টেলিকুশল
=======
এ-পাশে আনন্দকণ্ঠ বেজে ওঠে
ও-পাশে বিষাদ
__ হ্যালো, এতোটা নীরব কেন?
মেঘে বুঝি ভরেছে আকাশ? ফোটেনি কি একটাও ফুল?
প্রকট পূর্ণিমা একা ডুবে গেছে গাঢ় অন্ধকারে!
ও-পাশে বরফ নীরবতা
ও-পাশে পাথর জমে ... নৈঃশব্দ্যের অসহ্য প্রপাত!
__হ্যালো, এতটা বিষাদ কেন?
সব পাখি ফিরে গ্যাছে গোধূলির আগে?
জ্বলেনি কি একটাও নক্ষত্র আকাশে?
বাতাসে ভাসেনি কোনও আনন্দের বিন্দুমাত্র ঘ্রাণ!
ও-পাশে বিলের জল নেমে গ্যাছে আরো ...
মাঘের প্রথম পক্ষ, কুয়াশার ঘনত্ব বেড়েছে,
খুঁটির মতন স্থির শিকারী বকের পায়ে প্রতীক্ষার শ্যাওলা জমেছে ...
ও-পাশে কঠিন শী-ত! রক্তের স্পন্দন থেমে আসে ...
এ-পাশে বিস্ময়ধ্বনি, বিপন্নতা ফোটে___ অনুক্রমে___
ও-পাশে নিহতস্বর, নিঃশ্বাসেও কান্না ঝ’রে পড়ে ...
___ হ্যালো! হ্যা- লো! হ্যা___ লো!
ও-পাশে নিঃশ্বাস শুধু ফিসফাস বলে :
___রা- খি- !
===========
রচনাকাল : ১৯৯৩
কাব্য : বনভোজনের মতো অন্ধকার, বিশাকা প্রকাশনী, ঢাকা, ১৯৯৮
==========================================
কুমারীসম্ভব
=======
ঋতুহেতু এমন হয়েছে যে, গাছে গাছে অগ্নিকাণ্ড হয়;
আরো তো রোদের চোখ রক্তশর্মা, পরিপার্শ্ব পত্রপাখিময়___
ক্ষুধায় জেগেছে মন, সর্বগ্রাসী ক্ষুধা হলো ব্রক্ষ্মাণ্ড প্রসারী,
তুমিও পরেছো কেন খাদ্যগুণ? ও ললনা, এতো দাহ্যশাড়ি!
শাড়ির কাহিনী থেকে কতো সুর সংক্রমিত! কতো রক্ত ঝরে...
প্রথমে তো খাদ্য হও, অগ্নিহেতু সর্বগ্রাসী ক্ষুধা হও পরে;
বাসনাপূর্বক সাজ সাজিয়াছো, কী ভীষণা! রক্তপুষ্পবেলা___
আমি তো দর্শক শুধু, আয়োজনাতিশায্যে লুপ্ত অবহেলা
ও বর্ণনা, আমাকে তোমার অঙ্গে সুচিত্রল বর্ণ হতে দাও!
স্পর্শহেতু হয়েছি অধীরগুণ, দেবীদেহে ফাল্গুনী ফোটাও...
চাও তো ধরেছি জল, অবিরল, ও যুবতী পদ্যকুমারী___
এসেছি নির্জনমেঘ, নির্দ্বিধায় সিক্ত করো দাহ্যমান শাড়ি!
পদ্যেপদ্মে অঙ্গীভূত ছন্দেগন্ধে বেজে ওঠো বসন্তকুমারী,
আদমশুমারী শেষ___ চিত্তরাজ্যে শুরু হোক আনন্দশুমারী...
=====
রচনাকাল : ১৯৯৯
কাব্য : প্রকৃত সারস উড়ে যায়, শ্রাবণ প্রকাশন, ঢাকা, ২০০০
=====================================
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


