প্রথম যখন লন্ডন এলাম ৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
বলাটা, থুক্কু, অবলাটা আমার জুনিয়র ছিল, কম হলেও বছর খানেক হবে। ক্লাস ভাগা মেরে আমাদের ক্লাসে এসেছে সময় কাটাবার জন্য। আমার মিটুরমার্কা বন্ধু ময়ূরের মত সাজ গুজ করতাছে আর ওর পানে তাকাছে। বলাটা মিটুরমার্কাকে দুই চক্ষে দেখতে পারেনা আর তার কারণ, বলাটা অমিতাব বচ্ছনকে ভালা পায়। ঘটনা বুঝবার পারছেন? আমি জাননিনা আমার চুল যে বচ্ছন মহোদয়ের মত এবং আমি একটু বিটলামি করি যা অবলাটা খুব পছন্দ করত। তা পরে জেনেছিলাম। যাউগ্গা, আমি কই অ আ ই ঈ, ওরা কয় ওহঃ আহঃ E উঁ, বুঝতে পারতাছেন ওরা কি শুরু করেছিল। আমি বেটা বুদ্ধিভোঁতা, তাদের সাথে টক্কর দিতে চাইনি বেভোঁতা হবার জন্য। আমি দাবড়ি দিয়ে কইলাম, এখন এক দুই পড়, ওরা কি করল, দশ পরে পড়তে শুরু করল, এগার বেগার তেগার। আমি দুই হাতে মাথা ধরে মাটিতে বসে কইলাম, আল্লাগো আল্লাহ আমারে বাঁচাও, এদেরকে পড়লে আমি পাগলা গারদে ভর্তি হয়ে যাব। বলাটা রাঙ্গা ঠোঁট বাঁকিয়ে বিদ্রূপ হেসে কইল, ‘ও মাষ্টরসাব! আমারে বাংলা শিখাইবায় নি?’
‘জি না আমি আর কাউরে বাংলা শিখাবনা। আমি এখন নিজেই বাংলা শিখতে চাই।’ আমি দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললাম।
মিটুরমার্কা আমার পানে তাকিয়ে কইল, ওই ওর পানে তাকাছ কিতার লাগি?’
আমি রাগ করে কইলাম, ‘দূর গিয়ে চিল্লা। ওই তোমরা বাংলা পড়তে চাও না ডিটেংশন চাও?’
বলাটা খিল খিল করে হেসে বলল, মাষ্টরসাব আমরা বংলা শিখতে চাই।’
আমি কইলাম, তুমি তোমার ক্লাসে চলে যাও নতুবা সমস্যা হইতারে।
বলাটা কয়, আজ আমি ক্লাস ভাগা মারছি।’
আমি চমকে কইলাম, ইতা কিতা কয়রে! বলারাও ক্লাস ভাগা মারে নাকি?
আমি রাগ করে বেরুতে চাইলে আমার ক্লাসের মেয়েরা মিনতি করে কইল, ওই মাষ্টর, হেডস্যারনী কাছে নালিশ নিয়ে গেলে আমরা তোর লগে আংড়েজিতে কথা কইমু, নালিশ না দিলে বাংলা।
আমি মনে মনে কইলাম, তোমরাত বাংলার সাড়ে বারটা বাজিয়ে দিয়েছ সেই কবে। উঁ আহঃ এগার বেগার তেগার জপে। আল্লাহ এদের হাত থেকে আমাকে রেহাই দাও।
তো যাক ৪৫ মিনিট পর ক্লাস শেষ হল মানে আমার জানটা বাঁচল। কয়দিন পর বলাটার সাথে ভাব জমতে শুরু করল। ভাইরে ভাইর লন্ডনি বলারা যে অত হৃদয়হীন আমি জানতামনা। আমি করিডরে দাঁড়িয়ে বন্ধুদের সাথে কথা বলছি, আচকা পিছন থেকে এক্কেবারে মাঝখানে হুঁচটা মারছে (জাকিচানের মাঝ খানে যে রকম লাথি মারে ঔ রকম) আমার কপাল ভালা আমি দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। তাই রক্ষা নতুবা নানা হবার খায়েশ মিটিয়ে দিত। লাথি খেয়ে আমারতো মেজাজ গরম। ঘুরে বলাটাকে দেখে দাঁত কটমট করে বলল, ওই লাথি মারলে কেনে?’
ওমা বলাটা খিলখিল করে হেসে কাঁধ বাঁকাল এবং কিছু না বলে চলে গেল। আমারতো মাথাগারম। কয় দিন পর আমি যেখানে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম ওখানে ওকে নজরে পড়লে আলত পায়ে যেয়ে ঠ্যাঙ্গের জোরে দিলাম হুঁচটা একটা ওরা গুড়ালিতে। বলার পরনে হ্যাইহিল ছিল। মন চাইছিল কোমর ভাঙ্গার জন্য কিন্তু অবলার কোমার ভাঙ্গলে কাঙ্ক্ষে কলসি নিয়ে পানি আনতে পারবেনা। তাই গুড়ালিতে দিছিলাম।
ওমা হুঁচটা খেয়ে মাটিতে বসে চেচাতে শুরু করল এবং আমি ভৌ দিড়ে পগার পার। দুপুরে আমারে দেখে কোঁদা দিয়ে কইল, আইজ তোকে জানে মেরে ফেলব।
আমি কইলাম, আমার উরে আয়, তোকে মজা শিখাব। বলা কোথাকার। দূর গিয়ে মর।
তারপর ওর সাথে কথা না বলে বেরিয়ে গিয়েছিলাম এবং মিটুরমার্কা লটরপটপর শুরু করেছিল এবং ঝামেলা হয়েছিল। খবর আমার কানে আসলে আমি ওর সাথে দেখা করতে গেলাম। গিয়ে দেখি কেঁদে ওর চোখ মুখ ফুলে আছে।
দেখেতো আমার মাথায় খুন চড়ে গেছিল। আমি হাঁক দিয়ে কইলাম, কিছু করেছে নাকি?
ও মাথা নাড়ল। আমি কইলাম তাইলে কানতাছত কেনে? ওর বান্ধবী কইল মিটুরমার্কা ওকে জোর করে কিস করেছে।
আমি কইলাম, দাড়া তার ঠোট কেটে আনতে যাচ্ছি।
ও ফুফিয়ে ফুফিয়ে বলল, ‘হক যেয়না, বাদ দাও। আমি আর স্কুলে আসবনা।
আমি কইলাম, দূর, হক এইসব গুন্ডাদের তোয়াক্কা করেনা। দাড়া ওকে নিয়ে আসছি।
স্কুল খুঁজে তার খুঁজ পাইনি, পালিয়েছিল।
এর পর সব ঠিক ঠাক হল। একদিন কি কারণে ওর হাত ধরেছিলাম, কুত্তা আমাকে ধাওয়া করেছিল না ও গাড়ির তলে পড়তে যাচ্ছিল তা মনে নেই। ওমা বাঘিনির মত আমার হাতে খামচিয়েছিল। (এখনো হাতে দাগ আছে)
এর পর মিটুরমার্কাকে বলেছিলাম আমি বলাকে ভালো বাসি এবং বলাও আমারে ভালা পায়। শুনে সে আমাকে মারাবার জন্য গুন্ডা ভাড়া করেছিল এবং তার বড়ভাইকে এনেছিল। কিন্তু আমি তখন রমিও হয়ে গেছি। আমি কিছু করার আগে আমার বন্ধুরা সামলিয়ে নেয়। ওরা আমাকে স্কুল পরে মারতে চেয়েছিল কিন্তু দুপুরের ছুটিতে ওরা খবর পেল যে তাদেরকে পিঠাবার জন্য আমাদের স্কুল এবং পাশের স্কুলের ছেলেরা এক হয়েছে। শুনে ওরা গা ঢাকা দিয়েছিল।
আমি যখন খবর শুনলাম তখন এক জনকে কইলাম, তোমরা হলে আমার বন্ধু এবং বন্ধুর জন্য বন্ধু জান দেয়। প্রয়োজন হলে বলবি। ওরা বলল, ‘তুমি যা, ভাবী দেখেছি পার্কে গিয়েছে।
আর পড়তে হলে অপেক্ষা করতে হবে
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৃঙ্খল মুক্তি আমার
শৃঙ্খল মুক্তি আমার

ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন
=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।