somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২০৪ জন কয়েদিকে ঈদ উপলক্ষে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে এবং একটি নিছক গল্প।

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা নিছক গল্প--- ছেলেটা গোবেচারাও ছিলনা ,উচ্ছৃংখলও ছিলনা। স্বাভাবিক ছিল, তবে মনে মনে অস্থির ছিল, বয়সটাই ওমন। মাত্র অনার্স ফাস্ট ইয়ারে পড়ে ঢাকার কোন এক সেকেন্ড গ্রেড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। বয়স কত আর হবে, বড়জোড় আঠারো পেরিয়ে থাকবে। মনে নানান থ্রিলার আর অ্যাডভেঞ্চার ঘুরে ফিরে মুখ থুবড়ে পড়ে তার। তারপর নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের নিম্ন মধ্যবিত্ত বাস্তবতা আর একাকী ঢাকায় মেস জীবনের রূঢ়তার আলিঙ্গনে কেটে যায় সাধারণভাবেই দিন আর পড়াশোনা তার। হঠাৎ কোন এক বিশেষ দাবীদাওয়াতে কলেজের কোন এক অরাজনৈতিক সংগঠন বিক্ষোভ শুরু করে। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যারা সেই দাবী যৌক্তিক ভেবে নিয়ে আন্দোলনে জীবনে প্রথম বারের মত হলেও যোগদেয়, সেই ছেলেটিও সেই দলের ছিল। কিন্তু বিষয়টি আর অরাজনৈতিক থাকেনি। ঐতিহ্য অনুযায়ী সেটাও এক সময় রাজনৈতিক আবহর ঘোরটপে পড়ে যায় যদিও সেই ছাত্রদের কাছে তখনও সেটা সেই পরিচয়ে পরিচিত হয় নি। রাস্তায় গাড়ী অবরোধ জাতীয় অপকর্ম টাইপ কর্মসূচির সময় অনেকের সাথে সেই ছেলেটিও পাওড়াও হয় পুলিশের কাছে। জামিন দেয়ার তাৎক্ষণিক কেউ না থাকায় একদিন পরেই কারাগারেও চালান হয়। তারপর ...সেখানে কাটে তার ১৩ টি দিবস। তার নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারকে অনেক কষ্টে ১৩ দিন পর সক্ষম হয় জামিন আর মুক্তির সফলতায়, যা হয় আর কি বাস্তবতায়। কিন্তু ঐ যে ১৩ টি দিবসের শিক্ষা ঐ টাই আমার এই নিছক গল্পের উপজিব্য। বিফলে যায়নি ১৩ দিন। মহাফল হয়েছিল পরবর্তীতে তার জন্য। মনে তো যোশ আর থ্রিল ভরপুর বয়সের কারনে তার তখন এমনেতেই। তারউপর ন্যায্য দাবীর জন্য এই কারাগারজাতীয় হয়রানী ও অপমানের এক আক্রোশ এর আগুন জ্বলছিল টীম টীম করে।
প্রথম দিনেই জেলে তার সরলমুখ আর ভীত সন্ত্রস্ততা দেখে সেই কারাগারের বিগবস কয়েদী কয়েকজন যুবকের নজর পরে তার উপর। সাদরেই তারা তাকে গ্রহন করে। জিজ্ঞেস করে কুশল আর শুরু হয় বাস্তব দুনিয়ার পজেটিভ সাইটার উপর নানান বিষদগাড়ন। অনেক অন্যয্য সুবিধাও তাকে তারা সেখানে পাইয়ে দিতে থাকে। যেমন ধ্বলা শামীম নামে এক খূনের সাজা প্রাপ্ত যুবক তাকে বলে দেয় সকালে বাথরুমের লাইনে দেরী হলে কেবল বলতে -- শামীম ভাইয়ের গেষ্ট...লাইন লাগবে না, লাগেও না। এরকম আরও কত। সেই তের দিনে সে গঞ্জিকা সেবনের ও হাতে খড়ি পায় সেই কয়েদখানাতেই। সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি তার মধ্যে পরিবর্তনের কালো ধ্বজা উত্তলন করে সেটা হলো জায়েদী নামে এক যুবকের সাথে কঠিণ রকম সখ্যতা আর তার শিষ্যতা গ্রহণ। ঐ জায়েদী কোন সাধারণ মূর্খ রাস্তার সন্ত্রাসী ছিল না। সেছিল বেশ বিত্তশালী পরিবারের ছেলে এমনকি এসএসসি ও এইচএসসিতে স্ট্যান্ড করা ছাত্র। কিন্তু তার ভেতর ছিল দেশের দূর্বল রাজনৈতিক পরিবেশ আর অরাজকতার প্রতি এক নেতিবাচক বিদ্বেষ ভরা মন। যার ছোঁয়া সে পাইয়ে দিয়েছিল ছেলেটির মনে। আলাদা একটা মর্যাদা ছিল জেলের ভেতর যায়েদীর। দাপট ছিল, অনেক বাড়তি সুবিধাও চিল ঈর্ষন্বীয়। আর ছিল বাইরের অন্ধকার দুনিয়ার সাথে এক গোপন যোগাযোগও। সেই যোগাযোগের এক সূত্র ১৩ দিনে ধরিয়ে দেয় ছেলেটিকে।
১৩ দিন পর মুক্তি পাওয়ার পরবর্তীকালে সেই সূত্র তাকে আর বিস্মৃত হতে দেয়নি সেই সব ১৩ দিনের শিক্ষা...ফলে আরেক ছোট কাট জায়েদী তৈরীর পক্রিয়া চলতেই থাকে এই ইটকাঠের পকা শহুরে জঙ্গলের আড়ালেই।

--------------নিছক গল্পটা খুব অবাস্তব না হওয়ার পেছনে যথেষ্ট স্বাভাবিকতা বিরাজ করে আমারা বুঝি। তাই
আজকের পত্রিকার খবরে যখন পড়ি “ ২০৪ জন কয়েদিকে ঈদ উপলক্ষে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।”
তখন একদিকে যেমন সভ্যতার এই উৎকর্ষ তার প্রয়োগ আমাদের মননের আধুনিকতার জন্যগর্ব বোধ হয় ঠিক তখনই ভয় হয় ...এক এক অপরাধীর ২/৩ /৪ বছর জেল খাটায় অনার্স, ডিপ্লোমা বা ছোট খাট ট্রেনিং তো ভালই হয়ে থাকার কথা আর সাথে বেড়ে যাওয়ার কথা আক্রোশ।
তারউপর এই মুক্তির ভেতর খুবই স্বাভাবিক ,ম্যানিপুলেশন হওয়ারটাও স্বাভাবিক। হতে পারে বিশেষ অনেক কে ছেড়ে দেয়ারপ্রয়োজনীয়তার বাধ্যবাধকতা।
আসলে আমারা এই দেশের মানুষ বারবার পিছল খাইতো তাই ...সবকিছুতেই আজকাল ভয় পাই বোধহয়।

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:২৩
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×