somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গাদ্দাফির ৩০ কুমারী দেহরক্ষী

২২ শে অক্টোবর, ২০১১ সকাল ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




গাদ্দাফি নামটা শুনলে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক স্বৈর শাসকের প্রতিচ্ছবি। কেননা তিনি যে স্টিমরোলার চালিয়ে দেশটা শাসন করে গিয়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

মনটা শক্ত হলেও তার ভেতরটা যে বেশ দুর্বল ছিল তা অনেকেই ভেবে থাকতে পারেন। সেটা স্বাভাবিক। কেননা নারীর প্রতি তার দুর্বল চিত্তটা বেশ ভালভাবেই প্রকাশ পেয়েছে সবার কাছে।

আর তাই স্পষ্টভাবে বলা চলে- তিনি সবার চোখে ধূলা দিতে নিয়োগ দিয়েছিলেন কুমারী দেহরক্ষী। তাও আবার একজন বা দু’জন নয়- একেবারে তিরিশ সশস্ত্র নারী দেহরক্ষী। আর তারা ছিলেন স্রেফ কুমারী।

আর এই নারী দেহরক্ষী হিসেবে বেছে নেওয়া হতো আকর্ষণীয় সুঠাম দেহের কুমারীদের। অর্থাৎ এক কথায় যাকে চোখে দেখামাত্র সহজে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া যেত না এমনটাই বেছে নেওয়া হতো।

তবে অনেকে বলে থাকেন তিনি- আবার কোন পুরুষের ওপর বিশ্বাস বা আস্থা রাখতে পারতেন না। তাই তিনি নারী দেহরক্ষী বেছে নিয়েছিলেন। নিজেই তো জবরদস্তিভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন।

তবে আকর্ষণীয় ও সুঠাম দেহের কুমারী দেহরক্ষী নিয়োগ নিয়ে কেউ কোনদিন তার কাছে কোন প্রশ্ন করেননি বা তিনিও এ নিয়ে কোন মন্তব্য করেছেন বলে এমনটাও শোনা যায়নি।

যাইহোক, এটা গাদ্দাফিই ভাল জানতেন যে, কি কারণে তিনি কুমারী দেহরক্ষী বেছে নিয়েছিলেন। তবে ১৯৯৮ সালে গাদ্দাফি যখন আক্রান্ত হন তখন তাকে রক্ষা করতে এক কুমারী দেহরক্ষী কোন দ্বিধা না করেই জীবনটা বিলিয়ে দিয়েছিলেন।

আক্রমনকারীদের বুলেটে দেহ ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিল ওই কুমারী দেহরক্ষীর আর আহত হয়েছিলেন অপর দুই দেহরক্ষী। ১৯৭০ সাল থেকেই গাদ্দাফি ভরসা রাখতেন ৩০ কুমারী সশস্ত্র দেহরক্ষীর ওপর।

নিয়োগের সময় প্রত্যেক কুমারীকে দিতে হতো সতীত্ব রক্ষার শপথ। শুধু তাই নয়- তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ কেমন হবে তাও বাছাই করে দিতেন গাদ্দাফিই।

দেহরক্ষীদের প্রত্যেককে পরতে হতো সেনা পোশাক। চুল রাখতে হত কফি রংয়ের। প্রত্যেককে হাতে নেল পলিশ করা ছিল বাধ্যতামূলক।

এক কথায় বলা যায়- দেহরক্ষীদের শুধু সশস্ত্রই নয়- অঙ্গসজ্জা করে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠা ছিল নিয়োগ শর্তের অন্যতম শর্ত।

সে কারণে স্বৈর শাসক হয়েও গাদ্দাফি তার সুন্দরী কুমারী দেহরক্ষী বাহিনীর পোশাকি নাম দিয়েছিলেন ‘আমাজনিয়ান গার্ড।’

একবার ফ্রান্স সরকারের আতিথ্য গ্রহণ করে সেদেশে বেড়াতে যান মুয়াম্মার গাদ্দাফি। সময়টা ছিল ২০০৭ সালের ১১ ডিসেম্বর। সারকোজি সরকারের আমন্ত্রণে সরকারী সফরে যান তিনি।

সঙ্গে নিয়েছিলেন সুদৃশ্য ৫টি বিমান, একটি উট, একটি তাবু এবং যথারীতি ৩০ কুমারী সশস্ত্র দেহরক্ষী। মুয়াম্মার গাদ্দাফি প্রটোকল ভেঙ্গে প্যারিসে বসে মরুভুমির স্বাদ পেতে এমন ব্যবস্থাটাই করেছিলেন।

তবে এতো কিছুর পরে এসেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি তিনি। যারা এক সময় গাদ্দাফির অঙ্গুলিহেলনে শত্রুর বুলেটের ভয় উপেক্ষা করে বুক পেতে দিতে দ্বিধা করেননি।

সেই খোদ কুমারী সশস্ত্র দেহরক্ষীর ৫ জন গাদ্দাফির বিরুদ্ধে দৈহিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। সানডে মালটা টাইমস এক প্রতিবেদনে ওই ৫ কুমারী দেহরক্ষীর করুণ কাহিনি প্রকাশ করেছে।

অভিযোগকারী দেহরক্ষীরা জানিয়েছেন শুধু গাদ্দাফিই ক্ষান্ত থাকেননি- তার ছেলেও তাদের ওপর শারিরিকভাবে নির্যাতন চালিয়েছে।

ওই সংবাদপত্রে এক অভিযোগকারী শুনিয়েছেন তার নিয়োগকাহিনির জঘন্য দিকটাও। গাদ্দাফির কথা আমলে না নিয়ে তিনি দেহরক্ষীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এজন্য গাদ্দাফি ‘ব্লাকমেলে’র আশ্রয় নেন। তাকে বলা হয়েছিলো দেহরক্ষী বাহিনীতে যোগ না দিলে শুধু তাকে নয়- এজন্য তার পরিবারকেও অনেক মূল্য দিতে হবে।

গাদ্দাফি ওই নারীকে শাসিয়ে বলেছিল এই বলে যে, তার ভাই লিবিয়াতে ‘ড্রাগ’ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ভাইয়ের সঙ্গে তাকেও জেল খাটতে হবে।

বেনগাজির মনোরোগ বিশেষঞ্জ সেহম শেরগাওয়া ইতোমধ্যেই গাদ্দাফির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছেন।
১০টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×