--------------------------------
বান্দরবান শহর হতে প্রায় ২৪/২৫ কিমি দূরে অবস্থিত চিম্বুক পাহাড়টি বেশ দীর্ঘ এবং প্রশস্থ। আশেপাশের সকল পাহাড় থেকে এর মাথা একটু বেশী উপড়েই। সাগর পৃষ্ঠ থেকে ৩০০০/৩৫০০ ফুট উচ্চতায় চিম্বুকের চূড়ায় উঠে দেখলাম জায়গাটা বেশ সমতল।
সমতলে ওঠার মুখেই জেলা পরিষদের সুরম্য ডাকবাংলো , দুতলা বিল্ডিং। ১০ গজ দূরে রোডস এর ছোট বাংলো কুটির। এর পরেই টি এন্ড টির সীমানা। ওখানেই টাওয়ারটা বসানো। এই টাওয়ারের রেডিও লিংক ব্যবাহার করেই পুরো বান্দরবানের পাহাড়ের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আর্মি ক্যাম্পগুলো আন্ত যোগাযোগ রক্ষা করে।
পাহাড়ের চূড়ায় এখন আমরা সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক পেলাম মোবাইল গুলোতে। এই প্রথম আমিও ঢাকায় এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছে ফোন দিলাম। জানালাম এই চিম্বুক এর উপরে অনাবিল হিমেল হাওয়ার পরশের সুখের বারতা। হু হু করে বাতাস বইছিল দক্ষিণ আর পশ্চিম দিক হতে । ক্লান্ত প্রাণ পূর্ণ প্রশান্তিতে জুড়াচ্ছিল।
টাওয়ারের সুইচ রুমে দ্বায়িত্ব পালনরত রেডিও ওপারেটর জয়নাল সাহেব কে আমার পরিচয় দিতেই সে ছুটে এল। জানাল এখানের অনেক তথ্য। এতক্ষণ পশ্চিমে তাকালেও খেয়াল করিনি। জয়নাল সাহেবই দেখিয়ে দিল পশ্চিমের দিকে পাহাড় আর টিলার শেষে হাইওয়ে পেরিয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আমাদের বঙ্গপোসাগর। স্পষ্ট দেখলাম দুটো জাহাজ চলছে সাগরে। যদিও এতদূর আর উচ্চতা থেকে সেগুলোকে ছোট নৌকা বলেই ভ্রম হচ্ছিল। বাম দিক টাতে কুতুবদিয়ার কিছু অংশও দৃশ্যমান হলো। দৃষ্টিতে সাগর পাহাড়ের মিলন মেলা। উপরে মেঘগুলো যেন সেই আনন্দেই হাসছিল খুব কাছে পেয়ে আমাদের।
পূর্ব দিকটা ঘণ মেঘে আচ্ছন্ন থাকায় বগা লেক এর পাহাড়টি দেখা যাচ্ছিলনা। দেখা যাচ্ছিলনা কেওকারাডং। পূর্ণ পরিষ্কার আকাশ থাকলে দেখা যায় কখনও কখনও এই পাহাড় হতে জানাল জয়নাল সাহেব।
চিম্বুকের এই উচ্চতা থেকে নিচের দিকে তাকালেই গভীর খাদ আত্মার পানি শুকিয়ে ফেলতে চাইলেও উপর্যুপরী আনন্দের স্রোত ভিজিয়ে দিচ্ছিল মন প্রাণ বারবার।
পাহাড়ের উপর অনেক রকম ফলের গাছ দেখলাম। যারা এখানে বিভিন্ন সময় বসবাস করতে এসেছে তারাই লাগিয়েছে। এমনেতেও হয়েছে অনেক গাছ। আম গাছটি সেরকমই একটা হবে। একটু কিনারে। তারপরও দেখলাম করিম আর আশফাক ভাই অনেকগুলো আম পেড়ে ফেলেছেন।
এমনেতেই আমি কাঁচা আম পছন্দ করি ভীষন। তার উপর জার্নিও ধকল শেষে আম কয়েকটাই খেয়ে ফেললাম। যেন অমৃত।
চিম্বুক পাহাড় ঢাল এ বেশ কিছূ পাকা বিল্ডিং দেখলাম। নিচের দিকেতো পুলিশ ক্যাম্প আছেই। বেশ অনেক মানুষই বাস করে এখানে উপজাতিরা ছাড়াও। তবে অবাক হলাম জেনে - এই দীর্ঘ ২৪/২৫ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে বান্দরবান থেকেই তাদের খাবার পানি নিয়ে আসতে হয়। অবশ্য চাঁদের গাড়ী চলে নিয়মিত। বুঝলাম যতই তৃপ্তী জাগুক এই মনোহর পরিবেশে আমাদের , যারা এখানে দিনের পর দিন বাস করেন তারাই বোঝেন কত ধানে কত চাল।
সূর্য হেলে যেতে শুরু করেছিল। মন জুড়ানো পাহাড়ী দৃশ্য আর সূর্যের নেমে যাওয়া দেখতে দেখতে পাহাড়ী পথের পিচ ধেয়ে ধেয়ে পেছনে চিম্বুকের উচ্চতা ছেড়ে ফিরে চলল আমাদের গাড়ী। এবার দূরে সাগরটাকে চিনতে কষ্ট হচ্ছিল না মোটেও।
এখানে একটা কথা বলতেই হয় , এই চিম্বুক পর্যন্ত মোটামুটি যেকোন গাড়ী নিয়ে আসা সম্ভব। চারহুইলের হলে তো অবশ্যই ভালো বা আরোও বেশী। কিন্তু এর পরে মানে রুমার দিকে বা থানছির দিকে চাঁদের গাড়ী অথবা ঐ টাইপ ৪/৫/৬ হুইলের গাড়ী ছাড়া সম্ভবই নয়।
বিকেলের শান্ত হাওয়া য় উড়তে থাকা গাছের পত্রের সম্ভাষণ মন ভরে নিতে নিতে পৌঁছেগেলাম শৈলপ্রপাতে। এখানে অবশ্য বেশ কয়েকদল পর্যটক দেখা গেল। যেটা চিম্বুকে দেখিনি। আসলে পাহাড়ে আসার অসময় শুরু হয়েই গেছে। শীতকালেই মূলত আসে যারা আসার।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০০৭ সকাল ১১:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


