।। তোমাকে ভালোবাসি এইখানে।।
[মূল : পাবলো নেরুদা
ভাষান্তর : রহমান হেনরী]
তোমাকে ভালোবাসি এইখানে।
গাঢ় সবুজ দেবদারু বনে, জটপাকানো বাতাস যেখানে পাক খুলছে নিজের।
জ্বলে-ওঠা ফসফরাসের মত চন্দ্রালোক যেখানে ঠিকরে পড়ছে যাযাবর জলে।
দিনগুলি আবর্তিত হচ্ছে একইভাবে, যেন পুনর্মুদ্রিত বারবার।
জমে থাকা বরফ খ'সে পড়ছে নৃত্যমান গাছ-পালা থেকে।
রূপালী শঙ্খচিল নামছে পশ্চিম দিকে।
কালেভদ্রে দু'-একটা নৌকার পাল। উঁচুতে, আরও উঁচুতে তারকাপুঞ্জ।
আহা, জাহাজে খোদিত কালো ক্রশ-চিহ্নটি!
একা।
মাঝেসাঝে খুব আগেভাগে বিছানা ছাড়ি
আর তখন, এমনকী, আর্দ্র হয়ে পড়ে আমার আত্মাও।
গর্জমান সমুদ্রের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি থেকে বহুদূরে।
এ হলো এক সমুদ্র-বন্দর।
তোমাকে ভালোবাসি এইখানে।
এইখানে ভালোবাসি আমি আর অযথাই দিকচক্রবাল আড়াল করে তোমাকে।
তবু এইসব সমূহ শীতলতার মধ্যে আজও ভালোবাসি তোমাকে।
কখনও কখনও আমার চুম্বনগুলো চলে যায় ওইসব বিশাল জাহাজের সাথে,
যেগুলো গন্তব্যহীনভাবেই ছুটে যাচ্ছে সমুদ্রের পথে।
বিস্মৃত পরিত্যক্ত নোঙরগুলোর মতই আবিস্কার করি নিজেকে।
বিকেলের আলো নিভে গেলে,বিষণ্ণতায় ছেয়ে যায় বিস্তীর্ণ মাঠের মত জেটিগুলি।
এ জীবন ক্লান্তিতে ভরে ওঠে, অকারণ বুভূক্ষায়।
আমি হাহাকার করি তার জন্য, যা নেই আমার। কতোই না দূরে তুমি।
ধীরগামী আলসে গোধূলিদের সাথে কী বিরক্তিকর ধস্তাধস্তি আমার।
কিন্তু রাত এসেই গেয়ে ওঠে গান আমারই উদ্দেশ্যে।
চন্দ্রকলায় বারবার বদলে যায় চাঁদ ও জ্যোৎস্নার স্বপ্নগুলি।
বিশালতম তারাগুলি তোমার চোখ দুটি নিয়ে আমাকে দ্যাখে,
আর যেহেতু আমি ভালোবসি তোমাকে, বাতাসের কল্লোলের মধ্যে
সাজ-কাটা দেবদারু পাতাগুলি গেয়ে উঠতে চায় তোমার নাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০১১ রাত ৮:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


