হোটেল অনুসন্ধান এবং দুপুরের ভোজন
----------------------------------
মেঘলার ঝুলন্ত ব্রীজে হিমেল হাওয়ায় হালকা দুলুনি, সবুজে ঘেরা পাহাড়ের মায়া আর রোদের কষ্টকর পরশের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে ঘুরতে ঘুরতেই বুঝতে পরলাম এখানে মোবাইল নেটওয়ার্কের চরম রুগ্ন অবস্থা । মেঘলার উঁচু পাহাড়ি স্থানগুলোতে উঠলে একটু একটু নেটওয়ার্ক পাওয়া গেল। কথা বলতে গেলেই তাও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল।
আমাদের এক সফর সঙ্গী, জীবনের বাল্য এক বন্ধু থাকে বান্দরবানে। আগে থেকে তাকে ইনফর্ম করা থাকলেও মেঘলা থেকে বেরিয়ে তাকে আর নেটওয়ার্কে ধরাই গেলনা।
অজানায় সামনে তাই গাড়ী এগিয়ে চলল। বেশী দূর না। ৪/৫ কিমি যেতেই ছোট বান্দরবান শহরটিতে প্রবেশ করলাম আমরা। নিঝুম একটা পরিবেশ সেখানে বিরাজমান, প্রথম দর্শনেই বুঝে গেলাম। শহরের আগে পিছে সামনে বায়ে সব দিকে পাহাড় আর পাহাড়।
কিছুক্ষণ ঘুরে আর ফোন ফ্যাক্স থেকে ফোন করে স্থানীয় সেই যুবকটিকে আমরা খুঁজে পেলাম। নিতান্তই সুবোধ যুবক। ছোট খাট ব্যবসায়ী। ওরিজিনাল বাড়ী লোহাগড়া হলেও জন্ম তার এই এখানেই। নাম রহিম।
গাড়ীর এসিতে বাইরের তপ্ত গরম এরিয়ে আরেকজন ভাগিদার বাড়িয়ে সেই দুপুর ১২টায় আমাদের প্রধান কাজ হলো খাদ্য আর আশ্রয়ের সংস্থানে ছোটা। ছুটলাম। আবার সেই উল্টো পথে। মেঘলার আগে পাহাড়ের উপর দেখেছিলাম পর্যটন হোটেল আর হোলিডে কটেজ।
কটেজের ভাড়া কক্সবাজারের তুলনায় বেশ কম। ৪০০ থেকে ৭০০র মধ্যে। চারদিকের সৌন্দর্য আবার কক্সবাজারের থেকে শতগুন মধুর। কটেজের দুটো রুম ভাড়া করা হলো। রাস্তার ওপাশে ঢালে চোখ মেললেই মেঘলার সবুজ স্বচ্ছ জল। দূরে সটান কত কত উঁচু নিচু পাহাড় টিলা। কটেজের পেছনে একটা শান্ত সরোবর। সেখানে হাসেরা খেলছে। গাছে গাছে সবুজ পাতারা হাসছে।
কিন্তু ওখানে থাকা হলোনা। দুটো রুমের একটা নিয়ে বেধে গেলো গোল। ডবল বেডটাতে মালিকের পূর্বের বুকিং দেয়া ছিল। কিন্তু ম্যানেজার আর রুম বয়ের কমিউনিকেশন গ্যাপে একটা ছোট খাট ঝগড়া ও পর্ব চলল। আরও মেজাজ খারাপ হলো যখন দেখলাম ঐ রুমটাতে আমাদের চোখের সামনে দিয়ে হেঁটে গিয়ে উঠল অতীব সুন্দরী এক তরুনী আর সাথে এক হ্যান্ডসাম যুবক।
ভাড়া ফেরত নিতে বাধ্য হলাম। না এখানে থাকবোই না। সবাই রাগান্বিত। সরি টরির পর্বে হোটেল কতৃপরে মাধ্যমে জানা গেলো রাতে মালিকের বুকিং দেয়া গেষ্ট আসতে পারে নাও পারে আর এখন ৫টা পর্যন্ত ঐ কাপল ভাড়া নিয়েছে রেস্টেও জন্যে। হুমম। জানাল এখন একটা রুম আর বিকেলে অন্যটা দিতে পারবে কিনা জানাবে। হতেও পারে।
তবুও না থাকবোনা। জিদ চেপেছে সুমন আর জীবনের। কিন্তু কে জানত পর্যটনে গিয়ে সেই রাগ আর ও দীপ্ত হবে। কারন পর্যটনের তিনতলা হোটেলটাতেও এই ওড সময়েও আমারা একটাও রুম খালি পেলাম না। কোন কোম্পানী যেন সব বুকিংয় দিয়ে রেখেছে এক সপ্তাহের জন্যে। বুঝলাম, অনেকই আসে এদিকে তাহলে।
বাধ্য হয়ে শহরের ভিতরে আবার ফিরে এলাম । পাহাড়ের কোলে থাক মনোরম পরিবেশে আকীর্ণ না হলেও শহরের ভেতর পূরবী হোটেলেটাতে উঠে তেমন একটা খারাপ লাগলোনা। ভাড়াও ওগুলোর অর্ধেক। দুটো রুম ডবল বেড ভাড়া মাত্র ৩০০ করে ৬০০ টাকা। কিন্তু পার্কিং লট নেই। গাড়ী রাখা নিয়ে হলো বিপত্তি।
আমাকেই সমাধান করতে হলো। টি এন্ড টি এক্সচেঞ্জে গিয়ে পরিচয় দিতেই গাড়ী রাখার সমস্যা মিটলো । ওখানের রেস্ট হাইসের একটি মাত্র রুম টিতে থাকার একান্ত অনুরোধ কেও অগ্রাহ্য করতে হলো। যাক খুশি হলাম ভবিষ্যতে থাকার মতো জায়গা পাওয়া গেলো বলে।
রহিম ভাই থাকার প্রাথমিক সুবিধাটা পেলাম দুপুরে খাবার জন্যে পুলিশ ক্যান্টিনের খোঁজ পেয়ে। শহর ছোট হওয়ায় সব কিছূই মোটামুটি হাতের কাছেই।
রহিম ভাই থাকার সমস্যাও ছিল। উনি স্থানীয় হলেও কোনদিন বগা লেকে যাননি। যে কারনে উনি প্রকৃষ্ঠ ভয়টা আমাদের মধ্যে বিস্তার করতে না পারলেও চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। আর যেসব প্রাথমিক ইনফরমেশনগুলো উনি যোগান দিচ্ছিলেন আশেপাশে থেকে সংগ্রহ করে তাতে আমরা নানমতে নিজেরাই কনফিউস হচ্ছিলাম, বগা লেকে যাবো কি যাবোনা?
তবে আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে সাহসী পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছিল। জানা গেলো একদিনেই আশেপাশের মোটামুটি দেখার মতো সব ঘুরে আসা সম্ভব।
কেবল বাকী থাকবে বগা লেক।
অসাধারণ মুগ্ধতায় দেখে এলাম বগা লেক ( ২য় পর্ব)
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৃঙ্খল মুক্তি আমার
শৃঙ্খল মুক্তি আমার

ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।