তয় একখান ব্যাফার, সামু যেহেতু লেখালেখি করার জায়গা, সেহেতু সামুর কাছ থেকে আম্রার পাওয়াগুলো ম্যাক্সিমামই লেখালেখিকে ঘিরে।
সামুর বেস্ট এ্যাচিভমেন্ট, সামু এদেশকে দিতে পার্ছে এক দঙ্গল স্বল্প দৈর্ঘ্য রাইটার। আম্রার প্রিয় লেখক জাফর ইকবাল এক্বার কৈছিলেন, আমরা শিক্ষকরা কোন বিষয়ে প্রস্তুতি ছাড়াই ৪৫ মিনিট লেকচার দিতে পারি, এর বেশী হলেই আমাদের হেচকি ওঠা শুরু করে। কারণ আমাদের ক্লাশ ডিউরেশন থাকে ৪৫ মিনিট।
একইভাবে আম্রা জানস আইজ কি হইছে, সকালে ঘুম থেইকা দেরী কইরা উঠছি, উইঠ্যা বাথরুমে গিয়া ব্রাশ নিয়া দাত মাজতে শুরু কর্ছি, হঠাৎ মনে হইল ব্রাশটা ভেজা ভেজা লাগ্তাছে। বুজছছ্ কি হৈছে? এইডা ছিল আপুর ব্রাশ... এই কথাগুলারে কোন প্রিপারেশন ছাড়াই ত্যানাইয়া প্যাচাইয়া পাঁচ সাত প্যারা বানাইয়া ফেল্তে পারি।
এ্যারচে বড় হয়না লেখা, অবশ্য হের পিছে অন্য কারণও আছে। বড় হইলে পাব্লিকে খাইতে চায়না। পাব্লিকের টাইমের দাম আছে।
সুতরাং বলা যায় সামু আম্রারে সময়ের মূল্য দিতে শিখাইতাছে।
আর সামু দিছে নিজের নাম চয়েজ করার ক্ষ্যামতা। ক্যাম্পাসে বহুত আক্কাছরে আকাশ হয়া যাইতে দেখছি, বা আমিনারে এ্যামি। বাট এগুলার জন্যে ব্যাপক হ্যাপাও নিতে হৈছে ধরা পড়লে। আমার হলের ভালো এক ডিবেটর রোজদার আলী পরিচিত আছিল অন্য এক নামে। আম্রা কেউ জান্তাম্না! মাগার, এক্বার ডি ইউ ডি এস এর ইলেকশনের আগে ধরা খাইয়া কি একখান কান্ড হৈছিল...
সামুতে এইরম প্রব্লেম নাই। যে য্যামনে পার্তাছে, নাম নিতাছে।
আর ভাওরে! কি একেকখান নাম!! গাছ ফুল আকাশ বাতাস ছাইড়া নামতো পুরা আল্লাহ খোদা ফেরেস্তার কাছাকাছি গ্যাছেগা। নর্মাল, এ্যাবনর্মাল, কাব্যিক, হাইটেক.... ব্যাপক! কেউ কেউতো একাই দুই তিন্টা নাম নিছে একসাথে। গত কদিনের স্টিকি পোস্টের লেখকের নাম কাকশালিখচড়াইগাংচিল!!! আরেক্টু হইলেই বিগেস্ট বাংলা শব্দ হিসেবে গিনেজ বুকে চান্স পাইতো।
সামু বাংলা ভাষাডারে নতুন স্তরে হান্দাইয়া দিছে। প্রাচীন, মধ্যযুগ, আধুনিক, উত্তরাধুনিক পার হইয়া এইডা এখন কোন নিক-এ আছে কৈতে পারুম্না। তয় আমার মনে হয়, ফ্যাশনের বিবর্তনে মাইয়াগো কাপড় চোপড় যেমন এক্বার ছোট এক্বার বড় হয়, বাংলা ভাষাও বোধহয় এমনে এক্বার কঠিন এক্বার সহজ হয়।
লুইপা, কাহ্নপা পড়তে গেলে যেমন দাত দুত থাকেনা, তেমনি কাগুর লেখা পড়তে গেলেও দাত দুত বাধাইয়া পড়তে হয়।
বাংলাক্যাডেমী ভাষার এই নতুন যুগে প্রবেশের স্বীকৃতি স্বরুপ সামুরে কোন বিখ্যাত পুরস্কারে ভূষিত কর্তে পারে। নিদেন পক্ষে, আলিফ দেওয়ানরে ভাষা বিবর্তন প্রজেক্টের ডিরেক্টর বানাইতারে।
আর অক্সফোর্ড ডিক্সোনারি য্যামনে এভরি ইয়ারে নতুন নতুন শব্দ এ্যাড করে, তেমনি বাংলা ডিক্সোনারিতেও এ্যাড করার মত ব্যাপক শব্দ অলরেডি আমরা পাইয়া গেছি।
নতুন শব্দই শুধু না, শব্দযুগল, বাক্য সব কিছুই সামুর অবদান। বাংলা সাহিত্যের দুই পোর্ধান দিকপাল রবীন্দ্র-নজরুল যুগেও এ্যাত সমৃদ্ধ হয়নি এই ভাষা।
হাহাপগে, হুমাইলাম, জাঝা, লোল, মাইন্ডাইবো, গাছ ভুদাই, প্লাচাইলাম, গাছ ভুদাই, ক্যাতা পোস্ট, লোল, সেরম... আরো কত... (নোবলেজয়ী'র সামহোয়্যারইন বাইবেল দ্রষ্টব্য)।
আর বানান চেইঞ্জের লগে লগে মাস্ট কিছু বাংলা শব্দের মিনিং এইবার চেইঞ্জ করাই লাগবো। বাংলাক্যাডেমীর উচিৎ এইদিকে দৃষ্টি দেওয়া।
ওরেরেরে, আসল জিনিসই বাদ পইড়া যাইতাছিল। দেশতো এখন গনিতের জোয়ারে ভাস্তাছে। দুইদিন পর্পরই প্রথুমালুতে দেখি গনিত উৎসবের খবর। সামুও এই মুভমেন্টে সংহতি জানাইয়া আম্রারে ব্যাপকভাবে অংকরে ভালবাসতে শিখাইতাছে। প্লাস আর মাইনাসগো নিয়া আম্রার যে হাঙ্গামা, সেইডি রিসেন্টলি গণিতের অন্য ব্রাঞ্চগুলোয় স্প্রেড কর্বে।
আর এইডার রেজাল্টও আম্রা পাইতাছি হাতে নাতেই। দেখছেন না গনিত অলিম্পিয়াডে আম্রা ক্যামন ভালো কর্তাছি ইদানিং।
আর সামু আম্রারে দিছে কিছু রহস্যময় চরিত্র, যাগোরে নিয়া রহস্য পত্রিকার কাভার স্টোরি করা উচিৎ। লোলপুরুষ, ফেসীবাদি সুমন, রেসিডেন্ট ভাড়, মহাকবি মাইকেল মেহেদী, এইগুলান যে ক্যাডা, দুই বছর ধইরা বোলগ দেইখ্যাও বুঝবার পার্লাম্না।
আর ডেনড্রাইট সাহেবরে নিয়া কিছু কইবার মত ধৃষ্টতা আমি দেখাইতে পার্বোনা। তাছাড়া আমার ৪৫ মিনিটও শেষ। বাকিগুলা অন্য কেউ লিখ্যেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৮:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


