somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২৮ অক্টোবররে খুনরিাই মানবতা বরিোধী

২৮ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কয়টি ঘটনা মানুষের হৃদয়কে খান খান করে দেয় তার একটি হলো ২৮অক্টোবর ২০০৬ এর সেই লগি বৈঠার তান্ডবের অমানবিক দৃশ্যটি। একটি মানুষকে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার পর তার উপর লাপিয়ে লাপিয়ে উল্লাস করার ঘটনা মানুষ নামের কোন প্রাণী সমর্থন করতে পারেনা। হায়রে আমাদের মানবিকতা। কেউ কেউ নীতি নৈতিকতা সততা শিক্ষার অভাবে হিংস্র হতেই পারে কিন্তু অন্যান্য হাজারো জনতা তাদেরকে বাধা দেয়ার চেষ্টা না করে সবাই মিলে উল্লাস করে, প্রতিযোগীতার মত নির্বিচারে পিটাচ্ছে আর পিটাচ্ছে। এমনকি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নৃত্য করার মত চরম অমানবিক কাজটিও করছে অবলীলায়। আর লাশের উপর লাথি মারার কাজটিতো তাদের জন্য যেন অতিস্বাভাবিক। হায়রে মানুষ! একজন মানুষ কিভাবে এহেন জঘন্য কাজ করে তা মাথায় আসেনা। শুনেছি স্বাধীনতা পরবর্তীতেও অনেক নিরপরাধ মানুষকে আদর্শিক কারনে কবরের মধ্যে জীবন্ত ফেলে তার উপর সাবল মেরে মেরে হত্যা করা হয়েছে। তাদের আত্মচিৎকার শুনে হত্যাকারীরা উল্লাস করে ওঠতো। সেই বর্বর লোকদের উত্তরসুরীরাই সেদিন লাশের উপর লাথি মেরে নৃত্য করেছে।

দিনে দুপুরে শতশত ক্যামেরা আর হাজার হাজার মানুষের সামনে দেখাগেল প্রকাশ্যে গুলি ছুঁড়ছে। এই অস্ত্র ধারী সন্ত্রাসীদের কেন গ্রেফতার করা হয়নি। গুলির আঘাতে কয়েকজনের মাথা বুক হাত পা ঝাঁজরা হয়ে গেছে। লগিবৈঠা দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে মাথা কয়েক খন্ড করা হয়েছে, এমনকি মাথার একাংশ ঝুলে গেছে, মাথা পেটে মগজ পর্যন্ত বেরিয়ে গেছে। সমস্ত শরীরে মারাত্মক জখম এবং হাত পায়ের হাঁড় ভেঙ্গে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। নির্মম আঘাতে অনেকের চেহারাও বিকৃত হয়ে গেছে। অনেকের দাঁত পড়ে গেছে। বাঁচাও বাঁচাও চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে গেলেও হায়েনাদের হৃদয় একটুও গলেনি। খন্ড বিখন্ড হয়েগেছে রেজাউল করিমের বাম পায়ের হাঁড়। আঘাতের কারনে অনেকটা স্থায়ী রোগী হয়ে গেলেন মজিবুর রহমান মঞ্জু। গোলাম কিবরিয়া শিপনকে হাত ধরে পাল্স পরীক্ষা করে মুখ লড়ে ওঠায় বাঁশের মাথা দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে দাঁতগুলোকে মাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলো। কোন মানুষ নামের জীবের পক্ষে কি করে সম্ভব? মাসুমকে ইটের আঘাতে মাথার ভিতর ইটের টুকরা ঢুকে তার মগজকে এবড়ো থেবড়ো করে দিলে জ্ঞান হারানো মাসুম তিনদিন পর জঘন্য পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। মুজাহিদ এবং জসিমকে বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে রাস্তার সাথে মিশে দেয়, আধমরা করে আবার দাঁড় করানো হয়, আবার পিটাতে পিটাতে মাটিতো শুয়ে যায়, আবার উঠায় আবার পিটায়। হায়রো! মানবতা, হায়রে! মানুষ, হায়রে! রাজনৈতিক কর্মসূচী। সিদ্দিরগঞ্জে লগি বৈঠার আঘাত থেকে ভাইকে বাঁচাতে ভাইয়ের গায়ের উপর শুয়ে পড়লে হায়েনাদের আঘাতে আঘাতে সবাইকে ছেড়ে চলে যায় বাবা হারা পরিবারের দায়িত্বে থাকা আব্দুল্যাহ আল ফয়সাল। যারা মাত্র ২দিনে ২৬জন জীবন্ত মানুষকে এমন নির্মমভাবে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করলো তারা কি মানুষ নাকি পশু, আর যারা এহেন কাজের নির্দেশ দিয়েছিল এবং পক্ষ নিয়েছিল তারা কি? ওরা আসলে মানুষের চেহারায় হিংস্র জানোয়ার, ওরা খুনি, ওরা হায়েনা, ওরা রক্তপিপাসু। এরাই প্রকৃত মানবতাবিরোধী।

তবে সেদিন বাংলাদেশের ডান বাম সকল বড় বড় সাংবাদিক বুদ্ধিজীবি রাজনীতিবিদ আইনজীবিরা ঐ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছিলেন এবং বিচারও দাবী করেন। শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো পৃথিবীতে সেদিনের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান সহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ নিন্দা জানিয়েছেন। কিন্তু আমাদের দেশের জননেত্রী কর্মসুচী সফল করায় কর্মীবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কি জঘন্য বিভিন্ন চ্যানেলে সেই দৃশ্য দেখানোর পর অনেক শিশু ভয়ে কাঁদতে থাকেলে অভিবাবকরা টিভি বন্ধ করে দেয় শিশুরা যেন এই বর্বর দৃশ্য দেখতে না পারে। আমেরিকার নিউইয়র্ক সিটির রয়টার ভবনের উপরে নির্মিত বৃহৎ টিভি স্ক্রীনে যখন ঐ পাশবিক দৃশ্য বারবার দেখানো হচ্ছিল তখন এই জঘন্য, বর্বর, নৃশংস, ভয়াবহ, নির্মম, পাশবিক, অমানবিক ও বিবৎস দৃশ্য দেখে বিশ্ববাসী লজ্জায় মুখ ঢাকলো।

সেদিনের টিভি ফুটেজ দেখলে স্পষ্ট দেখা যায় সেদিনের সেই গুলি বর্ষন ও লগিবৈঠার তান্ডবের নেতৃত্বে ছিলেন ডাঃ ইকবাল ও হাজী সেলিম। আসলে আওয়ামীদের চরিতত্রই এমন। তারা ক্ষমতায় থাকলেও হত্যা সন্ত্রাস করে আর নাথাকলেও সন্ত্রাসই তাদের চরিত্র। ২০০১ সালে ডাঃ ইকবালের উপস্থিতি ও নির্দেশে ৪জনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করার সেই ঘটনা আজও দেশবাসীর মনে আছে। এছাড়া তাদের ৭১-৭৪ আমলে ৩৭,০০০ নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে, লুট করা হয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ, জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে হাজার হাজার বাড়ী ঘর। সেই বাকশালী চরিত্র যখন মানুষ ভুলতে বসেছে তখনই ৯৬-২০০১ আমলে প্রায় ২০,০০০ মানুষকে হত্যাসহ ধর্ষন চাঁদাবাজী দখলদারিত্ব এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশওজাতিকে চরম কষ্ট দিয়েছিল। ২৮অক্টোবর দেশব্যাপী যে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় তা আওয়ামীলীগের চরিত্রেরই ধারাবাহিকতা মাত্র। সেই অমানবিক ঘটনার পর একটি পত্রিকায় লগি বৈঠাধারীদেরকে নিরিহ জনতা বলে উল্লেখ করায় বুঝলাম মানুষের চেহারায় কিছু অমানুষ পৃথিবীতে সবসময়ই থাকে।

আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সেদিন ঢাকা সহ সারাদেশে লগি বৈঠা দিয়ে যে চরম তান্ডব চালিয়েছে তা বাংলাদেশের মানুষের মনথেকে মুছে যেতে অনেকদিন লাগবে। কিন্তু আগামী প্রজন্মেকে অবশ্যই আওয়ামীলীগের এই জঘন্য চরিত্রের বিষয়টি জানিয়ে দিতে হবে। যেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদেরকে ধিক্কার জানায়। তা নাহলে আগামী প্রজন্ম আওয়ামীদের হটকারী চরিত্র বুঝতে পারবেনা। ২৮অক্টোবরের জঘন্য ঘটনার প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সরকারের পক্ষথেকেও তা বলা হয়েছে। ২৮ অক্টেবরের শহীদদের রক্ত সাগরের ঢেউ বাংলাদেশের ৩৬ বছরের হত্যা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী সহ অপকর্মের কালিমাকে কিছুটা ধুয়েদিয়ে দেশ আজ রাহুর কবল থেকে মুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সুতরাং ২৮ অক্টোবরকে ‘ লগি বৈঠার তান্ডব দিবস ’ হিসাবে পালন করে আগামী প্রজন্মকে সতর্ক করে দিতে হবে। যারা ঘটনার নির্দেশ দিয়েছে, নেতুত্ব দিয়েছে, তান্ডব চালিয়েছে তাদের সবাইকে দ্রুত কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পুরো পৃথিবীর মানুষের সামনে এতগুলো মানব সন্তানকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করার বিচার যদি না হয় তাহলে কোন ঘটনার বিচার হবে। কার বিচার হবে। তাহলে বিচার বিভাগইবা কিজন্য। রাজনৈতিক ঘটনা বলে এই মামলাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে যা পৃথিবীবাসীর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। খুনী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করে তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করবে। অবশেষে শহীদ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে শেষ করছি। মহান আল্লাহ শহীদদেরকে জান্নাতের সর্বোচ্ছ মর্যাদা দান করুন। আমিন।


লেখকঃ মানবাদিকার কর্মী
২২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×