somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'পলাশী ও পানিপথ' কাব্যগ্রন্থ থেকে

১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পথে পাওয়া আলো
_______________________________________

হাঁস

নিরাময়ের জন্য হাঁস। নিরাময়ের জন্য শাদা জলদুহিতা।
প্রাণীজগতের এই অজাতশত্রু আলো আমাদের উপলক্ষ্য।

বহুদিন পর জলের ভাঙ্গন শুনে বুঝলাম
এটা আর কিছু নয়, শাদা পালকের ছোট্ট পাখি
ডানা দুলিয়ে দুলিয়ে আসছে।
স্থলবাসী ফুল, অনেকদিন আত্মীয় ছিলো
আজ কোন জঙ্গলের গাছ
তাকে ডেকে নিয়ে যায়।
জানি ডিম্বানুতে পরাশ্রিত শুক্র
জন্ম দেবে শিশু- অপর পক্ষের।

তাই নিরাময় প্রয়োজন। জলে হাত দিয়ে বুঝি
আর একবার উপস্থিতি প্রয়োজন।
ছোট্ট পালকের ভারে আমাদের স্থল-অবস্থান
পুনরায় নির্বাচিত হোক।
একদিন জলভ্রমণে গিয়ে দেখবো
আমরা সবাই অজাতশত্রুর শিষ্য।

মাছ

ভেসে ওঠে আর একবার তুমি বলো
তুমি কোনো মানবী ছিলে না
পথে পথে অনেক বিশ্রাম নিয়ে, জননীর
ভূমি হারিয়ে এখন এতটুকু সম্বল, জলে।
বলো তুমি কেবলই মৎস্য, জলবন্ধু।

আর একবার আমি, মাঠে মাঠে শস্যের
প্রতিভা দেখে- মনে করবো আমাদের ভবিষৎত
ভালো, আর একবার জল দেখে ভাববো
আমাদের বৃষ্টিপথ হবে।

জলে পথ রেখে বলো- তুমি কোনো শব্দ ছিলে না
শব্দে নিঃশেষ তুমি, জলকুলতারাবৎ বোন
ডাকো ভ্রাতা সকল ডাকো আত্মীয় সকল
আর বলো জল থেকে পুনর্বার জন্মজয়।

শ্যাওলা

একদিন বিবরণ দিতে গিয়ে ভাবি- আমি কি
কবি। প্রভাতের আলোয়, পুকুর ঘাটে অপরূপ
শ্যাওলা পথ। জরাসন্ধ, যৌথ পরিবার।
জলের স্পর্শে খিল খিল করে হাসছে
বলছে ছেলে বলছে বালক আর একটু থাকো।
আমার তখন নিরাময় চেষ্টা
ভূলোক ফাঁক করে উঠে গেছি পৃথিবীর পুত্র
সারা গায়ে রক্তের দাগ, বিষ বহনের চিহ্ন।
বলছি ও শ্যাওলা ও সবুজ আলো
আমি পুনর্বার জন্ম চাই
জন্ম শেষে এই পুকুর ঘাটে মাতা চাই
মাতা মাতা জগতমাতা আমাদের কেউ নয়
আমাদের ধ্বংস করে চলে গেছে
কোন পুরুষালয়ে।

পাখি

আর একবার স্মৃতিমুখ, পৃথিবীর কথা মনে পড়ে।
আর একবার প্রার্থনা শেষে- প্রভাত, পুকুর
জলের উন্নয়ন।
না হয় ভুলেই গিয়েছিলাম- জন্মে থাকার কথা
ভুলেই গিয়েছিলাম, আমার একটি অঙ্গের নাম হাত।
লেজ তুলে দাঁড়িয়েছে আর ডানাগুলো ছড়িয়ে
দিয়েছে আকাশে।
তখন গাছে গাছে বৃষ্টি-বালকের আশীর্বাদ
আমাদের লাইনে থাকার কথা ভুলিয়েছে।
আকাশে আকাশে বিহ্বল মেঘ
শোনে ধ্বনি ব্যঞ্জনা, ডানার রঙ্গে লুকানো
মাটির প্রতিভা।
আমাদের স্মৃতি হারানোর দায় সেরেছে
এই মুগ্ধ বিহঙ্গপ্রাণ।

বাড়ি

অবিরাম ঘাসের উপর স্বচ্ছ বোন, বেড়ে উঠেছে।
ততোধিক গাছের গুঞ্জন, উপস্থিতি রৌদ্র ছায়া সারাক্ষণ।
প্রতিভা বিন্যাস এইখানে সম্ভব, আমরা ভাবি।
আমরা মাতৃহীন, সংসারের উপদ্রবে ঘর ছেড়ে এসেছি
শহর বলতে শুধু রাস্তা, মানুষ-ভিক্ষুক
বলে লাইনে এসো, বলে টাকা দাও।

হঠাৎ পুকুর ঘাটের কাছে মানবিক বাড়ি
সন্ধ্যাবাতি জ্বেলে বোনের মতো ডাকছে।
আমার তখন পায়ে ক্ষত, হাতে রক্ত
ভিক্ষা শেষে এই বাংলানারীর কাছে দাঁড়িয়েছি।




'পলাশী ও পানিপথ' কাব্যগ্রন্থ থেকে
প্রকাশকাল: মে ২০০৯
প্রকাশক: নিসর্গ
প্রাপ্তিস্থান:আজিজ মাকের্ট, শাহবাগ,ঢাকা।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:১৪
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×