আমার প্রিয় পোস্ট

One of the things I keep learning is that the secret of being happy is doing things for other people.

সমাজতন্ত্রে মুক্তির উপায়/ প্রতি শ্রদ্ধেয় দিন মজুর

০৬ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ১১:৪৩

শেয়ারঃ
0 0 0

(আপনার সব লিখা গুলোই পড়েছি। কাজের ব্যস্ততায় আলাদা মন্তব্য করা হয়নি। আজও বেশীক্ষন থাকা হবেনা।আমার মন্তব্য এখানে লিখলাম)
আপনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলি-People are not altruistic ,by nature।চিরায়ত প্রকৃতির ঘাত-প্রতিঘাতে জীবনের এ অমীমাংসিত দ্বন্ধ্বে যেখানে টিকে থাকাই মুখ্য
সেখানে-আপন অধিকারের মৃত লাস বহন করবে কে?কিন্তু এ অধিকার যদি শুধুমাত্র এক টুকরো রুটির বিনিময়ে অবারিত স্বাধীনতাকে অবলোপিত করা হয়,তাহলে সমাজ তন্ত্রের প্রতি কোনো বিরুপতা নেই।তারপরও,কথা থেকে যায়-সেই কথা আমি একটি ছোট গল্পের মাধ্যমে শেষ করবো।
সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায়-রুটি বন্টনের আইন হয়েছে, একেবারে যথাযথ।তবে শাসক সে রুটি দেয় কি? নাকি শুধু আইন করে।
"The Politics of Servitude " বইয়ে Etire চমতকার এক উপসংহার টেনেছেন The government Under USSR comes in the name of justice,but frequently ends in injustice.
কিন্তু কীভাবে এ অবিচার হয়-তা এবার একটু অন্বেষন করি।আপনি নিশ্চয়-Robert Lefevre(লাস্ট নেমের বানান ভুল হতে পারে,সরি)এর বিখ্যাত বই "The bread is mine" বইটি পড়ে থাকবেন।সেখানে মূল কথাটি হলো-আমার মাথার ঘামের পরিশ্রান্ত কষ্টে উপার্জিত রুটিতে শুধু আমারই অধিকার থাকবে।অথবা,আমার পরিপূর্ণ ইচ্ছা আছে ইচ্ছানুযায়ী স্বীয় উতপাদন বন্টনের।যেমন-এ রুটির ভাগ আমার বাপ পাবে কি ভাই পাবে,অথবা কোনো ক্ষুধার্তের ক্ষুধা মিটাবে তার একমাত্র অধিকার উতপাদকের।কিন্তু সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায়-তা একটু ভিন্ন বৈকি।এ রুটির উপর কর্তৃত্ব থাকবে একচেটিয়া সমাজের।এক্ষেত্রে আমি -মোল্লা আর পাদ্রি সম্প্রদায়কে দূরে রাখলাম-কারন তাদের মতে ,শ্রষ্টার ক্ষুধা থাকুক বা না থাকুক রুটির একমাত্র মালিকানা শ্রষ্টার।
যাই হোক, আলোচনা সোসালিজমেই সীমিত রাখি। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ রাস্ট্রীয় ব্যবস্থা চালিত হয় আবার-একচেটেয়া ক্ষমতায়ীদের দ্বারা।
Nomenklatura নামে এ দলটি Political monopoly লাভ করেছিলো শাসনের একবারে শুরুতেই। ঠিক সে সময়ে নাগরিক অধিকার কতুটুকু ছিলো তা নাই বা বললাম।শুধুমাত্র একটি রুটি না ,সমস্ত প্রোডাকশন সিজড করা হয়েছিলো নতুন সমাজ বিনির্মানের নামে।
রুটি বাদ দিয়ে এবার একটু শ্রম আর পুঁজির দিকে দৃষ্টিপাত করি।অর্থনীতিরএই দুটি জিনিস শ্রম আর পুঁজি যা অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।কিন্তু ভুলে গেলে চলবেনা-মানুষের মেধা প্রকৃতির অনন্য দান।যাই ,বলি না কেন-এই মেধাকে স্বীকার করতেই হবে,এবং এর যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। ইউরোপিয়ানরা যখন আমেরিকা আসে তখন এখানকার মোট জনসংখ্যা এক মিলিয়নের বেশী ছিলোনা। মেধা কাজে লাগিয়ে সেই জনসংখ্যা আজ শত মিলিয়নে ছাড়িয়ে গেলেও শ্রম ,পুঁজি আর মেধার মাধ্যমে সম্পদের প্রতিনিয়ত প্রবাহের ধারায় তা এখনো সুন্দর ভাবেই টিকে আছে। আমেরিকাকে আমরা কথায় কথায় বেঘোর গালাগালি করি, বিশ্ব পুলিশ বাহিনী হিসাবে এ গালাগালি একবারে অযাচিত ও নয়।তবে শুধু প্রাইভেট কন্ট্রিবিউশন যদি বিবেচনা করেন-তবে ফাইনান্সিয়ার এক্সপ্রেস ম্যাগাজিনের ডাটা অনুযায়ী-আমেরিকানরাই সবেচেয় বেশী চ্যারিটি কন্ট্রিবিউটর।কারন কি-
পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়-always rewards hard workers. অন্যদিকে Socialism punishes hard work by talking away from those who earn more. এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই , মানুষের কর্মচান্চল্য কমে আসে , যেখানে কোনো ইনসেনটিভ কাজ করেনা।জীবন নির্বাহে যদি প্রতিনিয়ত ওয়েলফেয়ারের দিকে থাকিয়ে থাকতে হয়,তবে অন্যের চ্যারিটি করাতো দূরের কথা। আর যে কথাটি আমি আলোচনার শুরুতেই বলেছি-By nature -people are not altruistic.
পুঁজিবাদের যে কোনো চ্যালেন্জ নেই তা কিন্তু না। Nomenklatura যে সমস্ত ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরন ঘটিয়েছিলো সীমিত মানুষের হাতে ,তাই মানুষের বেঁচে থাকার স্পন্দন কেই রোধ করেছিলো।পুঁজিবাদ বলি আর সমাজবাদ বলি-মূল সমস্যা হলো আসলে ঐ করাপশানে। নীতি যতনা আমাদের ক্ষতি করে,নীতির অন্দর মহলে লুকায়িত দূর্নীতি তা করে তুলে আরো প্রকট।আর এ করাপশান আসে ঠিক তখনি-যখন আমরা দেখি too much power in the hand of too few people. এটা রাশিয়ার লাল দরজার অন্দরে যেমন সত্য , ঠিক তেমনি বাংলাদেশের হাওয়া ভবনের ক্ষেত্রেও সত্য। একটি পুরো সমাজব্যবস্থার অবক্ষয়ে যখন বেঁচে থাকার সব চাহিদা শুধু ভোগের রুটি হয়ে যায়, আর পুঁজিবাদী আর সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার দূর্নীতি যখন দুটি নেকড়ে হয়ে তার কর্তৃত্বে ছুটে আসে- তখনই গরীব আরো গরীব হয়, ভুখা নাংগা মানুষ না খেয়ে মরে।
তাই ,একচেটিয়া ভাবে শুধু সমাজতন্ত্রকেই Creeping Virus বলে অভিহিত করা যায়না। মূল সমস্যা হলো-মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাকে অবদমিত করার গ্লানি,সমাজতন্ত্র এখনো যা বহন করে চলছে।আর এটা করতে গিয়ে সুস্পষ্ট দুটো ধারার সৃষ্টি হয়-
1.The Rules
2.The Ruler
যেখানে,শাসিতরা মনে করে - someone will take care of them. আর এখানেই অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে পড়ে। লক্ষ্য করুন-আনইকুয়াল ইফর্টের জন্য কেউ ইকুয়াল কমপেনসেশন পেতে পারেনা, যেটা হলো পুরোপুরি অবিচার।
ভোক্তার সমতা কেবল মাত্র দুঃখ আর মৃত্যুতেই হতে পারে,তবে বেঁচে থাকার সংগ্রামে কোনো সমতা আসতে পারে কি?। অর্থনীতির মূল ফিলোসফিতে দেখি -there are three P's
1.Prices,
2.Profit and loss,
3.Private property.
সমাজের সমতা বিধান করতে গিয়ে এই তিনটি মূলনীতিকেই অস্বীকার করা হয় সোসলিজমে। আর কাজের প্রতি উদ্দীপনার কথা আগেই বলা হয়েছে। আসলে ,এ আলোচনার কোনো শেষ নেই।যে পর্যন্ত না স্টপ সাইন অথবা ডেড এন্ড আসে।
এবার প্রনব আচার্যের কিউবা সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তরে বলি-এটি একটি বাস্তব উদাহরন -ইতিহাসের পাতা থেকে নেয়া।হাইতি থেকে-মাত্র ৫০ মাইল দূরে কিউবা ,আর আমেরিকার দূরত্ব ৫০০ মাইল। এ সুদীর্ঘ উর্মিমালা পাড়ি দিয়ে জীবন বাজি রেখে একটি সাধারন ভাসমান বোটে হেইটিসরা মাত্র ৫০ মাইল দূরে কিউবা না গিয়ে আমেরিকা আসলো কেন?কারন কি- Land of the oppurtunity?এ গেলো ইতিহাসের উদাহরন। এবার নিজের চাক্ষুস উদাহরনের কথা বলি।আমাদের গ্রামের এক কামিল পাশ হুজুর যিনি বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে প্রতি শুক্রবারে-মার্কিন সাম্রাজ্য নিপাত যাক শ্লোগান দিতে দিতে বেহেস্তি টিকেট লাভ করেছেন,সেই হুজুর ডিবি ভিসায় আমেরিকা এসে ভিসা আর মাস্টার কার্ডের সুদের জালে আটকা পড়ে বহাল তবিয়তে জীবন যাপন করছেন। আর এখন পুঁজিবাদের সুদ ওনার টুপি পর্যন্ত স্পর্শ করেছে।এবার একটা গল্প বলেই শেষ করছি-
জনৈক জেলে প্রতিদিন সকালে মাছ ধরতে যায়, আর সন্ধ্যার বাড়ী ফিরে মাছ নিয়ে। একজন অলস প্রতিবেশী লোক তার আগমন পথে দাঁড়িয়ে থাকে।জেলে বাড়ী ফিরার পথে অলস লোকটিকে কিছু মাছ দেয়।এভাবেই চলে , অলস লোকটি আরো অলস হয়।সমাজের বোঝা বাড়ে। কিন্তু, এখানে উচিত ছিলো অলস লোকটিকে মাছ না দিয়ে ,কেমন করে মাছ ধরতে হয়,তাই শিখিয়ে দেয়া,তার মধ্যে ইনসেটিভিটি সৃষ্টি করা।তাহলে কর্মের সংস্থান হত,উতপাদন বাড়ত,সমাজের বোঝা লাঘব হত,সর্বোপরি অর্থনীতির চাকা সচল হতো।
সমাজতন্ত্রে ওয়েলফেয়ারের ফানুসে চড়ে ভুক্তভোগী আকাশে পর্যন্ত ওঠে।
কিন্তু সময়ের কষ্টিপাথরে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় যখন নাটাইয়ে টান পড়ে ,তখন মহাউল্লাসে উড্ডীন ফানুসের পতন ছাড়া আর কোনো উপায় থাকেনা। Los Angels Time Syndicate থেকে আরেকটি গঠনার কথা
উল্লেখ করি। উদাহরনের প্রথম অংশ সবার জানা। সম্পূরক করেছি-কল্পনাকে টেনে নিয়ে।
চমতকার গোলটেবিলে ঘিরে বিখ্যাত দুজন বোদ্ধা বসে আছেন।টেবিলের উপর স্বচ্ছ একটি গ্লাস।সুষ্ঠু সমাজ বিনির্মানে আশা আর নৈরাশ্যের বাদানুবাদ চলছে। আশাবাদী, নৈরাশ্যবাদীকে বললেন-আপনার চিন্তাধারা সবসময় ৃনাত্বক-ঠিক এ স্বচ্ছ গ্লাসের পানির মতো-আপনি গ্লাসের অর্ধেক সবসময় খালিই দেখবেন।আর আমি দেখবো গ্লাসটি অর্ধেক পানিতে ভর্তি।পাশে দাঁড়ানো সার্ভারকে ওনারা বলেন-তুই কী দেখিস বলতো।ও বললো-এটা নির্ভর করে
ক্রিয়ার উপরে। যে পানি পান করবে -তার জন্য গ্লাস অর্ধেক ভর্তি, আর যে গ্লাসে পানি ঢালবে তার জন্য অর্ধেক খালি।ঠিক সে সময় পাশ দিয়ে কিচেন বয় যাচ্ছিল-সে মনে মনে বললো,আহারে!তোমাদের আলোচনাই সার, তবে ফাইনাল কথা হলো-এঁটো গ্লাসটি আমাকেই ধুঁতে হবে।তা না হলে-ভাগ্যে আমার রুটি ও নাই , অন্ন ও নাই। পুঁজিবাদ বলি আর সমাজবাদ বলি-ধনীদের জন্যই সব আইন।শ্রমিকের রক্ত আর ঘাম ইট পাথরের সাথে মিশে রোমান,পারস্য ,বায়জান্টাইন সাম্রাজ্যের ভীত তৈরী করেছে। আর্জেন্টাইন বিখ্যাত কবি-ক্রিস্টিনা আজকোনা তাজমহলের সামনে দাঁড়িয়ে যখন অশ্রুপাত করছিলেন-তখন পুরানো বন্ধু জানতে চান -অপরুপ রুপের সৌন্দর্য্যে মোহিত হয়ে তোমার এ অশ্রু কি নতুন কোনো ভালোবাসার কথা বলছে?
বিষাদময় কন্ঠে আজকোনা বলেন-তাজমহলের সৌন্দর্য্য শুধু নয়ন ভরে আমরা দেখেছি ,কিন্তু শ্রমিকের দীর্ঘশ্বাস কারো হৃদয় স্পর্শ করেনি।আমার অশ্রু সে কথাই বলছে।
সরি, অনেক লম্বা হয়ে গেলো। যারা এ পর্যন্ত কষ্ট করে পড়লেন ,বিনীত সাধুবাদ।এ আলোচনা এখানেই শেষ করছি।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:১৩
তীর্যক বলেছেন:
নো ইষ্ট নো ওয়েস্ট
ইসলাম ইজ দা বেষ্ট।
২. ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৮
বিবর্তনবাদী বলেছেন: যথাযথ উত্তর।

সমাজতন্ত্রে অন্যের উপর ডমিনেট করবার মানুষের সাধারন প্রবনতা, যে তাদের বিপ্লবিদেরও থাকতে পারে তা অস্বীকার করা হয়। ফলে জন্ম নেয় একনায়কতান্ত্রীক ভয়ংকর শাসক বা শাসক শ্রেণী, যারা কোন অংশেই সাম্রজ্যবাদী শাসকের থেকে কম যায় না। বরং কয়েকধাপ আগেই থাকে।

৪. ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৮
দিনমজুর বলেছেন:
প্রিয় বিহংগ,

(শিরোনামে আমার নামটি না জুড়ালেও- ঠিকই আমার জানাবুঝা থেকে এখানে কথা বলতাম- শুধু আমার কোন পোস্টে গিয়ে লিংক দিয়ে আসলেই হত!!!)

আপনাকে ধন্যবাদ- দীর্ঘ আলোচনাটির জন্য। এবং মজার ব্যাপার হলো- আমার সা.ইন থেকে বিদায় নেওয়াটা আপনি-পুতুল-অনিশ্চিত প্রমুখের কিছু পোস্টের জন্য বিলম্বিত হয়ে যাচ্ছে। তার উপর সমস্যা হচ্ছে- বর্তমানে সময়ও ঠিকভাবে করে উঠতে পারছি না! আপনার আগের পোস্টের উত্তরই তো এখনও দিয়ে উঠতে পারিনি। অফিসের কাজের চাপ, অন্যান্য কিছু কাজ (অন্য জায়গার জন্য লেখা তৈরি ও পাঠানো, ল্যাটিন আমেরিকা নিয়ে কিছু পড়াশুনা প্রভৃতি), এবং পারিবারিক কিছু ব্যস্ততা- সবমিলিয়ে ভালো অবস্থা না।

যাহোক, আপনার এই পোস্টের ব্যাপারে আমার অবস্থান পরিস্কার করতে কিছুটা সময় নিবো, এবং আগামিকাল (শুক্রবার-ছুটি) অনেকখানিই আলোচনা করার ইচ্ছা থাকলো (প্ল্যান ছিলো- ল্যাটিন আমেরিকা নিয়ে প্রথম কিস্তিটা নামানোর)।

এখন সারাদিনের কাজের ফাঁকে ফাঁকে কিছু বলা যায় কি-না দেখছি........
৫. ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৬
ভাঙা চাঁদ বলেছেন: কঠিন কথা বুঝি না।
তাও ভালা।
কেমন আছেন মামা??
আপনার কোন খবর নাই.......
৬. ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩০
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: ভালো বিশ্লষণ।+
আপনাকে অনেকদিন দেখিনা....ব্যস্ত নাকি??
আশা করি ভালো আছেন।
৭. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৩৫
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
সম্পূর্ণ লিখাটা পড়ে লালনের একটি গানের কথা মনে পড়ে গেল "দেখনা মন ঝাক মারি এই দুনিয়াদারি"।

লেখকের লিখার মধ্যে অনেক সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে। কোনটাকে বড় দেখাতে গিয়ে কোনটাকে ছোট, আবার কোনটাকে ছোট করতে গিয়ে কোনটাকে বড় করতে চেয়েছেন তা তিনি নিজেই জানেন। বিষয় যেহেতু দিনমজুরের, দেখি দিনমজুর কিভাবে এই যুদ্ধে অংশ গ্রহন করে এটা দেখার বিষয়। আপাতত দর্শকের ভূমিকায় থাকি।

তবে একটি বিষয়ে আলোচনা না করলে হয় না তাহলো, "লেখক বলেছেন: আর্জেন্টাইন বিখ্যাত কবি-ক্রিস্টিনা আজকোনা তাজমহলের সামনে দাঁড়িয়ে যখন অশ্রুপাত করছিলেন-তখন পুরানো বন্ধু জানতে চান -অপরুপ রুপের সৌন্দর্য্যে মোহিত হয়ে তোমার এ অশ্রু কি নতুন কোনো ভালোবাসার কথা বলছে?"

প্রথমবার যখন তাজমহল দেখতে আমি গিয়েছিলাম, তখন আমার চক্ষুও অশ্রু সিক্ত হয়েছিল শ্রমিকদের কথা ভেবে নয় তৎকালীন ভারত বর্ষের প্রজাদের কথা ভেবে। কারণ শ্রমিক পরিশ্রম করেছিল এবং সম্রাট শাহজাহান তাদেরকে পারিশ্রমিকও দিয়েছিল, তবে পারিশ্রমিকের পরিমান ন্যায্য ছিল কিনা তা জানিনা এবং এ বিষয়ে আমি বিতর্কেও জড়াতে চাইনা, কারন শ্রমিকরা কখনই তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক পায় না, এমন কি এখনও না, যদি আমরা আমাদের গার্মেন্টসের দিকে তাকায় তাহলে তো গা শিউরে উঠে। তবে কেন আমার চক্ষু তৎকালীন ভারত বর্ষের প্রজাদের জন্যে সিক্ত হয়েছিল তাহলো এই জন্যে যে তাজমহলের নির্মান খরচের সম্পূর্ণ অর্থ শাহজাহানকে সংগ্রহ করতে হয়েছিল ঐ প্রজাদের কাছ থেকে। না জানি শাহজাহান এই অর্থ সংগ্রহের জন্যে প্রজাদের কতই না অত্যাচার করেছিল, যা হয়তো ইতিহাসবিদরা তাজমহলের সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ হয়ে পরবর্তীতে ইতিহাস রচনায় সে ক্ষ্টকে গোপন করে গেছেন। কিন্তু পরক্ষনেই সে অশ্রু হটাৎই যেন শুকিয়ে যায় ২২৫০.০০ ইন্ডিয়ান রুপি দিয়ে আমরা তিনজন (আমি, আমার বউ, আমার মেয়ে) যে দেখতে ঢুকেছি এই তাজমহল। আমাদের মত কয়েক হাজার বিদেশী এবং তারও কয়েক গুন ভারতীয় (যদিও ভারতীয়দের জন্য প্রবেশ মূল্য কম ছিল, জনপ্রতি ২০.০০ রুপি) সেদিন ঢুকেছিল তাজমহল দেখতে। আনুমানিক একটা হিসেব করে দেখলাম প্রতিদিন প্রায় অর্ধ কোটি রুপি আয় করছে ভারত সরকার এই তাজমহল প্রদর্শনীর দ্বারা, যা ভারতবাসীরাই ভোগ করছে এই অর্থ। সঙ্গে সঙ্গে বুকটা আনন্দে বরে উঠলো এবং সেল্যুট করলাম তৎকালীন ঐ ভারত বর্ষের আত্মত্যাগী প্রজাদের কথা ভেবে। তাদের সেদিনের সে কষ্ট বা ত্যাগই আজ তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ভোগের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভাই বিহংগ, জানিনা আজকোনার তাজমহল দেখার ভাবনাটায় ঠিকছিল, না আমারটা। আমি সে বিতর্কেও যাবনা। শুধু একটি কথায় বলবো, রাত্রির অন্ধকারে অনেক ভীতি আছে বলে আমরা রাত্রিকে চাইবো না, সেটা হতে পারেনা। কারণ রাত্রির অন্ধকার আছে বলেই দিনের আলোতে আমরা আনন্দ পাই।
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:৩০

লেখক বলেছেন: আপনার চমতকার উপলব্ধির জন্য ধন্যবাদ।
ঠিক বলেছেন-সমন্বয়হীনতার অভাব।কারন-পুঁজিবাদের অবরুদ্ধ কারাগারের শৃংখল থেকে সমাজতন্ত্রের যে সাম্যতা বিধানের প্রচেস্টা ,তা যতবেশী মোহনীয় ছিলো,তা মানুষের সহনীয় হয়নি।
এ ব্যর্থতাকে কেউ অস্বীকার করতে পারবেনা।
কিন্তু তাই বলে-পুঁজিবাদি বিশ্বেই যে শ্রমিক তার ন্যায্য অধিকার পেয়েছে,অর্থনীতির সুবাতাস মানুষকে অভিশপ্ত দারিদ্রের কুঁড়েঘর থেকে একেবারে রাজপ্রাসাদে পৌঁছে দিয়েছে ,তাও ঠিক না। আমি এখনো বলবো-স্বাভাবিক মানুষের স্বার্থপরতাই ,লাগামহীন শোষন,বর্জোয়া শ্রেনীর সমাজের উপর আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টার জন্য,এখনো কেউ ফুটপাতে অনাহারে,আর কেউ ক্যারিবিয়ানের মধুচন্দ্রিমায়।
আপনার কোথায় যেন-একটা মন্তব্য পড়েছি-ঠিক স্মরন করতে পারছিনা-ঐ যে বেনিয়াদের খপ্পরে পড়ে দারিদ্রকে যাদুঘরে পাঠানোর মোয়া।-এ ব্যাপারে আমার কোনো দ্বিমত নেই। আপনাকে সাধুবাদ।
পার্থক্যতো আমি দেখিনা-আপনি আর্জেন্টাইন কবির দুঃখের সাথে আপনার অশ্রুর মিলন ঘটিয়েছেন,এক্ষেত্রে আপনার চিন্তার ব্যাপ্তি হয়তোবা আরো বেশী প্রসারিত হয়েছে,যা আমাকে নতুন চিন্তার প্রেরনা দিয়েছে। ধন্যবাদ।

৮. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৩০
অনিশ্চিত বলেছেন: আমিও বসে আছি দিনমজুরের উত্তর দেখার অপেক্ষায়। তবে সমাজতন্ত্রের প্রয়োগযোগ্যতা নিয়ে অনেক ভুল ব্যাখ্যা সমাজে প্রচলিত আছে। পুঁজিবাদের সফল উত্তরণের পরই সমাজতন্ত্রের কথা আসে, সে হিসেবে পুঁজিবাদের সফলতার ওপর সমাজতন্ত্রের সঠিক প্রয়োগ নির্ভর করে। কিন্তু সমাজতন্ত্রই মুক্তির উপায়- এভাবে না বলে সাম্যবাদ মুক্তির উপায় বলা ভালো। কারণ সমাজতন্ত্র মানুষকে পুরোপুরি মুক্তি দিতে পারে না। এটি কেবল পুঁজিবাদের বৈষম্যকে অনেকটা কমিয়ে দিয়ে মানুষকে সাম্যবাদের দিকে ধাবিত করার একটি প্র্যাকটিস সেশনমাত্র।
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:৩১

লেখক বলেছেন: আপনার সাথে অনেকটা একমত।
শ্রদ্ধেয় দিনমজুর অনেক সুচিন্তিত কথাই বলেছেন।

৯. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৪
দিনমজুর বলেছেন:
প্রিয় বিহংগ,
দেরির জন্য দুঃখিত, কাল রাত জাগতে হয়েছে- অফিসিয়াল কাজে... বুঝতেই পারছেন.....

এখনও কতখানি সময় দিতে পারবো জানিনা, তবে শুরু করছি......

প্রথমেই কথা বলা দরকার মনে করছি, মানুষ নিয়ে..... কেননা আপনি শুরুই করছেন- "People are not altruistic ,by nature।চিরায়ত প্রকৃতির ঘাত-প্রতিঘাতে জীবনের এ অমীমাংসিত দ্বন্ধ্বে যেখানে টিকে থাকাই মুখ্য সেখানে-আপন অধিকারের মৃত লাস বহন করবে কে?"

আমি আবারো বলছি- আমি মানুষ জন্মগত ভাবে বা প্রকৃতগতভাবে স্বার্থপর এটা আমি মনে করি না। কেন মনে করি না- সে প্রসঙ্গে পরে আসছি- তার আগে আপনার উক্তিকে সঠিক ধরে নিলেও সেটাকে সামনে নেমে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি যদি ঠিক করেন, তবে সেটা কেমন হবে একটু ভেবে দেখেছেন কি? এটা খুব হাস্যকর হয়ে যায়- কেননা- বর্তমান পুঁজিবাদী দুনিয়া মানুষের ক্ষুদ্রতা প্রচার করতে ভালোবাসলেও সে কিন্তু তার নীতিমালা- নিয়ম কানুন করার সময়ও অন্তত মুখে দুষ্টের দমনের কথা বলে।

আজেকের আইন-আদালত, বিচার ব্যবস্থা কেন দরকার? নিয়ম নীতির কেন প্রয়োজন? কারণ হিসাবে বলা হয়- অন্যায়হীন সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা। আজ যখন দেশেও দুর্ণীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়(তথাকথিত!!)- তখনও শ্লোগান কি? লক্ষ্য উদ্দেশ্যের কথা প্রচার করা হয় দুর্ণীতি মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা। এখন, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিতে আপনি কখনই কি বলতে পারেন- যেহেতু মানুষ প্রকৃতগতভাবেই দুর্ণীতিবাজ- সেহেতু এটাকে ঠিক করতে পারবেন না??

এই জিনিসটি প্রথমে বুঝা দরকার এ কারণে যে, আপনি যখন সমাজ পরিচালনার রীতি-নীতি নিয়ে কথা বলবেন- তখন সেই সমাজের ভরকেন্দ্র যেহেতু মানুষ- সেহেতু মানুষকে আপনি কোন জায়গায় দেখতে চান- মানুষকে আপনি কোনদিকে নিতে চান সেটি নিয়েই রীতি নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। আমরা অনেক ছোটকালের পাঠ্যতে পড়েছি, মানুষ সামাজিক জীব, সে যা ইচ্ছা তা করতে পারেনা...... এই যে, ব্যরিয়ার- সেটাই কিন্তু সমাজ প্রদত্ত। এই ব্যারিয়ারের কতক সামাজিক রুচি-সংস্কৃতি এসব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, আবার কতক- আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই রুচি-সংস্কৃতি বলেন, আর আইন-কানুনই বলুন সবই কিন্তু স্থির নয়। নিয়ত পরিবর্তনশীল। পরিবর্তনের অভিমুখ যদি বলেন- বলতে হবে, সমাজ বিকাশের প্রয়োজনেই এই পরিবর্তন। ফলে, সমাজ বিকাশটিও এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

১০. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৭
দিনমজুর বলেছেন:
সমাজ বিকাশের প্রসঙ্গটি আসলেই খুব গুরুত্বপূর্ণ।

নাহলে- সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনই আমরা দেখতাম না। আদিম সাম্যবাদী সোসাইটি বলেন- দাস সমাজ বলেন- সামন্তীয় সমাজ ব্যবস্থা বলেন, আর এখনকার পুঁজিবাদী সমাজ বলেন- সবই কিন্তু একটার পর একটা সমাজের বিকাশের পথেই এসেছে। সমাজ ব্যবস্থা কেন বিকশিত হলো? দাস প্রথা যখন ছিল, একদম শুরুতে কি এর বিরুদ্ধে মানুষ ভাবতে পেরেছে? এমনকি দাসরাও কি ভাবতে পেরেছিল? না-কি সেটাকেই স্বাভাবিক মনে করেছিল? একদম প্রথম দিককার দাস আন্দোলন বা বিদ্রোহে দেখবেন- দাসেরাই তার বিরুধিতা করেছে, কেন করেছে? মানসিকতার জন্য। কারণ- তারা দাস মালিকদের বিরুদ্ধাচরণ করা যায় এটাই কল্পনা করতে পারতো না। মনে করতো- এটাই স্বাভাবিক- প্রকৃতিই বলেন, আর ইশ্বরই বলেন- এভাবেই সৃষ্টি করা হয়েছে- কিছু মানুষ দাস না থাকলে যেন দুনিয়াই চলবে না!! আপনি হয়তো জানেন যে, এই মানসিকতায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা দেয় প্রথমে খৃস্ট ধর্ম (পরে কিছুটা ইসলামও), কেননা- সেখানে প্রথম দাবি করা হয়েছে- ইশ্বরের সৃষ্ট সবাই সমান। সবাই ইশ্বরের দাস।
যীশু আসলে কি করেছেন? তাঁকে কারা ক্রুশ বিদ্ধ করেছে?

যাহোক, আবার- মূল আলোচনায় আসি- এই যে, একটা ব্যবস্থার উচ্ছেদকালে এত লড়াই-সংগ্রাম, এত ত্যাগ তিতিক্ষা, সবকিছুর পেছনে কোন বানী প্রচারিত হয়? সেটি কিন্তু মানুষের বা মানব সমাজের বিকাশের বানীই। এই যে, দাস প্রথা ভেঙ্গে সামন্তীয় যুগ আমরা পেলাম- সেই যুগও একটি সময় এসে দেখা গেল- মানুসের বিকাশের পরিপন্থী অবস্থায় চলে গেল। রাজা-বাদশারা মানুষের উপর শোষণ-নির্যাতন চালাবে- আর, আমরা কি বলবো- এটাই মানুষের স্বাভাবিকতা? মানুষ তো অপরের উপর ডমিনেন্ট করবে এটাই স্বাভাবিক! মানুষের লোভ-লালসা থাকবে এটাই স্বাভাবিক! ফলে- রাজা বাদশারা শোষণ-নির্যাতন চালিয়ে ভোগের প্রাসাদ গড়বেন, এটাই স্বাভাবিক!

না, বুর্জোয়া বিপ্লবের নেতারা এটাকে স্বাভাবিক বলে স্বীকার করেন নি। ফলে- তারা সাম্য-মৈত্রী-স্বাধিনতার শ্লোগান নিয়েই আসলেন। তাহলে, সে সময়ে সমাজ বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথাটিই সর্বাগ্রে এসেছিল।


সে ছিল- পুঁজিবাদের উন্মেষের যুগ, বিকাশের যুগ। আর আজ পুঁজিবাদের ক্ষয়িষ্ণুতার কাল। আজকের যুগে- পুঁজিবাদ সমস্ত দিক থেকে মানুষকে আক্রমণ করেছে, করছে- তবে সবচেয়ে বড় আক্রমণ- মানুষের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়া, তাকে চরম আত্মকেন্দ্রিক করে গড়ে তোলা- দশের লাঠি একের বোঝা হলেও, চাচা আপন প্রাণ বাঁচানো নীতিতে গিয়ে প্রত্যেকেই সেই বোঝা এককভাবেই বহন করতে এগোয়, তার ফলে- দশজনের আট বা নয়জনই বোঝা বহন করতে ব্যর্থ হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে, আর স্বগৌরবে যে এক বা দুইজন বোঝা বহনে সমর্থ হয়- তাদের মাহাত্ম প্রচার করা হয়!

এ সমাজ ব্যবস্থায় মানুষের অগ্রগতি- বিকাশ কোনভাবেই সম্ভব নয়, এ ব্যবস্থায় মানুষ প্রতিনিয়তই যাচ্ছে পেছনপানে, দুনিয়ার বেশির ভাগ মানুষই তো সমাজের মূলে- সেই বেশিরভাগ মানুষ আজ, ছন্নছাড়া, অভাগী!!
১১. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:২৭
দিনমজুর বলেছেন:
এবারে আসি, মানুষ নিয়ে।

এটা ঠিক যে, প্রতিটা মানুষের ইনডিভিজুয়াল সত্ত্বা আছে। প্রত্যেকের ক্ষুদা আছে, খাদ্য গ্রহণের বিষয়টি আছে, অন্যসব জৈবিক কর্মকাণ্ডও আছে। এ কাজগুলো পশুও করে। তবে, মানুষ পশুর তুলনায় ভিন্ন আরেকটি জিনিষের অধিকারী- সেটি হলো চিন্তা করার ক্ষমতা। চিন্তা করার ক্ষমতা মানুষের আছে, পশুর নেই।

এই চিন্তা করার ক্ষমতা মানুষের একই সাথে ইনডিভিজুয়াল ও সামষ্টিক, এটা প্রথমে বুঝতে হবে। ইনডিভিজুয়াল এই অর্থে যে, প্রত্যেকেরই নিজস্ব চিন্তা আছে। আর, সামষ্টিক কিভাবে? এটা একটু বিস্তারিত বলা দরকার। .....

মানুষের চিন্তা-ভাবনার প্রায় সমস্তটাই নির্ভর করে তার বেড়ে ওঠা সমাজ/পরিবেশ মানসিকতা বা চিন্তা দিয়ে। এই সমাজ একটি মানুষকে জন্মানো মাত্র থেকে একটা ভাষা দেয়, একটা লাইফ স্টাইল দেয়, সংস্কৃতি দেয়। ফলে- সেই মানুষের আচার-আচরণ মূলত সেই অনুযায়ীই আবর্তিত হয়। মাঝে মধ্যে মনে হয়, এই আমিই যদি কোন মানুষখেকো- জংলী ঘরে জন্মাতাম- তবে আমার দ্বারাই হয়তো মনুষ্য ভক্ষণ স্বাভাবিক কর্ম হিসাবে পালিত হতো (যদিও- টারজান পরিবেশ দ্বারা তাড়িত হয়ে মনুষ্য ভক্ষণে উদ্যত হয়েও শেষ পর্যন্ত ভক্ষণ থেকে বিরত থাকে- তার বৃটিশ অভিজাত ব্লাড তাকে সেটি থেকে বিরত রাখে- এডগার বারোসের এই সাদা চামড়ার মহিমা প্রচারের গল্পটি অবৈজ্ঞানিক), কেননা- আজ আমার খাদ্যোভ্যাস আর সাপ-টিকটিকি খেকো জনগোষ্ঠীর খাদ্যোভ্যাসের ভিন্নতার পেছনে রক্তের ভূমিকা নেই- ভূমিকা হলো অভ্যাসের।

যাহোক, যেটি বলছিলাম- সমাজ/পরিবেশ মানুষের চিন্তা চেতনাকে অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু মানুষের ক্ষমতাটিও অন্যরকম- সে তার চিন্তাভাবনাকে- একটি সীমার মধ্য থেকে নানা দিকে প্রসারিত ও বিকশিত করতে পারে- এবং এটি আবার সমাজের অবস্থিত চিন্তাকে প্রভাবিত করে। এভাবে সমাজ এগুতে থাকে। .......
১৩. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:৪৫
দিনমজুর বলেছেন:
মানুষ জন্মগত বা প্রকৃতগত ভাবেই যে স্বার্থপর বা ভোগবাদী- এনিয়ে দুটি কথা বলি......

মানুষের জীবন যাপনের জন্য যা যা প্রয়োজনীয়- বা অত্যাবশ্যক- তার খোঁজ করা- সেসব ভোগ করাকে স্বার্থপরতা বা ভোগবাদিতা বলে না। বড়জোর বলতে পারেন- প্রবৃতি জাত, প্রাকৃতিক, এবং পশুপাখিও এই চাহিদা পূরণ করে। কুকুরকেও দেখবেন- কয়েকটি ক্ষুদার্ত কুকুরের সামনে অপ্রতুল কিছু খাবার দিলে- তারা মারামারি, কামড়া কামড়ি করে সেটা খাওয়ার চেস্টা করে। এটাই স্বাভাবিক, এটাই প্রাকৃতিক।

কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য অবশ্যই আছে। সেটি হলো তার বিবেক, কেননা- মানুষ ক্ষুদার্ত থাকার পরেও তার সামনের খাবারটি সে ত্যাগ করতে পারে- আরেকজনের জন্য, এটাকে স্বার্থহীনতা বলতে পারেন, তবে- নিজের স্বার্থ বা নিজের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোকে কোনমতেই স্বার্থপরতা বলা যায় না।

সুতরাং, বুঝা দরকার যে, মানুষকে এই সাধারণভাবে গালিগালাজ করার উদ্দেশ্যই হলো নেগেটিভ। একজন- পুঁজিপতি মালিকের যে লোভ, অন্যকে শোষণ করে- সম্পদের পাহাড় সৃষ্টি করা আর একজন হত দরিদ্র, ক্ষুদার্ত মানুষের চাহিদা এক নয়, এবং সেই চাহিদা মেটানোর জন্য তাদের এগ্রেসনও এক নয়। এখন দুনিয়ায় ৮৫৪ মিলিয়ন মানুষের হাতে ঠিক ভাবে দুটো রুটি কেনারও পয়সা নেই, আর- এক ওয়ারেন বুফেট এক বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার আয় করে- বিল গেটসকে টপকে গিয়ে সেরা ধনী হয়!! একজন মানুষের জন্য ৬২ বিলিয়ন ডলারের কি প্রয়োজন বলতে পারেন?? মাত্র ১১২৫ জন লোকের কাছে ৪৩৮২ বিলিয়ন ডলার থাকাটা কি অন্যায় মনে হয় না, যেখানে এখনও দুনিয়ায় খাবারের অভাবে লোক মারা যায়? সুতরাং, যে মানুষটি ক্ষুদা পেটে খাবারের জন্য হন্যে হয়ে ঘোরে- তার খাবারের চাহিদার জন্য তাকে স্বার্থপর বলতে আমার যথেস্ট আপত্তি আছে।

আর, এখানে মানুষ by nature altruistic নয়- এটা বলাটাই বিভ্রান্তিকর। কেননা- মানুষের মধ্যে এই আকাশসম বৈষম্য- সেটা ন্যাচারের কৃতিত্ব নয়, সেটা সমাজব্যবস্থার অবদান।

এক্ষেত্রে আরেকটি কথা মনে রাখা দরকার যে, মানুষ প্রাকৃতিক ভাবে এমন যে, সে প্রকৃতির বশে থাকতে চায় না, কেননা- সে প্রকৃতি দ্বারা চালিত হয় না- সে চলে মস্তিস্ক দিয়ে। এবং তার মধ্যে ভালো-মন্দের দ্বন্দ্ব নিয়ত ক্রিয়াশীল, এ দুই দিয়েই মানুষকে বিচার করা দরকার। এই দ্বন্দ্বে কখনও মানুষ প্রচণ্ড স্বার্থহীনও হতে পারে, কখনও সে স্বার্থপরও হয়। ফলে- একতরফা মানুষ মাত্রই স্বার্থপর বলা অন্যায় প্রচারণা।


হুম, আজকের যুগে- মানুষের মধ্যে স্বার্থপরতা, ক্ষুদ্রতা-হীনতা-নীচুতা এসবের আনাগোনা খুবই বেশি- কিন্তু এসবই মানুষের মজ্জাগত, এটা মোটেও ঠিক নয়, যদি ঠিক হতো, তবে মানুষ আজকের জায়গায় কখনও পৌছতে পারতো না। মানুষের মধ্যকার দুইয়ের দ্বন্দ্বে কি জিতবে- এটাও কিন্তু সমাজ ব্যবস্থার উপর অনেক খানি নির্ভর করে। আজকের পুঁজিবাদী যুগে, মানুষকে যখন সর্বদাই আত্মকেন্দ্রিক করে গড়ে তোলা হয়- সেতো পরাজিত হবেই।


আর যে বললেন, চিরায়ত প্রকৃতির ঘাত প্রতিঘাতের অমিমাংসিত দ্বন্দ্বে টিকে থাকাটাই মুখ্য- সেটিও ঠিক নয় মানুষের জন্য। সেটা পশু-পাখির জন্য এপ্লাই করতে পারেন- কিন্তু মানুষ সবসময়ই শুধু টিকে থাকা নয়, বরং প্রতিনিয়ত আরো ভালো করে বাঁচার উদ্দেশ্যে প্রকৃতির উপরেই ছড়ি ঘোরানোর চেস্টা করেছে, এবং আজো করছে। ফলে, এই আরো ভালো ভাবে জীবন যাপনের উদ্দেশ্যেই সমাজের পরিবর্তনের আবশ্যকতা।
১৪. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:৫৫
দিনমজুর বলেছেন:
আমি মনে করি, মানুষের মধ্যে যে জৈবিক-প্রবৃত্তিগত চাহিদা, সেটি তার ব্যক্তিগত, এবং সেটি পশুরও আছে- এবং এটির দিক দিয়ে পশুর সাথে তার অমিল নেই। অমিলের জায়গা হলো- তার মস্তিস্কে, যে মস্তিস্কের কল্যাণে সে সমাজ গঠন করেছে, এবং এই সমাজকে ধীরে বিকশিত করেছে। মানুষ পশুর মত শুধুই নিজের জৈবিক-প্রবৃত্তিগত চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত থাকলে, বা আত্মকেন্দ্রিকতায় লিপ্ত থাকলে- আজকের সমস্ত অর্জন গুলো আমরা পেতাম না- সেদিক দিয়ে বলা যেতে পারে, মানুষ সমষ্টিগতভাবেই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে, এবং মানুষের ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা বা আত্মকেন্দ্রিকতা সর্বদাই সমাজের অগ্রসরতাকে বাঁধা গ্রস্ত করেছে।

১৫. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:০১
মুকুল বলেছেন: সময় করে পোস্টটা পড়তে হবে! দারুণ আলোচনা হচ্ছে দেখছি।
১৬. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:০২
মুকুল বলেছেন: এই আলোচনায় জামাল ভাস্কর ভাই ও দারুণ সংযোজন করতে পারেন।
১৭. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৪৪
অমলকান্তি বলেছেন: খুবই পুরনো বিতর্ক কিন্তু সবসময় নতুন হয়ে ধরা দেয়। আবার অবতারনা করার জন্য লেখককে ধন্যবাদ।

স্ব. তু:লেখকের লিখার মধ্যে অনেক সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে।
আমরও তাই মনে হয়েছে।

যাইহোক এরকম একটা বিষয়ে আলোচনা ধীরে এগুলে সবার জন্যই সুবিধা হয় বলে মনে করি। আমি মাঝে মাঝে প্রশ্ন করে আমার কনফিউশান গুলো দুর করার চেষ্টা করব, কারন সেটাকেই আমার সিদ্ধান্তে উপনীত হবার সঠিক পন্থা বলে মনে হয়।

লেখক বলেছেনঃ"পুঁজিবাদ বলি আর সমাজবাদ বলি-মূল সমস্যা হলো আসলে ঐ করাপশানে। নীতি যতনা আমাদের ক্ষতি করে,নীতির অন্দর মহলে লুকায়িত দূর্নীতি তা করে তুলে আরো প্রকট।"

দিনমজুর বলেছেনঃ"এখন দুনিয়ায় ৮৫৪ মিলিয়ন মানুষের হাতে ঠিক ভাবে দুটো রুটি কেনারও পয়সা নেই, আর- এক ওয়ারেন বুফেট এক বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার আয় করে- বিল গেটসকে টপকে গিয়ে সেরা ধনী হয়!!"

এখন আমার প্রশ্ন হল: দিনমাজুরের ভাষ্য মতে(যদি সত্য হয়)৮৫৪মিলিয়ন মানুষ আর ১জন ওয়ারেন বুফেটের মধ্যে সম্পদের যে আকাশ পাতাল পার্থক্য সেটা কি শুধু দূর্ণীতির জন্যই? নীতি কি এখানে শুধুই নারায়ণের ভুমিকা পালন করছে?
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ১০:২৩

লেখক বলেছেন: জ্বিনা, নারায়নের কাঁধে যখন ক্ষমতার আর লোভের দৈত্য ভর করে তখন সে শুধু দ্রোপদির বস্ত্র হরন করে।

১৮. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৫১
দিনমজুর বলেছেন:
এবারে বিভিন্ন প্রায়োগিক আলোচনায় আসি.......

রুটি বন্টন নিয়ে যে আলোচনা করেছেন- সেখানে দুটি বিষয় প্রধানত এসেছে:
১। আমার উৎপাদিত রুটি আমার। সেটির ভাগ আমি কাউকে দিতে রাজি নই। অথচ- সমাজতন্ত্রে সেই অধিকার কেড়ে নেয়া হয়।
২। সমাজতান্ত্রিক সমাজে শাসক সে রুটি দেয় কি? সোভিয়েত ইউনিয়নের উদাহরণ টেনেছেন এ প্রসঙ্গে।

দেখি কিছু বলার চেস্টা করি:

১। একটু খেয়াল করলেই বুঝার কথা- পুঁজিবাদে সে অধিকার কেড়ে নেয়া হয়, সমাজতন্ত্রে নয়। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শুধু প্রচারণাই সার- কিন্তু রুটির অধিকার কখনও উৎপাদকের থাকে না। আজ দুনিয়ার উদাহরণ দেখেন, চিত্রটি পরিস্কার হওয়ার কথা। উৎপাদনের সাথে জড়িত ক্ষেত্র ও যন্ত্রের মালিকানা মুষ্টিমেয় কয়েকজনের হাতে থাকায়- তারাই সমস্ত কিছুর অধিকর্তা হয়ে বসে। আর, সাধারণ কৃষক/চাষী, শ্রমিক রা তো কোন ছাড়!

এবারে আসি জমিতে, যেখানে রুটি উৎপাদন হওয়ার কথা। উৎপাদন করবে কৃষক, ধরলাম- নিজের জমিতে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়, আজ কি দেখি? একজন কৃষকের উৎপাদন খরচ প্রতিনিয়ত বাড়তে বাড়তে এমন একজায়গায় চলে যায় যে, আর উৎপাদিত শস্যের দামও কমে গিয়ে- সে তার উৎপাদন খরচও তুলতে পারে না। অব্যাহত লসের মুখে পড়ে, ঋণের জালে আবদ্ধ হয়ে- সে তার জমি জিরাত হারিয়ে সর্বসান্ত হয়ে পড়ে। এরপরে সে হয়ে যায় ঠিকা বা বর্গা চাষি। এবারে আরো মজা- সে উৎপাদন করবে ঠিকই- কিন্তু তার উৎপাদিত রুটির উপর কোন অধিকার থাকে না। অন্যদিকে, যারা জোতদার গোছের, বিশাল জমির মালিক, এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষির কাছ থেকে আরো জমি প্রাপ্ত হয়ে আরো বড় জমির মালিক- তাদের একসাথে লার্জ স্কেলে জমিতে আবাদের কারণে উৎপাদন খরচ কম পড়ে, একসাথে অনেক উৎপাদন হওয়াতে বাজারও তাদের হাতেই থাকে, ফলে- তাদের ক্ষেত্রে লসের সম্ভাবনা অনেক কম।

এই চিত্রের বিপরীতে যদি আরেকটি চিত্র তুলে ধরি তাহলে কেমন হয়, ধরেন- একটি গ্রামে এরকম একশ ক্ষুদ্র চাষি, তাদের জমি একত্রে চাষ করার সিদ্ধান্ত নিল, ফলে এক্ষেত্রে কি ঘটবে? একশ চাষির সম্মিলিত জমি- একটা বড় সমবায় ফার্মের রূপ নিবে, এবং এতে সেচ সহ বিভিন্ন উৎপাদন খরচও কমে যাবে, উৎপাদন বাড়বে এবং সম্মিলিত উৎপাদনের পরিমাণ বেশি হওয়াতে বাজারের উপরেও নিয়ন্ত্রণ বেশি হবে। সুতরাং এই একশ চাষির লসের সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে। এবারে বন্টনের প্রশ্ন, এক্ষেত্রে বন্টনটি হবে অনেকটা এরূপ- ঐ একশ চাষির জমির পরিমাণের অনুপাত অনুযায়ী। এখন- জমি যদি আমাদের হয়, তবে উৎপাদন কিন্তু আমার নয়- আমাদের। ফলে- তখন এটা কি কেউ বলবে আমার উৎপাদন আমি কাউকে দিব না?
এবারে আসি- জমি যদি রাষ্ট্রের হয়, এবং সেখানে সম্মিলিত উৎপাদন হয়- তবে কিভাবে বলা যেতে পারে, এটা আমার উৎপাদন? ধরুন, বাংলাদেশে যেসব খাস আবাদী জমি আছে- সেগুলোতে সরকার ভূমিহীন চাষীদের মজুরির বিনিময়ে চাষাবাদের উদ্যোগ নিলো। এখানে কি কেউ বলবে, আমার উৎপাদন? সমাজতান্ত্রিক সমাজে কি করা হয়?
এই যে, ক্ষুদ্র-প্রান্তিক-ভূমিহীন চাষিকে রাষ্ট্রের উদ্যোগে সমবায় চাষের আওতায় আনা হয়। তাহলে- সেখানে বন্টনের প্রশ্ন অবশ্যই থাকে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সমবায়ে সেটি প্রথমে হয়- মজুরি ধরণের, মানে কাজ অনুপাতে পারিশ্রমিক- এবং বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানধীন জমির সমবায়ে সেটা হয়- অংশীদারিত্ব মূলক। সেই সাথে যে কাজটি করা হয়, একজনের বিশাল জমির মালিক থাকার উপায়টি বন্ধ করে দেয়া। বড় জোতদার, জমিদার এদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়া হয়। ওদের বাড়তি জমি- রাষ্ট্রের মালিকানায় এনে সমবায়ে যুক্ত করা হয়। মনে রাখতে হবে- রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বড় বড় সমবায়ে যারা কাজ করে- তারা পায় মজুরি, ফলে- তারা কি বলবে আমার উৎপাদনের উপর অধিকার একচেটিয়া আমার? পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়ও কি যারা অন্যের জমিতে চাষ করে- তারা কি বলে- রুটির অধিকার একমাত্র উৎপাদকের?
আবার, ছোট চাষিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সমবায় করার ব্যাপারে কোন জোরজবরদস্তি করার দরকার নেই। সোভিয়েত এ যেটা হয়েছে- এ ধরণের সমবায়ের পরিমাণ বছর বছর এমনিতেই বেড়েছে। কেননা, যে কৃষক এ বছর একা চাষ করে দেখেছে- তার পাশের কৃষক সমবায়ে উৎপাদন করার কারণে- তার চেয়ে অনেক কম খরচে অনেক বেশি উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে, সেচ- সার সহ অনেক সুবিধা খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে- সে নিজে থেকেই পরের বছরে সমবায়ে যুক্ত হবে। সোভিয়েতে সেটাই হয়েছে।
১৯. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:০৮
দিনমজুর বলেছেন:
২। বন্টন কি শাসক গোষ্ঠী সঠিকভাবে করে? হুম করে। বুঝতে হবে, সমাজতান্ত্রিক সমাজে এটা করতে বাধ্য। এটা করা না গেলে- সমাজতন্ত্রই টিকতে পারে না। শাসন কার্য পরিচালনায় যারা থাকে- তাদের দুর্নীতিতে জড়ানোর সম্ভাবনা খুব কম- কারণ এখানে আপনি সম্পদের পাহাড় গড়ার কোন স্কোপ পাবেন না।

এবং কমিটমেন্ট টা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। শাসকগোষ্ঠীর কমিটমেন্টই যদি থাকে- এখানে কাউকে অভুক্ত রাখবো না- তবে সেটা তাদের করতে হয় বৈকি। সোভিয়েতের আলোচনা বিস্তারিত পরে করছি, এখানে এটুকু বলছি- যে সোভিয়েত ইউনিয়ন এমন একটি দেশ যার ওপেন ডিক্লারেশন ছিল- সেখানে কোন ভিক্ষুক, বেকার ও পতিতা নেই। এবং সেটা খুঁজে বের করাও যায়নি।

সমস্ত মানুষকে কাজ দেয়ার মধ্যেও কিন্তু বন্টন ব্যবস্থার একটা জোরালো সম্পর্ক আছে। এটাও বুঝা দরকার।

এ প্রসঙ্গে আপনার জনৈক জেলে ও মাছ ভিক্ষার গল্পটি টানা যেতে পারে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শুধু ব্যক্তি ভিক্ষুক তৈরি করে না, ভিক্ষুক রাষ্ট্রও তৈরি করে- অর্থনীতির বারোটা বাজায়। যেটি- সমাজতান্ত্রিক কাঠামোতে অসম্ভব। সোভিয়েত সেই শিশু অবস্থাতেই বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণ নিতে অস্বীকার করেছিল- এবং লেনিন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে অর্থনীতিকে গড়ার কথাই বলেছিলেন।
২০. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:২৪
দিনমজুর বলেছেন:
পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়-always rewards hard workers. অন্যদিকে Socialism punishes hard work by talking away from those who earn more.
--------------------
এটা ঠিক হলো না। বরং ঠিক উল্টোটা। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শুধুমাত্র পুরস্কৃত করা হয়- পুঁজিকে ও মুনাফাকে। আপনি নিজেই দেখুন- আপনার চারপাশের চাষিরা, শ্রমিকরা- গার্মেন্টস শ্রমিকদের দেখুন- খনি শ্রমিক- বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত শ্রমিকেরা এদের মত হার্ড ওয়ার্ক আর কে করে? আর রিওয়ার্ডেড হয় কে? তাদের মালিকেরা- পুঁজির মালিকেরা। আমাদের শ্রমিকেরা কি ন্যূনতম মজুরি পায়? সুতরাং এটা সম্পূর্ণ ভুল কথা।

এবারে সমাজতান্ত্রিক সমাজে দেখি। সেটির উদ্দেশ্যই হলো- প্রকৃতই যারা কাজ করে- উৎপাদনের সাথে যাদের সরাসরি জড়িত- তাদের জন্য একটা রাষ্ট্র ব্যবস্থা চালু করা। ফলে- এখানে হার্ড ওয়ার্কারদেরই জয়জয়কার। এখানে হার্ড ওয়ার্কারদের পানিশ দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত ও অজ্ঞতাজাত।
২১. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৩১
অমলকান্তি বলেছেন:
@দিনমজুর
ক.সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কি শাসক শ্রেনীর উপর খুব বেশী নির্ভরশীল নয়? সেক্ষেত্রে শাসকদের ব্যক্তিগত দুর্বলতা কি পুরো জনগনের ভাগ্যের উপর অনায্য প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে না?
খ.এই রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগনের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহন কিভাবে নিশ্চিত হয়?

পুজিবাদী শাসন ব্যবস্থা কখনই জনগনের অংশগ্রহন নিশ্চিত করে না সে বিষয়ে দ্বিমত নাই।
২২. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১:১২
দিনমজুর বলেছেন:
অমলকান্তি,

এখানে বুঝতে হবে- সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কিভাবে আসে? এটা আসে- সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমিক-কৃষকের অব্যাহত লড়াই-সংগ্রামের ভিতর দিয়েই, এবং শোষণ মুক্তির অঙ্গীকার নিয়েই। যেহেতু- এব্যবস্থা আনয়নের ক্ষেত্রেই শ্রমিক শ্রেণির ভূমিকাই প্রধান, সে কারণে- শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত শাসক গোষ্ঠী মূলত শ্রমিক শ্রেণিকে প্রতিনিধিত্ব করে। এবং এখানে শ্রমিক শ্রেণির পার্টির ভূমিকাও বিশাল। ফলে- এখানে ক্ষমতা দুএকজনের হাতে কুক্ষিগত হওয়ার বিষয়টি প্রচারণা মাত্র। সোভিয়েত ইউনিয়নে- বলশেভিক পার্টির অভ্যন্তরে লাখ লাখ ডেলিগেটদের মধ্যে তুমুল আলোচনা হত- তারা বিভিন্ন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভূমিকা নিতে পারতো।

এখন, এই ডেলিগেটদের তথা পার্টির বড় ভূমিকা হলো- সরাসরি শাসনব্যস্থার কেন্দ্রে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের নানারকম ব্যক্তিগত ত্রুটি-বিচ্যুতির হাত থেকে রক্ষা করার। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায়- তাই এই ত্রুটি-বিচ্যুতির সম্ভাবনাও কম। কিন্তু- সেই দুর্বলতা জনগণের ভাগ্যের উপর সরাসরি অন্যায্য প্রভাব ফেলার চেয়ে আরো বড় যে ক্ষতি করে- সেটা হলো, সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আবার পুঁজিবাদী ব্যবস্থার দিকে টার্ণ করিয়ে দেয়।

এই রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ কিভাবে নিশ্চিত হয়- এটা বলার আগে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিয়ে কিছু বলি। আজ- জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ মানে এসে দাঁড়িয়েছে- শুধু ৫ বছর পর পর ভোটের ব্যবস্থা। কিন্তু রাষ্ট্র ব্যবস্থা মানে তো- এর অর্থনীতি- এর বাজেট- এর শিক্ষানীতি- এর সংবিধান- এর শ্রম নীতি বিভিন্ন রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি। আর, এসব নীতি সম্পর্কে মতামত দিতে গেলে সবার আগে যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে শিক্ষা। সেই শিক্ষাবিস্তারে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে। সোভিয়েত ইউনিয়ন এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে সর্বপ্রথম নারী ভোটাধিকার গৃহীত হয় - সেখানে সংবিধান রচনার প্রাক্কালে খসড়া সংবিধানের ৫ কোটি কপি সাধারণ জনগণের হাতে দেয়া হয়- গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে সেই খসড়ার উপরে সমস্ত জনগণের মতামত সংগ্রহ করে তারপরে চুড়ান্ত সংবিধান গৃহীত হয়েছে, বাজেট ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার আগে জনগণের মতামত নেয়া হয়, পরেও আবার নেয়া হয়। বিভিন্ন পরিকল্পনা সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিখ্যাত পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনা প্রচারের পর- বিভিন্ন অঞ্চলে- আবার শ্রমিকেরা নিজেরা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে- নতুন করে আরেকদফা পরিকল্পনা প্রণয়ন করতো- ফলে- পরিকল্পনা প্রস্তুত শুধু এক তরফা শাসক শ্রেণির থাকতো না- তা হয়ে যেত সাধারণের। এভাবেই তো মনে করি- রাষ্ট্র ব্যবস্থায় জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ সম্ভব।
২৩. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৩
দিনমজুর বলেছেন:
আবার আসি মূল আলোচনায়-

আপনি অর্থনীতির মূল ফিলোসফি হিসাবে যে তিন পি (1.Prices, 2.Profit and loss, 3.Private property. ) এর কথা বলেছেন, সেখানে কিছু ফাঁক আছে। আপনি আলোচনা করেছেন- বর্তমান পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে সবচেয়ে জোর দেয়া হয় যেকটি ফ্যাক্টরকে সেগুলোকে অর্থনীতির মূল ফিলোসফি হিসাবে চালিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং অর্থনীতির বেসিক থেকেই কিছু আলোচনা করা দরকার মনে হচ্ছে। অর্থনীতির মূল আসলে হচ্ছে- আরেক পি- প্রোডাকশন বা উৎপাদন। এই উৎপাদনকে ঘিরে আছে- উৎপাদন যন্ত্র, উৎপাদন উদ্দেশ্য ও উৎপাদন সম্পর্ক। আর এর বাইরে হলো- উৎপাদন বিনিময়, বন্টন ও বাজারের প্রশ্ন। পুঁজিবাদী দুনিয়ায় উৎপাদন উদ্দেশ্য হলো- আপনার এক পি- প্রোফিট, এবং একে কেন্দ্র করে উৎপাদন আবর্তিত হয় ও উৎপাদন যন্ত্রের মালিকানা মুষ্টিমেয়র হাতে থাকে বিধায়- তারা উৎপাদনের মূল ফোর্স শ্রমিকের শ্রমকে আত্মসাৎ করেই মুনাফা হাতিয়ে নেয়। সুতরাং, এই প্রোফিট ও প্রোফিটেবিলিটি ম্যাক্সিমাইজ করাই মালিকের উদ্দেশ্য - ফলে যেটা হয়, সেটা হলো মুনাফার জন্য সমস্ত কিছুই করতে সে রাজী থাকে। এবং মুনাফার উদ্দেশ্যেই তখন প্রাইস বা বাজারও নির্ধারিত হয়।


এই হলো- পুজিবাদী অর্থনীতির সার সংক্ষেপ। এখন আপনার অভিযোগ হলো- সেটা সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে অস্বীকার করা হয়। এটি অভিযোগ আকারে উত্থাপন করার আগে একটু এই অর্থনীতির ফলাফলের দিকে দৃষ্টি দেয়ার দরকার বলে মনে করি। এই মুনাফা কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভয়াবহতা গোটা দুনিয়া আজ টের পাচ্ছে। সমাজতান্ত্রিক সমাজে কি করা হয়? প্রথমত, উৎপাদন উদ্দেশ্য পাল্টে ফেলার চেস্টা করা হয়। উৎপাদন উদ্দেশ্য মুনাফা থেকে হয়ে যায় মানুষের চাহিদা বা প্রয়োজন। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ উৎপাদন ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় না হওয়া পর্যন্ত সম্ভব নয়। সুতরাং মুনাফা কেন্দ্রিক উৎপাদন সাথে সাথে বন্ধ করা সম্ভব হয় না। ফলে, প্রথমে যেটা করা হয়- সেটা হলো- মুনাফার লাগামটিকে টেনে ধরা, সেটা করা হয়- লার্জ স্কেলের উৎপাদনকে রাষ্ট্রীয় আয়ত্বাধীন করা, প্রাইসিং এর উপর সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব স্থাপন করা এবং মুনাফার উপর নানাবিধ করারোপ করা।

এই কাজ অপরিহার্য। আপনি দেখবেন- পুঁজিবাদী দুনিয়ার অনেক জায়গাতেই- নীতিগত ভাবে বলা হয়- বৈষম্য দূর করার কথা, (আমাদের সংবিধানেও স্পষ্ট ভাবে এটা বলা আছে)- এই বৈষম্য দূরীকরণে রাষ্ট্র যে উদ্যোগ নেয়- সেটা হলো, রাষ্ট্রীয় বেতন কাঠামোতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনে বৈষম্য ঘুচানো; এবং করারোপ- নিম্ন আয়ে কর খুব কম এবং আয় বৃদ্ধির সাথে জিওমেট্রিকল প্রোপরশনে কর বৃদ্ধি। আজকের অনেক পুঁজিবাদী দুনিয়ায় আয়ের উপর ৬০% এর উপরেও করের ব্যবস্থাও দেখা যায় (যেমন- জার্মানি)। এখন রাষ্ট্র এই যে, কর নিয়ে আয় করে- সেটা ব্যয় করে কিভাবে? জনগণের রাষ্ট্র স্বীকৃত ফাণ্ডামেন্টাল রাইটস গুলোর নিশ্চয়তা বিধান করে। জার্মানিতে করদাতাদের জন্য চিকিৎসা সহ অনেক সুবিধাই তারা ফ্রি পায়, এমনকি কর্মহীনের জন্য আছে মাসোহারার ব্যবস্থা।

প্রাইসিং এর উপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা আজ আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি- বাজারের উপর সরকারের কেন নিয়ন্ত্রণ নেই তা নিয়ে আমরা খুব উদ্বিগ্ন। কিন্তু- মুনাফা কেন্দ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থায় সেটা প্রকৃতই কি সম্ভব?

সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ কাজটিই প্রথমে করা হয়। কিন্তু- পুঁজিবাদী দুনিয়ায় মালিক শ্রেণী, পুঁজির বিনিয়োগকারীরা যেভাবে ছাড় পেয়ে যায়- সেটা এখানে পায় না এবং রাষ্ট্র ব্যয়ের ক্ষেত্রেও পুঁজিবাদী দুনিয়ার মত মালিক পক্ষের সুবিধাটা দেখে না- এই যা পার্থক্য। যার ফলে, পুঁজির মালিকেরা কখনই লার্জ স্কেলে পুঁজির মালিক হতে পারে না, এবং লার্জ স্কেলে বিনিয়োগের সামর্থ্যও থাকে না- মনোপলিও তৈরি করতে পারে না। এই ক্ষমতা ও সামর্থ্য থাকে রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্পোদ্যোগ এখানে খুবই গুরুত্বের সাথে মেইনটেইন করা হয়- ফলে- ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীরাও প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয় রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানের সাথে। সুতরাং, মনোপলি তৈরি হয় রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানের; এবং ওয়ারেন বাফে, বিল গেটস, লক্ষী মিত্তালদের মত ব্যক্তি বিলিওনিয়ার না হয়ে রাষ্ট্রই বিলিওনিয়ার হয়। রাষ্ট্র এই সম্পদ সাধারণ মানুষের অর্থাৎ তার নাগরিকের মধ্যে বন্টন করতে প্রয়াশ পায়।
২৪. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:৩৭
দিনমজুর বলেছেন:
আমেরিকা সবচেয়ে বড় চ্যারিটি কন্ট্রিবিউটর- এই কথা স্বগৌরবে ও স্বদম্ভে প্রচার যুক্তরাষ্ট্র করে- এবং আমাদের তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো- জি জি হুজুর করি- সেই ভিক্ষার থলে এগিয়ে দিয়ে- বিগলিত বদনে সাম্রাজ্যবাদী দুনিয়ার পদলেহন করি, এতে তেমন অবাক হই না। তারপরেও যখন অর্থনীতির নাম করে- সেই কথা বলা হয় তখন চুপ থাকতে পারিনা। এই চ্যারিটি- ঋণ- দান- খয়রাত এগুলো সবই সাম্রাজ্যবাদী অর্থনীতির জন্য অবশ্য কর্তব্য- পালনীয় বিষয়, এটা বুঝতে আশা করি- অর্থনীতির অধ্যাপক হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আপনার জেলের গল্পের মোরালটা একটু দেখতে পারেন- তার চেয়েও বড় কথা, এরা এই চ্যারিটি করেই হলো দুটি কারণে- অলস পুঁজির ইউটিলাইজ ও দরিদ্রদের বায়িং ক্যাপাসিটি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে, এবং এর মধ্য দিয়ে আরেকটি উদ্দেশ্যও সাধিত হয়, সেটা হলো- ভিক্ষাগ্রহণকারীদের সম্পূর্ণ নির্ভরশীল বানানো যায়- নির্ভরশীল বানাতে পারলে- প্রতিযোগিতাও অনেক কমে যায়!!

দেখবেন- যুক্তরাষ্ট্রের এই চ্যারিটির পরেও তাদের ধনীদের সম্পদের পরিমাণ কমে না- এত চ্যারিটির পরেও তাদের হাতে দুনিয়ার ৩৭ শতাংশ সম্পদ কুক্ষিগত, ওয়ারেন দুই বছর আগে তার অর্ধেক সম্পদ ডোনেট করার ঘোষণা দেয়ার পরেও তার সম্পদ পরের বছর আরো বৃদ্ধি পায়, গত এক বছরেই ১০ বিলিয়ন ডলার বেড়ে- ৬২ বিলিয়ন ডলার হয়!!

তাহলেই বুঝুন- চ্যারিটির মাহাত্ম!!!!!!!!
২৫. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:৫৮
বিহংগ বলেছেন: আপনাকে বিনীত ধন্যবাদ,ব্যস্ত সময়ের মাঝেও আপনার যুক্তিবাদি ,চিন্তাশীল আলোচনার জন্য। যা আমাকে বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।জেনেছি, অনেক কিছু। আমি এখনো নূড়ি পাথর নিয়েই আছি।সেখান থেকে আমিও উত্তোরন চাই।কয়েকদিনের ব্যস্ততার পর যদি ফিরে আসি,আশাকরি আপনার ধৈর্য্যচ্যুতি হবেনা।
আপনার বুদ্ধিদীপ্ত আলোচনা আমার চিন্তাকে শানিত করবে প্রতিনিয়ত।
২৬. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:০৯
দিনমজুর বলেছেন:
এবারে আসি- উৎপাদন প্রশ্নে। সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালানো হয়- এই ব্যবস্থায় উৎপাদন না-কি কমে যায়! কিভাবে? এখানে যেহেতু সম বন্টন করা হয়- সেহেতু লোকের কাজের স্পৃহা কমে যায়। এই উৎপাদন ব্যবস্থায় কোন প্রতিযোগিতা নেই- সুতরাং মোটিভেশনের অভাবে উৎপাদন অনেক কমে যায়। এই ব্যবস্থায় মানুষ অলস-অকর্মন্য হয়ে ভোগ-বিলাসী জীবনে ঝুঁকে পড়ে। ...... ইত্যাদি।

আসলেই সমাজতন্ত্রে মোটিভেশনের অভাব ঘটে? আসলেই কি উৎপাদন কমে?.........

উত্তরে বলা যেতে পারে-----
প্রথমেই বলতে হবে যে, সমাজতন্ত্রে সম-বন্টনের কথাটা ভুল প্রচারণা। সাম্যবাদী সোসাইটিতে বন্টন হবে অ্যাকোর্ডিং টু নেসেসিটি, আর সমাজতান্ত্রিক সমাজে বন্টন হবে অ্যাকোর্ডিং টু লেবার, মানে শ্রম। এই শ্রমের কোয়ানটিটি ও কোয়ালিটি অনুযায়ীই বন্টন হবে। সুতরাং সম-বন্টন বিষয়টি ভুল ইনটারপ্রিটেশন। রাষ্ট্র কিছু বিষয়ে সকলের জন্য সমান অধিকার রক্ষা করবে, যেমন- নির্বিশেষে সকল শিশুরই শিক্ষার অধিকার সমানভাবে দেয়া হবে, বিভিন্ন পাবলিক সেক্টরে সমস্ত নাগরিকই সমান অনেক সুযোগ-সুবিধা পাবে, তার মানে এই নয় যে- উৎপাদনের পারিশ্রমিকও নির্বিশেষে সকলেই সমান পাবে। সমবন্টনের জন্য উৎপাদন কমে যাবে- সেটি অমূলক।

এবারে আসি- প্রতিযোগিতার প্রশ্নে। প্রথমেই প্রশ্ন কাদের প্রতিযোগিতা? ও কিসের প্রতিযোগিতা? কতসময়ের প্রতিযোগিতা?
............ বাকিটুকু পরে বলবো, এখন আবার ব্যস্ত হতে হচ্ছে...........
২৭. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:১২
বিহংগ বলেছেন: প্রিয়,
তীর্যক,
বিবর্তনবাদী,
শান্তির দেবদূত,
দিনমজুর,
ভাংগাচাঁদ,
শফিউল আলম ইমন,
স্বাধীনতা তুমি,
অনিশ্চিত,
আলী আরাফাত শান্ত,
মুকুল,
অমল কান্তি
আপনাদের আলোচনায় অংশগ্রহনের জন্য ধন্যবাদ।

২৮. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ১০:১৮
বিহংগ বলেছেন:
স্বাধীনতার জন্য মুক্তিকামী মানুষের ত্যাগকে আমরা অস্বীকার করতে পারিনা,ভাষার জন্য আমাদের ত্যাগ আমরাই বিশ্বকেই দেখিয়ে দিয়েছি,
মনুষত্যবোধের এ বিরাট অহংকার। মানুষের জন্য মাদার তেরেসা, হেলেন কিলার,মহাত্মা গান্ধির ভালোবাসা অবিস্মরনীয়।
কিন্তু আমি বলতে চেয়েছি-আমাদের সাধারন মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি কি?স্বার্থপর নই কি?

আর তা যদি না হয়, তবে সম্পদের এমন অসম বন্টন কেন?চারপাশে একটিবার দেখুন-চোখের সামনেই -দেখবেন-ক্ষুধানিবৃত্তির জন্য মানুষের কাড়াকাড়ি। বাগাড়ের মাঝে মানুষেরে এখনো ছুটতে হয় কেন-খাদ্যের জন্য।স্বাভাবিক সমীকরনে যদি ধরে নেই-আমরা সবাই পরের তরে-"প্রত্যেকে আমরা পরের তরে"তাহলে পৃথিবীর কি অন্যরুপ হতোনা। জন্মগত বৈশিষ্ট্য যদি হয় -আমার বেঁচে থাকা শুধু নিঃস্বার্থ। এ মানুষের চিরায়ত রুপ ,তবে-নীতির অন্দরে এতো দূর্নীতি হয় কেমন করে?

এবার চ্যরিটিতে আসি-
ব্যবসার পরিপূর্ন স্বচ্ছতায়, সাদা অর্থের সুনির্দিষ্ট পরিমান সরকারের কোষাগারে রেখে বিনিয়োগের চাকা সন্চালনের মাধ্যমে যদি কেউ সফলতা লাভ করে ,তাকে আমি দোষারুপ করি কেমন করে।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের রিপোর্ট -শুধুই অপরাই ৫২ মিলিয়ন চ্যারিটি করেছেন-গত ১২ মাসে আফ্রিকায় অভুক্ত জনগোষ্ঠির মাঝে। এ টাকা দারিদ্রের মাঝে কোনো বিনিয়োগ হয়নি।হয়নি কোনো মহাজনি কারবার।অপরাহ বলেন নি -দারিদ্র্যকে যাদুঘরে পাঠাবার কথা।শুধুই যতুটুকু পারছেন-চ্যারিটি করে যাচ্ছেন।এটাকে কি,আমার এপ্রিশিয়েট করবোনা।

ফ্রি ট্রেড,বিনিয়োগ, মানুষের অংশীদারিত্ব ,মুনাফার লভ্যাংশ , বাক স্বাধীনতা ছাড়া সরকার যদি সমতার মাধ্যমে শুধু অন্ন,বস্ত্র,বাসস্থানের কথা বলে ,এবং মনে করলাম নিশ্চয়তা দেয়,তাই বলে ,এটা বলা কি বেশী হয়ে যাবে- প্রিজন ওয়ারডেনের র্জীবন সবাই গ্রহন করে নিবে।
আপনি কি মনে করেন-
১।একচ্ছত্র রাজনৈতিক আধিপত্য
২।এন্টি ফ্রিডম,
৩।ওয়েলফেয়ারের ওপর নির্ভরতা,
৪।স্বকিয়তা ,নিজস্বতার শূন্যতা, (You own nothing,while Gvt own everything),কমন গ্রাউন্ডের নামে একচেটিয়া কর্তৃত্ব সরকারের,
৫।Lets the government tell me what I can and can"t do with my money,
৬।মুক্ত বাজারের বিরোধীতা,
এসব মিছে?
আমি শুধু আমার চিন্তাকে শানিত করতে চাইছি- পুঁজিবাদী অর্থশাস্ত্রবিদদের মতো আমি বলবোনা-
socialism as a carrot to keep the donkey moving"

ধন্যবাদ।
২৯. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ১০:২০
বিহংগ বলেছেন: সরি, পুরো মন্তব্য হারিয় গেলো।
৩০. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:৩২
দিনমজুর বলেছেন:
বিহংগ,
আপনার কমেন্টে একটু পরে আসছি- আগের বক্তব্যটি পুরো করছি.....

যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছিলাম, প্রতিযোগিতা ও উৎপাদন...

আসলে- পুঁজিবাদী দুনিয়ায় অবাধ প্রতিযোগিতার কথা ব্যাপক হারে প্রচার করা হয়, বলা হয়- এখানে অবাধ প্রতিযোগিতার কারণে উৎপাদন অনেক বাড়ে, অনেক গুলো প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে- তারা মরিয়া থাকে উৎপাদন বাড়াতে- উৎপাদিত পণ্যের মান বাড়াতে, ফলে, ভোক্তারা সহজেই সস্তায় ভালো পণ্য খরিদ করতে পারে..... ইত্যাদি। কিন্তু প্রকৃতই আমরা কি দেখি?

প্রথমত আমরা কি দেখি এই প্রতিযোগিতা মূলত- মালিকের মধ্যে। কারখানার শ্রমিক কিন্তু শুধুই শ্রম দান করে- মজুরির বিনিময়ে। ফলে- প্রতিযোগিতা সমস্ত দিক দিয়ে শুধুই পুঁজির।

দ্বিতীয়ত, একটা পর্যায় পর্যন্ত প্রতিযোগিতা থাকে। তারপরে- প্রতিযোগিতার সাধারণ হারজিতের মত- এখানেও সাধারণত বড় পুঁজি- ছোট পুঁজিকে খেয়ে ফেলে, বড় সমান্তরাল পুঁজি একত্রীভুত (মার্জিং) হয়ে প্রভৃতি উপায়ে মনোপলি সৃষ্টি হয়। তখন- কিন্তু উৎপাদনের ক্ষেত্রে আর প্রতিযোগিতা থাকে না- তখন একচেটিয়া প্রতিষ্ঠানটি একাই বাঘ, একাই ভল্লুক। সুতরাং সে নিজের উৎপাদন, উৎপাদিত পণ্যের মান- ও বাজার মূল্য সমস্ত কিছুই নিজস্ব খেয়াল-খুশিমত করার এখতিয়ার রাখে- অন্য কারোরই কিছু বলার থাকে না।

তৃতীয়ত, যেসব প্রতিষ্ঠান টিকতে পারে না- সেগুলো দেউলিয়া হয়ে পথে বসে- ফলে- তার উৎপাদন হয়ে যায় বন্ধ, ফলে- উৎপাদন সে ক্ষেত্রে কমে যায়।

এবারে মোটিভেশন প্রসঙ্গে, .......... (আবারো কাজে বেড়ুতে হচ্ছে, পরে বাকিটা বলবো.. সমাজতনান্ত্রিক কাঠামোর তুলনামূলক আলোচনাটাও আসবে.....)
৩১. ১০ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ২:৩১
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
দিনমজুর বলেছেন: এখানে বুঝতে হবে- সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কিভাবে আসে? এটা আসে- সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমিক-কৃষকের অব্যাহত লড়াই-সংগ্রামের ভিতর দিয়েই, এবং শোষণ মুক্তির অঙ্গীকার নিয়েই। যেহেতু- এব্যবস্থা আনয়নের ক্ষেত্রেই শ্রমিক শ্রেণির ভূমিকাই প্রধান, সে কারণে- শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত শাসক গোষ্ঠী মূলত শ্রমিক শ্রেণিকে প্রতিনিধিত্ব করে।


ভাই দিনমজুর,
লেলিন, স্ট্যালিন, ক্রুশচেভ, ব্রেজনেভ, এন্ড্রুপভ, চেরনেনকো, গর্বাচেভ সিপিএসইউ-র পার্টির প্রধান নেতা ছিল, এরা কখন এবং কোন কোন কারখানার শ্রমিক ছিল, দয়া করে বলবেন কি?
১০ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ২:৩৫

লেখক বলেছেন: গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন।

৩২. ১২ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৫৮
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
লেখক বলেছেন: কারন-পুঁজিবাদের অবরুদ্ধ কারাগারের শৃংখল থেকে সমাজতন্ত্রের যে সাম্যতা বিধানের প্রচেস্টা ,তা যতবেশী মোহনীয় ছিলো,তা মানুষের সহনীয় হয়নি।
এ ব্যর্থতাকে কেউ অস্বীকার করতে পারবেনা।


সমাজতন্ত্রের মধ্যে সাম্যতার কোনই বক্ত্যব নেই, এমন কি সমাজ থেকে শ্রেনী বিভক্তি দূরীকরনেরও কোন আভাস নেই। যদিও কমিউনিস্ট মেনুফেটোতে কার্ল মার্কস বলেছিলেন "প্রোলেতারিয়ান (শ্রমিক শ্রেনী) বিপ্লবের মাধ্যমে বর্জুয়া সমাজ ব্যাবস্থা নিক্ষিপ্ত হবে এবং শ্রেনী বিহীন ও স্টেটলেস সমাজ আসবে এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তির অবলুপ্তি ঘটবে"। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে বলতে পারি প্রোলেতারিয়েত শব্দেটি ব্যবহারের দ্বারা কার্ল মার্কস বরঞ্চ শ্রেনী বিভক্তির সমাজকে প্রতিষ্ঠিত করেছে আরও পাকাপোক্ত ভাবে। আর যে সমাজে শ্রেনী বিভক্তি থাকে সে সমাজ ব্যবস্থা কোনদিনই সাম্যতার সমাজ হতে পারে না। যদি লক্ষ্য হয় শ্রেনী বিভক্তি মুক্ত সমাজ ব্যবস্থার, তাহলে কর্মসূচী হতে হবে দাসত্ব মুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে, কখনই না শ্রেনী বিভক্তির ভারসাম্য রক্ষার। আর সমাজতন্ত্র হচ্ছে শ্রেনী বিভক্তির ভারসাম্য রক্ষা করার একটি সমাজ ব্যবস্থা মাত্র। ফলে এইরূপ সমাজ ব্যবস্থাতেও নৈরাশ্য বিরাজ থাকবে এতে কোন সন্দেহ নাই।
৩৩. ১৪ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:২৬
দিনমজুর বলেছেন:
আরেকটি প্রচারণা ব্যাপক ভাবে চালানো হয় যে, পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে কাজের মোটিভেশন থাকে প্রচুর- যেটি সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় থাকে না। উদাহরণ হিসাবে দেখানো হয়- বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজের অবস্থা। সেই একই প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় বা প্রাইভেটাইজ করলেই দেখা যায়- আগের তুলনায়, কর্মীদের কর্ম উদ্দীপনা অনেক বৃদ্ধি পায়- যে সরকারি প্রতিষ্ঠান অব্যাহত লসের মুখে ছিল- সেই প্রতিষ্ঠানই প্রাইভেটাইজ করার সাথে সাথে দুর্নীতি নির্মূল হয়, কর্মীদের কাজের পরিবেশ অনেক সিস্টেমেটিক হয় এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। সরকারী চাকুরিতে কোন পেশাদারিত্ব নেই, কোন জবাবদিহিতা নেই, সেখানে ইচ্ছামত ফাঁকিবাজি করা যায়, কথায় বলে 'সরকারি মাল তো দরিয়া ছে ঢাল'। আর অন্যদিকে- প্রাইভেট কোম্পানিতে মালিক পক্ষ বা পুঁজি লগ্নিকারী কখনই চায় না- তার উৎপাদন কম হোক বা কারবার লসে পড়ুক, ফলে, সে বাধ্য পেশাদারিত্ব আনতে- এবং জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হয়- সুতরাং কর্মীরাও ফাঁকি দিতে পারে না- কেননা এখানে যেমন ভালো কাজে পুরস্কৃত করা হয়, তেমনি খারাপ কাজে যেকোন মুহুর্তে চাকুরিও চলে যেতে পারে- সুতরাং তারা ফাঁকি দিতে পারে না।
সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায়- যেহেতু অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তথা সরকারী- ফলে, সেখানে কর্মরতরা একধরণের মোটিভেশনের অভাবে ভোগে- ফলে, উৎপাদন ব্যাপক হারে কমে যায়।

==========>

এই ধরণের প্রচারণায়, আমরা সহজেই বিভ্রান্ত হই। কিন্তু এখানে প্রথমেই আমরা ভুলে যাই যে, পুঁজিবাদী ব্যবস্থার রাষ্ট্রায়ত্ব বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কিন্তু আমরা তুলনা করে ফেলেছি- সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানের। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে শাসক গোষ্ঠী যেহেতু বুর্জুয়া শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করে- সেহেতু, রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গীতেই বুর্জোয়া শ্রেণীর লাভালাভের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। এই শ্রেণীটি তার পুঁজি খাটানোর জন্য উপযোগী ব্যবস্থা তৈরি করতে বাধ্য করে সরকারকে। তাদের পুঁজি খাটানোর জন্য দরকার মুক্ত একটি পরিবেশ, এবং সরকারী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হওয়াটা তারা খুবই অপছন্দ করে, সেকারণেই সরকারী প্রতিষ্ঠানকে নানাভাবে সরকারকে দিয়ে অথর্ব করে রাখতে তারা পছন্দ করে। সেকাজটিই পুঁজিবাদী সরকারগুলো করে। আদমজী, মংলা বন্দর এসবকে অলাভজনক ও লসের খাতে ফেলে মেরে ফেলার দায় সম্পূর্ণটাই শাসক গোষ্ঠীর এটা বুঝতে হবে আগে।

দ্বিতীয়ত, এটা বুঝতে হবে যে, উপরোক্ত প্রচারণার মধ্যেই আছে- সমস্যাটির মূল কারণ তথা সমাধানের উপায়। মূল কারণ বলতে আমি বুঝাচ্ছি- পেশাদারিত্বের অভাব, জবাবদিহিতার অভাব, ফাঁকিবাজির প্রবণতা, দুর্নীতি প্রভৃতি। দুনিয়ার অসংখ্য দেশের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে, যেখানে রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানে এই জবাবদিহিতা, পেশাদারিত্ব আনয়ন সম্ভব হয়েছে। আমাদের দেশেও উদাহরণ আছে- অনেক সরকারী প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পরিচালিত হয়েছে। সুতরাং এটা নির্ভর করছে সরকার ব্যবস্থারই উপরে যে, সরকার তার অধিনস্ত প্রতিষ্ঠান গুলোতে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা নিশ্চিৎ করবে কি-না।

তৃতীয়ত, অসংখ্য রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান থাকে- যেটির উদ্দেশ্য জনগণের নানা সেবা প্রদান করা। এই সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যেও অনেক সময়, সে প্রতিষ্ঠান লসের মুখে পড়তে পারে, কিন্তু সেটিকেও শাসকগোষ্ঠী ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার করে- এটির প্রাইভেটাইজেশনের দিকে এগুতে থাকে।

চতুর্থত, মোটিভেশনের পেছনে পুঁজিবাদী দুনিয়া যে মূলা ঝুলায় সেটি হলো প্রতিযোগিতা, পুরস্কারের ব্যবস্থা তথা আর্থিক সুবিধা প্রদান প্রভৃতি। প্রতিযোগিতার বিষয়ে আগেই বলেছি। এবারে আসি আর্থিক সুবিধা বা পুরস্কৃত করার মূলার বিষয়ে। পুঁজিবাদী দুনিয়ায় মানুষের চাহিদার ঘোড়াকে সবসময়ই লাগামহীন ভাবে উর্ধমুখী রাখা হয় নানা আয়োজনে ও ব্যবস্থায়, এবং সমস্ত চাহিদা মিট আপ করতে তাকে অর্থ ব্যয় করতে হয়- ফলে সে অর্থের প্রয়োজনীয়তা সবসময়ই অনুভব করে। এই প্রয়োজনের জায়গা থেকে সে অনেকটা গৃহপালিত পশুর মত মালিক শ্রেণীর আজ্ঞাবহ হয়ে সেই মূলার লোভে পড়ে- দিনান্ত পরিশ্রম করে যা উৎপাদন করে তার ভগ্নাংশই মাত্র অর্জন করে, আর অন্যদিকে পুঁজির মালিক- মানুষের শ্রমকে শোষণ করে মুনাফার পাহাড় গড়ে তোলে। এই ক্ষুন্নিবৃত্তির উদ্দেশ্যে জীবনপাত করার লক্ষে পুঁজিবাদী দুনিয়ার যে মোটিভেশন তার ফলাফল শেষ পর্যন্ত আমরা কি দেখছি? মানুষের মধ্যে বৈষম্য দিনে দিনে বাড়তে বাড়তে আজ আকাশসম- এবং প্রতিনিয়ত তা বেড়েই চলেছে...। এবং এই মোটিভেশনের বিষয়টি সম্পূর্ণই যে ভেক তা বুঝা যায় তখন যখন- আমরা পুঁজির মালিকের আরও মুনাফার উদ্দেশ্যে বেহায়ার মত সস্তা শ্রমের পেছনে ছুটে বেড়ানো দেখি। সবই আসলে হাস্যকর রকমের প্রচারণা, এর পেছনে একটাই মন্ত্র- সেটা হলো পুঁজির মালিকের আরো মুনাফা, আরো মুনাফা.... এর বাইরে কিছুই না।

এবারে অন্য দিক থেকে বিষয়টির উপর আলো ফেলার চেস্টা করি.....

এই যে, মোটিভেশন- এই যে প্রতিযোগিতার কথা বলছি, তার উদ্দেশ্য কি? মোটিভেশন বা প্রতিযোগিতা থাকলে কি ঘটে? বলা হচ্ছে- এর কারণে উৎপাদন বাড়ে। বলা হচ্ছে- মোটিভেশন না থাকলে, এখনকার মত মরিয়া ভাব না থাকলে, এত প্রতিযোগিতা না থাকলে- উৎপাদন এত বৃদ্ধি পেত না। কিন্তু এই প্রশ্নটি সবসময় এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে যে, উৎপাদনের মূল উদ্দেশ্য কি, অর্থাৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করে লাভ কি বা কার লাভ? আজ, দুনিয়ার কৃষি উৎপাদন ক্ষমতা এমন জায়গায় যে- সেটি দিয়ে দুনিয়ার ৬০০ কোটি মানুষকে তিনবেলা খাওয়ানো কোন ব্যাপারই না। অথচ- আসল চিত্র কি? তাই যদি হয়- এই বাড়তি উৎপাদনের উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলতে হয় বৈকি। উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রতিযোগিতা, মোটিভেশন সৃষ্টি যেমন সত্য, তেমনি জ্বলজ্যান্ত সত্য এই পুঁজিবাদী দুনিয়ায়- উৎপাদনকে নষ্ট করে ফেলা। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মেট্রিক টন খাবার নষ্ট করে ফেলা হয়, এমনকি ৩০ এর দশকের গাড়ি কোম্পানির গাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্য সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলার ঘটনা এখনও আমাদের সামনে জ্বলজ্বল করে। এবং এটা আমরা সহজেই ভুলে যাই যে, পুঁজিবাদী দুনিয়া কখনই তার উৎপাদনকে এমন লেভেলে নিয়ে যেতে দেয় না যেখানে মানুষের জন্য সমস্ত কিছুই সহজ লভ্য হবে। কেননা- পণ্যের সহজলভ্যতা পণ্যের বাজারদর কমিয়ে দেয়- যা তার মুনাফার উপর ঋণাত্মক প্রভাব ফেলে। মুনাফা হাতিয়ে নেয়ার জন্য সবসময়ই বাজারে সংকট তৈরি করা দরকার, সেটিই তারা করে। সুতরাং এই উৎপাদন বৃদ্ধির যে মূলায় আমরা বিভ্রান্ত হই- সেটিও বুঝতে হবে চুড়ান্ত রকমের অপ্রয়োজনীয়, কেননা- যতই উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ুক না কেন- বর্তমান পুঁজিবাদী দুনিয়ার মোট সম্পদের ৯০% এর বেশি কুক্ষিগত হয়ে আছে মাত্র ৫% লোকের হাতে- এটাই নির্জলা ও নগ্ন সত্য- ফলে, উৎপাদন বৃদ্ধি এই মুষ্টিমেয়র সম্পদই শুধু বৃদ্ধি করতে পারে, সাধারণ মানুষের কোন উপকারেই তা আসে না!

আরেকটি কথা এখানে বলা দরকার- মানুষের উৎপাদনের ক্ষমতা সবসময়ই বেড়েছে- আজও বেড়েছে ও বাড়ছে। এটার সাথে মানুষের যুগ পরিবর্তন ও মানুষের মস্তিষ্কের উৎকর্ষতার বিষয়টি জড়িত। যুগ পরিবর্তনের কথাটি একারণে বলা দরকার যে, যুগের একটা পর্যায়ে এসে- নানাদিক থেকে মানুষের অর্জিত উৎপাদন ক্ষমতাটির যথার্থ বিকাশটিকে গলা টিপে ধরা হয়। তখন- ঐ যুগের পরিবর্তনও হয়ে যায় প্রচণ্ড কাম্য, এবং যুগের বা সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটলে মানুষের উৎপাদনের ক্ষমতাটি বিশাল পরিমাণে গতিপ্রাপ্ত হয়। সামন্তীয় সমাজ ভেঙ্গে যখন পুঁজিবাদী দুনিয়ার আবির্ভাব তখনও মানুষের উৎপাদনের ক্ষমতা অনেক গুনে বৃদ্ধি পায়। আর- আজ পুঁজিবাদের ক্ষয়ের কালে, মানুষের উৎপাদন ক্ষমতাও কিন্তু স্থবির। যতই আমরা উৎপাদনের বাহারি গল্প শুনি না কেন- মানুষের আজ যে ক্ষমতা তার কানাকড়িও কিন্তু আমরা উৎপাদন করতে পারছি না। গোটা দুনিয়াতেই আমরা একটা উৎপাদনের সংকটে ভুগছি- এবং এই সংকট দিনে দিনে আরও প্রকট হচ্ছে ও হওয়াটাই অবধারিত। এই উৎপাদন শুধু বস্তুগত না, ভাবগত উৎপাদনের দিক থেকে আমরা একটা সংকটে ভুগছি। শিল্প- সংস্কৃতি- সাহিত্য সমস্ত দিকেই আমরা ধীরে ধীরে খরার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। যেখানে উৎপাদনে কোন মুনাফার সম্ভাবনা নেই, সেখানে উৎপাদনই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আজ, বিজ্ঞানের মৌলিক আবিষ্কার কমে গিয়েছে। কেননা, দুনিয়ার মোট গবেষণা বরাদ্দের ৭০শতাংশের বেশি বরাদ্দ হয় মিলিটারি গবেষণায়। গবেষণা আজ বন্দী পুঁজির হাতে, পেটেন্টের হাতে, মুনাফার হাতে।

সুতরাং, আজও প্রয়োজন একটা পরিবর্তনের। খুবই প্রয়োজন।
৩৪. ১৪ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১৯
দিনমজুর বলেছেন:
সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কি হয়? কিভাবে লোকে মোটিভেশন পায় উৎপাদনে? প্রতিযোগিতার লেভেলটি কেমন থাকে?

প্রথমত উৎপাদন উদ্দেশ্যটি থাকে সামাজিক, ফলে সমাজের প্রয়োজনের নিমিত্তেই উৎপাদন হয়। মুনাফা যেহেতু এখানকার উৎপাদনের মূল উদ্দেশ্য নয়- সেহেতু এখানে কোন পাগলা ঘোড়াও থাকে না। কিন্তু মানুষের প্রকৃতিই হলো- সে আরো ভালো থাকতে চায়, তার জীবনকে সে ধীরে ধীরে আরো স্বাচ্ছন্দ্যময় - জীবনবোধকে আরো শানিত করতে চায়- সুতরাং সমাজতান্ত্রিক সমাজেও তারা এ কাজটি করে, এবং এখানকার উদ্দেশ্যের জায়গাটি থাকে যেহেতু সামাজিক, ফলে- এ ব্যবস্থায় তারা সামাজিক ভাবে ও সামাজিক উদ্দেশ্যেই জীবনযাত্রা ও জীবনবোধের উন্নয়ন ঘটায়- উৎপাদনের গুন-মান ও পরিমাণ বাড়ায়। এটি কেমন? একদম প্রাচীণ সমাজব্যবস্থার দিকে দেখলে উদাহরণ পাওয়া যেতে পারে। সেসময় মানুষের জীবনযাপন ছিল- আদিম গোষ্ঠীবদ্ধ, তারা ছিল সাম্যবাদী- কোন শ্রেণীবিভেদ ছিল না, তারা একত্রে খাবারের সন্ধানে বের হত, একসাথে ফলমূল সংগ্রহ করতো- পশু স্বীকার করতো, এবং একসাথে মিলেমিশে-কাড়াকাড়ি করে ভোগ করতো। এই যে যৌথ জীবনযাপন- সেটাও ছিল অনেকটা সামাজিক- এবং মানুষ সেসময় যখন তার উৎপাদনকে শানিত করেছে- সেটাও ছিল সামাজিক। অর্থাৎ যখন কোন এক বা একাধিকজন পশু স্বীকারে পাথরকে ধারালো করা শিখলো, বা পরবর্তিতে আগুন আবিস্কার করতে শিখলো, বা পরবর্তিতে প্লেইন ল্যাণ্ডে কৃষি কাজ শিখলো- তখনও এসব ছিল সামাজিক- অর্থাৎ এ সমস্ত উৎপাদনের হাতিয়ার তৈরি বা উৎপাদন বৃদ্ধি সামাজিকভাবেই ব্যবহৃত হয়েছে- তা সকলের মিলিত উপকারেই এসেছে। এটাকে বলা হচ্ছে সামাজিক উৎপাদন, এবং সামাজিক উৎপাদনের উৎকর্ষ সাধন।

সমাজতান্ত্রিক সমাজেও এই কাজটি হয়। সেখানে মানুষের ভাবনায় থাকে সমষ্টিগত উৎপাদন বৃদ্ধির কথা, সমষ্টিগত প্রয়োজনের কথা।

সেখানে মোটিভেশন কেমন থাকে এটি বলতে গেলে- প্রথমেই বলতে হয় যে, আজকের পুঁজিবাদী দুনিয়ার মানসিকতা দিয়ে মেলালে বুঝাটা একটু কঠিন। মানুষের মানসিকতা অনেকখানিই নির্ভর করে তার বেড়ে ওঠা-গড়ে ওঠার উপর। আজকেও দেখবেন যে বাচ্চাটা কোন পাড়া-মহল্লায় অনেক বাচ্চা-কাচ্চার সাথে বেড়ে ওঠে- দলবল মিলে নানা ধরণের খেলাধুলা, ক্লাব- সামাজিক কাজের মধ্যে বড় হয়, তুলনামূলক ভাবে তার স্বার্থপর হওয়ার সম্ভাবনা কম, আর যে বাচ্চাটা শহরের দালানে বন্দী হয়ে, ভিডিও গেমস আর ডিশ দেখে বেড়ে ওঠে তার মধ্যে আত্মকেন্দ্রিক হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। সুতরাং সমাজতান্ত্রিক সমাজে এই গড়ে ওঠার পরিবেশটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ, শিশুদের শিক্ষাকালীন সময়টিও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এবং এটা যেকেউ স্বীকার করবে যে, আর্থিক মোটিভেশনের তুলনায় আত্মিক মোটিভেশন অনেক অনেক বেশি কার্যকর, ও ক্ষমতাবান। কেননা, আজ পর্যন্ত মানুষের যাবতীয় বড় বড় অর্জন - তার পেছনে মূল যেটি মোটিভেশন হিসাবে কাজ করেছে- সেটি কিন্তু আর্থিক নয়। আজকের দুনিয়ায় আমরা হয়তো মাঝে মধ্যে ধন্দে পড়ে যাই, মনে হতে পারে অর্থের পেছনে ছোটার কারণেই হয়তো মানুষ এত এত কিছু জিনিস আবিষ্কার করে, এত এত জিনিস সৃষ্টি করে- কিন্তু মানুষের ইতিহাস কিন্তু সেটা বলে না; বলে নেশার কথা- তীব্র ভালোবাসার কথা, আগ্রহের কথা। আজ স্কুলের কোন প্রতিযোগিতায় কোন বাচ্চা পুরস্কার হিসাবে মেডেল পেলে সে, তার মা-বাবা মন খারাপ করে ফেলে- সেই মেডেল দিয়ে কি করবে এই ভাবনায়; হয়তো সেই মেডেলটি অবহেলায় ফেলেই দেয়; অথচ এই তো কিছুকাল আগেও কি এ অবস্থা ছিল? সেই মেডেল, সেই কাপ জয়ের জন্য এককালে তো আমরা ঠিকই প্রাণপাত করে দিতাম, মেডেল পেলে সেই গর্ব সকলকে জানানোর জন্য মেডেলটি কত যত্নে ঝুলিয়ে রাখতাম এমন জায়গায় যাতে সকলে দেখতে পায়। মানসিকতার পরিবর্তনটি ধরানোর চেস্টা করছি,..... এককালে প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য সেটিতে জেতার সম্মান, আর আজ সে উদ্দেশ্য পরিণত হয়েছে- বস্তুগত ব্যবহার্য উপাদানে। এবং এটি কখনই কাঙ্খিত ফল দিতে পারে না।

সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মোটিভেশনটি অন্যরকম। আমি নিজের একার জন্য না, আমি স্বার্থপর নই- আমি সকলের জন্য- মানুষের জন্য কাজ করছি- সকলের জন্য উৎপাদন করছি- এই মোটিভেশন এই ধারণা মানুষকে অনেক অনেক শক্তি দিতে পারে, এই মোটিভেশনে মানুষ অসাধ্য সাধন করতে পারে।


আর, প্রতিযোগিতাটি থাকে অন্যরকম- সেটি হলো অনেকটা এরকম, আমার ছোটবেলার একটা ঘটনা বলছি, ৯১ এর ঘুর্ণিঝড়ে আমরা স্কুল থেকে স্কাউটিং এর পক্ষ থেকে সারাজেলায় ত্রাণ সংগ্রহ করছিলাম সপ্তাহখানেক সময় ধরে। তিন/চারজনের গ্রুপ করে দেয়া হতো, প্রতিগ্রুপের জন্য একটা ভ্যান বরাদ্দ, সারাদিন ঘুরে ঘুরে ত্রাণ সংগ্রহ করে সন্ধ্যায় এসে জমা দেয়া হতো। আমরা বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে রীতিমত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতাম- কোন গ্রুপ কত ত্রাণ সংগ্রহ করতে পারছি- সেটি নিয়ে। আমরা প্রতি গ্রুপেই ক্লাস ফাইভ থেকে টেনের ছাত্ররা ছিলাম- প্রত্যকেই দুপুরের খাবারটা সেখান থেকে খেতাম, কিন্তু অবস্থাটা এমন- পারলে আমরা এমনও দিন গেছে- শুধু কলা খেয়েছি- কেননা, ভাত খেলে টাকা বেশি খরচ হয়ে যাবে, এবং সময় বেশি নষ্ট হবে। এবং সেই প্রতিযোগিতা এমন হতো যে, একদিন একটা গ্রুপ সবচেয়ে কম ত্রাণ সংগ্রহ করেছিল বলে কেঁদেই ফেললো- কেননা, সেদিন তারা ত্রাণ কম আসছিলো বলে দুপুরের খাবারটুকুও খেয়ে সময় নষ্ট করতে যায়নি! এখন বলি- এই প্রতিযোগিতার চেয়ে কি মনে করেন, টার্গেট অরিয়েন্টেড বেনিফিট দিয়ে প্রতিযোগিতায় কখনও বেশি কিছু অর্জন সম্ভব?

সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রতিযোগিতাটি হতো- সম্মানের লড়াইয়ের। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিভিন্ন কারখানার জন্য টার্গেট দিয়ে দেয়া হত, তারপরে আবার সেই কারখানার শ্রমিকেরা নিজেদের মত করে টার্গেট রিসাফল করে নিত, এবং এক কারখানার সাথে আরেক কারখানার, এক ইউনিটের সাথে আরেক ইউনিটের প্রতিযোগিতা হতো- কে কত বেশি উৎপাদন করতে পারে, কে কার আগে রাষ্ট্র ঘোষিত লক্ষমাত্রা অর্জন করতে পারে। আপনি যদি- সেখানকার রেলযোগাযোগ স্থাপনের ইতিহাস পড়েন- তবে বুঝতে পারবেন- কি অমানুষিক পরিশ্রম করেছে- সেই শ্রমিক শ্রেণি, কি অভূতপূর্ব মোটিভেশন ছিল সেখানে, ইউরোপীয় প্রতিনিধিকে ইস্পাত খারখানা প্রতিষ্ঠার সাম্ভব্যতা যাচাইয়ের জন্য ডাকা হয়েছিল- প্রতিনিধি দল- সেখানে ৫ বছর তো দূরের কথা ২৫বছরেও সম্ভব নয় বলে জানিয়েছিল- আর সেখানেই ৫ বছরের কম সময়ে তা প্রতিষ্ঠা করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল- বলশেভিক শ্রমিক দল। সবই ইতিহাস। আর, সেই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে সে দেশে ঘোষণা করা সম্ভব হয়েছিল- মানুষের ক্ষুন্নিবৃত্তির জন্য দৈনিক ৮ ঘন্টা অপচয় করা অহেতুক, তারা যখন উৎপাদন বাড়িয়ে একটা মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিল- তখন তারা কর্মঘন্টা নামিয়েছিল ৬ ঘন্টায়- পরবর্তি টার্গেট ছিল ৪ ঘন্টায় নিয়ে আসার, (যদিও সম্ভব হয়নি), কিন্তু তার ফল হয়েছিল অভুতপূর্ব, দলে দলে কৃষক-শ্রমিকদের সন্ধ্যায় দেখা যেত থিয়েটারে, শিল্প প্রদর্শনীতে- শুধু দর্শক হিসাবেই নয়- তারা মতামত দিত ও আলোচনায় অংশও নিত।

কর্মঘন্টা কমানোর বিষয়টি এখন অকল্পনীয়। কিন্তু মানুষের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উৎকর্ষ সাধিত হলে এটাই কিন্তু কাম্য। কিন্তু মুনাফাকেন্দ্রিক সমাজে তা হয় না, না হয়ে যেটা হয় সেটা হলো- ছাটাই। ১০ জন মানুষ আগে সপ্তাহে ৪০ ঘন্টায় যা উৎপাদন করতে পারত, তা যদি এখন ১০ জনে ৩০ ঘন্টায় করতে পারে- তবে ১০ জন সপ্তায় ৩০ ঘন্টা কাজ করবে না কেন? অথচ সেটা না হয়ে যেটা হয়- সেটা হলো- ২ জনকে ছাটাই করা হয়, ফলে বাকি ৮ জন আগের মতই সপ্তাহে ৪০ ঘন্টা করে। একরেই বিজ্ঞানকে/প্রযুক্তিকে/যন্ত্রকে মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছিল পুঁজিবাদী দুনিয়ায়।

যাহোক, সমাজতান্ত্রিক দুনিয়ায় যখন এটা বুঝা যায় যে, যন্ত্রের উৎকর্ষতা বা উৎপাদনের উৎকর্ষতা সাধন করা যদি সম্ভব হয়- তবে তাদের জীবনটাই আরো চমৎকার হতে পারে, তাদের উপর প্রকারান্তরে চাপটি কম পড়ে- সেটিই তাদের মোটিভেশন হিসাবে কাজ করে। এটাই বস্তুত বড় মোটিভেশন।
৩৫. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:০৬
দিনমজুর বলেছেন:
শিক্ষাব্যবস্থাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেছিলাম, এখন দেখি সোভিয়েত ইউনিয়নে শিক্ষাব্যবস্থাকে কিভাবে গড়িয়ে নেয়া হয়েছিল।

১৯২৯/১৯৩০ এর দিকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাশিয়া ঘুরে এসে লিখেছিলেন- "রাশিয়ার চিঠি" এবং ১৯৬৭ সালে পল্লীকবি জসীম উদ্দীন রাশিয়া থেকে এসে লিখেছিলেন "যে দেশে মানুষ বড়"। দুটি গ্রন্থেই সেখানকার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা আছে।

প্রথমে জসীম উদ্দীনের "যে দেশে মানুষ বড়" থেকে অংশ বিশেষ তুলে দিচ্ছি......

"কাল সকালে রওয়ানা হইলাম একটি পায়নিয়র সেন্টার দেখিতে। পায়নিয়র সেন্টার মানে শিশুদের আস্তানা। রাশিয়ায় এরূপ শতশত শিশুরাজত্ব আছে। ......... ফিরিবার পথে অনেক কথা ভাবিতে লাগিলাম। দেশের রাষ্ট্র সব চাইতে জোর দেয় তার ভবিষ্যৎ নাগরিকদের সংগঠনে। দুই বছর বয়স হইতেই তাহাদের শিক্ষাকার্য আরম্ভ হয়। নানা রঙের ছবি দেখাইয়া, নাচ শিখাইয়া, গান শিখাইয়া, বহু রকমের গল্প বলিয়া সুদক্ষ শিক্ষয়িত্রীদের হাতে শিশুদের প্রথম ছয়টি বৎসর কাটে। তারপর ছোটরা যায় কিণ্ডারগার্টেন স্কুলে। সেখানে যাইয়া তাহারা বইপুস্তকের শিক্ষা আরম্ভ করে। বিগত ছয় বৎসর ছবি দেখিয়া, গান শিখিয়া, গল্প শুনিয়া, দেশের ইতিহাস ভুগোলের অনেক কিছু তাহারা শিখিয়া আসিয়াছে। তাহাদের অজ্ঞাতে কখন যে বর্ণমালা শিখিয়া আসিয়াছে শিশুরাও জানে না। আট বৎসর ধরিয়া তাহারা কিণ্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষাগ্রহণ করে। সপ্তম বৎসরে শিক্ষকেরা অনুসন্ধান করেন স্কুলের শেষ করিয়া কোন শিশু কোন বিদ্যা শিখিতে চায়। যেসব শিশু বিজ্ঞান বিভাগে যাইতে চাহে তাহাদের প্রধান শিক্ষক আলাদা করিয়া রাখেন। প্রধান শিক্ষকের নির্দেশমত বিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ আসিয়া তাহাদিগকে নানা প্রশ্ন করিয়া তাহারা বিজ্ঞান পড়িবার উপযুক্ত কিনা তাহা জানিয়া লন। পরে তাঁহাদের মনোনীত ছাত্ররাই শুধু বিজ্ঞান পড়িবার সুযোগ পাইয়া থাকে। এইভাবে চিকিৎসাশাস্ত্রে, ইঞ্জিনিয়ারিং শাস্ত্রে, উড়োজাহাজ নির্মাণে, উড়োজাহাজ চালনায় নানাবিভাগের বিশেষজ্ঞরা আসিয়া স্ব স্ব বিভাগের ছাত্র নির্বাচন করিয়া যান। বিশেষজ্ঞরা যেসব ছাত্রকে নির্বাচন করেন না, তাহারা বিভিন্ন শ্রমিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করিবার উপযুক্ত হইতে আরও কিছুদিন শিক্ষাগ্রহণ করে। শিশুকাল হইতে সর্বোচ্চ শিক্ষাসোপান পর্যন্ত কোন ছাত্রকেই বেতন দিতে হয় না। তাহাদের বইপুস্তকের ব্যয়ভারও সরকারই বহন করেন। সুবিস্তীর্ণ সোভয়েত দেশ জুড়িয়া বহু রকমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জাল পাতা। শিশুকাল হইতেই শিশু যাহাতে কোন মিথ্যা কুসংষ্কার বা অন্ধগোঁড়ামি শিক্ষা না করে তাহার পাঠ্য বইগুলিতে বিশেষ সতর্কতার সহিত তেমনি বিশেষ নিবন্ধাবলী রচনা করা হয়। ..... ওদেশের শিক্ষকেরা কেমন তার একটি গল্প বলি। আমাদের দেশ হইতে যাহারা ওদেশের কোন উচ্চতর শিক্ষার জন্য যায় প্রথম ছয়মাস তাহাদিগকে রুশ-ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয়। এই ছয়মাসের মধ্যে শিক্ষকরা তাহাদিগকে রুশ-ভাষা শিখাইয়া ছাড়েন। একজন ছাত্র আমাকে বলিলেন, 'ভাইরে! শিক্ষকদের জ্বালায় গেলাম। আঠার মতো তাহারা আমাদের সঙ্গে লাগিয়া আছেন। ক্লাশে তো প্রতিদিন নানা ছবি দেখাইয়া, টেপ রেকর্ড বাজাইয়া, বই-পুস্তক পড়াইয়া শিক্ষাদান চলে। তাছাড়া আমাদের শয়নঘরে পর্যন্ত আসিয়া তাঁহারা শেখান আরম্ভ করেন। ....."
৩৬. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:১১
দিনমজুর বলেছেন:
"রাশিয়ার চিঠি" থেকে আলোচনা এবং "যে দেশে মানুষ বড়" থেকেও আরো কিছু আলোচনা পরে তুলে দিবো- এখন, আপনার গত পোস্টে উল্লেখ করা একটি বিষয়ে আলোকপাত করছি......

আপনি বলেছিলেন,

"১৯১৭ সালের বিপ্লবের পর চার বছরের মাথায় ১৯২১ সালের মধ্যে ১৪% গ্রোস উতপাদন হৃাস পায় ,যদি মেমোরী সঠিক হয়ে থাকে। মনে হয় , এই পরিসংখ্যানই লেনিনকে নতুন পরিকল্পনার দিকে এগিয়ে নেয়। আর তা হলো-NEP New Economic Policy যা ছিলো অনেকটা পুঁজিবাদ আর সমাজবাদের মিশেল। ঠিক তখন লেনিন এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের প্রাক্কালে বলেছিলেন-গনিতের মূল চারটি নিয়ম জানা মাত্র মানুষের কাছেই সমাজতান্ত্রিক এ অর্থব্যবস্থা সুফল বয়ে আনবে।এবং তাদের নিকট বোধগম্য হবে। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে তা হয়নি এবং পারেনি রাশিয়ার অর্থনীতিতে গতি সন্চালন করতে। ....."

========>
৩৭. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:৩২
দিনমজুর বলেছেন:
এখানে আপনি যে কনক্লুশন টেনেছেন, তা ঠিক নয়। রাশিয়ার অর্থনীতিতে গতি আসলেই সঞ্চালন করা সম্ভব হয়েছিল- এবং আপনি নিশ্চয়ই এটা জানেন যে, সেই গতি এমনই গতি ছিল যে- ৩০ এর দশকের গোটা দুনিয়া জুড়ে যে মহামন্দা চলেছিল- তা রাশিয়াকে স্পর্শ করতে পারেনি। ১৯২১ সালে উৎপাদন কমলেও (আপনার দেয়া ১৪% এরও বেশি কমেছিল)- ১৯২২ সালে আবার কিন্তু উৎপাদন বাড়া শুরু করে, এবং ১৯২৯ সাল নাগাদ- এই উৎপাদন - কৃষি ও শিল্প উভয়ক্ষেত্রে অনেক গুনে বৃদ্ধি পায়। এক এক করে তথ্য-উপাত্ত দিচ্ছি....... কিন্তু তার আগে কটি কথা বলা দরকার- তা হলো ১৯২১ এর উৎপাদন কমার প্রকৃত কারণ- কেননা, আপনার আলোচনায় মনে হতে পারে- সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কারণেই উৎপাদন কমেছে। এ প্রসঙ্গে ১৯১৭ থেকে ১৯২১ পর্যন্ত রাশিয়ার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণও দেয়া দরকার মনে করছি, সেটাও বলছি...... সেই সাথে নয়া অর্থনৈতিক কৌশল (NEP) নিয়েও কিছু বলবো....... এবং আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন, প্রকৃতই এই কৌশল গ্রহণের কারণে ১৯২২ এ এসে কিন্তু উৎপাদন বেড়েছে।

সুতরাং এটা বুঝবেন, সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা- সর্বদাই চেয়েছে- উৎপাদন বাড়িয়ে সমস্ত দিক দিয়ে স্বনির্ভরশীল হতে- সে উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন কৌশল তারা বিভিন্ন সময়ে গ্রহণ করেছে, এবং সেগুলো সেই রাষ্ট্র গড়তে সর্বদাই ইতিবাচক ভূমিকাই রেখেছে.......
৩৮. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪১
BangladeshCiroJibiHok বলেছেন: সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি যে মানুষকে মুক্তি দিতে পারে নি তার লাখো লাখো উদাহরণ আছে।
সমাজতন্ত্র যে কি নিদারণ ভাবে ব্যর্থ হয়েছে তার খুব ভাল উদাহরণ পূর্ব ইউরোপ।
পূর্ব ইউরোপে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির ব্যর্থতা নিয়ে একটি প্রাণবন্ত ও সুখপাঠ্য ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেন সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শে বিশ্বাসী লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।
বইটির নাম- ইতিহাসের স্বপ্নভঙ্গ
ইতিহাসকে যারা সহজ করে বুঝতে চান তারা বইটি পড়তে পারেন।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৬৩৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
কারো কারো জীবন হঠাৎ করেই বদলে যায়,
আবার কেউ জীবনের ৃণ শোধে নিজেই জীবন বদলায়।,
কারো জীবনের ফানুস কালের আকাশে সারা দিন...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই