়েছে। কাজেই ঐ তিন বা কিছু দেশকে শত্রু চিহ্নিত করে পৃথিবীর শান্তি অন্বেষণের বয়ানের গালগল্পটা সুবিধার না, ধোপে টিকে না। কাজেও আসে না। এছাড়া, বেশি দূরে যাওয়ার দরকার নাই, যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষিতে পৃথিবীর শান্তি কথা বলছে, "collective security" খোঁজ করছে - প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত ইতিহাসের পিছনের ৩০০ বছরে, কলোনীর যুগে কী তাদের যুদ্ধ ও পরদেশ দখল করেই কাটেনি, সমৃদ্ধ হয়নি? যুদ্ধ খুব খারাপ জিনিষ এমন একটা ধারণা তখন ছিল না, এখন দাঁড় করাতে চাইছে কেন? কিসের ভিত্তিতে, নতুন কোন নৈতিকতার ভিত্তিতে? কলোনী দখল পাল্টাদখলের যুগের নিজেদের মধ্যে এই তিনশ বছরে যুদ্ধই কী তাদের সমৃদ্ধির একমাত্র হাতিয়ার ছিল না?
কাজেই কিছু দেশকে শত্রু চিহ্নিত করে পৃথিবীর শান্তি অন্বেষণের বয়ান গালগল্প দিয়ে আমরা ইতিহাস বুঝতে পারব না, ব্যাখ্যা পাব না - এটা পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে। কার বিরুদ্ধে "collective security" তা জানতে আমাদের অন্য কোথাও খুঁজতে হবে, শান্তির গালগপ্পে বুঁধ হলে চলবে না।
সেখানে যাবার আগে জাতিসংঘের প্রসঙ্গ যেটুক উঁকি দিয়ে ফেলেছি তার একটা আপাত হাল করে নেই। বিস্তারে যেতে এখন পারব না, তবু যেটুকু পারি শিরোনামে বলব।
জাতিসংঘ বলে কিছু একটা যে হবে ঘোষণা আকারে তা প্রথম আসে ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারি; ২৬টা জাতিরাষ্ট্রের এক যৌথ ঘোষণা(Declaration by United Nations, ১৯৪২) ছিল সেটা। এই ২৬ রাষ্ট্রের এককাট্টা হবার কারণ - এরা সবাই ত্রি-রাষ্ট্র-অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে স্ব স্ব দেশে নানান মাত্রায় যুদ্ধে রত ছিল, যেন অপেক্ষায় ছিল একটা জোট, ত্রাতা, মাতব্বরের; একটা টার্নিং পয়েন্ট বা ট্রিগার পয়েন্টর দরকার ছিল। ০৭ ডিসেম্বর ১৯৪১, আমেরিকার নিজের বুকে পার্ল হারবারে জাপানী বোমা আক্রমণ ছিল সেই ট্রিগার পয়েন্ট। জাতিসংঘ ঘোষণার মাত্র ২৪ দিন আগের ঘটনা এটা। বোমা আক্রমণের ফলে জাপান-আমেরিকার পরস্পরের বিরুদ্ধে , আমেরিকার বিরুদ্ধে জার্মানের হিটলারেরও যুদ্ধ ঘোষণা হয় এতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর প্রথম দুই বছর নিরপেক্ষতার ভান করে আমেরিকার সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেই ইউরোপ বিশেষত বৃটিশদেরকে সহায়তা করে গিয়েছিল - এবার তার সরাসরি অংশগ্রহণ, শুরু। হামলার দিনকয়েকের মধ্যে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনষ্টন চার্চিলের আমেরিকা সফর - এসবের ফলাফলে এই যৌথ ঘোষণা। ঘোষণাটার নীট মানে ও উদ্দেশ্য হলো, জোট পাকানো; কে কে এই যুদ্ধে ত্রি-রাষ্ট্র-অক্ষশক্তিকে শত্রু মানছে তাদের জয়লাভের লক্ষ্যে এক প্রতিজ্ঞাপত্র। প্রতিজ্ঞার পয়েন্ট মাত্র দুইটা: ১. স্বাক্ষরকারী সকলে নিজ নিজ সম্ভাব্য সমস্ত রিসোর্স কাজে লাগিয়ে এক জোটে যুদ্ধে নামবে। ২. কেউ আলাদা আলাদাভাবে শত্রুর সাথে অস্ত্রবিরতি বা শান্তি চুক্তি (separate armistice or peace with the enemies) করবে না।
তবে এই প্রতিজ্ঞাপত্র শুরু হচ্ছে এক তাৎপর্যপূর্ণ বাক্য দিয়ে। মাস কয়েক আগে, আমেরিকার নি্উফাউন্ডল্যান্ড উপকুলের এক জাহাজে বসে ১৪ আগষ্ট ১৯৪১ সালে চার্চিল ও রুজভেল্টের আলোচনা উভয়ের যৌথ ঘোষণা হিসাবে প্রকাশিত হয়েছিল। Atlantic Charter নামে এর খ্যাতি আছে। জাতিসংঘ ঘোষণা বা ২৬ দেশের প্রতিজ্ঞাপত্র Atlantic Charter এর ঘোষণাকে রেফারেন্স দিয়ে নিজ ঘোষণার অঙ্গ বলে মেনে (Having subscribed) নিচ্ছে। বলছে Atlantic Charter এ উদ্দেশ্য ও নীতির কথা যা বলা আছে আমরা তা মেনেই Declaration by United Nations ১৯৪২ ঘোষণায় স্বাক্ষর করছি; "to a common program of purposes and principles embodied in the Joint Declaration of the President of the United States of America and the Prime Minister of the United Kingdom of Great Britain" ।
আসলে Declaration by United Nations, ১৯৪২ কে যদি যুদ্ধের খরচ খরচা রসদ সংস্হানের বিপদে পড়া ২৬ দেশের আমেরিকাকে দেয়া প্রতিজ্ঞাপত্রে আকুতি জানানো বলি তবে Atlantic Charter ১৯৪১ হলো একইভাবে যুদ্ধের খরচ খরচা রসদ সংস্হানের বিপদে পড়া বৃটিশদের আমেরিকাকে দেয়া প্রতিজ্ঞাপত্র ও আকুতি। শান্তির নামে (peace-loving) পরদেশ দখল অন্যায়ের বিরুদ্ধে নৈতিক বয়ান (threaten, aggression outside of their frontiers) এর কথা বলে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মন জয়ের এক চেষ্টা। কারণ, "collective security" বা সম্ভাব্য জাতিসংঘ ধারণার পক্ষে কথা বললেই একমাত্র তাঁর মনজয় সম্ভব। তবেই তিনি প্রত্যক্ষে হিটলারের বিরুদ্ধে বৃটিশের পক্ষে দাড়াবেন। রুজভেল্টের চিন্তা যুদ্ধ পরবর্তী দুনিয়ায় বিশ্বক্ষমতা শক্তির ভারসাম্য নিয়ে, কি চেহারায় একে আঁকতে চান সেটা নিয়ে। Atlantic Charter ১৯৪১ এর পূর্ণ মূল বয়ান নিয়ে একটা আলোচনা এক্ষেত্রে ইনটারেসটিং হতে পারে। মনে রাখতে হবে, চার্চিল যখন Atlantic Charter ১৯৪১ পরদেশ দখল অন্যায়ের বিরুদ্ধে নৈতিক বয়ান ফতোয়া দিচ্ছে যার ভিত্তিতে 'শান্তির' একটা জাতিসংঘ হয় হয় করছে তখনও কিন্তু আমরা তাঁর কলোনীগ্রস্হ, ভারতবর্ষ মানে বৃটিশ ইন্ডিয়া। বৃটিশ কলোনীপ্রভু শার্দুলের এই উল্টা বয়ানে মিউ মিউ আওয়াজ সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ।
যদিও আমরা গদগদ হয়ে "শান্তির" নতুন হদিস আনার প্রতিষ্ঠান হিসাবে জাতিসংঘকে দেখি। জাতিসংঘের জন্মের ইতিহাস ব্যকগ্রাউন্ড বলতে গিয়ে Atlantic Charter, Declaration by United Nations (আরও একটা আছে Yalta Agreements, February 11, 1945) - এসবের কথা সম্ভ্রম সম্মানের সাথে বলতে দেখি। কিন্তু আমরা যদি সাহসের সাথে এই চুক্তিগুলোকে নির্মোহ পর্যালোচনা করতে বসি তাহলে বুঝতে পারব - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এমন কী ঘটনা ঘটেছিল যাতে ৩০০ বছরের কলোনী লুট করে আনা সম্পদ ইউরোপের কলোনী ওস্তাদদের থেকে হস্তান্তর হয়ে আমেরিকাকে এক নম্বর বিশ্বশক্তির ভুমিকায় বসিয়ে দিল। পরদেশ দখল অন্যায় - এই নৈতিকতার চ্যাম্পিয়ান চার্চিলের Atlantic Charter, বিশ্বশান্তি আজ কোথায়? নাকি বিশ্ব আজ আরও বেশি করে অশান্ত? জাতিসংঘ কী "collective security" নিশ্চিত করতে পেরেছে? না কী ২০০৩ সালে বুশ ইরাকে হামলার প্রসঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সম্মতি আদায় করতে না পেরে জাতিসংঘকেই ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দিয়েছে? অবশেষে সম্মতি ছাড়াই নিজ উদ্যোগে বুশ-ব্লেয়ার ইরাকে হামলা করেছে?
তাহলে "collective security" এর অর্থ কোথায় খুঁজব? কী ব্যাখ্যা তার। এনিয়ে আগামি পর্বে দেখা হবে। এছাড়া IMF প্রসঙ্গে ফিরতে হবে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ - গ্লোবাল অর্থনীতি ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
বাঙ্গাল বলেছেন:
প্রিয়তে। পরে পড়ে মন্তব্য করব। মুন্সিরে ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: পরে মন্তব্য করব বলে লুকিয়ে গেলে চলবে না। আপনার মন্তব্য ও অংশগ্রহণ প্রতিক্রিয়া চাই। আমার মনে হয় এটা পোষ্ট টাকে সমৃদ্ধ করবে।
মুসতাইন জহির বলেছেন:
চলুক।এর মধ্যে রাজনৈতিক বয়ান/ঝোল হিসাবে ফ্যসিবাদ বিরোধীতার যে আওয়াজ তৎকালে তোলা হয়ে ছিল সেই মাজেজায়ও একটু প্রবেশ করা দরকার।
লেখক বলেছেন: হ্যা তোলা দরকার। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরিসমাপ্তির দলিল ভার্সাই চুক্তির (The Versailles Treaty of June 28, 1919) সাথে মিলিয়ে না পড়লে পশ্চিমের শঠতা, তথাকথিত ফ্যাসিবাদ বিরোধীতার মাজেজা বুঝা যাবে না।
ইদানিং আমেরিকান একাডেমিশিয়ানরাও এটাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে আহ্বান করার মত একটা কাজহয়েছিল বলে মনে করে। ইউরোপের কলোনিমালিকদের দেশের সীমাহীন লোভ, খাসিলতের প্রতি সায় দেবার জন্য আমেরিকান প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনকেও দায়ী করেন। দেখা যাক, পোষ্টের সীমিত পরিসরে কতটুকু সেই মাজেজার খবর আনতে পারি। দোয়া করবেন।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
২য় পর্ব পাইলাম।
লেখক বলেছেন: পেয়েছেন তা বুঝলাম। এখন আপনার সাংবাদিকসুলভ মন্তব্য প্রশ্ন দিয়ে আমাকে সুযোগ দেন। অপেক্ষা করব।
ফিনিক্সম্যান বলেছেন:
এক্ষণে নিয়ে গেলাম, গাড়িতে, তাই পরে পড়ব। (চোরামি মার্কা কমেণ্ট)
লেখক বলেছেন: চোরামি না করে ফিডব্যাক নিয়ে হাজির হবেন, আশা করে থাকলাম।
আশিক হাসান বলেছেন:
"বিশ্বশান্তি আজ কোথায়? নাকি বিশ্ব আজ আরও বেশি করে অশান্ত? জাতিসংঘ কী "collective security" নিশ্চিত করতে পেরেছে? না কী ২০০৩ সালে বুশ ইরাকে হামলার প্রসঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সম্মতি আদায় করতে না পেরে জাতিসংঘকেই ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দিয়েছে? অবশেষে সম্মতি ছাড়াই নিজ উদ্যোগে বুশ-ব্লেয়ার ইরাকে হামলা করেছে?"কথাগুলো ১০০% খাঁটি । এই ইউএনের সাইনবোর্ডে আমরা এখনও পরাধনীনতার শৃংখলে অষ্টপৃষ্ঠে বাঁধা ।আসলে আমরা কতটুকু স্বাধীন তা আমরা নিজেরাই জানিনা।
ধন্যবাদ আপনাকে ।
লেখক বলেছেন: এজন্য "বিশ্বশান্তি" খুজার ভিতরে "collective security" এর অর্থ তাৎপর্য পাওয়া যাবে না। জানা যাবে না।
এই পোষ্টে কার "collective security" - এই প্রশ্নের জবাব খুজতে আমি আহ্বান রেখেছি, জবাব দেইনি। এটা হলো যে নতুন EMPIRE হাজির হচ্ছে, ব্যক্তি দেশের উর্ধে অবয়ব নিচ্ছে, আমরা সবাই যার সাথে নতুন এক সম্পর্কের আবির্ভাবে জড়িত হয়ে পড়ছি - তার security। গ্লোবাল পুঁজির পক্ষে "collective security" এর এক দেওয়াল গড়ে উঠছে।
পরবর্তী পর্বে এর আরও বিস্তার ব্যাখ্যা করব।
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন:
মনে পড়ে হযরত লেলিন, বুখারিন হিলফারডিং প্রমুখের ফিন্যান্স ক্যাপিটালের তথ্য ও তত্ত্বগত দিক সামনে নিয়া তাঁর সমকালের পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার কংক্রিট রূপটাকে ধরে ধরে আলোচনা করেছিলেন।তিনি ম্যালা উদাহরণ দিয়ে কার্টেল, মার্জার, ব্যাংক, লিজিং ইত্যকার প্রতিষ্ঠানগুলোর গড়ে ওঠার দিকটা বোঝাতে চাইছিলেন। ধরিয়ে দিতে চাইছিলেন পুঁজি তখনকার মূর্তরূপের মধ্যে কি আকারে বিরাজ করছে। কেন করছে, কি এর পরিণতি?
সেই বিরাজিত রূপকাঠামোর সুনির্দিষ্ট চরিত্র কি এবং তাকে রাজনৈতিক দিক থেকে বিচার বা তাৎপর্যের দিকটি বুঝে কর্তব্যকর্ম শনাক্ত করার জায়গায় আসা। অর্থাৎ পুঁজির নিজস্ব স্বভাবের মধ্যে যে রূপান্তর তার স্বরূপ বুঝে রাজনৈতিক লড়াইয়ের লক্ষ্যস্থল ঠিক করা।
যাকে তিনি ''সাম্রাজ্যবাদ'' বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
কিন্তু বিশ্বরাজনীতির পরবর্তী বেশ কিছূ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যেমন বিশ্বব্যাংক আইএমএফ ইত্যাদি তৈরি হওয়া এবং এর ভিতর দিয়ে বিশ্ব পুজিঁতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক যে পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে--সদূরপ্রসারি ফলাফল সহ-- সে সম্পর্কে তেমন আলোচনা চোখে পড়ে না। যা আছে তাও গৎবাধা।
যেমন লেলিন যে পুঁজি রপ্তানির কথা বলছিলে, মার্কস যে বিশ্ববাজারের কথা বলেছিলেন আদতে তা কি ধরণের আকৃতি পেয়েছে সেই তথ্যগত ও তত্ত্বগত অনুসন্ধানে আমরা বেশ কিছুটা পিছিয়ে আছি।
সাম্রাজ্যবাদের ষড়যন্ত্র আর বিশ্বব্যাংক সম্পর্কে ফর্মুলা মাফিক কথাবার্তার বাইরে একে আরো কংক্রিট আরো গভীরৈ গিয়ে আমরা তলিয়ে দেখতে সচেষ্ট হইনি।
আপনার চেষ্টা সেইদিক থেকে সাধুবাদ যোগ্য। তবে উপরে উল্লিখিত বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিলে আলোচনা আরো জমে উঠবে বলে আমার ধারণা।
লেখক বলেছেন: লেলিনের পরে পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্হায় পুঁজির অভিমুখ, সঙ্কট, মোকাবোলার ধরণ, মোকাবিলা করা যায়নি (unresolved) এমন বিযয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়নি বলেই চলে। বিশেষত বেকুবি ভার্সাই চুক্তি, ১৯৩০ এর মন্দা, অকার্যকর লীগ অফ লেশন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, "নিউ ইন্টারন্যাশনাল অর্ডার" খ্যত জাতিসংঘ, আইএমএফ, বিশ্বব্যাঙ্ক এই তিনটা নতুন প্রতিষ্ঠানের তাৎপর্য - এতগুলো ঘটনা ঘটে গেছে কোন মূল্যায়ন পর্যালোচনা, লেনিনের ধারণার আলোড়িত করার মত আপডেট দেখা যায়নি।
এর একটা কারণ মনে হয় কমিউনিষ্টদের চোখে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মূল্যায়ন হোল ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুদ্ধ - এই পর্যন্ত। আশির দশকের আগে পর্যন্ত আইএমএফ বা বিশ্বব্যাঙ্ক শত্রু বা দোষী প্রতিষ্ঠান হিসাবে
চিহ্নিত করতে দেখা যায়নি। অথচ এসবের বীজ বোনা, শেকড় গাড়া, তৎপরতা সবই কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘরে বসেই জন্ম নিয়েছিল।
এর কারণ সম্ভবত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপের ধ্বংসের শোকে বিহ্বল মন যুদ্ধোত্তর ইউরোপের পুনর্গঠনে চোখেই কেবল আইএমএফ বা বিশ্বব্যাঙ্কের তৎপরতাকে দেখেছে। অন্য কোনভাবে দেখার অবস্হা তার ছিল না। একথায় যেন ইঙ্গিত থাকে চিন্তাভাবনা মাত্রই ইউরোসেন্টিক এবং কমিউনিষ্ট চিন্তাও এর বাইরে নয়, বাইরে বের হতে পারেনি। উর্ধে উঠে সার্বজনীন হতে পারেনি। আরও ভাববার দরকার আছে।
এখানে ব্লগের সাধারণ পাঠকের কথা চিন্তা করে যতদূর সম্ভব কমিউনিষ্ট জারগন শব্দের ব্যবহার এড়িয়ে লেখার চেষ্টা করছি যাতে পাঠক, সমাজের আগের তৈরি ধারণাগুলোকে পরীক্ষায় ফেলে যাচাই করে তবেই গ্রহণ করে নিতে পারে।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
মুনশিয়ানা বলেছেন:
পর্ব চলুক, সাথে আছি...
লেখক বলেছেন: ফাঁকিবাজি সাথে থাকা হয়ে গেল না?
লেখক বলেছেন: থ্যাঙ্ক ইউ, সাঁইজি। খবরটার সাথে মিলিয়ে পোষ্টটা পড়ার জন্য।
এপ্রসঙ্গে জবাবটা কেন্দ্র করে পরের পর্ব শুরু করছি। আশা করি কালকের মধ্যে দেখতে পাবেন।
লেখক বলেছেন: আপনার জবাব তৃতীয় পর্বের মূল বিষয়। এখনই পোষ্ট করেছি। দেখবেন আশা করি। সময় ঠিক রাখতে পারি নাই কম্পিউটার ক্র্যাশ করে গিয়েছিল। মাফ করবেন।
ফিনিক্সম্যান বলেছেন:
ফিডব্যাক নিয়া হাজির হৈতেসি। কিন্তু তার আগে ওস্তাসাঁই আপনারে একটা প্রশ্ন করসে, সেইটারো আগ্রহ পাচ্ছি।
লেখক বলেছেন: খুবই ভাল। কালকে দেখা হবে।
লেখক বলেছেন: ছবিটা আসে নাই। আমার লাইন খুব ধীর গতির অথবা অন্য কোন কারণ হবে- তাই বুঝি নাই।
যদি কষ্ট করে কথায় লিখে দেন বা ছবি আবার লোড করে দেন, তাহলে আমি কমুনিকেট করতে পারি।
লেখক বলেছেন: এখানে ছবি এসেছে, দেখতে পারছি।
উত্তর: অবশ্যই প্রাসঙ্গিক।
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাঙ্ক যে নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক খেলার নিয়ম (New International Economic Order) ১৯৪৪ এর পর জারি করল তারই পরিপূরক রাজনৈতিক হাতিয়ার বা বলা যায় (Political Instrument for intervention) হলো জাতিসংঘ ও তার হিউম্যান রাইট চার্টার। সুযোগ পেলে পরে আরও ব্যাখ্যা করব।
লেখক বলেছেন: বিশ্বব্যাঙ্কের নীতি ও ভাবনা হলো কৃষিতে কর্পোরেট পুঁজির সার বীজ কীটনাশক দিয়ে পুঁজিতন্ত্রের বিস্তার ও বাজার সৃষ্টি। নিজের সণ্তানকে বিষ খাওয়ালেও যদি ব্যবসা মুনাফা হয় সেই পুঁজিতন্ত্র এটা। প্রাণবৈচিত্র পরিবেশ ভাবনা শূন্য এই বাজারসর্বস্ব ভাবনা সত্তর দশকের, অকেজো। আগামি দিনের মানুষ ও প্রকৃতির সম্ভবনা নষ্ট করে বিষময় করাই এর কাজ। প্রকৃতির জানু চিপে তাৎক্ষণিক মুনাফার লোভ লালসা মিটে এতে, হয়ত।
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন:
এই খবরটাও দেখেন।
বিশ্ব মুদ্রাব্যবস্থা
ডলারের কর্তৃত্বের অবসান!
রবার্ট ফিস্ক |
মধ্যপ্রাচ্যের সমসাময়িক অর্থনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে তাত্পর্যপূর্ণ যে বদল ঘটেছে, তা হলো উপসাগরীয় আরব দেশগুলো তেল বেচাকেনায় ডলারের ব্যবহার বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে। ডলারের পরিবর্তে জাপানি ইয়েন, চীনা ইউয়ান, ইউরো, সোনা ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর জন্য পরিকল্পিত একীভূত মুদ্রাসহ একগুচ্ছ মুদ্রার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই পরিকল্পনায় এসব দেশের সঙ্গে আছে চীন, রাশিয়া, জাপান ও ফ্রান্স।
এই পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে রাশিয়া, চীন, জাপান ও ব্রাজিলে অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা ইতিমধ্যে গোপনে বেশ কিছু বৈঠক করেছেন। এতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটলে, তেলের দরদাম আর ডলারে নির্ধারণ করা হবে না। উপসাগরীয় আরব ও হংকংয়ের চীনা ব্যাংকিং খাতের সূত্র থেকে এসব পরিকল্পনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সোনার বাজার হঠাত্ চড়ে যাওয়ার ব্যাখ্যা পেতে এগুলো সহায়ক হতে পারে। এ থেকে ডলারের বাজারে অনন্য এক পরিবর্তন ঘটার আভাস পাওয়া যায়।
মার্কিনিরা এসব বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা জানে, যদিও বিস্তারিত তথ্য এখনো তারা পায়নি। তাদের এত দিনকার অনুগত জাপান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এতে জড়িত। মার্কিনিরা এই আন্তর্জাতিক জোটের বিরুদ্ধে অবশ্যই মাঠে নামবে। মুদ্রাবিষয়ক বৈঠকের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের সাবেক বিশেষ দূত সান বিগান সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার ও তেল বিষয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভেদ গভীরতর হওয়ার ঝুঁকি আছে। এশিয়া অ্যান্ড আফ্রিকা রিভিউকে তিনি বলেছেন, ‘দ্বিপক্ষীয় বিবাদ ও সংঘাত এড়ানো অসম্ভব। জ্বালানি স্বার্থ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে মধ্যপ্রাচ্যে যে বৈরিতা চলছে তার ওপর নজরদারি আমরা তো কমাতে পারব না।’
এ কথা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের তেলকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক যুদ্ধের ভবিষ্যদ্বাণীর মতো মনে হয়। অর্থনৈতিক যুদ্ধ এ অঞ্চলের সংঘর্ষকে আবার পরাশক্তির শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে পরিণত করবে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের তেল ব্যবহারের পরিমাণ ক্রমে বাড়ছে, কারণ চীনের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি-প্রক্রিয়া জ্বালানি-সাশ্রয়ী নয়। চীনা ব্যাংকিং খাতের সূত্র থেকে জানা গেছে, ডলার থেকে সরে যাওয়ার উদ্যোগে সোনাও হতে পারে মধ্যবর্তী সময়ের মুদ্রা। কী বিপুল পরিমাণের অর্থ এর সঙ্গে জড়িত সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে বর্তমানে ডলারে সংরক্ষিত আবুধাবি, সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারের সম্পদের পরিমাণ থেকে। একত্রে এ পরিমান দাঁড়ায় ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার।
চলমান বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার সঙ্গে সঙ্গে আমেরিকার অর্থনৈতিক শক্তি ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে বলে পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট রবার্ট জোয়েলিক। ‘এই সংকটের ফলে হয়তো পরিবর্তিত অর্থনৈতিক ক্ষমতা সম্পর্ক স্বীকৃতি পাবে’—এ কথা তিনি সম্প্রতি বলেছেন ইস্তাস্বুলে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সভার প্রাক্কালে। আসলে নতুন অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে চীনের উত্থান ও এর সঙ্গে বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থাতে আমেরিকার হস্তক্ষেপের ক্ষমতার ফলে তেল উত্পাদক ও তেলের ভোক্তা দেশগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতা যুক্ত হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এই চলতি আলোচনার সূচনা।
ডলার বাদে অন্য মুদ্রায় তেল ক্রয়ের বিষয়ে ব্রাজিল ও ভারত আগ্রহ দেখিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবার চেয়ে চীনের উত্সাহ বেশি বলে মনে হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে দেশটির বিপুল বাণিজ্য হয়। চীনের মোট তেলের ৬০ শতাংশই আমদানি করা হয়। এর সিংহভাগ আসে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া থেকে। চীনারা ইরাকের কাছ থেকে উত্পাদনী ছাড় পায়। যুক্তরাষ্ট্র এ বছর পর্যন্ত এটি ঠেকিয়ে রেখেছিল। চীন তেল পরিশোধন ক্ষমতা বাড়ানো ও গ্যাস সম্পদের উন্নতি সাধনের জন্য ইরানের সঙ্গে ২০০৮ সাল থেকে আট বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে আবদ্ধ। সুদানের সঙ্গে চীনের তেলবিষয়ক চুক্তি আছে। লিবিয়ার সঙ্গে তেলের দামে ছাড় পাওয়ার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছে চীন।
তা ছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশের মোট আমদানির কমপক্ষে ১০ শতাংশ চীন থেকে আসে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাপতি জাঁ-ক্লদ ত্রিশে সম্প্রতি বেইজিংকে ডলারের দরপতনের বিপরীতে ইউয়ানের মূল্যবৃদ্ধি করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা করেন এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতির ওপর চীনের নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে ও বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং ইউরোর ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ কমবে। ত্রিশের এ আহ্বান চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের ব্রেটন-উডস ঐকমত্য, যা আধুনিক বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিত রচনা করে, ওয়াশিংটনের কর্তৃত্বের সঙ্গে আমেরিকার ব্যবসায়িক অংশীদারদের খাপ খাইয়ে নিতে বাধ্য করে। আর কালে কালে প্রতাপশালী বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ডলারের আধিপত্য তৈরি হয়।
চীনারা মনে করে, মার্কিনিরা ব্রিটেনকে ইউরোর দিকে ধাবিত হওয়া থেকে সরিয়ে রাখতে সচেষ্ট হয় কারণ তারা ডলার থেকে সরে যাওয়া ঠেকাতে চেয়েছিল। কিন্তু চীনা ব্যাংকিং খাতের সূত্র জানাচ্ছে, এবার আলোচনা এতদূর এগিয়েছে যে, সেটা আটকে দেওয়া আর কারও পক্ষেই সম্ভব হবে না। হংকংয়ের এক বিশিষ্ট ব্রোকার দি ইনডিপেন্ডেন্টকে বলেছেন, ‘শেষে রাশিয়ার রুবলও মুদ্রাগুচ্ছের অন্তর্ভুক্ত হবে। ব্রিটিশরা মাঝখানে আটকে আছে, তারাও ইউরোকে গ্রহণ করবে। তাদের আর কোনো গত্যন্তর নেই, কারণ ডলারের ব্যবহার তারা চালিয়ে যেতে পারবে না।’
চীনের অর্থনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ঠিক করা নিয়ে বারাক ওবামা এত ব্যস্ত যে ডলার থেকে অন্যরা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কী প্রভাব পড়বে সেদিকে মনোযোগ দিতে পারছেন না। ২০১৮ সালের মধ্যে মুদ্রা বদলের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
পিটার্সবার্গে আট জাতি সম্মেলনে এ প্রবণতা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিছু কথা উত্থাপন করেছিল। চীনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জোরালো ভাষায় ডলারের বিষয়ে তাঁদের উদ্বেগ জানিয়েছেন। উদ্বেগের কারণ তাঁদের জাতীয় সম্পদের অধিকাংশই ডলারে বিনিয়োগ করা।
চীনা এক ব্যাংকার বললেন, ‘এসব পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক লেনদেনের চেহারা পাল্টে দেবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন নিশ্চয় খুব উদ্বিগ্ন। এই সংবাদ প্রত্যাখ্যানের যে ঝড় বইবে তা থেকেই বোঝা যাবে তারা কতটা উদ্বিগ্ন।’
গত মাসের শেষে ইরান ঘোষণা করেছে এখন থেকে দেশটি ডলারের পরিবর্তে ইউরোতে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ রাখবে। ব্যাংকারদের নিশ্চয় মনে আছে, মধ্যপ্রাচ্যে ডলারের পরিবর্তে ইউরোতে তেল বিক্রির সর্বশেষ ঘটনায় কী ঘটেছিল। সাদ্দাম হোসেন ঢাকঢোল পিটিয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত ঘোষণার কয়েক মাস পর যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন ইরাকে আক্রমণ করে।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
রবার্ট ফিস্ক: ব্রিটেনের দি ইনডিপেন্ডেন্ট-এর মধ্যপ্রাচ্য সংবাদদাতা।
সূত্র: প্রথমআলো, ০৮.১০.০৯(Click This Link)
লেখক বলেছেন: খুবই ভাল একটা রিপোর্ট নজরে এনেছেন সকলের, প্রাসঙ্গিকও বটে।
পরে আইএমএফের প্রসঙ্গ আলোচনার সময় এটা ব্যভার করে আমার কথা বলব।
থ্যাঙ্ক উ।
লেখক বলেছেন: আপাতত তৃতীয় পর্ব দেখুন এখনই পোষ্ট করেছি।
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন:
''দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের ব্রেটন-উডস ঐকমত্য, যা আধুনিক বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিত রচনা করে, ওয়াশিংটনের কর্তৃত্বের সঙ্গে আমেরিকার ব্যবসায়িক অংশীদারদের খাপ খাইয়ে নিতে বাধ্য করে। আর কালে কালে প্রতাপশালী বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ডলারের আধিপত্য তৈরি হয়।''
লেখক বলেছেন: ইস্তাম্বুল বার্ষিক সভায় জোয়েলিকের ভাষণ আমার কাজকে অনেক সহজ করে দিবে।
নিচের লিঙ্ক দুটো দেখবেন। বিস্তারিত ব্যাখ্যা পরের অর্থাৎ চতুর্থ পর্বে করব।
http://go.worldbank.org/RK4MV3K5R0
http://go.worldbank.org/BEXVBIEFQ0
মগ্নতা বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
আয়াত বলেছেন:
প্লাস++++
লেখক বলেছেন: কিছু মন্তব্য করলে আরও খুশি হতাম।
ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















