খুব বেশী কাল আগের কথা নয়। কত আর হবে বড়জোড় এক যুগ। আমি দেখেছি মাটি ভরাট করে করে ঐ মহাসড়ক বা যেটাকে বলা হয় ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড , তা নির্মাণ করতে। এখনও ঐ সড়কের নামের আগে প্রচলিত ভাবে নতুন শব্দটি উচ্চারিত হয়।
আগে রাস্তার দুধার বেশ খালি খালি ছিল। লিংক রোড তৈরী হবার পর ৮/১০ কিমি ঐ রোডের দুধারে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে কল কারখানা , উন্নত হয়েছে ঐ রোডের ভূইঘর, জালকুঁড়ি, দেলপার, ফতুল্লার জনবসতি, জমির দাম বেড়েছে...জনবসতি দ্রুত ইট পাথরের জঙ্গল বানাতে ব্যস্ত হয়েছে রাস্তার সন্নিকটে দূর দূর থেকে চলে এসে। । একসময় ঐ রোডের ধারেই ফতুল্লায় গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম ক্রিকেট ভ্যানু, ফতুল্লা স্টেডিয়াম। অধুনা ভুইঘরের আগেই দেখা যায় রূপায়নের নির্মিত এক কলোনী সদৃশ ফ্ল্যাট পরিক্লপনার বাস্তবায়িত রূপ। বিলের মাঝে সুদৃশ বিল্ডিং গুলো দেখতে ভালোই লাগে। আর রাতে রঙ আর লাইটের ঘোরটোপে জ্বলে থাকে আঁধারে।
প্রতিদিন যেতে হয় আমাকে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ লিংক রোড পেরিয়ে মুন্সীগঞ্চের দিকে। পরিচিত এই সড়কের দুইধার ধীরে ধীরে আরও পরিচিত হয়ে উঠেছে সে কারনে বিগত মাস দুয়েকে।
ছোট ছোট চার ফুট/পাঁচ ফুট দীর্ঘ দেখেছিলাম একসময় রোডের দুইধারের যে গাছগুলোকে সেগুলো আজ মহাতরু...ছায়ায় ছায়ায় এক গাছের সাথে আরেক পাশের গাছের ছায়াময় খেলা চলে দিনভর। সবুজের মাঝে বাতাসের সুড়সুড়ি মিষ্টিমাখা দৃষ্টি নন্দন দৃশ্য আনে নেত্রে। মন সবুজে ভুলে যায় ক্ষণিক সূর্যের গোপন আক্রোশ ।
যতবার গিয়েছি আগে ঐ রোডে রাস্তার প্রশস্ততার চরম কার্পণ্য ভাবিয়েছে। এত খরচ করে বানানোই যখন আরেকটু বড় করে , এই জ্জ ফুট বাড়িয়ে করলে কি সমস্যা হতো--অর্থগত সমস্যা ছিল কি? জানি না । সে থাক।
টনক নড়েছে বর্তমানে। বিশ্বকাপ খেলা হবে ফতুল্লার মাঠে, কম বড় কথা।
সেই সে সরু রোড আজ বড় হতে চলেছে পশ্চিম পাশে। মোটামুটি ভালই প্রশস্ত হতে যাচ্ছে। আর মৃত্যু ঘটছে সবুজ শ্যামল ছায়াময় খেলার অন্যতম প্রতিপক্ষ গাছগুলো। সঙ্গীহীন হয়ে যাচ্ছে অপর পাশের ছায়াময় খেলার খেলোয়াড় গাছ। বৃহত্তর স্বার্থে গাছকে উৎসর্গ তো করতেই হবে। প্রতিদিন দেখি তো ...এই নির্মমতা একটু মনে খোচা দেয়। ইস ! আবার কবে নতুন গাছ লাগানো হবে? আবার কবে মহীতরু হয়ে উঠবে নতুন শিশু গাছ , আবার কবে শুরু করবে ছায়াময় খেলা--? উত্তর নিশ্চয় --অনেকটা সময় পর।
আমরা এই জাতি ভাবিয়া করিনা কাজ , করিয়া ভাবি। এতে লাভ আছে এক জিনিস এর নাড়াচাড়ায় কয়েকবার অর্থ এদিক সেদিক করা যায়।
যাক রাস্তাটা বড় হলে অনেক উপকার ই হবে দেশ ও জাতির । তবে আবার যেনো গাছ লাগানো হয় এবং বড় হয়ে উঠে তারা সেই প্রত্যাশায় এখানেই এই সত্য ভিডিওটির কাব্য শেষ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

