আমার প্রিয় পোস্ট

What goes around comes around

সমাজতন্ত্রে মুক্তির উপায়/ প্রতি শ্রদ্ধেয় দিন মজুর

০৬ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ১১:৪৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

(আপনার সব লিখা গুলোই পড়েছি। কাজের ব্যস্ততায় আলাদা মন্তব্য করা হয়নি। আজও বেশীক্ষন থাকা হবেনা।আমার মন্তব্য এখানে লিখলাম)
আপনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলি-People are not altruistic ,by nature।চিরায়ত প্রকৃতির ঘাত-প্রতিঘাতে জীবনের এ অমীমাংসিত দ্বন্ধ্বে যেখানে টিকে থাকাই মুখ্য
সেখানে-আপন অধিকারের মৃত লাস বহন করবে কে?কিন্তু এ অধিকার যদি শুধুমাত্র এক টুকরো রুটির বিনিময়ে অবারিত স্বাধীনতাকে অবলোপিত করা হয়,তাহলে সমাজ তন্ত্রের প্রতি কোনো বিরুপতা নেই।তারপরও,কথা থেকে যায়-সেই কথা আমি একটি ছোট গল্পের মাধ্যমে শেষ করবো।
সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায়-রুটি বন্টনের আইন হয়েছে, একেবারে যথাযথ।তবে শাসক সে রুটি দেয় কি? নাকি শুধু আইন করে।
"The Politics of Servitude " বইয়ে Etire চমতকার এক উপসংহার টেনেছেন The government Under USSR comes in the name of justice,but frequently ends in injustice.
কিন্তু কীভাবে এ অবিচার হয়-তা এবার একটু অন্বেষন করি।আপনি নিশ্চয়-Robert Lefevre(লাস্ট নেমের বানান ভুল হতে পারে,সরি)এর বিখ্যাত বই "The bread is mine" বইটি পড়ে থাকবেন।সেখানে মূল কথাটি হলো-আমার মাথার ঘামের পরিশ্রান্ত কষ্টে উপার্জিত রুটিতে শুধু আমারই অধিকার থাকবে।অথবা,আমার পরিপূর্ণ ইচ্ছা আছে ইচ্ছানুযায়ী স্বীয় উতপাদন বন্টনের।যেমন-এ রুটির ভাগ আমার বাপ পাবে কি ভাই পাবে,অথবা কোনো ক্ষুধার্তের ক্ষুধা মিটাবে তার একমাত্র অধিকার উতপাদকের।কিন্তু সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায়-তা একটু ভিন্ন বৈকি।এ রুটির উপর কর্তৃত্ব থাকবে একচেটিয়া সমাজের।এক্ষেত্রে আমি -মোল্লা আর পাদ্রি সম্প্রদায়কে দূরে রাখলাম-কারন তাদের মতে ,শ্রষ্টার ক্ষুধা থাকুক বা না থাকুক রুটির একমাত্র মালিকানা শ্রষ্টার।
যাই হোক, আলোচনা সোসালিজমেই সীমিত রাখি। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ রাস্ট্রীয় ব্যবস্থা চালিত হয় আবার-একচেটেয়া ক্ষমতায়ীদের দ্বারা।
Nomenklatura নামে এ দলটি Political monopoly লাভ করেছিলো শাসনের একবারে শুরুতেই। ঠিক সে সময়ে নাগরিক অধিকার কতুটুকু ছিলো তা নাই বা বললাম।শুধুমাত্র একটি রুটি না ,সমস্ত প্রোডাকশন সিজড করা হয়েছিলো নতুন সমাজ বিনির্মানের নামে।
রুটি বাদ দিয়ে এবার একটু শ্রম আর পুঁজির দিকে দৃষ্টিপাত করি।অর্থনীতিরএই দুটি জিনিস শ্রম আর পুঁজি যা অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।কিন্তু ভুলে গেলে চলবেনা-মানুষের মেধা প্রকৃতির অনন্য দান।যাই ,বলি না কেন-এই মেধাকে স্বীকার করতেই হবে,এবং এর যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। ইউরোপিয়ানরা যখন আমেরিকা আসে তখন এখানকার মোট জনসংখ্যা এক মিলিয়নের বেশী ছিলোনা। মেধা কাজে লাগিয়ে সেই জনসংখ্যা আজ শত মিলিয়নে ছাড়িয়ে গেলেও শ্রম ,পুঁজি আর মেধার মাধ্যমে সম্পদের প্রতিনিয়ত প্রবাহের ধারায় তা এখনো সুন্দর ভাবেই টিকে আছে। আমেরিকাকে আমরা কথায় কথায় বেঘোর গালাগালি করি, বিশ্ব পুলিশ বাহিনী হিসাবে এ গালাগালি একবারে অযাচিত ও নয়।তবে শুধু প্রাইভেট কন্ট্রিবিউশন যদি বিবেচনা করেন-তবে ফাইনান্সিয়ার এক্সপ্রেস ম্যাগাজিনের ডাটা অনুযায়ী-আমেরিকানরাই সবেচেয় বেশী চ্যারিটি কন্ট্রিবিউটর।কারন কি-
পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়-always rewards hard workers. অন্যদিকে Socialism punishes hard work by talking away from those who earn more. এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই , মানুষের কর্মচান্চল্য কমে আসে , যেখানে কোনো ইনসেনটিভ কাজ করেনা।জীবন নির্বাহে যদি প্রতিনিয়ত ওয়েলফেয়ারের দিকে থাকিয়ে থাকতে হয়,তবে অন্যের চ্যারিটি করাতো দূরের কথা। আর যে কথাটি আমি আলোচনার শুরুতেই বলেছি-By nature -people are not altruistic.
পুঁজিবাদের যে কোনো চ্যালেন্জ নেই তা কিন্তু না। Nomenklatura যে সমস্ত ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরন ঘটিয়েছিলো সীমিত মানুষের হাতে ,তাই মানুষের বেঁচে থাকার স্পন্দন কেই রোধ করেছিলো।পুঁজিবাদ বলি আর সমাজবাদ বলি-মূল সমস্যা হলো আসলে ঐ করাপশানে। নীতি যতনা আমাদের ক্ষতি করে,নীতির অন্দর মহলে লুকায়িত দূর্নীতি তা করে তুলে আরো প্রকট।আর এ করাপশান আসে ঠিক তখনি-যখন আমরা দেখি too much power in the hand of too few people. এটা রাশিয়ার লাল দরজার অন্দরে যেমন সত্য , ঠিক তেমনি বাংলাদেশের হাওয়া ভবনের ক্ষেত্রেও সত্য। একটি পুরো সমাজব্যবস্থার অবক্ষয়ে যখন বেঁচে থাকার সব চাহিদা শুধু ভোগের রুটি হয়ে যায়, আর পুঁজিবাদী আর সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার দূর্নীতি যখন দুটি নেকড়ে হয়ে তার কর্তৃত্বে ছুটে আসে- তখনই গরীব আরো গরীব হয়, ভুখা নাংগা মানুষ না খেয়ে মরে।
তাই ,একচেটিয়া ভাবে শুধু সমাজতন্ত্রকেই Creeping Virus বলে অভিহিত করা যায়না। মূল সমস্যা হলো-মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাকে অবদমিত করার গ্লানি,সমাজতন্ত্র এখনো যা বহন করে চলছে।আর এটা করতে গিয়ে সুস্পষ্ট দুটো ধারার সৃষ্টি হয়-
1.The Rules
2.The Ruler
যেখানে,শাসিতরা মনে করে - someone will take care of them. আর এখানেই অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে পড়ে। লক্ষ্য করুন-আনইকুয়াল ইফর্টের জন্য কেউ ইকুয়াল কমপেনসেশন পেতে পারেনা, যেটা হলো পুরোপুরি অবিচার।
ভোক্তার সমতা কেবল মাত্র দুঃখ আর মৃত্যুতেই হতে পারে,তবে বেঁচে থাকার সংগ্রামে কোনো সমতা আসতে পারে কি?। অর্থনীতির মূল ফিলোসফিতে দেখি -there are three P's
1.Prices,
2.Profit and loss,
3.Private property.
সমাজের সমতা বিধান করতে গিয়ে এই তিনটি মূলনীতিকেই অস্বীকার করা হয় সোসলিজমে। আর কাজের প্রতি উদ্দীপনার কথা আগেই বলা হয়েছে। আসলে ,এ আলোচনার কোনো শেষ নেই।যে পর্যন্ত না স্টপ সাইন অথবা ডেড এন্ড আসে।
এবার প্রনব আচার্যের কিউবা সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তরে বলি-এটি একটি বাস্তব উদাহরন -ইতিহাসের পাতা থেকে নেয়া।হাইতি থেকে-মাত্র ৫০ মাইল দূরে কিউবা ,আর আমেরিকার দূরত্ব ৫০০ মাইল। এ সুদীর্ঘ উর্মিমালা পাড়ি দিয়ে জীবন বাজি রেখে একটি সাধারন ভাসমান বোটে হেইটিসরা মাত্র ৫০ মাইল দূরে কিউবা না গিয়ে আমেরিকা আসলো কেন?কারন কি- Land of the oppurtunity?এ গেলো ইতিহাসের উদাহরন। এবার নিজের চাক্ষুস উদাহরনের কথা বলি।আমাদের গ্রামের এক কামিল পাশ হুজুর যিনি বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে প্রতি শুক্রবারে-মার্কিন সাম্রাজ্য নিপাত যাক শ্লোগান দিতে দিতে বেহেস্তি টিকেট লাভ করেছেন,সেই হুজুর ডিবি ভিসায় আমেরিকা এসে ভিসা আর মাস্টার কার্ডের সুদের জালে আটকা পড়ে বহাল তবিয়তে জীবন যাপন করছেন। আর এখন পুঁজিবাদের সুদ ওনার টুপি পর্যন্ত স্পর্শ করেছে।এবার একটা গল্প বলেই শেষ করছি-
জনৈক জেলে প্রতিদিন সকালে মাছ ধরতে যায়, আর সন্ধ্যার বাড়ী ফিরে মাছ নিয়ে। একজন অলস প্রতিবেশী লোক তার আগমন পথে দাঁড়িয়ে থাকে।জেলে বাড়ী ফিরার পথে অলস লোকটিকে কিছু মাছ দেয়।এভাবেই চলে , অলস লোকটি আরো অলস হয়।সমাজের বোঝা বাড়ে। কিন্তু, এখানে উচিত ছিলো অলস লোকটিকে মাছ না দিয়ে ,কেমন করে মাছ ধরতে হয়,তাই শিখিয়ে দেয়া,তার মধ্যে ইনসেটিভিটি সৃষ্টি করা।তাহলে কর্মের সংস্থান হত,উতপাদন বাড়ত,সমাজের বোঝা লাঘব হত,সর্বোপরি অর্থনীতির চাকা সচল হতো।
সমাজতন্ত্রে ওয়েলফেয়ারের ফানুসে চড়ে ভুক্তভোগী আকাশে পর্যন্ত ওঠে।
কিন্তু সময়ের কষ্টিপাথরে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় যখন নাটাইয়ে টান পড়ে ,তখন মহাউল্লাসে উড্ডীন ফানুসের পতন ছাড়া আর কোনো উপায় থাকেনা। Los Angels Time Syndicate থেকে আরেকটি গঠনার কথা
উল্লেখ করি। উদাহরনের প্রথম অংশ সবার জানা। সম্পূরক করেছি-কল্পনাকে টেনে নিয়ে।
চমতকার গোলটেবিলে ঘিরে বিখ্যাত দুজন বোদ্ধা বসে আছেন।টেবিলের উপর স্বচ্ছ একটি গ্লাস।সুষ্ঠু সমাজ বিনির্মানে আশা আর নৈরাশ্যের বাদানুবাদ চলছে। আশাবাদী, নৈরাশ্যবাদীকে বললেন-আপনার চিন্তাধারা সবসময় ৃনাত্বক-ঠিক এ স্বচ্ছ গ্লাসের পানির মতো-আপনি গ্লাসের অর্ধেক সবসময় খালিই দেখবেন।আর আমি দেখবো গ্লাসটি অর্ধেক পানিতে ভর্তি।পাশে দাঁড়ানো সার্ভারকে ওনারা বলেন-তুই কী দেখিস বলতো।ও বললো-এটা নির্ভর করে
ক্রিয়ার উপরে। যে পানি পান করবে -তার জন্য গ্লাস অর্ধেক ভর্তি, আর যে গ্লাসে পানি ঢালবে তার জন্য অর্ধেক খালি।ঠিক সে সময় পাশ দিয়ে কিচেন বয় যাচ্ছিল-সে মনে মনে বললো,আহারে!তোমাদের আলোচনাই সার, তবে ফাইনাল কথা হলো-এঁটো গ্লাসটি আমাকেই ধুঁতে হবে।তা না হলে-ভাগ্যে আমার রুটি ও নাই , অন্ন ও নাই। পুঁজিবাদ বলি আর সমাজবাদ বলি-ধনীদের জন্যই সব আইন।শ্রমিকের রক্ত আর ঘাম ইট পাথরের সাথে মিশে রোমান,পারস্য ,বায়জান্টাইন সাম্রাজ্যের ভীত তৈরী করেছে। আর্জেন্টাইন বিখ্যাত কবি-ক্রিস্টিনা আজকোনা তাজমহলের সামনে দাঁড়িয়ে যখন অশ্রুপাত করছিলেন-তখন পুরানো বন্ধু জানতে চান -অপরুপ রুপের সৌন্দর্য্যে মোহিত হয়ে তোমার এ অশ্রু কি নতুন কোনো ভালোবাসার কথা বলছে?
বিষাদময় কন্ঠে আজকোনা বলেন-তাজমহলের সৌন্দর্য্য শুধু নয়ন ভরে আমরা দেখেছি ,কিন্তু শ্রমিকের দীর্ঘশ্বাস কারো হৃদয় স্পর্শ করেনি।আমার অশ্রু সে কথাই বলছে।
সরি, অনেক লম্বা হয়ে গেলো। যারা এ পর্যন্ত কষ্ট করে পড়লেন ,বিনীত সাধুবাদ।এ আলোচনা এখানেই শেষ করছি।

 

 

  • ৪২ টি মন্তব্য
  • ৫০৩ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১০ জনের ভাল লেগেছে, ৩ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:১৩
comment by: তীর্যক বলেছেন:
নো ইষ্ট নো ওয়েস্ট
ইসলাম ইজ দা বেষ্ট।
২. ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৮
comment by: বিবর্তনবাদী বলেছেন: যথাযথ উত্তর।

সমাজতন্ত্রে অন্যের উপর ডমিনেট করবার মানুষের সাধারন প্রবনতা, যে তাদের বিপ্লবিদেরও থাকতে পারে তা অস্বীকার করা হয়। ফলে জন্ম নেয় একনায়কতান্ত্রীক ভয়ংকর শাসক বা শাসক শ্রেণী, যারা কোন অংশেই সাম্রজ্যবাদী শাসকের থেকে কম যায় না। বরং কয়েকধাপ আগেই থাকে।

৩. ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:৪১
comment by: শান্তির দেবদূত বলেছেন: অসাধারন বিশ্লেষন। +
৪. ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৮
comment by: দিনমজুর বলেছেন:
প্রিয় বিহংগ,

(শিরোনামে আমার নামটি না জুড়ালেও- ঠিকই আমার জানাবুঝা থেকে এখানে কথা বলতাম- শুধু আমার কোন পোস্টে গিয়ে লিংক দিয়ে আসলেই হত!!!)

আপনাকে ধন্যবাদ- দীর্ঘ আলোচনাটির জন্য। এবং মজার ব্যাপার হলো- আমার সা.ইন থেকে বিদায় নেওয়াটা আপনি-পুতুল-অনিশ্চিত প্রমুখের কিছু পোস্টের জন্য বিলম্বিত হয়ে যাচ্ছে। তার উপর সমস্যা হচ্ছে- বর্তমানে সময়ও ঠিকভাবে করে উঠতে পারছি না! আপনার আগের পোস্টের উত্তরই তো এখনও দিয়ে উঠতে পারিনি। অফিসের কাজের চাপ, অন্যান্য কিছু কাজ (অন্য জায়গার জন্য লেখা তৈরি ও পাঠানো, ল্যাটিন আমেরিকা নিয়ে কিছু পড়াশুনা প্রভৃতি), এবং পারিবারিক কিছু ব্যস্ততা- সবমিলিয়ে ভালো অবস্থা না।

যাহোক, আপনার এই পোস্টের ব্যাপারে আমার অবস্থান পরিস্কার করতে কিছুটা সময় নিবো, এবং আগামিকাল (শুক্রবার-ছুটি) অনেকখানিই আলোচনা করার ইচ্ছা থাকলো (প্ল্যান ছিলো- ল্যাটিন আমেরিকা নিয়ে প্রথম কিস্তিটা নামানোর)।

এখন সারাদিনের কাজের ফাঁকে ফাঁকে কিছু বলা যায় কি-না দেখছি........
৫. ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৬
comment by: ভাঙা চাঁদ বলেছেন: কঠিন কথা বুঝি না।
তাও ভালা।
কেমন আছেন মামা??
আপনার কোন খবর নাই.......
৬. ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩০
comment by: শফিউল আলম ইমন বলেছেন: ভালো বিশ্লষণ।+
আপনাকে অনেকদিন দেখিনা....ব্যস্ত নাকি??
আশা করি ভালো আছেন।
৭. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৩৫
comment by: স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
সম্পূর্ণ লিখাটা পড়ে লালনের একটি গানের কথা মনে পড়ে গেল "দেখনা মন ঝাক মারি এই দুনিয়াদারি"।

লেখকের লিখার মধ্যে অনেক সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে। কোনটাকে বড় দেখাতে গিয়ে কোনটাকে ছোট, আবার কোনটাকে ছোট করতে গিয়ে কোনটাকে বড় করতে চেয়েছেন তা তিনি নিজেই জানেন। বিষয় যেহেতু দিনমজুরের, দেখি দিনমজুর কিভাবে এই যুদ্ধে অংশ গ্রহন করে এটা দেখার বিষয়। আপাতত দর্শকের ভূমিকায় থাকি।

তবে একটি বিষয়ে আলোচনা না করলে হয় না তাহলো, "লেখক বলেছেন: আর্জেন্টাইন বিখ্যাত কবি-ক্রিস্টিনা আজকোনা তাজমহলের সামনে দাঁড়িয়ে যখন অশ্রুপাত করছিলেন-তখন পুরানো বন্ধু জানতে চান -অপরুপ রুপের সৌন্দর্য্যে মোহিত হয়ে তোমার এ অশ্রু কি নতুন কোনো ভালোবাসার কথা বলছে?"

প্রথমবার যখন তাজমহল দেখতে আমি গিয়েছিলাম, তখন আমার চক্ষুও অশ্রু সিক্ত হয়েছিল শ্রমিকদের কথা ভেবে নয় তৎকালীন ভারত বর্ষের প্রজাদের কথা ভেবে। কারণ শ্রমিক পরিশ্রম করেছিল এবং সম্রাট শাহজাহান তাদেরকে পারিশ্রমিকও দিয়েছিল, তবে পারিশ্রমিকের পরিমান ন্যায্য ছিল কিনা তা জানিনা এবং এ বিষয়ে আমি বিতর্কেও জড়াতে চাইনা, কারন শ্রমিকরা কখনই তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক পায় না, এমন কি এখনও না, যদি আমরা আমাদের গার্মেন্টসের দিকে তাকায় তাহলে তো গা শিউরে উঠে। তবে কেন আমার চক্ষু তৎকালীন ভারত বর্ষের প্রজাদের জন্যে সিক্ত হয়েছিল তাহলো এই জন্যে যে তাজমহলের নির্মান খরচের সম্পূর্ণ অর্থ শাহজাহানকে সংগ্রহ করতে হয়েছিল ঐ প্রজাদের কাছ থেকে। না জানি শাহজাহান এই অর্থ সংগ্রহের জন্যে প্রজাদের কতই না অত্যাচার করেছিল, যা হয়তো ইতিহাসবিদরা তাজমহলের সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ হয়ে পরবর্তীতে ইতিহাস রচনায় সে ক্ষ্টকে গোপন করে গেছেন। কিন্তু পরক্ষনেই সে অশ্রু হটাৎই যেন শুকিয়ে যায় ২২৫০.০০ ইন্ডিয়ান রুপি দিয়ে আমরা তিনজন (আমি, আমার বউ, আমার মেয়ে) যে দেখতে ঢুকেছি এই তাজমহল। আমাদের মত কয়েক হাজার বিদেশী এবং তারও কয়েক গুন ভারতীয় (যদিও ভারতীয়দের জন্য প্রবেশ মূল্য কম ছিল, জনপ্রতি ২০.০০ রুপি) সেদিন ঢুকেছিল তাজমহল দেখতে। আনুমানিক একটা হিসেব করে দেখলাম প্রতিদিন প্রায় অর্ধ কোটি রুপি আয় করছে ভারত সরকার এই তাজমহল প্রদর্শনীর দ্বারা, যা ভারতবাসীরাই ভোগ করছে এই অর্থ। সঙ্গে সঙ্গে বুকটা আনন্দে বরে উঠলো এবং সেল্যুট করলাম তৎকালীন ঐ ভারত বর্ষের আত্মত্যাগী প্রজাদের কথা ভেবে। তাদের সেদিনের সে কষ্ট বা ত্যাগই আজ তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ভোগের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভাই বিহংগ, জানিনা আজকোনার তাজমহল দেখার ভাবনাটায় ঠিকছিল, না আমারটা। আমি সে বিতর্কেও যাবনা। শুধু একটি কথায় বলবো, রাত্রির অন্ধকারে অনেক ভীতি আছে বলে আমরা রাত্রিকে চাইবো না, সেটা হতে পারেনা। কারণ রাত্রির অন্ধকার আছে বলেই দিনের আলোতে আমরা আনন্দ পাই।
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:৩০

লেখক বলেছেন: আপনার চমতকার উপলব্ধির জন্য ধন্যবাদ।
ঠিক বলেছেন-সমন্বয়হীনতার অভাব।কারন-পুঁজিবাদের অবরুদ্ধ কারাগারের শৃংখল থেকে সমাজতন্ত্রের যে সাম্যতা বিধানের প্রচেস্টা ,তা যতবেশী মোহনীয় ছিলো,তা মানুষের সহনীয় হয়নি।
এ ব্যর্থতাকে কেউ অস্বীকার করতে পারবেনা।
কিন্তু তাই বলে-পুঁজিবাদি বিশ্বেই যে শ্রমিক তার ন্যায্য অধিকার পেয়েছে,অর্থনীতির সুবাতাস মানুষকে অভিশপ্ত দারিদ্রের কুঁড়েঘর থেকে একেবারে রাজপ্রাসাদে পৌঁছে দিয়েছে ,তাও ঠিক না। আমি এখনো বলবো-স্বাভাবিক মানুষের স্বার্থপরতাই ,লাগামহীন শোষন,বর্জোয়া শ্রেনীর সমাজের উপর আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টার জন্য,এখনো কেউ ফুটপাতে অনাহারে,আর কেউ ক্যারিবিয়ানের মধুচন্দ্রিমায়।
আপনার কোথায় যেন-একটা মন্তব্য পড়েছি-ঠিক স্মরন করতে পারছিনা-ঐ যে বেনিয়াদের খপ্পরে পড়ে দারিদ্রকে যাদুঘরে পাঠানোর মোয়া।-এ ব্যাপারে আমার কোনো দ্বিমত নেই। আপনাকে সাধুবাদ।
পার্থক্যতো আমি দেখিনা-আপনি আর্জেন্টাইন কবির দুঃখের সাথে আপনার অশ্রুর মিলন ঘটিয়েছেন,এক্ষেত্রে আপনার চিন্তার ব্যাপ্তি হয়তোবা আরো বেশী প্রসারিত হয়েছে,যা আমাকে নতুন চিন্তার প্রেরনা দিয়েছে। ধন্যবাদ।

৮. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৩০
comment by: অনিশ্চিত বলেছেন: আমিও বসে আছি দিনমজুরের উত্তর দেখার অপেক্ষায়। তবে সমাজতন্ত্রের প্রয়োগযোগ্যতা নিয়ে অনেক ভুল ব্যাখ্যা সমাজে প্রচলিত আছে। পুঁজিবাদের সফল উত্তরণের পরই সমাজতন্ত্রের কথা আসে, সে হিসেবে পুঁজিবাদের সফলতার ওপর সমাজতন্ত্রের সঠিক প্রয়োগ নির্ভর করে। কিন্তু সমাজতন্ত্রই মুক্তির উপায়- এভাবে না বলে সাম্যবাদ মুক্তির উপায় বলা ভালো। কারণ সমাজতন্ত্র মানুষকে পুরোপুরি মুক্তি দিতে পারে না। এটি কেবল পুঁজিবাদের বৈষম্যকে অনেকটা কমিয়ে দিয়ে মানুষকে সাম্যবাদের দিকে ধাবিত করার একটি প্র্যাকটিস সেশনমাত্র।
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:৩১

লেখক বলেছেন: আপনার সাথে অনেকটা একমত।
শ্রদ্ধেয় দিনমজুর অনেক সুচিন্তিত কথাই বলেছেন।

৯. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৪
comment by: দিনমজুর বলেছেন:
প্রিয় বিহংগ,
দেরির জন্য দুঃখিত, কাল রাত জাগতে হয়েছে- অফিসিয়াল কাজে... বুঝতেই পারছেন.....

এখনও কতখানি সময় দিতে পারবো জানিনা, তবে শুরু করছি......

প্রথমেই কথা বলা দরকার মনে করছি, মানুষ নিয়ে..... কেননা আপনি শুরুই করছেন- "People are not altruistic ,by nature।চিরায়ত প্রকৃতির ঘাত-প্রতিঘাতে জীবনের এ অমীমাংসিত দ্বন্ধ্বে যেখানে টিকে থাকাই মুখ্য সেখানে-আপন অধিকারের মৃত লাস বহন করবে কে?"

আমি আবারো বলছি- আমি মানুষ জন্মগত ভাবে বা প্রকৃতগতভাবে স্বার্থপর এটা আমি মনে করি না। কেন মনে করি না- সে প্রসঙ্গে পরে আসছি- তার আগে আপনার উক্তিকে সঠিক ধরে নিলেও সেটাকে সামনে নেমে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি যদি ঠিক করেন, তবে সেটা কেমন হবে একটু ভেবে দেখেছেন কি? এটা খুব হাস্যকর হয়ে যায়- কেননা- বর্তমান পুঁজিবাদী দুনিয়া মানুষের ক্ষুদ্রতা প্রচার করতে ভালোবাসলেও সে কিন্তু তার নীতিমালা- নিয়ম কানুন করার সময়ও অন্তত মুখে দুষ্টের দমনের কথা বলে।

আজেকের আইন-আদালত, বিচার ব্যবস্থা কেন দরকার? নিয়ম নীতির কেন প্রয়োজন? কারণ হিসাবে বলা হয়- অন্যায়হীন সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা। আজ যখন দেশেও দুর্ণীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়(তথাকথিত!!)- তখনও শ্লোগান কি? লক্ষ্য উদ্দেশ্যের কথা প্রচার করা হয় দুর্ণীতি মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা। এখন, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিতে আপনি কখনই কি বলতে পারেন- যেহেতু মানুষ প্রকৃতগতভাবেই দুর্ণীতিবাজ- সেহেতু এটাকে ঠিক করতে পারবেন না??

এই জিনিসটি প্রথমে বুঝা দরকার এ কারণে যে, আপনি যখন সমাজ পরিচালনার রীতি-নীতি নিয়ে কথা বলবেন- তখন সেই সমাজের ভরকেন্দ্র যেহেতু মানুষ- সেহেতু মানুষকে আপনি কোন জায়গায় দেখতে চান- মানুষকে আপনি কোনদিকে নিতে চান সেটি নিয়েই রীতি নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। আমরা অনেক ছোটকালের পাঠ্যতে পড়েছি, মানুষ সামাজিক জীব, সে যা ইচ্ছা তা করতে পারেনা...... এই যে, ব্যরিয়ার- সেটাই কিন্তু সমাজ প্রদত্ত। এই ব্যারিয়ারের কতক সামাজিক রুচি-সংস্কৃতি এসব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, আবার কতক- আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই রুচি-সংস্কৃতি বলেন, আর আইন-কানুনই বলুন সবই কিন্তু স্থির নয়। নিয়ত পরিবর্তনশীল। পরিবর্তনের অভিমুখ যদি বলেন- বলতে হবে, সমাজ বিকাশের প্রয়োজনেই এই পরিবর্তন। ফলে, সমাজ বিকাশটিও এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

১০. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৭
comment by: দিনমজুর বলেছেন:
সমাজ বিকাশের প্রসঙ্গটি আসলেই খুব গুরুত্বপূর্ণ।

নাহলে- সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনই আমরা দেখতাম না। আদিম সাম্যবাদী সোসাইটি বলেন- দাস সমাজ বলেন- সামন্তীয় সমাজ ব্যবস্থা বলেন, আর এখনকার পুঁজিবাদী সমাজ বলেন- সবই কিন্তু একটার পর একটা সমাজের বিকাশের পথেই এসেছে। সমাজ ব্যবস্থা কেন বিকশিত হলো? দাস প্রথা যখন ছিল, একদম শুরুতে কি এর বিরুদ্ধে মানুষ ভাবতে পেরেছে? এমনকি দাসরাও কি ভাবতে পেরেছিল? না-কি সেটাকেই স্বাভাবিক মনে করেছিল? একদম প্রথম দিককার দাস আন্দোলন বা বিদ্রোহে দেখবেন- দাসেরাই তার বিরুধিতা করেছে, কেন করেছে? মানসিকতার জন্য। কারণ- তারা দাস মালিকদের বিরুদ্ধাচরণ করা যায় এটাই কল্পনা করতে পারতো না। মনে করতো- এটাই স্বাভাবিক- প্রকৃতিই বলেন, আর ইশ্বরই বলেন- এভাবেই সৃষ্টি করা হয়েছে- কিছু মানুষ দাস না থাকলে যেন দুনিয়াই চলবে না!! আপনি হয়তো জানেন যে, এই মানসিকতায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা দেয় প্রথমে খৃস্ট ধর্ম (পরে কিছুটা ইসলামও), কেননা- সেখানে প্রথম দাবি করা হয়েছে- ইশ্বরের সৃষ্ট সবাই সমান। সবাই ইশ্বরের দাস।
যীশু আসলে কি করেছেন? তাঁকে কারা ক্রুশ বিদ্ধ করেছে?

যাহোক, আবার- মূল আলোচনায় আসি- এই যে, একটা ব্যবস্থার উচ্ছেদকালে এত লড়াই-সংগ্রাম, এত ত্যাগ তিতিক্ষা, সবকিছুর পেছনে কোন বানী প্রচারিত হয়? সেটি কিন্তু মানুষের বা মানব সমাজের বিকাশের বানীই। এই যে, দাস প্রথা ভেঙ্গে সামন্তীয় যুগ আমরা পেলাম- সেই যুগও একটি সময় এসে দেখা গেল- মানুসের বিকাশের পরিপন্থী অবস্থায় চলে গেল। রাজা-বাদশারা মানুষের উপর শোষণ-নির্যাতন চালাবে- আর, আমরা কি বলবো- এটাই মানুষের স্বাভাবিকতা? মানুষ তো অপরের উপর ডমিনেন্ট করবে এটাই স্বাভাবিক! মানুষের লোভ-লালসা থাকবে এটাই স্বাভাবিক! ফলে- রাজা বাদশারা শোষণ-নির্যাতন চালিয়ে ভোগের প্রাসাদ গড়বেন, এটাই স্বাভাবিক!

না, বুর্জোয়া বিপ্লবের নেতারা এটাকে স্বাভাবিক বলে স্বীকার করেন নি। ফলে- তারা সাম্য-মৈত্রী-স্বাধিনতার শ্লোগান নিয়েই আসলেন। তাহলে, সে সময়ে সমাজ বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথাটিই সর্বাগ্রে এসেছিল।


সে ছিল- পুঁজিবাদের উন্মেষের যুগ, বিকাশের যুগ। আর আজ পুঁজিবাদের ক্ষয়িষ্ণুতার কাল। আজকের যুগে- পুঁজিবাদ সমস্ত দিক থেকে মানুষকে আক্রমণ করেছে, করছে- তবে সবচেয়ে বড় আক্রমণ- মানুষের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়া, তাকে চরম আত্মকেন্দ্রিক করে গড়ে তোলা- দশের লাঠি একের বোঝা হলেও, চাচা আপন প্রাণ বাঁচানো নীতিতে গিয়ে প্রত্যেকেই সেই বোঝা এককভাবেই বহন করতে এগোয়, তার ফলে- দশজনের আট বা নয়জনই বোঝা বহন করতে ব্যর্থ হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে, আর স্বগৌরবে যে এক বা দুইজন বোঝা বহনে সমর্থ হয়- তাদের মাহাত্ম প্রচার করা হয়!

এ সমাজ ব্যবস্থায় মানুষের অগ্রগতি- বিকাশ কোনভাবেই সম্ভব নয়, এ ব্যবস্থায় মানুষ প্রতিনিয়তই যাচ্ছে পেছনপানে, দুনিয়ার বেশির ভাগ মানুষই তো সমাজের মূলে- সেই বেশিরভাগ মানুষ আজ, ছন্নছাড়া, অভাগী!!
১১. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:২৭
comment by: দিনমজুর বলেছেন:
এবারে আসি, মানুষ নিয়ে।

এটা ঠিক যে, প্রতিটা মানুষের ইনডিভিজুয়াল সত্ত্বা আছে। প্রত্যেকের ক্ষুদা আছে, খাদ্য গ্রহণের বিষয়টি আছে, অন্যসব জৈবিক কর্মকাণ্ডও আছে। এ কাজগুলো পশুও করে। তবে, মানুষ পশুর তুলনায় ভিন্ন আরেকটি জিনিষের অধিকারী- সেটি হলো চিন্তা করার ক্ষমতা। চিন্তা করার ক্ষমতা মানুষের আছে, পশুর নেই।

এই চিন্তা করার ক্ষমতা মানুষের একই সাথে ইনডিভিজুয়াল ও সামষ্টিক, এটা প্রথমে বুঝতে হবে। ইনডিভিজুয়াল এই অর্থে যে, প্রত্যেকেরই নিজস্ব চিন্তা আছে। আর, সামষ্টিক কিভাবে? এটা একটু বিস্তারিত বলা দরকার। .....

মানুষের চিন্তা-ভাবনার প্রায় সমস্তটাই নির্ভর করে তার বেড়ে ওঠা সমাজ/পরিবেশ মানসিকতা বা চিন্তা দিয়ে। এই সমাজ একটি মানুষকে জন্মানো মাত্র থেকে একটা ভাষা দেয়, একটা লাইফ স্টাইল দেয়, সংস্কৃতি দেয়। ফলে- সেই মানুষের আচার-আচরণ মূলত সেই অনুযায়ীই আবর্তিত হয়। মাঝে মধ্যে মনে হয়, এই আমিই যদি কোন মানুষখেকো- জংলী ঘরে জন্মাতাম- তবে আমার দ্বারাই হয়তো মনুষ্য ভক্ষণ স্বাভাবিক কর্ম হিসাবে পালিত হতো (যদিও- টারজান পরিবেশ দ্বারা তাড়িত হয়ে মনুষ্য ভক্ষণে উদ্যত হয়েও শেষ পর্যন্ত ভক্ষণ থেকে বিরত থাকে- তার বৃটিশ অভিজাত ব্লাড তাকে সেটি থেকে বিরত রাখে- এডগার বারোসের এই সাদা চামড়ার মহিমা প্রচারের গল্পটি অবৈজ্ঞানিক), কেননা- আজ আমার খাদ্যোভ্যাস আর সাপ-টিকটিকি খেকো জনগোষ্ঠীর খাদ্যোভ্যাসের ভিন্নতার পেছনে রক্তের ভূমিকা নেই- ভূমিকা হলো অভ্যাসের।

যাহোক, যেটি বলছিলাম- সমাজ/পরিবেশ মানুষের চিন্তা চেতনাকে অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু মানুষের ক্ষমতাটিও অন্যরকম- সে তার চিন্তাভাবনাকে- একটি সীমার মধ্য থেকে নানা দিকে প্রসারিত ও বিকশিত করতে পারে- এবং এটি আবার সমাজের অবস্থিত চিন্তাকে প্রভাবিত করে। এভাবে সমাজ এগুতে থাকে। .......
১২. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:২৮
comment by: আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: +
অনেক কিছুই জানা হলো।
১৩. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:৪৫
comment by: দিনমজুর বলেছেন:
মানুষ জন্মগত বা প্রকৃতগত ভাবেই যে স্বার্থপর বা ভোগবাদী- এনিয়ে দুটি কথা বলি......

মানুষের জীবন যাপনের জন্য যা যা প্রয়োজনীয়- বা অত্যাবশ্যক- তার খোঁজ করা- সেসব ভোগ করাকে স্বার্থপরতা বা ভোগবাদিতা বলে না। বড়জোর বলতে পারেন- প্রবৃতি জাত, প্রাকৃতিক, এবং পশুপাখিও এই চাহিদা পূরণ করে। কুকুরকেও দেখবেন- কয়েকটি ক্ষুদার্ত কুকুরের সামনে অপ্রতুল কিছু খাবার দিলে- তারা মারামারি, কামড়া কামড়ি করে সেটা খাওয়ার চেস্টা করে। এটাই স্বাভাবিক, এটাই প্রাকৃতিক।

কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য অবশ্যই আছে। সেটি হলো তার বিবেক, কেননা- মানুষ ক্ষুদার্ত থাকার পরেও তার সামনের খাবারটি সে ত্যাগ করতে পারে- আরেকজনের জন্য, এটাকে স্বার্থহীনতা বলতে পারেন, তবে- নিজের স্বার্থ বা নিজের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোকে কোনমতেই স্বার্থপরতা বলা যায় না।

সুতরাং, বুঝা দরকার যে, মানুষকে এই সাধারণভাবে গালিগালাজ করার উদ্দেশ্যই হলো নেগেটিভ। একজন- পুঁজিপতি মালিকের যে লোভ, অন্যকে শোষণ করে- সম্পদের পাহাড় সৃষ্টি করা আর একজন হত দরিদ্র, ক্ষুদার্ত মানুষের চাহিদা এক নয়, এবং সেই চাহিদা মেটানোর জন্য তাদের এগ্রেসনও এক নয়। এখন দুনিয়ায় ৮৫৪ মিলিয়ন মানুষের হাতে ঠিক ভাবে দুটো রুটি কেনারও পয়সা নেই, আর- এক ওয়ারেন বুফেট এক বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার আয় করে- বিল গেটসকে টপকে গিয়ে সেরা ধনী হয়!! একজন মানুষের জন্য ৬২ বিলিয়ন ডলারের কি প্রয়োজন বলতে পারেন?? মাত্র ১১২৫ জন লোকের কাছে ৪৩৮২ বিলিয়ন ডলার থাকাটা কি অন্যায় মনে হয় না, যেখানে এখনও দুনিয়ায় খাবারের অভাবে লোক মারা যায়? সুতরাং, যে মানুষটি ক্ষুদা পেটে খাবারের জন্য হন্যে হয়ে ঘোরে- তার খাবারের চাহিদার জন্য তাকে স্বার্থপর বলতে আমার যথেস্ট আপত্তি আছে।

আর, এখানে মানুষ by nature altruistic নয়- এটা বলাটাই বিভ্রান্তিকর। কেননা- মানুষের মধ্যে এই আকাশসম বৈষম্য- সেটা ন্যাচারের কৃতিত্ব নয়, সেটা সমাজব্যবস্থার অবদান।

এক্ষেত্রে আরেকটি কথা মনে রাখা দরকার যে, মানুষ প্রাকৃতিক ভাবে এমন যে, সে প্রকৃতির বশে থাকতে চায় না, কেননা- সে প্রকৃতি দ্বারা চালিত হয় না- সে চলে মস্তিস্ক দিয়ে। এবং তার মধ্যে ভালো-মন্দের দ্বন্দ্ব নিয়ত ক্রিয়াশীল, এ দুই দিয়েই মানুষকে বিচার করা দরকার। এই দ্বন্দ্বে কখনও মানুষ প্রচণ্ড স্বার্থহীনও হতে পারে, কখনও সে স্বার্থপরও হয়। ফলে- একতরফা মানুষ মাত্রই স্বার্থপর বলা অন্যায় প্রচারণা।


হুম, আজকের যুগে- মানুষের মধ্যে স্বার্থপরতা, ক্ষুদ্রতা-হীনতা-নীচুতা এসবের আনাগোনা খুবই বেশি- কিন্তু এসবই মানুষের মজ্জাগত, এটা মোটেও ঠিক নয়, যদি ঠিক হতো, তবে মানুষ আজকের জায়গায় কখনও পৌছতে পারতো না। মানুষের মধ্যকার দুইয়ের দ্বন্দ্বে কি জিতবে- এটাও কিন্তু সমাজ ব্যবস্থার উপর অনেক খানি নির্ভর করে। আজকের পুঁজিবাদী যুগে, মানুষকে যখন সর্বদাই আত্মকেন্দ্রিক করে গড়ে তোলা হয়- সেতো পরাজিত হবেই।


আর যে বললেন, চিরায়ত প্রকৃতির ঘাত প্রতিঘাতের অমিমাংসিত দ্বন্দ্বে টিকে থাকাটাই মুখ্য- সেটিও ঠিক নয় মানুষের জন্য। সেটা পশু-পাখির জন্য এপ্লাই করতে পারেন- কিন্তু মানুষ সবসময়ই শুধু টিকে থাকা নয়, বরং প্রতিনিয়ত আরো ভালো করে বাঁচার উদ্দেশ্যে প্রকৃতির উপরেই ছড়ি ঘোরানোর চেস্টা করেছে, এবং আজো করছে। ফলে, এই আরো ভালো ভাবে জীবন যাপনের উদ্দেশ্যেই সমাজের পরিবর্তনের আবশ্যকতা।
১৪. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:৫৫
comment by: দিনমজুর বলেছেন:
আমি মনে করি, মানুষের মধ্যে যে জৈবিক-প্রবৃত্তিগত চাহিদা, সেটি তার ব্যক্তিগত, এবং সেটি পশুরও আছে- এবং এটির দিক দিয়ে পশুর সাথে তার অমিল নেই। অমিলের জায়গা হলো- তার মস্তিস্কে, যে মস্তিস্কের কল্যাণে সে সমাজ গঠন করেছে, এবং এই সমাজকে ধীরে বিকশিত করেছে। মানুষ পশুর মত শুধুই নিজের জৈবিক-প্রবৃত্তিগত চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত থাকলে, বা আত্মকেন্দ্রিকতায় লিপ্ত থাকলে- আজকের সমস্ত অর্জন গুলো আমরা পেতাম না- সেদিক দিয়ে বলা যেতে পারে, মানুষ সমষ্টিগতভাবেই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে, এবং মানুষের ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা বা আত্মকেন্দ্রিকতা সর্বদাই সমাজের অগ্রসরতাকে বাঁধা গ্রস্ত করেছে।

১৫. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:০১
comment by: মুকুল বলেছেন: সময় করে পোস্টটা পড়তে হবে! দারুণ আলোচনা হচ্ছে দেখছি।
১৬. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:০২
comment by: মুকুল বলেছেন: এই আলোচনায় জামাল ভাস্কর ভাই ও দারুণ সংযোজন করতে পারেন।
১৭. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৪৪
comment by: অমলকান্তি বলেছেন: খুবই পুরনো বিতর্ক কিন্তু সবসময় নতুন হয়ে ধরা দেয়। আবার অবতারনা করার জন্য লেখককে ধন্যবাদ।

স্ব. তু:লেখকের লিখার মধ্যে অনেক সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে।
আমরও তাই মনে হয়েছে।

যাইহোক এরকম একটা বিষয়ে আলোচনা ধীরে এগুলে সবার জন্যই সুবিধা হয় বলে মনে করি। আমি মাঝে মাঝে প্রশ্ন করে আমার কনফিউশান গুলো দুর করার চেষ্টা করব, কারন সেটাকেই আমার সিদ্ধান্তে উপনীত হবার সঠিক পন্থা বলে মনে হয়।

লেখক বলেছেনঃ"পুঁজিবাদ বলি আর সমাজবাদ বলি-মূল সমস্যা হলো আসলে ঐ করাপশানে। নীতি যতনা আমাদের ক্ষতি করে,নীতির অন্দর মহলে লুকায়িত দূর্নীতি তা করে তুলে আরো প্রকট।"

দিনমজুর বলেছেনঃ"এখন দুনিয়ায় ৮৫৪ মিলিয়ন মানুষের হাতে ঠিক ভাবে দুটো রুটি কেনারও পয়সা নেই, আর- এক ওয়ারেন বুফেট এক বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার আয় করে- বিল গেটসকে টপকে গিয়ে সেরা ধনী হয়!!"

এখন আমার প্রশ্ন হল: দিনমাজুরের ভাষ্য মতে(যদি সত্য হয়)৮৫৪মিলিয়ন মানুষ আর ১জন ওয়ারেন বুফেটের মধ্যে সম্পদের যে আকাশ পাতাল পার্থক্য সেটা কি শুধু দূর্ণীতির জন্যই? নীতি কি এখানে শুধুই নারায়ণের ভুমিকা পালন করছে?
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ১০:২৩

লেখক বলেছেন: জ্বিনা, নারায়নের কাঁধে যখন ক্ষমতার আর লোভের দৈত্য ভর করে তখন সে শুধু দ্রোপদির বস্ত্র হরন করে।

১৮. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৫১
comment by: দিনমজুর বলেছেন:
এবারে বিভিন্ন প্রায়োগিক আলোচনায় আসি.......

রুটি বন্টন নিয়ে যে আলোচনা করেছেন- সেখানে দুটি বিষয় প্রধানত এসেছে:
১। আমার উৎপাদিত রুটি আমার। সেটির ভাগ আমি কাউকে দিতে রাজি নই। অথচ- সমাজতন্ত্রে সেই অধিকার কেড়ে নেয়া হয়।
২। সমাজতান্ত্রিক সমাজে শাসক সে রুটি দেয় কি? সোভিয়েত ইউনিয়নের উদাহরণ টেনেছেন এ প্রসঙ্গে।

দেখি কিছু বলার চেস্টা করি:

১। একটু খেয়াল করলেই বুঝার কথা- পুঁজিবাদে সে অধিকার কেড়ে নেয়া হয়, সমাজতন্ত্রে নয়। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শুধু প্রচারণাই সার- কিন্তু রুটির অধিকার কখনও উৎপাদকের থাকে না। আজ দুনিয়ার উদাহরণ দেখেন, চিত্রটি পরিস্কার হওয়ার কথা। উৎপাদনের সাথে জড়িত ক্ষেত্র ও যন্ত্রের মালিকানা মুষ্টিমেয় কয়েকজনের হাতে থাকায়- তারাই সমস্ত কিছুর অধিকর্তা হয়ে বসে। আর, সাধারণ কৃষক/চাষী, শ্রমিক রা তো কোন ছাড়!

এবারে আসি জমিতে, যেখানে রুটি উৎপাদন হওয়ার কথা। উৎপাদন করবে কৃষক, ধরলাম- নিজের জমিতে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়, আজ কি দেখি? একজন কৃষকের উৎপাদন খরচ প্রতিনিয়ত বাড়তে বাড়তে এমন একজায়গায় চলে যায় যে, আর উৎপাদিত শস্যের দামও কমে গিয়ে- সে তার উৎপাদন খরচও তুলতে পারে না। অব্যাহত লসের মুখে পড়ে, ঋণের জালে আবদ্ধ হয়ে- সে তার জমি জিরাত হারিয়ে সর্বসান্ত হয়ে পড়ে। এরপরে সে হয়ে যায় ঠিকা বা বর্গা চাষি। এবারে আরো মজা- সে উৎপাদন করবে ঠিকই- কিন্তু তার উৎপাদিত রুটির উপর কোন অধিকার থাকে না। অন্যদিকে, যারা জোতদার গোছের, বিশাল জমির মালিক, এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষির কাছ থেকে আরো জমি প্রাপ্ত হয়ে আরো বড় জমির মালিক- তাদের একসাথে লার্জ স্কেলে জমিতে আবাদের কারণে উৎপাদন খরচ কম পড়ে, একসাথে অনেক উৎপাদন হওয়াতে বাজারও তাদের হাতেই থাকে, ফলে- তাদের ক্ষেত্রে লসের সম্ভাবনা অনেক কম।

এই চিত্রের বিপরীতে যদি আরেকটি চিত্র তুলে ধরি তাহলে কেমন হয়, ধরেন- একটি গ্রামে এরকম একশ ক্ষুদ্র চাষি, তাদের জমি একত্রে চাষ করার সিদ্ধান্ত নিল, ফলে এক্ষেত্রে কি ঘটবে? একশ চাষির সম্মিলিত জমি- একটা বড় সমবায় ফার্মের রূপ নিবে, এবং এতে সেচ সহ বিভিন্ন উৎপাদন খরচও কমে যাবে, উৎপাদন বাড়বে এবং সম্মিলিত উৎপাদনের পরিমাণ বেশি হওয়াতে বাজারের উপরেও নিয়ন্ত্রণ বেশি হবে। সুতরাং এই একশ চাষির লসের সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে। এবারে বন্টনের প্রশ্ন, এক্ষেত্রে বন্টনটি হবে অনেকটা এরূপ- ঐ একশ চাষির জমির পরিমাণের অনুপাত অনুযায়ী। এখন- জমি যদি আমাদের হয়, তবে উৎপাদন কিন্তু আমার নয়- আমাদের। ফলে- তখন এটা কি কেউ বলবে আমার উৎপাদন আমি কাউকে দিব না?
এবারে আসি- জমি যদি রাষ্ট্রের হয়, এবং সেখানে সম্মিলিত উৎপাদন হয়- তবে কিভাবে বলা যেতে পারে, এটা আমার উৎপাদন? ধরুন, বাংলাদেশে যেসব খাস আবাদী জমি আছে- সেগুলোতে সরকার ভূমিহীন চাষীদের মজুরির বিনিময়ে চাষাবাদের উদ্যোগ নিলো। এখানে কি কেউ বলবে, আমার উৎপাদন? সমাজতান্ত্রিক সমাজে কি করা হয়?
এই যে, ক্ষুদ্র-প্রান্তিক-ভূমিহীন চাষিকে রাষ্ট্রের উদ্যোগে সমবায় চাষের আওতায় আনা হয়। তাহলে- সেখানে বন্টনের প্রশ্ন অবশ্যই থাকে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সমবায়ে সেটি প্রথমে হয়- মজুরি ধরণের, মানে কাজ অনুপাতে পারিশ্রমিক- এবং বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানধীন জমির সমবায়ে সেটা হয়- অংশীদারিত্ব মূলক। সেই সাথে যে কাজটি করা হয়, একজনের বিশাল জমির মালিক থাকার উপায়টি বন্ধ করে দেয়া। বড় জোতদার, জমিদার এদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়া হয়। ওদের বাড়তি জমি- রাষ্ট্রের মালিকানায় এনে সমবায়ে যুক্ত করা হয়। মনে রাখতে হবে- রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বড় বড় সমবায়ে যারা কাজ করে- তারা পায় মজুরি, ফলে- তারা কি বলবে আমার উৎপাদনের উপর অধিকার একচেটিয়া আমার? পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়ও কি যারা অন্যের জমিতে চাষ করে- তারা কি বলে- রুটির অধিকার একমাত্র উৎপাদকের?
আবার, ছোট চাষিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সমবায় করার ব্যাপারে কোন জোরজবরদস্তি করার দরকার নেই। সোভিয়েত এ যেটা হয়েছে- এ ধরণের সমবায়ের পরিমাণ বছর বছর এমনিতেই বেড়েছে। কেননা, যে কৃষক এ বছর একা চাষ করে দেখেছে- তার পাশের কৃষক সমবায়ে উৎপাদন করার কারণে- তার চেয়ে অনেক কম খরচে অনেক বেশি উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে, সেচ- সার সহ অনেক সুবিধা খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে- সে নিজে থেকেই পরের বছরে সমবায়ে যুক্ত হবে। সোভিয়েতে সেটাই হয়েছে।
১৯. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:০৮
comment by: দিনমজুর বলেছেন:
২। বন্টন কি শাসক গোষ্ঠী সঠিকভাবে করে? হুম করে। বুঝতে হব