চে ইন শপ আগোরায় পণ্য কিনে ঠকছেন ক্রেতারা একটি জিনিস কিনে, ক্রেতার ঘারে চাপছে ১০টির দাম বা যে পণ্যটি তিনি কিনলেনই না, বাড়িতে গিয়ে দেখলেন এমন পণ্যর দামও ধরা হয়েছে এমন কারসাজি বেশি হচ্ছে অভিজাত এলাকা বলে পরিচিত গুলশান ও ধানমন্ডির আগোরার বিক্রয় কেন্দ্রে।
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ক্রেতা আমার দেশ কাযালয়ে এসে এমন অভিযোগ করেছেন আবার গত দুইদিনে মগবাজার, ধানমন্ডি, মিরপুর ও গুলশানে আগোরার নিদিষ্ট ৪টি বিক্রয় কেন্দ্রে গিয়ে ক্রেতাদের সাথে কথা বলেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আগোরা কতৃপক্ষ অভিযোগ স্বীকার করে বলেছেন, 'এজন্য ক্রেতাদের দায়িত্ব হলো তার পণ্য দেখে নেয়া সেটি না করলে আগোরার কিছুই করার নেই'।
সেরা মান, সঠিক ওজন ও সাশ্রয়ী দাম এ তিন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্রেতাদের আকষ্ট করছে রহিমআফরোজ গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আগোরা। তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রাহকদের বিশ্বাসকে পুঁজি করে হরদম ঠকানো হচ্ছে নেয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা। সাধারণ বাজার থেকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫/২০ ভাগ বেশি দাম গুনতে হয় আগোরার পণ্য কিনলে। এমন অভিযোগও দীঘদিনের। তবে নতুন অভিযোগ হচ্ছে ক্রেতা যে পরিমাণ পণ্য কিনছেন, দাম ধরা হচ্ছে তার চেয়ে বেশি পণ্যের । যারা বেশি বাজার-সদাই করছেন, তারাই বেশি ঠকছেন, দিনে এরকম কয়েক শত ক্রেতাকে ঠকিয়ে আগোরা কতৃপক্ষ বাড়তি আয় করছেন মাসে কোটি টাকারও বেশি।
ক্রেতা ঠকানোর এরকম একটি ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়ে গত ২৪ মার্চ । আগোরার গুলশান পয়েন্টে জনৈক ক্রেতার কাছ থেকে বাড়তি ১ হাজার ৭৬০ টাকা বিল আদায়ের চেষ্টা করেন কাশ কাউন্টারের ক্যাশিয়ার। ক্রেতাকে যে বিল পরিশোধ করতে বলা হয়েছে, তাতে মোট বিল দেখানো হয় ৫ হাজার ৪২২ টাকা ৩৯ পয়সা ২৮টি পণ্যের বিপরীতে এ বিল দেখে অবাক হয়ে যান ক্রেতা। পরে ভালোভাবে যাচাই করে এ ক্রেতা দেখতে পান আফতাব ডেইরি ফার্মের যে ২টি চিকেন নাগেট কিনেছেন তিনি, সেখানে দাম ধরা হয়েছে ২২টির এতে মাত্র ১৭৬ টাকার প্রকৃত দামের বদলে আগোরা ধরেছে ১ হাজার ৯৩৬ টাকা
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের আগোরা থেকে চাল, ডাল, চিনি, দুধ, গরুর মাংস, সাবানসহ বেশকিছু পণ্য কিনেছিলেন সেনপাড়ার বাসিন্দা হোসাইন। তার অভিযোগ এদিন তিনি সেখান থেকে মাছ না কিনলেও বাসায় গিয়ে দেখতে পান ৩ কেজি ৬৬৫ গ্রাম দেশি রুই মাছের দাম নেয়া হয়েছে তার কাছ থেকে। টাকার অংকে ৯১৬ টাকা ২৫ পয়সা আদায় করা হয় এ ক্রেতার কাছ থেকে ।ঘন্টখানেক পর এ ক্রেতা ছুটে আসেন আগোরায়, তাকে বলা হয়, তাৎক্ষণিকভাবে কেন বিষয়টি তিনি জানালেন না? পরে অবশ্য লিখিত অভিযোগও করে যান এ ক্রেতা। তবে গতকাল পযন্ত তার কাছে আগোরা থেকে কেউ এ বিষয়ে কিছু জানতে চাননি।
গতকাল মগবাজার আগোরায় কেনাকাটা করতে এসেছিলেন রামপুরার বাসিন্দা নুরুল আমিন। তিনি জানিয়েছেন, প্রায় বছর দুয়েক আগে মগবাজারে আগোরার এ বিক্রয় কেন্দ্র চালু হয়। এরপর থেকে নিয়মিত মাছ-মাংস ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে থাকেন তিনি। এসময়ের মধ্যে একাধিকবার পণ্য কিনে বেশি দাম ধরার ঘটনা ধরা পড়েছে তার হাতে, বিষয়গুলো তিনি জানিয়েছেনও সংশ্লিষ্টদের। আগোরার নিয়মিত এই ক্রেতা অবশ্য বলেছেন, বাড়তি যে টাকা নেয়া হয় সেগুলো তাকে ফেরত দেয়া হয়েছে।
গতকাল আগোরার একই বিক্রয় কেন্দ্র থেকে ৭ হাজার ৩৬২ টাকা ৭৮ পয়সার বাজার-সদাই করেছেন বাসাবোর বাসিন্দা মুস্তাফিজুর রহমান। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, যে পরিমাণ বাজার করেছেন তার সাথে দামের মিল আছে কিনা ? জবাবে তিনি বলেন, পরিমাণ বেশি হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে হিসাব ঠিক আছে কিনা তা যাচাই সম্ভব হয় নাই বাড়িতে গিয়েও কখনোই তিনি হিসাব মিলিয়ে দেখেন না বলে জানান পেশায় ঠিকাদার এ ক্রেতা।
ধানমন্ডির রাইফেল স্কয়ারের আগোরায় গিয়ে কথা হয় ক্রিসেন্ট রোডের বাসিন্দা উম্মে সালমা পারভীনের সাথে তার অভিযোগ, গত এক বছরে একাধিকবার যেমন বাড়তি পণ্যের দাম আদায় করা হয়েছে, তেমনি পরিমাণে কম দেয়া বা এক মাছের বদলে অন্য মাছ দেয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে তার হাতে। চাকরিজীবী পারভীন জানান, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার ঠিক আগের দিন তিনি আগোরা থেকে বড় দেশি কাতলা মাছ কিনেন, এজন্য ১ হাজার ২৪৫ টাকার মতো বিল আসে তার কিন্তু বাসায় গিয়ে কাতলার প্যাকেট বলতে আর কিছু পাননি পেয়েছেন সরপুঁটি । পরদিন বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার কারণে এ বিষয়টি জানাতেও পারেননি আগোরা কতৃপক্ষকে। আগোরার বিরুদ্ধেআরো অভিযোগ হচ্ছে সেখানে যেসব পণ্য বিক্রি হয়, সেগুলোর দাম সাধারণ বাজার থেকে অন্তত ১৫/২০ শতাংশ বেশি।
এসব বিষয় নিয়ে গতকাল আগোরার প্রধান কাযালয়ে গিয়ে কথা হয় রহিমআফরোজের গ্রুপ ডাইরেক্টর নিয়াজ রহিমের সাথে তিনি বলেন, শতকরা ৫ থেকে ১০ ভাগ ক্রেতার বেলায় ছোটখাট ভুলত্রুটি হয়ে থাকে, যাকে তিনি ব্যাখা করেন 'ফিঙ্গার সমস্যা হিসেবে' তবে তিনি বলেন, ক্রেতাদেরও দায়িত্ব আছে, তারা কি কিনছেন এবং কত দাম দিচ্ছেন সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করে নেয়া। নিয়াজ রহিম বলেন, আগোরার প্রতিটি বিক্রয় কেন্দ্রে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার পণ্য বিক্রি হয়। ফলে ভুল থাকতেই পারে। দাম বেশি নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজারের সবচেয়ে ভালো পণ্যটি বিকি হয় আগোরায়। একারণে ক্রেতাকে বেশি দাম দিয়েই আগোরা থেকে পণ্য কিনতে হবে। আপনারা তো নিজেরা কোনো পণ্য উৎপাদন করে বিক্রি করছেন না, তাহলে কি করে সে পণ্যের মান নিশ্চিত হচ্ছেন-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যাদের কাছ থেকে আগোরা পণ্য কিনছে তাদের ভালো পণ্য দিতে বলা হয়ে থাকে। আগোরায় রূপচাঁদা ব্রান্ডের যে সয়াবিন বিক্রি হয়, বাইরেও একই সয়াবিন বিক্রি হয়, তবে কি করে সেরা পণ্য হলো সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কি আগোরার জন্য আলাদা পণ্য তৈরি করেন? এমন প্রশ্ন রাখা হলে নিয়াজ রহিম বলেন, তেলের ক্ষেত্রে এমনটা হয় না তবে শাকসবজি বা মাছ-মাংস আগোরায় সবচেয়ে ভালো মানেরই বিক্রি হয়।
গতকাল সরেজমিন মিরপুরের আগোরায় দিয়ে দেখা যায়, সেখানে যেসব পাকা পেঁপে বিক্রির জন্য রাখা আছে সেগুলো প্রায় খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়েছে পেঁপের উপরের অংশে সাঁতসেঁতে । ক্রেতা সেজে এর কারণ জানতে চাইলে এক বিক্রয় কমী জানালেন, 'সার পেঁপে নেয়ার দরকার নেই এসব পেঁপে কয়েক দিন আগের কেনা '
গতকাল এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আগোরার হেড সোসিং অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট নিজাম চৌধুরী বলেন, আমরা লন্ডন থেকে একটি মেডিসিন নিয়ে আসি এ মেডিসিন দিয়ে ফল বা শাকসবজি পরিস্কার করা হয়। এতে এসব পণ্য জীবাণুমুক্ত হয়ে যায়। তবে নষ্ট পণ্যবিকি হওয়ার কথা নয় বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানান।
আগোরার ওপর এ অনুসান থেকে যে চিত্র পাওয়া গেছে তা চেইন শপের নেতাদের জন্য খারাপ খবর। তাই এসব চেইন শপ থেকে পণ্য কিনতে ক্রেতারা সাবধান!-----
(সৈয়দ মিজানুর রহমান- আমার দেশ)
১.আমরা সাধারন মানুষ আর কত প্রতারিত হব ?
২.আমাদের দায়িত্ব কে কেউ নেবে না ?
৩. এ কোন দিকে যাচ্ছি আমরা ?
৪. এদের এইসব অন্যায়ের প্রতিবাদ কি আমরা করব না ?
কষ্ট লাগে বাংলাদেশ তোমার জন্য

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



