আমিও তোমার জন্যে প্রতীক্ষার একটি বিকেল আজ বৃষ্টিতে ভিজেছি
রবীন্দ্রসদনে; তোমার জন্যেই তবু শাহবাগে কেউ কেউ রৌদ্রে ঘেমেছে ...
প্যারিসে— উত্তর তীরে— কফি হাউসেও তুমি নেই; ফলে বিষণ্ন বৃষ্টিতে
কেউ কেউ হেঁটে গেল সীমনের কবরের দিকে ...
বাইরে ব্যাপক দিন ডেকে ডেকে ফিরে যাচ্ছে প্রান্তরের কাছে...
বাইরে বিপুল জ্যোৎস্না একা একা ভেসে যাচ্ছে সমুদ্রের জলে__
শুরুতেই যা যা ভেবেছি, আমরা তো তাই তাই ভেবে আর না ভেবেও
উঠে গেছি পর্বতের সুউচ্চ শিখরে, যেখানে মেঘের চুল শাদা শাদা,
যেখানে মেঘের মুখ কুয়াশার ছদ্ম নেকাবে ঢাকা, বিভ্রমের কুহক ছড়ানো ...
এ রকম পর্বতের নাম হোক বেথেল পাহাড়; যেখানে কুয়াশাভ্রমে
অনায়াসে মেঘ ছোঁয়া যায় ... তুমি কি মেঘের মতো দ্রুতগামী?
পলায়নপর? তুমি কি প্যারিসে, রোমে, শাহবাগে, কোলকাতার ট্রামে?
অথচ তোমার জন্যে প্রত্যাশার একটি কবিতাকাল থমকে আছে
ধর্মতলায়; তোমার জন্যেই শুধু অনবদ্য বেঁচে আছে এতিম-কবিতা
সিলভিয়া প্লাথের, ফলে এই ধর্মশাসিত দেশে কাকে আজ
ভগ্নি বলে ডাকি? আমার ভগ্নিটি সেই আশ্চর্য কবিতা, কোনদিনও
যে কবিতা লেখাই হবে না, যে কবিতা শব্দে-ছন্দে বাঁধাই পড়ে না, শুধু
অতৃপ্তির কাঁটা হয়ে চিরকাল বিঁধে থাকে শুদ্ধতম কবিদের বুকে ...
তবুও তোমার জন্যে স্বপ্নের সারাটা দুপুর আজও কেটে গেছে
ঠাকুর বাড়িতে; দক্ষিণের ত্যাজ্য বারান্দায়; দোয়েলের ঠোঁট থেকে
টুপটাপ খসে পড়া হিরন্ময় সংগীতের মতো ঝমঝম বৃষ্টি ঝরেছে
বিরাটী ও আশোক নগরে, বনগাঁয়ে ... দু’পাড়ের কাস্টমস অফিসে।
পাসপোর্ট নেই, তবু বৃষ্টি দ্যাখো কী রকম অনায়াসে দুই দেশে নাচে!
ওহো অরণ্যের মেয়ে, দ্যাখো, প্যাপিরাসে লেখা হচ্ছে সংগুপ্ত বাসনা,
তোমার চোখের মদে লিপিবদ্ধ সমুদ্রের মতো মোহময়!
যেমন পাহাড়পাখিরা ফিরে আসে সমতলে, শস্যের মায়ায়—
তুমিও কি ফিরবে না কোনদিনও, অরণ্যের সবুজ সবুজ গানে?
অগ্ন্যিভ চৈত্রের দিনে তুমি আর নাচবে না? গভীর সবুজ মেঘে
বৃষ্টি হবে না? আমাদের মরুময় হৃদয়ের দেশে একবার খঞ্জনার
নাচ হওয়া ভালো ... তুমি আর নাচবে না, শ্বাসাঘাত ছন্দের মতো?
কবির স্বপ্নের মধ্যে আসন্ন কবিতা হয়ে, গান হয়ে, শব্দের ঘ্রাণ হয়ে
উত্তপ্ত দুধের মতো তুমি আর বল্কে উঠবে না?
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১০ দুপুর ২:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


