আমার প্রিয় পোস্ট
- ইন্ডিয়ান মিউজিশিয়ানদের জোচ্চুরি
(আসুন কিছু হিন্দি গানের অর্জিনাল ভার্সন শুনি) - আলআমিন মিরাজ
- স্মৃতি ১৯৭১ (শেষ পর্ব) - সুরঞ্জনা
- ফিরে দেখা ২০১০ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সব বই ডাউনলোড করুন - মো: হারুন-অর-রশিদ
- সামহোয়্যারইন ব্লগ : সপ্তাহের নির্বাচিত পোস্ট (১৬ আগস্ট - ২২ আগস্ট) - ফিউশন ফাইভ
- এবার প্রেসের কাজে বাংলা লিখুন ইউনিকোডেই একদম সরাসরি ফটোশপ (মেহেদী ভাইয়ের নতুন পোস্ট) - টেকি মামুন
- পলিটিক্স কে পলিটিক্স ছাড়া কোনো সুশীল তরীকায় মোকাবেলা করা যায় না! - কৌশিক
- যেকোন Webpage থেকে বিজ্ঞাপন অপসারন করুন, বিজ্ঞাপনহীন ওয়েবের জগতে আপনাকে স্বাগতম! (রিপোস্ট)
- নাফিস ইফতেখার
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমগ্র রচনাবলী অনলাইনে - বংশী নদীর পাড়ে
- ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধান - অরূপ
- গুগলের বই ডাউনলোড - মানিক হাসান
- কিভাবে আপনার উইন্ডোজের গতি বাড়াবেন? - কমপিউটার জগৎ
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- চলমান পুঁজিবাদী সংকট থেকে উত্তরণ ( - দিনমজুর
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- জিএম শস্যের ভালো মন্দ - দিনমজুর
"বন্ধুরাষ্ট্র" - একটা সোনার পাথরের বাটি ধারণা
০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৯
রাষ্ট্র এবং বন্ধুত্ত্ব - ধারণা প্রসঙ্গে সমাজে কিছু মৌলিক মিস-কনসেপশন আছে; আমাদের পপুলার ধারণাতেও অবশ্য এই ভুল ধারণা আছে। এই বিষয়টার কিছু পরিস্কার করা যায় কী না সেই কথা ভেবে এই পোষ্ট।
যেদিন থেকে যে কোন নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদ্বয় ঘটে সেইদিন থেকে সেই রাষ্ট্র বাকি আগে থেকে থাকা সব রাষ্ট্রের কাছে শত্রু; রাষ্ট্রের বাই ডেফিনেশন ও বাই ডিফল্ট এই বৈশিষ্ট থাকতে বাধ্য; কারণ রাষ্ট্র মানে শত্রু-মিত্রের ভেদাভেদ - মিত্রদের সাথে মিলে এক হয়ে নতুন রাষ্ট্র গঠন, তার নাগরিক হওয়া আর বাকি সবাই - আগে থেকে উপস্হিত রাষ্ট্র বা না-রাষ্ট্র তখন থেকে এর শত্রু হয়ে যায়। এই মৌলিক সংজ্ঞার বাইরে কাউকে যখন বন্ধুরাষ্ট্র বলতে শুনব তখন বুঝতে হবে এটা একটা না-বুঝে বলা বাকোয়াজ শব্দ অথবা নেহায়তই একটা ডিপলোম্যাটিক শব্দ। রাষ্ট্রের একদিকে, জন্মগত এই শত্রু বিষয়ক গুরুত্ত্বপূর্ণ উপাদান খেয়াল থাকে আবার অন্যদিকে, অন্য রাষ্ট্রের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের স্বার্থও থাকে বলে - ডিপলোমেটিক ভাষা নামে এক নতুন ভাষার প্রকারভেদ চালু হয়েছে। ডিপলোমেটিক ভাষার মৌলিক ভিত্তি হলো - রাষ্ট্রের জন্মগত শত্রু বিষয়ক গুরুত্ত্বপূর্ণ উপাদান সে অস্বীকার করে না, করলে রাষ্ট্রই থাকে না, আবার অন্য রাষ্ট্রের সাথে নিজ রাষ্ট্রস্বার্থে কথাও বলা দরকার - অতএব কথা বলার সময় একটা ভান সবসময় সামনে ঝুলিয়ে রাখতে হবে - মনে করিয়ে দেয়া যাবে না যে আমরা পরস্পর শত্রু কথা বলতে বসেছি কিন্তু মনের ভিতরে ভুলাও যাবে না যে আমরা আসলেই পরস্পরের শত্রু; অতএব একটা ক্যামোফেল্কস লাগবে। ফলে ভাষার চাতুরিই ভরসা - ডিপলোমেটিক ভাষার জন্ম। তাই একমাত্র ডিপলোমেটিক ভাষাতেই বন্ধুরাষ্ট্র বলে কোন শব্দ চালু থাকে, অর্থও ডিপলোমেটিক; অর্থাৎ আসলে কথা সত্যি না বরং উল্টা; এই সত্য লুকাতে ডিপলোমেটিক মুখোশ পরে উভয় রাষ্ট্রই বন্ধু বন্ধু ভাব ধরি কেবলমাত্র কথা বলার সুবিধা নেবার জন্য।
রাষ্ট্রের শত্রুতা বিষয়ক জন্মগত উপাদান - এই ভাব, টেনশন আরও ভাল বুঝা যায় "প্রটোকল" বা "ডিপলোমেটিক প্রটোকল" বলে শব্দে। একজন আর একজনের সাথে কথা সরাসরি বললে কী সমস্যা হবে? সমস্যা হলো, রাষ্ট্রপ্রধান বা রাষ্ট্রের প্রতিনিধি স্রেফ একজন ব্যক্তি নয় সমগ্র রাষ্ট্রের সব নাগরিকের প্রতিনিধি, সিম্বল, প্রতীক। ফলে দুই রাষ্ট্র কথা বলতে পারে একমাত্র সেয়ানে সেয়ানে - পরস্পর পরস্পরকে সমান গণ্য করে তবেই, এতে কোন রাষ্ট্র আকারে, অর্থনীতিতে ছোটবড় এতে কিছু যায় আসে না।
ধরা যাক, ১৯৭১ সালে আমরা কিছু করি নাই। ভারত আমাদেরকে একটা রাষ্ট্র বানিয়ে দিয়ে গেছে। এই পরিস্হিতি রাষ্ট্রের শত্রুতা তত্ত্ব কোথায় যাবে?
জবাব সহজ। ১৯৭১ সালে স্বীকৃত থাক না থাক, যতক্ষণ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নাগরিক একে রাষ্ট্র বলে ধরে নিবে মানবে - তাঁদের স্বার্থের প্রতিভু হয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র দাড়িয়ে যাবে। কারণ, সত্য-মিথ্যা, দূর্বল-সবল যাই হোক বাংলাদেশ রাষ্ট্র হয়ে আছে ফলে এই রাষ্ট্রকে ঘিরেই এর নাগরিকের আশা আকাঙ্খা স্বার্থ প্রকাশের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়াতে সে বাধ্য। এই স্বার্থ মানে, বাংলাদেশ রাষ্ট্র নামে যা খাড়া হয়ে আছে, তা ভারত রাষ্ট্রের স্বার্থের সাথে সংঘাত শত্রুতা উপাদান নিয়ে হাজির হতে বাধ্য।
কাজেই সোনার পাথরের বাটি বললে যেমন কথার মানে হয় না - বুঝা যায় না এটা সোনার না পাথরের, ঠিক তেমনি বন্ধুরাষ্ট্র মানেও তাই। কথার একটাই মানে - পুরানো দুই রাষ্ট্রই ভেঙ্গে নতুন রাষ্ট্র গঠন অথবা চুপচাপ কিছু না বলে অন্যরাষ্ট্র-স্বার্থ তা নিজের স্বার্থ হয়ে গেছে ফলে অন্যরাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাওয়া - যেটা এক রাষ্ট্র বলে ঘোষণার কেবলমাত্র কিছু ফর্মালিটি বাকি থেকে গেছে তাই সাময়িক বন্ধুরাষ্ট্র বলা হয়ত; দুচার মাসের মধ্যেই সেটা বলার আর দরকার থাকবে না।
যে বন্ধু সে আর রাষ্ট্রের বাইরে থাকবে কেন? তার জায়গা তো ভিতরে। ভিতরে এক সাথে মিলে রাষ্ট্র গড়ব তাঁর সাথে। মানেই কেউই আর রাষ্ট্রের বাইরে থাকবে না। একই রাষ্ট্রের ভিতরে ফলে আলাদা করে আর বন্ধু শব্দ ব্যবহারের দরকার নাই, ফুরিয়ে গেছে। কিন্তু যদি মিলে যাওয়া অসম্ভব মনে হয় তাহলে বুঝতে হবে সে বন্ধু নয়, তার জায়গা রাষ্ট্রের বাইরে।
রাষ্ট্রে, বন্ধুত্ত্ব হতে পারে একমাত্র রাষ্ট্রের ভিতরে, শত্রুর জায়গা বাইরে। কারণ, রাষ্ট্র মানেই শত্রু আর মিত্রের ভেদাভেদের সীমানা।
ফলে ১৯৭১ সালে আমাদের জন্মগত দূর্বলতা সবলতা যাই থাক, কিছুই যাই আসে না তাতে - আমার কথা সত্য।
এই লেখাটা মন্তব্য আকারে একটু অদলবদল করে এই পোষ্টে Click This Link লিখেছিলাম।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রাষ্ট্র, বন্ধুরাষ্ট্র, ভারত ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, সত্যিই তাই। আমরা কেউ চাই বা না চাই।
আপনার আরও আগ্রহ থাকলে যাকে বলে ফারদার রিডিং - নীচের লিঙ্ক দুটো দেখতে পারেন। অনেক আগে রাষ্ট্রের মৌলিক ভাবনা প্রসঙ্গে লিখেছিলাম।
Click This Link
Click This Link
ডাঃ গ্যান শীল বলেছেন:
রাষ্ট্র মানেই শত্রু, karon rastro shosak shrenir swartha rakkha karar hatiyar. Shosita gareeb manuser rastra khamatay kono adhikar kothao thakena, nei, kakhono hoyni ebong kakhona habena.
লেখক বলেছেন: আপনি রাষ্ট্রের ভিতরের গঠনের মধ্যে এবার শোষক ও শোষিত বলে ভাগ করে দেখতে চাইছেন - একটা কমিউনিষ্ট ধরণের জায়গা থেকে। কোন অসুবিধা নাই - আমরা সেই দিকেও আলোচনা নিতে পারব।
কিন্তু এখানে আমি বন্ধুরা মিলে রাষ্ট্র গঠন করে ফেলার পর, রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ কী কী স্বার্থ সংঘাত, শ্রেণী, সংগ্রাম - অমীমাংসেয় থেকে যায় - সেটা আমার এখন পোষ্টের প্রসঙ্গ নয়। আবার, বন্ধুরা মিলেই রাষ্ট্র গঠন করা হয় - এটা বলার কারণে তখন থেকে ঐ "বন্ধুদের" মধ্যকার স্বার্থ সংঘাত, শ্রেণী, সংগ্রামগুলো লোপ পেয়ে যায়, নাই হয়ে যায় তা নয়; এভাবে বুঝলে ভুল হবে। বরং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে আভ্যন্তরীণভাবে এই শ্রেণীস্বার্থ, সংঘাত সংগ্রামগুলো নিরন্তর চলতেই থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না শ্রেণীগুলো নতুন করে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করে আবার প্রতিষ্ঠা হয়। আবার রাষ্ট্র ভেঙ্গে নতুন রাষ্ট্র হয়, আবার নতুন শ্রেণীস্বার্থ, সংঘাত সংগ্রামগুলো চলতে শুরু করে। রাষ্ট্র শ্রেণী বিরোধের অমীমাংসেয়তার ফলাফল; রাষ্ট্র একটা পাত্র হয়ে বিরোধগুলো ধারণ করে রাখতে চেষ্টা করে যায়, পাত্রের মধ্যেই যেন লড়াইগুলো চলতে পারে সে চেষ্টা করে। একসময় শ্রেণীগুলো নতুন করে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করলে রাষ্ট্রও নতুন করে সংগঠিত হয়। কিন্তু এগুলো সবই রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কী ঘটে চলে সে বিষয়ে আলাপ। এখানে আমার আলাপের বিষয় এটা নয়।
কমিউনিষ্ট, গণতন্ত্রী, স্বৈরাচারী, সাম্রাজ্যবাদী যত নাম আপনি করতে পারেন সব ধরণের রাষ্ট্রের মধ্যে - যে কোন একটা রাষ্ট্র বনাম ওর বাইরে থেকে যাওয়া অন্য রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রগুলো - এদের সম্পর্ক কী? - এই অর্থে শত্রু-মিত্রের ভেদাভেদ - এটাই এখানে প্রসঙ্গ।
আপনার "রাষ্ট্র মানেই শত্রু" - এই ভাবনাটা অস্পষ্ট বা ভিত্তিহীন। রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ অর্থে এক শ্রেণীর কাছে রাষ্ট্র আর থাকে একেবারেই প্রতিনিধিত্ত্ব করে না কেবল চাচাছোলা অন্য শ্রেণীর স্বার্থ দেখে এমন হয়ে উঠতে পারে। এটা রাষ্ট্র ভেঙ্গে পড়ার লক্ষণ, শ্রেণী সংগ্রামে পুরানো বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে যে ভারসাম্যে ক্ষমতা তৈরি হয়েছিল তা আর কাজ করছে না - এর লক্ষণ। এসব ক্ষেত্রেও কমিউনিষ্টদের মধ্যে রাষ্ট্র কোন শ্রেণীর কাছে "শত্রু" হয়ে গেছে এভাবে বলার চল আছে। আমি সে অর্থ এখানে শত্রুমিত্রের ভাগের কথা তুলিনি। লক্ষ্য করবেন কমিউনিষ্টদের এই শত্রু কথাটা রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ প্রসঙ্গে - এক শ্রেণী বা স্বার্থের সঙ্গে অন্য শ্রেণী বা স্বার্থের সংঘাত। ওখানে বিষয়টা মূলত "শত্রু"বা মিত্রের নয়; যদি তা হয়ই তবে পারলে কেবল শোষিতরা মিলেই একটা রাষ্ট্র হোক না কেন যেখানে শোষকরা ঐরাষ্ট্রের কেউ নয়।
"রাষ্ট্র মানেই শত্রু" - আপনার কথাটাকে সাধারণভাবে নিলে হয়ে দাড়াবে - রাষ্ট্র তাহলে সকলেরই শত্রু তাই রাষ্ট্রের দরকার নাই, একটা নৈরাজ্যবাদী অবস্হা।
তার চেয়ে বরং আপনি উপরে যে লিঙ্ক দুটো দিয়েছি ওখানে দেখুন এমনকি "শোষিতের" বা কমিউনিষ্টদের রাষ্ট্র একটা খাড়া করে ফেলতে পারলেও অন্য যে কোন আগত রাষ্ট্রের প্রতি তাঁর শত্রুতা মূলক মৌলিক দিক, স্বার্থের দিক ত্যাগ করতে পারে কী না? ১৯৭১ সালে চীন কেন আগত রাষ্ট্র বাংলাদেশকে সমর্থন করতে পারে নাই।
আমার কথা কমিউনিষ্ট রাষ্ট্র, গণতন্ত্রী রাষ্ট্র, "শোষিতের" রাষ্ট্র - নির্বিশেষে সকল রাষ্ট্রের বেলায় প্রযোজ্য - সব রাষ্ট্রের বেলায় খাটে - একম কথাই আমি বলেছি।
ওরাকল বলেছেন:
স্থায়ি শত্রু বা মিত্র বলে কিছু নাই পুরোটাই ব্যবসায়িক স্বার্থ ...
লেখক বলেছেন: কথাটা বোধহয় একটু ওভার-সিম্পলিফাইয়েড হয়ে যাবে তাতে।
রাষ্ট্র বনাম অন্যরাষ্ট্র - এই বিচারে জন্মের সময় থেকে অন্যেরা আমাদের রাষ্ট্রের স্হায়ী পারমানেন্ট শত্রু হয়ে গেছে। শত্রু-মিত্রের ঐ রেখা টেনেই আমাদের রাষ্ট্র হয়েছে।
এখন "পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট" বিষয়ে, সেয়ানে সেয়ানে - যেখানে আমরা রাষ্ট্রের স্বার্থ আছে অন্যেরও আছে অথবা আমাদের দুজনের অন্যের বিপক্ষে স্বার্থ আছে - এমন জায়গাগুলোতে দুজনেরই লাভ হতে হবে - এভাবে ব্যবসায়িক বা সরাসরি ব্যবসায়িক নয় এমন স্বার্থের ক্ষেত্রগুলোতে একসাথে কাজ করতে পারি। কিন্তু মনে রাখতে এগুলো সবই একেবারেই সাময়িক, আজ আছে কাল নাই; আজ যার সাথে আছি কাল আমি তার বিপক্ষে হতে পারি - কোন স্হায়ি কিছু নাই।
স্হায়ী কিছু থাক বা অস্হায়ী থাক - সবসময়ই অন্য সব রাষ্ট্রই আমার
শত্রু রাষ্ট্র - এই মৌলিক দিকে কখনই হেরফের নাই। সকলেই পোটেনশিয়াল এনিমি।
ভাঙ্গন বলেছেন:
আচ্ছা, আমার একটা বিষয়ে ধারনা স্বচ্ছ হ'বার দরকার আছে।বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে ভারত আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগিতা করে সরাসরি বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র হয়েছে। ধরে নিলাম ভারত বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র।
এখন শত্রু বিষয়ে কী ধারনা।
যেমন পাকিস্তান সরাসরি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি। আর আমেরিকা পাকিস্তানের বন্ধুপ্রতীম হয়ে পরোক্ষ বাংলাদেশের বিপক্ষে ছিল। এখন যুদ্ধাত্তোর স্বাধীন দেশে শত্রু বিবেচনা পাকিস্তানের পরে আমেরিকাকে কিভাবে বিবেচনা করা হবে?
পাকিস্তানের বন্ধু রাষ্ট্র হয়ে বাংলাদেশের শত্রু,নাকি সরাসরি শত্রু?
কিংবা এবিষয়ে আদৌ কোন শ্রেণীভেদ আছে কি-না?
লেখক বলেছেন: সবার আগে টিনের বাক্সে ১২ টাকা ফেলার মত "বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র" কথাটা বাইরে ফেলে আলোচনায় আসতে হবে; তা সে "সরাসরি নয়" বা "সরাসরি" "বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র" - যাই হোক না কেন।
"বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র" বলে কিছু নাই; ওটা সোনার পাঠরের বাটির মত - না সোনার না পাথরের - অলীক ভাবনা। এটাই এই পোষ্টের মুল কথা।
দ্বিতীয় কথা:
রাষ্ট্র বনাম অন্য যে-কোন-রাষ্ট্র - এই বিচারে, আমাদের জন্মের সময় থেকেই অন্যেরা সকলে আমাদের রাষ্ট্রের স্হায়ী, পারমানেন্ট শত্রু হয়ে গেছে। শত্রু-মিত্রের ঐ রেখা টেনেই আমাদের রাষ্ট্র হয়েছে। এমনকি ভারতের সহায়তায় আমরা রাষ্ট্র গড়ার পরও - সংজ্ঞা অনুসারে, ভারতরাষ্ট্রও বাংলাদেশরাষ্ট্রের কাছে শত্রু রাষ্ট্র। বন্ধুই যদি হতো তাহলো তো আমাদের আলাদা রাষ্ট্র গড়ার দরকার ছিল না, বন্ধুদের সাথে মিলে একটা রাষ্ট্র গড়তাম। যে বন্ধু সে রাষ্ট্রের বাইরে থাকে না; বাইরে থাকা মানে শত্রু। আবার বাইরে থাকা কেউ উভয়ের "পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট" মূলত শত্রু হওয়া সত্ত্বেও সাময়িক সহায়তা করতে পারে। পারস্পরিক স্বার্থের এই সাময়িক সহযোগিতার ঐ সময়ে এক কমন স্বার্থের উদ্ভব ঘটেছিল এবং তার উপর দাড়ানো, অস্হায়ী; "পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট" মানেই সবসময় তা সাময়িক, আজ আছে কাল নাই। এর সাথে আমার রাষ্ট্র গড়ার সময় সকলে আমার শত্রু এই মৌলিক শর্তে কোন বদল বা হেরফের নাই। এটা কোন ব্যক্তি চায় কী না চায় - তাতে কিছু এসে যায় না; কর্তাসত্ত্বার উর্ধে, নৈর্ব্যক্তিক। কর্তা বড় জোড় চেষ্টা করতে পারে নতুন রাষ্ট্র না গড়ার বা হবার; কিন্তু রাষ্ট্র গড়তে চাইতে ভারতরাষ্ট্র সহ সকল রাষ্ট্র অনিবার্যভাবে আমাদের শত্রু গণ্য হবে; সবাই পারমানেন্ট, স্হায়ী পোটেনশিয়াল এনিমি। কারা কারা এই নতুন রাষ্ট্রের শত্রু এই দাগ টেনেই তো বাকিদের নিয়ে আমরা বাংলাদেশ-রাষ্ট্র গড়েছি। বাকি সবাই পারমানেন্ট, স্হায়ী - পোটেনশিয়াল এনিমি। আমরা চাই কী না চাই - এটাই সত্য হবে।
এইবার আসেন, এই সব শত্রু রাষ্ট্রের মধ্যে, শত্রু রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও - সাময়িক, অস্হায়ী, টেমপোরারি - বিভিন্ন ইস্যুতে "পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট" বিষয় পরিস্হিতির উদ্ভব হবে বা দেখব হয়ত। কেবল সেসব সময়ে নানান পারমিউটেসন, কমবিনেশনের মত হিসাবেম আজ যার সাথে স্বার্থ দেখছি কাল হয়ত ওর বিপক্ষে স্বার্থ দেখব এভাবে, "পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট" থাকলেই কেবল সাময়িক নানান কাজ একসাথে করব।
পাকিস্তান, ভারত, চীন, রাশিয়া আমেরিকা ইত্যাদি সকলেই আমাদের রাষ্ট্রের জন্মের সময় থেকে পারমানেন্ট শত্রু, পোটেনশিয়াল এনিমি। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন ইস্যুতে "পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট" বিষয় আছে এমন জায়গায় একসাথে স্বার্থে কাজ করব, এটাও অস্হায়ী; "পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট" বিষয় মানেই সবসময় তা অস্হায়ী।
চাষী বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ চাষী।
সামিউর বলেছেন:
লেখাগুলা পড়লাম। ভালো লাগ্লো।
লেখক বলেছেন: ভাল লাগল জেনে আমারও ভাল লাগল; এখন কাজে খাটান, দেখেন কাজে লাগাতে পারেন কী না।
রিফাত হাসান বলেছেন:
সমস্যা হয় যখন এই ডিপ্লোমেসির ভাষা/পরিভাষাটির সত্যাসত্য ভুলে/ ভোলার ভাণ করে আমাদের বন্ধু-ভক্ত রাজনীতিবিদগণ তাহাদের নি:শর্ত প্রেমে বুঁদ হয়ে যান, এবং আমাদিগকে যীশুখ্রীষ্টের প্রেমের বাণীর মিষ্টি হোমিওপ্যাথিক বড়ি মিশিয়ে ভারসাম্যহীন পররাষ্ট্রনীতির কুইনাইন গেলাতে আসেন- তখন। বন্ধু রাষ্ট্র এই পরিভাষাটি এখন ডিপ্লোমেসির ভাষাতেও আর টেকে না আমার মতে, অইটার থেকে এত দুর্গন্ধ বের হয়।
লেখক বলেছেন: এতক্ষণ তত্ত্বকথা থেকে ব্যবহারে বের হতে পারছিলাম না।
আপনার মন্তব্যে সে সুযোগ নিব।
বলেছিলাম - বন্ধুরাষ্ট্র বলে কিছু নাই। সত্য লুকানোর ক্যামোফেক্স। - "ডিপলোমেটিক; অর্থাৎ আসলে কথা সত্যি না বরং উল্টা; এই সত্য লুকাতে ডিপলোমেটিক মুখোশ পরে উভয় রাষ্ট্রই বন্ধু বন্ধু ভাব ধরি কেবলমাত্র কথা বলার সুবিধা নেবার জন্য"। কারণ যাকে শত্রু বলে আগে থেকেই উভয়ে উভয়কে জানি তাদের টেবিলে বসে কথা বলতে গেলে একটা মুখোশ না পড়লে কথা বলা যায় না।
এখন আওয়ামী লীগ এই ডিপলোমেটিক ভাষায় নিজের জনগণের সাথেও কথা বলতে চায়, এর মানে জনগণকেও শত্রু জ্ঞান করাই আর কী। আমাদের চিন্তার গন্ডগোল লাগিয়ে আওয়ামী লীগ ভারতের রাজনীতি করার সুবিধা নিতে চাই।
আওয়ামী লীগ যদি মনে করে নিজের জনগণের সাথেও তার সম্পর্কটা ডিপলোমেটিক ভাষার, ক্যামোফেল্কসের শত্রুতার তাহলে এই প্রতারণার থেকে দুর্গন্ধ ছাড়া আর কী বের হবে।
মুসতাইন জহির বলেছেন:
বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আলোচনার অবতারণা করেছেন।বাংলাদেশে অদ্ভূতভাবে রাষ্ট্র সম্পর্কে প্রচলিত প্রাধান্যবিস্তারী ধারণাগুলোর মধ্যে রাজনৈতিকি সত্তা হিসেবে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। মোটাদাগে দুইটা ধারা বলতে পারেন এক. বন্ধু-বাদী দুই. লেফট-রাইট-বাদী
প্রথমটা নিজেদের অস্তিত্বের অনিবার্য অংশ হিসেবে বন্ধু খঁজে বেড়ায়। যেন বন্ধু নাই তো সে নিজেও নাই। তাই বন্ধুর মাঝেই সব কিছু বিলিয়ে দিয়ে ব্যাপক প্রেম রচনায় ব্যস্ত।
আর অন্যটা রাষ্ট্রের রাজনৈতিকতা বা সত্তার স্বরূপের সাথে রাষ্ট্রশক্তির তালগোল পাঁকিয়ে বেশ গরম একটা ভাব আনে। বিদ্যমান রাষ্ট্রের চরিত্র বদল বা রাষ্ট্রশক্তির পুনর্গঠনের বিষয়ে প্রবেশ না করে উল্টো পাতি ক্রোধ নিয়ে মাথা ঠুকে খোদ রাষ্ট্রের উপর। এমন কি । অনেক ক্ষেত্রে এরা রাষ্ট্র ও সরকারের সাধারণ পার্থক্যটাও বেমালুম হয়ে যায়। এদেরই ভাবগুরু, বাংলার আধুনিক কবিতার রমরমা কবি, শহীদ কাদরি। ইনার একটি মশহুর কবিতা হলো ''রাষ্ট্র মানে লেফট রাইট লেফট...''। বুঝেন অবস্থা!
এটা নিয়া বিস্তারে লেখার বাসনা ছিল। তবে আপাতত থামাই ভাল।
লেখক বলেছেন: মাফ করবেন মুসতাইন, আপনার লেফট-রাইট-বাদী
রাষ্ট্র ধারণার আমি দুইটা মানে পাচ্ছি। একবার মনে হচ্ছে বামদের দশা আরএকবার মনে হচ্ছে বাহিনী। বুঝছি মনে করে বসে থাকার চেয়ে জিজ্ঞাসা করে জানা ভাল।
ওদিকে মগ্নতা আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছে। নীচে দেখেন।
লেখক বলেছেন: আপনার লেফট রাইটের জবাব কৈ!
মগ্নতা বলেছেন:
লেখায় প্লাস। "এটা নিয়া বিস্তারে লেখার বাসনা ছিল। তবে আপাতত থামাই ভাল।" ওয়েটিং ফর মুসতাইন জহির।
লেখক বলেছেন: আপনার হয়ে সুপারিশ জানিয়ে দিয়েছি, উপরে দেখেন।
মুনশিয়ানা বলেছেন:
লেখাটার টোন বেশ চড়া হয়ে গেছে বলে আমার মনে হয়েছে। আমি একমত, আমরা বন্ধুদের নিয়েই রাষ্ট্র করি, আর রাষ্ট্রের ভিতরে যাদের জায়গা হয়না, রাষ্ট্রের বাইরে যাদের অবস্থান তারা সবাই শত্রু। যেমন করে আমি কোন একটা মার্কেট যেখানে সবাই একই পন্য বিক্রি করে (যেমন স্বর্ণের মার্কেট বা কম্পুউটার মার্কেট), সেখানে কোন দোকান খুলি, তবে সেই মার্কেটের অন্য সব দোকানদার সবাই আমার প্রতিপক্ষ, আমার শত্রু।
অথচ এর পরেও সমস্ত দোকানদারদের সাধারন কিছু স্বার্থ থাকেই, যা আদায়ের জন্য, টিকিয়ে রাখার জন্য সমস্ত দোকানিরা একযোগে কাজ করে। শত্রুতা পেছনে পরে থাকে।
একই রকম ভাবে, রাষ্ট্রসমুহের মাঝে এমন ধরনের কিছু সাধারন স্বার্থের জায়গা থাকে, যেখানে রাষ্ট্রসমুহ পরস্পরের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন হয়ে কাজ করে। ল্যটিন আমেরিয়ার আমেরিকা বিরোধী মনোভাবাপন্ন দেশগুলোর মধ্যে এ ধরনের বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক দেখা যায়। হোক সেটা সাময়িক, ভেনেজুয়েলা কি কিউবার বন্ধুরাস্ট্র নয়?
লেখক বলেছেন: না টোন চড়া হয় নাই।
আপনার মনে কিছু খটকা আছে বলে মনে হচ্ছে সম্ভবত সে কারণে আপনার চড়া মনে হচ্ছে।
আপনি শেষে প্রশ্নটা করে ভাল করেছেন, আপনার বুঝতে সুবিধা পেয়েছি, ও থেকে।
"হোক সেটা সাময়িক, ভেনেজুয়েলা কি কিউবার বন্ধুরাস্ট্র নয়?"
জবাব, না একেবারেই নয়; এমনকি রাষ্ট্র দুটোর রাজনৈতিক চিন্তার দিক থেকে পরস্পর চিন্তায় মিল দেখতে পেলেও নয়।
উপরে একটা মন্তব্যে বলেছি,
শত্রু-মিত্রের ভাগ - "এটা কোন ব্যক্তি চায় কী না চায় - তাতে কিছু এসে যায় না; কর্তাসত্ত্বার উর্ধে, নৈর্ব্যক্তিক। কর্তা বড় জোড় চেষ্টা করতে পারে নতুন রাষ্ট্র না গড়ার বা হবার; কিন্তু রাষ্ট্র গড়তে চাইলে ভারতরাষ্ট্র সহ সকল রাষ্ট্র অনিবার্যভাবে আমাদের শত্রু গণ্য হবে; সবাই পারমানেন্ট, স্হায়ী পোটেনশিয়াল এনিমি। কারা কারা এই নতুন রাষ্ট্রের শত্রু এই দাগ টেনেই তবেই তো বাকিদের নিয়ে আমরা বাংলাদেশ-রাষ্ট্র গড়েছি। বাকি সবাই পারমানেন্ট, স্হায়ী - পোটেনশিয়াল এনিমি। আমরা চাই কী না চাই - এর উর্ধে এটাই সত্য"।
ফলে ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রকর্তা শ্যাভেজের কারণে উপরের রাষ্ট্রের জন্মগত শত্রুতা তত্ত্বে কোন হরফের ঘটে নাই।
আজকে ভেনেজুয়েলা একটা রাজনৈতিক পথ অবলম্বন করতে চাইছে ফলে তার নিরাপত্তার কথা ভেবে আমেরিকার বগলে বসে সারা দক্ষিণ আমেরিকাকে এক জোটের ভিতরে এনে ওর ভিতরে নিরাপত্তার কথা ভাবতে হচ্ছে। ফলে কিউবার সমর্থন তার দরকার। এটা ভেনিজুয়েলার দিক থেকে বললাম। কিন্তু এতে কিউবার স্বার্থ কী শুধুই একটা রাজনৈতিক চিন্তার বন্ধু পাওয়া? না তা নয়।
আমাদের ভুলে যাওয়া চলবে না আজ বিশেমন্দার কারণে যে তেলের দাম ৬০ ডলারে এসেছে এটা বছর দেড়েক আগে ১৭০ ডলারে বিক্রি হয়েছে। ভেনিজুয়েলা সেই কামানির সময় থেকেই কিউবাকে বিশেষ দরে তেল দিয়েছে। ফলে এক অর্থে বললে ভেনিজুয়েলাকে এই বিশেষ দরের তেলের বিনিময়ে বিশেষ খাতিরে, নিজের নিরাপত্তা কিনতে হয়েছে। শ্যাভেজের রাজনীতি ঠিক না বেঠিক সফল হবে না বিফল হবে এটা নিয়ে আমি কথা বলছি না। রাজনৈতিক চিন্তার বন্ধু আর রাষ্ট্রের স্বার্থ - এই দুটোকে এক করে গুলানো যাবে না।
তাহলে কথা দাড়ালো ভেনিজুয়েলা ও কিউবা কোন এক বিশেষ শর্ত পরিস্হিতির কারণে পারস্পরিক রাষ্ট্রস্বার্থে ঐক্য দেখতে সক্ষম হচ্ছে - বাই ডেফিনিসন দুইটা শত্রু রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও সাময়িক পরিস্হিতিতে পারস্পরিক রাষ্ট্রস্বার্থে একটা ঐক্য দেখতে পেয়েছে - এরই সুবিধা নিচ্ছে এখন। কাল কোন নতুন পরিস্হিতিতে সবকিছু উল্টে যেতে পারে। বুদ্ধিমানের কাজ হবে সে পরিস্হিতিতে কেন এক সাথে আর কাজ করা সম্ভব নয় সেটা পরিস্কার বলে কয়ে রাষ্ট্রস্বার্থে ঐক্যের সমাপ্তি টানা। খামোখা রাজনৈতিক চিন্তার বন্ধুর কথা তুলে কিছু আড়াল করার দরকার নাই, খারাপ সময়ে পরস্পর মুখ বেজাড় করারও দরকার নাই।
আপনি আমার উপরে দেয়া লিঙ্ক দুটো দেখেন, ১৯৭১ সালে সমাজতান্ত্রিক-চীন কেন আমাদের সমর্থন করতে পারে নাই। বরং আমাদেরকে বিক্রি করেই চীন-আমেরিকার সম্পর্কের সূচনা, জাতিসংঘের ভেটো ক্ষমতাসহ সদস্যপদ সবই চীন হাসিল করেছে।
এই একই ভুয়া বন্ধুরাষ্ট্রের দোহাই দিয়ে সোভিয়েত ব্লকের আমরা সব রাষ্ট্রই কি সোভিয়েত ইউনিয়ন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা যোগাতে ব্যবহূত হয়ে যায়নি?
আমি "দুনিয়ার মজদুর এক হও" - শ্লোগান ভুল ছিল এটা বলছি না, বলছি এই শ্লোগানের আড়ালে সোভিয়েত ইউনিয়ন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা যোগাতে ব্যবহূত হয়ে যাবার কথা। "দুনিয়ার মজদুর এক হও" এই শ্লোগান - ব্যবহারে কিভাবে বাস্তবায়নে করব এটা নিয়ে আবার নতুন করে ভাবতে বলছি কেবল।
কমিউনিষ্টদের কথা থাক। ইরানের ক্ষেত্রে দেখুন। ইরানের সাথে আমেরিকার নিউক্লিয়ার ইস্যুতে বড় ধরণের স্বার্থ বিরোধ থাকা সত্ত্বেও, ইরানের সমর্থন অর্থাৎ ইরাকী শিয়া পার্টির (এখনকার খোদ প্রধানমন্ত্রী মালিকি বড় হয়েছেন ইরানে) মাধ্যমে ইরানের সমর্থন নিয়েই কেবল বুশ ইরাক দখল করতে পেরেছে। ইরান এই সমর্থন যোগাড় করে দিয়েছে নিজ রাষ্ট্রস্বার্থে। ইরাকের মৌলিক সমস্যা ইরাকের শিয়ারা; তাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে - তাঁরা কিভাবে পরিচিত হতে চায় - শিয়া না ইরাকী। একটা ইরাকী রাষ্ট্র গড়তে যদি সত্যিই চায় তবে শিয়া পরিচয় দূরে রাখতে হবে, ইরাকী হতে হবে। শিয়া হতে চাইলে ইরানের সাথে মিলে রাষ্ট্র গড়তে হবে। মাঝামাঝি কোন পথ নাই। ইরাকী সুন্নি, কুর্দিদের সাথে ইরাকি পরিচয় মুখ্য করেই একমাত্র সে রাষ্ট্র হতে পারে - ইরাকী রাষ্ট্র; যেখানে ইরান হবে বাই ডেফিনেশন তার শত্রু রাষ্ট্র।
তার মানে দাঁড়ালো, বন্ধুত্ত্বের নামে, শিয়া ধর্ম পরিচয়ে একাত্মতার নামে - ইরাকি শিয়াদের বিক্রি করে ইরান তার নিজের রাষ্ট্রের স্বার্থ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। কেন শিয়া লড়াকু "সদর বাহিনী"কে আমেরিকার বিরুদ্ধে অস্ত্র সংবরণ করতে হয়েছিল, তাতেও শেষ হয়নি, মালিকি ওদেরকে নিরস্ত্র করে জেলে পুরতে হয়েছিল - এই ঘটনাগুলোকে লক্ষ্য করলেই বুঝটে পারবেন, রাষ্ট্রের জন্মগত শত্রু-মিত্রের ভেদাভেদ কত নির্মম, এবং বিশেষ করে, তা নৈব্যক্তিকভাবে নির্মম।
এটা নুরে আল মালিকি বা মুখতাদর আল সদর অথবা বিখ্যাত ষ্ট্যালিন বা মাও - এদের ব্যক্তি ইচ্ছার উপর একেবারেই নির্ভর করে না।
মনজুরুল হক বলেছেন:
খুব অল্প কথায় এমন একটা প্রশ্ন তুলে ধরেছেন যেখানে আবার খুব অল্প কথায় কোন সিদ্ধান্তও টানা যাবে না।
রাষ্ট্র, বন্ধুরাষ্ট্র, শত্রুরাষ্ট্র এই প্রতিটি ধারণাই (খেয়াল করুন, ধারণা বলছি) বস্তুগত বিশেষ বিশেষ পরিবর্তনের ফলেই বানিয়ে বা ধারণা করে নিতে হয়েছে। প্লেটোর রিপাব্লিক থেকে শুরু করে লেনিনের রাষ্ট্রের শুকিয়ে মরা পর্যন্ত যে ধারণাগুলো আমাদের হাতের কাছে পাই তা সবই এক অর্থে আপেক্ষিক।
আমার ব্যক্তিমত হচ্ছে সীমান্ত আর ভৌগোলিক অবস্থান নির্ণয় করে রাষ্ট্রের শত্রু-মিত্র ভেদাভেদ নিরুপণের চেয়ে যেটি বেশী প্রকট হয়ে দেখা দেয় তা রাষ্ট্র পরিচালক শ্রেণীর বন্ধুত্ব বা শত্রুতা। এখানে তারা নিজেদের নিজস্ব এবং কথিত রাষ্ট্রগত স্বার্থের কারণেই এক একটি রাষ্ট্রকে "বন্ধু" বা "বন্ধু নয়" আখ্যা দেয়, কিন্তু কিছুতেই ওই ডিপলোম্যাটিক ব্যারিয়ারের কারণে "শত্রুরাষ্ট্র" বলেনা।
এই সূত্র (মোটেই কোন সূত্র নয়) ধরেই যদি কোনদিন জামায়াত ক্ষমতা দখল করে, তাকেও বলে যেতে হবে-ভারত আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র!
লেখক বলেছেন: না মনজু একটু ভুল বুঝা হলো।
একটা রাষ্ট্র - ইরানী ইসলামী রাষ্ট্র, চীনা কমিউনিষ্ট রাষ্ট্র, আমেরিকান রাষ্ট্র, কিংবা বাংলাদেশ রাষ্ট্র - যে কোন রাষ্ট্র অভ্যুদ্বয়ের পর আগে থেকেই হয়ে থাকা রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রগুলোর সাথে এর সম্পর্ক কী দাঁড়ায় - এটাই আমার আলোচনার বিষয়।
আর আপনি নির্দেশ করছেন, একটা রাষ্ট্র তৈরি হয়ে যাবার পর ওর অভ্যন্তরের বিভিন্ন শ্রেণী সংগ্রামে একএক শ্রেণীর কাছে রাষ্ট্রটা কেমন সে প্রসঙ্গে।
আমার প্রসঙ্গ ভিন্ন, রাষ্ট্রের সাথে বাইরের অন্য রাষ্ট্রের - তাই ডিপলোমেটিকও আমার প্রসঙ্গের ভিতরে এসেছে।
উপরে দুই নম্বরে ডাঃ গ্যান শীলের মন্তব্য ও আমার জবাব লক্ষ্য করুন, ওখানে আরও বিস্তারিত বলেছি।
শেষের জামাতের উদাহরণ টা জুতসই লাগেনি। আমি এভাবে বলব, জামাত আওয়ামী লীগের মত হলে তা করতে পারে অবশ্য।
তবে, আমার কথা আরও ষ্পষ্ট রাখতে বলব, সরকারের মন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির কখনও সখনও ডিপলোমেটিক আলাপে বন্ধুরাষ্ট্রের গীত গাইতে হতে পারে। মন্ত্রী যখন রাজনৈতিক দলের নেতা হিসাবে কথা বলবেন তখন বন্ধুরাষ্ট্র বলে কথা বলা ধাপ্পাবাজি। যেসব রাজনৈতিক দল বা নেতা সরকারে নেই তারও বন্ধুরাষ্ট্র বললে একই ধাপ্পাবাজি হবে, বেকুবি তো বটেই।
জাতেমাতাল বলেছেন:
সমমনা নাগরিক, যাদের সাথে আমি মিত্রতা অনুভব করি, তাদের নিয়ে আমরা রাষ্ট্র করি, একই সংবিধানের আওতায় বসবাস করি। কিন্তু আমাদের শ্রেনীগত বিভেদ, মতামতের পার্থক্য এতে করে বিলোপ হয়ে যায় না, বরং একটা আইনী কাঠামোর মধ্যে আমরা পরস্পরের সাথে মতাদর্শিক সংগ্রাম চালাই। রাজনৈতিক দল বানাই, রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করি।কিন্ত এগুলো সবই আমার আভ্যন্তরীন সংগ্রাম। যেখানে বিতর্ক, আলোচনা, পর্যালোচনা আমার হচ্ছে আমার জয়ী হবার মাধ্যম। যদিও এ অবস্থা ধাপে ধাপে সশস্ত্র লড়াইয়ের দিকেও যেতে পারে।
এদিকে আমার রাষ্ট্রের বাইরে যারা রয়ে গেল তারা সবাই নিঃসন্দেহে আমার শত্রু। কারন তারা আমার বন্ধু হলে তো আমি তার সাথে মিলেই রাষ্ট্র বানাতাম!! ফলে রাষ্ট্রের বাইরে রয়ে যাওয়া এই জনগোষ্ঠীর সাথে আমার স্বার্থের পার্থক্য থাকবেই। তার চাওয়া পাওয়ার সাথে আমার মিল থাকতেই পারে না।
ফলে রাষ্ট্রের স্বার্থের দিক থেকে দেখলে বন্ধুরাষ্ট্র বলে কোন বস্তুর অস্তিত্ব থাকতে পারে না। আপনার পোষ্টের সারসংক্ষেপ করলে মনে হয় আপনি এটাই বুঝাতে চেয়েছেন।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, ভাল সাম আপ করেছেন; কেবল শেষ প্যারায় একটা কথা যোগ করে দেই,
রাষ্ট্র হিসাবে অন্য রাষ্ট্র মৌলিকভাবে শত্রু হলেও, অন্যদেশের সাথে লেনদেন, পণ্য বিনিময়, বাণিজ্য, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক - ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে কমন স্বার্থের বিভিন্ন দিক আছে এবং থাকবে - সেগুলো যেন অস্বীকার করে না বসি। সেসব ক্ষেত্রে পরস্পর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সমমর্যাদার ভিত্তিতে একসাথে কাজ করা, কী দিয়ে কী পাচ্ছি - এসবের সুযোগের সদব্যবহার করতে হবে। একাজে আমার স্বার্থ আর তারস্বার্থ কখনও মিলবে, কখনও মিলবে না - এটাই সবচেয়ে স্বাভাবিক। আমরা একই দোকানদারের সাথে সবসময় লেনদেন করি না; পাস্পরিক সুবিধার ঠিক করে দেয় ওটা ঘটবে কিনা!
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: দোকানদারের সাথে একধরণের সম্পর্ক হয়, কিন্তু বন্ধুপ্রতীম দোকানদার আমরা বলি বা ভাবি না।
লেখক বলেছেন: ভাল। ধন্যবাদ আপনাকে ৭১।
বন্ধনহীন বলেছেন:
আরাশির পোস্টে আপনার একটা মন্তব্য দেখলাম, যা এ পোস্টের প্রাসংগিক বলা যায়,"মানুষ নিজেকে প্রকাশ করতে পারে একমাত্র একটা রাষ্ট্রে।"
এটা কোন অর্থে বলেছেন, একটু খোলাসা করবেন?
সুখস্বপ্নে আমি দেখতে পাই, একসময় রাস্ট্রের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাবে। হয়ত হাজার বছর।
ভুপর্যটকের বেশ কয়েকটি পোস্ট মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। এ নিয়ে জার্মানী ফিরে মেইল দিব। এখন চট্টগ্রামে ব্যস্ত আছি। শুভেচ্ছা রইল।
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্য পেয়ে ভাল লাগছে। বুঝছিলাম দেশে ব্যস্ত মজার সময় কাটাচ্ছেন।
এখন অনেক কথা সংক্ষেপ করে উত্তর দিব।
আমরা বাঙালী এক কথাটার দুটো অর্থ আছে;
এক, নৃ-বৈশিষ্টের (ethnic) অর্থে বাঙ্গালী নৃগোষ্ঠী, যেটা নিয়ে আপনার আমার কিছু করার নাই কারণ এটা প্রকৃতির কৃপায়, প্রকৃতি থেকে এই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট আমরা পেয়েছি - একটা জনগোষ্ঠি হয়ে আছি।
দ্বিতীয়টা হলো, রাজনৈ্তিক; মানুষ রাজনৈতিক জীব; তাঁর একটা রাজনৈতিক সত্ত্বাও আছে, রাজনৈতিকতা (polity), পরিচয় খাঁড়া করি যার মধ্যে। অর্থাৎ আপনি আমি আমাদের সামাজিক চেতনায় নিজের রাজনৈতিক সত্ত্বাকে কী পরিচয়ে নিজের রাজনৈতিক প্রকাশ ঘটায়, কী ধরণের রাজনৈতিক বোধ সেখানে প্রকাশ পায়, এইসব। অপরাপর জনগোষ্ঠির পাশে রাষ্ট্রে নিজেকে কিভাবে তুলে ধরে - এটাই সেখানে মুল বিষয়। বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ কথাটা সেটার এক ধরণের প্রকাশ।
এই পরিচয়টা প্রাধান্যে নিয়ে ১৯৭১ সালে আমরা একটা ধরণে আমাদেরকে প্রকাশ করেছিলাম। বলাবাহুল্য এই দ্বিতীয় পরিচয়টা রাজনৈতিক মানে এটা প্রাকৃতিক নয়, আপনার আমার মত মানুষেরা এটা করেছে, চাইলে এটা এভাবে করতে পারি, আবার অন্য কোনভাবেও পারি; আপাতত এটা এমনটাই হয়ে আছে; তবে আরও কোন ধরণে প্রকাশের সম্ভবনা শেষ হয়ে যায়নি। এর ফাঁকে সর্টকাট মেরে বা বলতে পারেন বাঙ্গালীকে বাংলাদেশী বলে এর কিছু সমস্যাকে সংশোধন করে নিয়েছে - এমন একটা দুর্বল দাবী অনেকের আছে, যেটা এখানে খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ নয়।
এখন আপনার প্রশ্নের দিকে তাকিয়ে কথা ছোট করে আনলে উপরের কথার মুল পয়েন্ট হলো,
আপনি আমি - ব্যক্তি হিসাবে আমাদেরকে প্রকাশ করতে গেলে একটা জনগোষ্টিগত এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিতর দিয়েই প্রকাশ হতে হবে, আমাদের তা লাগবে, জরুরীও। নইলে অন্যান্য সব জনগোষ্ঠির পাশে আপনি আমি কে? এটা একাএকা আয় ইনকাম করে - আমাদের ব্যক্তি জীবন আশা আকাঙ্খা সাংস্কৃতিক প্রকাশের এই বিশাল প্রয়োজন মিটানো যাবে না। ফলে একটা রাষ্ট্র অর্থাৎ আমার রাজনৈতিক সত্ত্বা, বোধ রাজনৈতিকতা (polity) মাত্রা এসবের উপর ভিত্তি করে একটা রাষ্ট্র - আমার জীবনের মতই দরকারী জিনিষ; একমাত্র যার ভিতর দিয়েই আমি নিজে প্রকাশিত হয়ে উঠব বা উঠতে পারি।
এজন্য বলছিলাম, মানুষ নিজেকে প্রকাশ করতে পারে একমাত্র একটা রাষ্ট্রে।
এখন "একটা" কেন বলছিলাম?
ওখানে ঐ পোষ্টে বলেছিলাম, ১৯৪৭ সাল থেকেই পূর্বপাকিস্তান বা বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের একটা নিরন্তর মাইগ্রেশন আছে, এটা নিরন্তর - পরিবারের বিচ্ছিন্নতার এই রেশ আজও চলছেই। ফলে সংখ্যালঘুদের মনে রাষ্ট্র বিষয়ক একটা বিশাল টানাপোড়েনাও চির-বর্তমান। হাতে পাশপোর্ট নিয়েও রাষ্ট্র প্রসঙ্গে সে কোন দিকে? এএক বিশাল মানসিক রাজনৈতিক সমস্যা। সেই কষ্টের সাথে সহানুভুতির নিয়ে অনেক সময়ই কথা বলতে চেয়েছি, পারিনি। কারণ বিষয়টা খুবই ডেলিকেট। অন্যেরা এটার খারাপ সুবিধা নেবার সম্ভবনা প্রচুর। যাক সে কথা। এখন এখানে আরও সাধারণভাবে সব মাইগ্রেশন নিয়ে ব্যাপকার্থে ক্থা বলব।
ধরা যাক, আজকের পুঁজির গ্লোবাল মাইগ্রেশনের যুগে আপনি আমিও ভাগ্য অন্বেষণে পুঁজির আঁচল ধরে মাইগ্রেটেড বা প্রবাসী লেবার হয়েছি। তাহলে এখন এক্ষেত্রে আমার উপরের তত্ত্বের কী হবে? অচল মাল হয়ে যাবে?
না প্রশ্নই আসে না। প্রবাসী হলেও তাতে আমার মুল প্রয়োজন - আমার ব্যক্তি জীবনের আশা আকাঙ্খা সাংস্কৃতিক প্রকাশ - এই প্রয়োজনের কোন হেরফের নাই, ওটা তখনও আমার জীবনকে যেমন ভালবাসি, প্রয়োজন তেমন সমান একটা দরকারী জিনিষ হিসাবে তখনও বর্তমান থেকে যাবে।
এই প্রয়োজন তাহলে কোন প্রবাসীর জীবনে কীভাবে মিটতে পারে? মিটতে পারে দুইভাবে:
এক. প্রবাসে থেকেও নিজের রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, ভালবাসা - ওর রাজনৈতিক পরিবর্তনের রকম ফেরের সাথে সবসময় আপডেটেড, সংশ্লিষ্টতা অনুভব করে, পুরানো সংস্কৃতির মধ্যে বারবার নিজেকে আবিস্কার ও স্বচ্ছন্দবোধ করে - এর মানে হবে প্রবাসে থাকলেও ফেলে আসা রাষ্ট্রের মধ্য দিয়েই তখনও নিজের প্রকাশ দেখতে চাচ্ছেন, তাই।
দুই. যে রাষ্ট্রে আছেন সেখানেই সুযোগ, সুবিধা, পেশা, সংস্কৃতির মধ্যে যদি নিজেকে প্রকাশ দেখতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন তবে সে দেশের নাগরিক হয়ে যাবেন, আপনার নতুন রাষ্ট্র হয়ে যাবে সেটা। তবে এটা শুধু একটা বসবাসের পারমিট, গ্রীন কার্ড, পাশপোর্ট, ভোটার হওয়াতেই শেষ নয় - মুল বিষয় হলো, নিজেকে প্রকাশ হতে দেখতে ঐ রাষ্ট্রে স্বচ্ছন্দবোধ করতে হবে। বাস্তবে এটা বেশির ভাগ সময়ই হবে না। না হওয়ারই কথা। তবু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, পেশা, বিষয়আষয় ইত্যাদির দিক বিবেচনা করে মানুষকে একটা কম্প্রোমাইজ সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায়। পরের জেনারেশন আর একটু বেশি সমস্যায় ভুগে, না ঘরের না ঘাটের মত - একটা দুঃখ থাকতে থাকতে এক সময় হয়ত ন্যাচারালাইজড হয়ে যায়।
তাহলে দাঁড়ালো, যে যেটাই করুক, কিন্তু একটা রাষ্ট্র সবসময় সবার লাগেই। কোন প্যালেসটাইনী বা সোমালীর দিকে তাকিয়ে দেখুন আরও ভাল বুঝতে পারবেন।
এবার, আপনার সুখস্বপ্ন নিয়ে কথা: রাস্ট্রের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাবে কী না, কখন?
এটা ইমিডিয়েট বা আসন্ন নয়। তার মানে কী এটা অলীক? এখন কিছুই করার নাই, এরকম? না তাও নয়।
ঐযে উপরে বলছিলাম রাজনৈতিক সত্ত্বা পরিচয়ে রাষ্ট্রে নিজেকে তুলে ধরার কথা - অনেকের বা বেশির ভাগেরই ধারণা পরিচয় মানেই একটা জাতি পরিচয়, একটা জাতীয়তাবাদী ঘেরটোপ মধ্যে যেখানে অন্য জাতির প্রবেশাধিকার নাই এমন কিছুভাবে রাষ্ট্রে নিজেকে প্রকাশ করা; এই কথাটা সত্যি নয়।
অন্য জাতি, গোষ্ঠি, ধর্ম নৃতত্ত্ব, নারী-পুরুষ, সাদা-কালো জাত-অজাত ইত্যাদি যত রকমভাবে মানুষকে ভেদ টেনে আলাদা করা সম্ভব - এই সবকিছুর উর্ধে উঠে সবার জন্য দরজা খোলা এমন একটা পরিচয় - মানুষের উম্মা - এধরণের একটা পরিচয় তুলে ধরে অবশ্যই রাজনৈতিক সত্ত্বা প্রকাশ করা সম্ভব। শুরুতে এটা একটা রাষ্ট্রভাবেই, একটা রাষ্ট্রের ভেদ রেখেই, তা করা সম্ভব - এই ভরসায় যে সে আগামিতে অন্য অপরের সাথে মিলতে, মিলে একটা নিখিলের ঐক্যের সম্ভাবনা, - মানুষের উম্মা- এর সম্ভবনা সে জারি রাখতে চায়; আপাতত রাষ্ট্র তবে ওর মধ্যে সেই আকাঙ্খার একটা প্রদীপ জ্বালিয়ে সামনে আগানো সম্ভব। এর পক্ষে কাজ করা এটাই এখনকার কাজ, যখন আমরা একএকটা রাষ্ট্রে আলাদা বিভক্ত হয়ে আছি তখনকার করণীয়। এই কর্তব্য করণীয় যে বুঝে না, করতে চায় না - তার কাছেই মনে হবে "রাস্ট্রের প্রয়োজনীয়তা ফুরানো" - একটা অলীক কথা।
"পাহাড়িরা কী জাতি ও বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গতের প্রশ্নে" - এই শিরোনামের আমার আগের একটা পোষ্টের Click This Link শেষে এনিয়ে আরও আলোচনা করেছি দেখতে পারেন।
শেষ করছি, আপনার শুভ কামনায়।
নুভান বলেছেন:
অবশ্যই স্থায়ী বন্ধু রাষ্ট্র বা স্থায়ী শত্রু রাষ্ট্র বলে ডিপ্লোম্যাসিতে কিছু নেই। কিন্তু এটা আমাদের দেশের সুদক্ষ(!) কুটনীতিক বা রাজনৈতিক মহল বুঝতে অপরাগ। একটী রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি যত শক্তিশালী, তার বন্ধুর সংখ্যাও তত বেশী বলা যায়। আর বন্ধু মানে অবশ্যই স্বার্থের বন্ধুত্ব। কিন্তু বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে চিন্তা করলে, বাংলাদেশের অন্য রাষ্ট্রকে বন্ধু বানানোর মতন ক্ষমতা বা দক্ষতা বলতে গেলে নেই (সম্ভবত উন্নত বিশ্বের দেশ গুলো বাংলাদেশকে কোন গণনাতেই ধরেনা।) কেন বললাম এ কথাটি? কারন, আজ আমার এক ভিয়েত্নামিজ বন্ধুর সাথে আলাপ হলো। সে বলছিলো তোমরা আর আমারা প্রয় অভিন্ন সময়েই স্বাধীনতা পেয়েছি, আর ভিয়েত্নামের অবস্থা ছিলো আরোও করুন, কিন্তু আজ আমাদের জিডিপি ১০০০ ডলার ছুই ছুই করছে, সামনে আরও বাড়বে। কারন ভিয়েতনামিজরা তাদের যুদ্ধের পর বাস্তবতাকে অস্বীকার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান বা কোরিয়ার সাথে চটাচটি করে সম্পর্ক নষ্ট করেনি, বরঞ্চ তারা সেই দেশগুলোর ইনভেস্টরদের ভিয়েতনামে ইনভেস্ট করতে উৎসাহীত করেছে। আর এভাবেই বন্ধু রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়। এ দেশ গুলির পর সিঙ্গাপুর ভিয়েতনামে ইনভেস্ট করছে। ভিয়েতনামে ইনভেস্টর যতগুলো রাষ্ট্রের কথা বললাম সবগুলি কিন্তু ক্যাপিটালিস্ট আর যুদ্ধের সময় ছিলো সেগুলো গোঁড়া মার্কিন সমর্থক। কিন্তু আজ ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক ভিত্তিতে আছে সে দেশ গুলো। অথচ, ভিয়েতনাম যুদ্ধে বলা যেতে পারে তাদের একমাত্র সঙ্গী ছিলো চায়না। কিন্তু অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পটভূমিতে চায়না ও ভিয়েতনাম দুটিই তথাকথিত কমিউনিস্ট দেশ ও পুরানো বন্ধু হলেও এখন তাদের মধ্যে নীরব স্নায়ুযুদ্ধ চলছে।
বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার আছে ভিয়েতনামের কাছ থেকে।
লেখক বলেছেন: আপনি হয়ত ঠিকই বলছেন।
তবে আমি স্থায়ী বন্ধু রাষ্ট্র বা স্থায়ী শত্রু রাষ্ট্র নিয়ে কথা বলার চেয়ে কথা বলেছিলাম, রাষ্ট্রের বন্ধু বলে আদৌ অন্য কোন রাষ্ট্র অর্থাৎ বন্ধুরাষ্ট্র বলে কিছু নাই।
আপনি ভিয়েতনামের উদাহরণ দিয়ে ভাল করেছেন।
ভিয়েতনামের সৌভাগ্য যে চীনের সাথে আমেরিকার ঐতিহাসিক ডিল - তাইওয়ানকে সরিয়ে জাতিসংঘের সদস্যপদ, ওর ভেটো ক্ষমতা নিজের নামে নিতে আমেরিকান সম্মতি, অঢেল আমেরিকান পুঁজির চীনে প্রবেশ ইত্যাদি - আগে চীন করেছিল। এই সুবিধা নিয়ে আমেরিকা সাথে একই রাস্তায় ভিয়েতনামের পক্ষে একই ধরণের সম্পর্ক করা সম্ভব ও সহজ হয়ে উঠেছিল।
বলা বাহুল্য ভিয়েতনাম, চীনের মোড় বদল থেকে সুবিধা পেয়েছিল, আর আমরা এই মোড় বদলের বলি হয়ে গোয়েছিলাম। ১৯৭১ সালে আমাদের যুদ্ধের সময় চীন আমাদেরকে বিক্রি করার বিনিময়ে পাকিস্তান তথা আমেরিকার সাথে সম্পর্কের পথ খুলে নিয়েছিল।
অর্থাৎ ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে যেটা সুবিধা হয়ে উঠেছিল ওটাই আমাদের ক্ষেত্রে হয়েছিল চীনের ভোগে লাগার জন্য বিক্রি হয়ে যাওয়া।
এখান থেকেও বুঝতে পারেন, বন্ধুরাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের কোন বন্ধু - বলে কিছু নাই, হতে পারে না।
তবে, ইস্যু ভিত্তিক নানান সময়ে সাময়িক, কমন স্বার্থের উদ্ভব ঘটতে পারে। যার সাথে বন্ধুরাষ্ট্র ধারণার কোন সম্পর্ক নাই। মনে রাখতে হবে ওটার ভিত্তি কমন সাময়িক স্বার্থ, ওর সাথে "স্থায়ী বন্ধু রাষ্ট্র বা স্থায়ী শত্রু রাষ্ট্র" বলে আবার কোন অলীক ধারণার মিল খুঁজার কিছু নাই।
এনিয়ে আরও বিস্তারিত লেখার লিঙ্ক দেওয়া আছে এখানে। এক নম্ব র মন্তব্যে আমার জবাবের সাথে। দেখতে পারেন।
নুভান বলেছেন:
ধন্যবাদ, সময় করে দেখে মন্তব্য করব।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ নুভান, আপনি স্বাগত।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















রাষ্ট্র মানেই শত্রু আর মিত্রের ভেদাভেদের সীমানা।
সত্যিই তাই।