মধ্যগগনে দুপুরের চিল।আর জোড়াসাকোয় ঘরের বারান্দায় দাঁড়ানো একবিংশ বছরের যুবা।ভাবনায় উদ্বেলিত মন।বিশাল জমিদারির মাঝেও যেন নিসংগ।
পাশের একখন্ড জমিন হতদরিদ্র নগেনের।নগেনের পিটের মাপ আর জমিনের মাপ প্রায়ই সমান। নগেনের এ অল্প জীবন সম্বলটুকুই আজ কব্জাবন্দী করেছেন একচেটিয়া ভূপতি।
যুবার মন বড়ই অবসন্ন।চোখ ছলছল।মনের মাঝে বেদনার পাহাড়।নগেন আজ ভিটেহীন।নগেন দুয়ারে দুয়ারে ধর্না দিয়েই দিশেহারা।
যুবা কাগজ আর কলম নিয়ে বসেন।আঁকাআঁকিই শুধু পাতাময়।নেই কোনো যুতসই শব্দ।মনের কান্না বেদনা হয়ে জমে আছে বুকের ভিতর। তারপর অকস্মাত দু লাইন।
"এ জগতে হায় সে বেশী চায় আছে যার ভুরি ভুরি
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাংগালের ধন চুরি"
বাবার আসনের সামনে গিয়ে দাঁড়ান।পিতৃদেব-লাইন দুটো কি একবার পড়ে দিবে।কোনো ছন্দের গরমিল।
পিতৃদেব কয়েকবার পড়েন।নিজ সন্তানের দিকে অপলক চেয়ে থাকেন।দারুন বিচলিত হন।নগেনকে ডাকেন।তারপর সিন্দুকের ভিতর থেকে ছেঁড়া দলিলখানা বের করে নগেনের হাতে দেন।
যুবা আকাশের দিকে থাকান।সস্তির নিশ্বাস ফেলেন।বিশাল আকাশে চিল আর দেখা যায়না।একটি ছোট্ট চড়ুই শুধু স্বাধীনভাবে উঠোনে খড়কুটো নাড়ছে।
(এ যুবাটিই বাংলা সাহিত্যের অমর অক্ষয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ।
যার দুলাইন কবিতায় নগেন তার জমিন ফিরে পেয়েছিলো।)যারা রবিঠাকুরকে প্রজা নিপীড়ন করেছেন বলে মনে করেন তাদের এ ঘটনাটি ভুল ভাংগাতে পারে।
--------------------------------------------------------------------------------
--------------------------------------------------------------------------------

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

