somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ ভাবানাময়, তবু আড়ালে কত বাস্তবতা ( ১ম পর্ব)

৩০ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘শুরু করাটাই কঠিন, আসলে ঠিক শুরু করার ব্যাপারটি নয়, শুরু কিভাবে কোন আঙ্গিকে করতে হবে সেই ভাবনার একটা সহজ সমাধানে আসাটাই কঠিন। ’--ভাবছিল ভরপেটে সদ্য প্রস্থান প্রায় দুপুরে আপন ঘরের এক চিলতে বারান্দায় বসে মৃদুল নামের যুবকটি। ওমন সহজাত ভাবনার সূত্রপাতের ব্যাখ্যা নিষ্প্র্রয়োজন , কারন ভাবনার অতি স্বাভাবিক এক গুনাবলিই হলো তার অনিয়ন্ত্রিত এবং যত্রতত্র আগমন রীতি। এই যেমন যখন সে দুপুরের খাবার খেতে বসেছিল তখনও আকাশে মেঘগুলো ঠিকই ছিল, তবে কালো রূপটাই ছিলনা কেবল। হঠাৎ মাত্র ১৫/২০ মিনিটের মধ্যেই তার রূপ ভীষন ভাবে পরিবর্তন হলো। আর এখন তো সেই কালো মেঘ নিংড়ে ঝরতে শুরু করেছে ঘন বৃষ্টির ধারা। মৃদুল বাতাস এখন মৃদুল নামক যুবকটির গায়ে এসে আঘাত হানছে ঝড়ো হয়ে।

যুবকটির মনে অতীত পৃথিবীর চিত্রগুলো ভীষনভাবে দাগ কেটে স্থায়ী হয়ে উঠেছে। তাই তার অভিলাষ পূরনের খায়েশ চরিতার্থ করার মানস যখনই মাথা চাড়া দেয়, সেই অতীত ভূবন তার মাথায় ঘুরতে থাকে। কিন্তু পরণেই বাস্তবতার চরম পরিবর্তন আর উন্নয়নের রূপ তার সেই পরিকল্পনার সাথে খাপ খেতেই চায়না। সে তখন ভীষণভাবে চিন্তাগ্রস্থ হয়ে ওঠে। থমকে যায় গতি মৃদুল নামক যুবকটির জীবন পরিকল্পনায়।
সে মনে মনে ভাবে সে কি আসলেই কোন মানসিক রোগে আক্রান্ত , সিজোফ্রেনিক ধরনের কোন রোগ। হয়তো হতেও পারে। না হলে এই যে ঝুমঝুম বৃষ্টি হচ্ছে, তার মনে হচ্ছে সে যেন বারান্দায় নয়, বসে আসে অষ্টাদশ শতকের কোন দুর্গের ছাদের কানায়, মেঘ ডাকলেই মনে হয় যুদ্ধের দামামা বাজছে, কিন্তু সে যুদ্ধে যাবেনা, সে কবিতা লিখতে বসবে, বৃষ্টির কবিতা, তার সেইকবিতায় মুগ্ধ হয়ে থামিয়ে দেবে যুদ্ধ ভয়ংকর কোন সেনাপতি। কিন্তু সে পরণেই বোঝে পুরোপুরি সিজোফ্রেনিক নামক মনোরোগে আক্রান্ত হতে পারেনি, বাস্তবিক পারিপার্শ্বিকতা তার কবিতা লেখায় বড় বাধ সাধে। সভ্যতার পেষন শুরু হয়, মোবাইল বেজে ওঠে, বারান্দা ত্যাগ করতে বাধ্য হয় পুনঃপুনঃ রিং এর কঠর ডাকে।

ফোন রিসিভ করে ঠিকই কিন্তু অপর পারের মেয়েটার অসাধারণ মিষ্টি কণ্ঠ তার মাঝে বিরক্তির উদ্রেগ ঘটায়। অথচ এই কণ্ঠ শোনার জন্য সে রাতের পর রাত জেগে অপো করেছে। কখনও রাত দুটো তিনটের পর মোবাইল সরব হয়েছে। মেয়েটা কথা বলেছে, সে শুনেছ রাতের শেষ প্রহর অবধি। কিন্তু সেই ভাল লাগা মেয়েটা,যার চেহারার মাধুরী কণ্ঠের চেয়েও মধুর, সে হঠাৎ বিয়ে করে ফেলে পালিয়ে মাত্র মধ্য বিরতির দুমাস কালিন সময়ে। মৃদুল সে সময় ইন্ডিয়াতে ছিল বড় ভাই ভাবির ট্যুরের হেল্পার হিসাবে।
মেয়েটা কি যেন বোঝাতে চেয়েছিল, বোঝার চেষ্টাই করেনি মৃদুল। মেয়েটা কথা বলা অবশ্য বন্ধ করেনি। এমনকি দেখা করাও। মেয়েটা তাকে সাফাই দিয়েছিল। সে সাফাইএর মাঝে মৃদুলকে উচ্চ আসনে বসানো হয়েছিল না কি নিম্ন সেটা ভাবতে গিয়ে মৃদুল চলে গিয়েছিল অন্য জগতে , তার চোখে ভাসছিল কোন এক মোঘল রানীর পরকীয়ার অপূর্ব কাহিনী।
মেয়েটা বলেছিল, স্বপ্ন বিলাসী মানুষের সাথে প্রেম করাটাই ভাল , বিয়ে নয়, বিয়ের জন্য স্বপ্ন নয় বাস্তবতা প্রয়োজন। সে আরও বলেছিল বৃষ্টিতে মাঝে মাঝে বা কদাচিৎ ভেজা যায়, প্রতিদিন স্নান করা যায়না বৃষ্টির জলে। এমনেতেই মৃদুল ভালবাসর বিষয়টিতে অপূর্ণ ভাবুক ছিল। ভালবাসত কেবল সেটাই বুঝত। মেয়েটার বৃষ্টি সম্পর্কিত কথায় আরও মুগ্ধ প্রেমিক যেন বনে গেলো মেয়েটার ।
ভাবনা শুরু হয়েছিল অনিয়ন্ত্রিত ভাবেই তখন থেকে , ভেবেছিল হুট করে গভীর ভালবাসায় যে বিয়ে হয়ে গেলো সে বিয়ের পরও মেয়েটা কেনো তার পরম সতীত্ব তুলে দিতে সংকোচ করল না মৃদুল নামের এক আধপাগলা যুবকের হাতে। বিয়ে নামক বিস্তৃত বন্ধনের পরও কি অপ্রাপ্তি থেকে যায় ওমন এক বুদ্ধিদীপ্ত রমনীর? ভাবনার শুরু থেমে যায় মৃদুলের। শিথি নামক মেয়েটার মায়া তাকে শিথির দেহের চটুল সরস গন্ধের নেশা থেকে মুক্তি দেয়না।

( পরবর্তী পোষ্টে শেষ হবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:৫৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×