----------------------
সন্ধ্যায় বান্দরবান শহর ঘুরতে বের হয়ে খুঁজলাম খাবার স্পেশাল কিছু পাওয়া যায় কিনা। না তেমন কিছু নাই। তবে বাজার টাজার গুলো বেশ জাকজমক । চিম্বুক নামে একটা মিষ্টির দোকার থেকে মিষ্টি খেলাম পেট পুরে। ভালোই।
রহিম ভাই আরোও একজন কে সাথে করে চলে গেলেন বগা লেকে যাবার জন্যে চাঁদের গাড়ী খুঁজতে। ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে যাবোই বগায় । যত বাধাই আসুক আর সময় যতই লাগুক। এতণে নানা জনের কাছে শুনে ৪ ঘন্টা লাগবে যেতে এই ধারনা টা বদ্ধ হয়েছিল। অবশ্য রাতে শেষ পর্যন্ত সঠিক ইনফরমেশন পেয়েছিলাম এক দোকানে পানির বোতল কেনার সময় । ছেলেটার বাড়ী রুমাতে। খুব বেশী হলে ৩ থেকে সাড়ে তিনঘন্টা লাগবে সে জানাল যেতে। রুমার পরে খাবার পানির ভীষন অভাব । আমার তাই মোট ১২ লিটার পানি নিয়েছিলাম। এবং সত্যি আসার সময় একটুও পানি ছিলনা। সব গিয়েছিল পেটে।
গাড়ী ঠিক করতে যাবার মধ্যে আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বোরিং হচ্ছিলাম। তাই রিকশা করে শহর টা সবাই চক্কর মেরে নিলাম। দেখে নিলাম পুরাতন আর নতুন রাজবাড়ী। উপজাতি রাজার বিশাল বাড়ী।
একটা ব্যাপার খুব অবাক করল , যতজন রিকশা ওয়ালার সাথে কথা বললাম তাদের সবার বাড়ীই উত্তর বঙ্গে। তারা ঘুরতে আসে এখানে বছরে কয়েকবার আর সুযোগে কিছু ইনকাম করে নেয় রিকশা চালিয়ে। অনেকে অবশ্য পারমানেন্টলি থেকে গেছে। একজন জানাল, সে ১২ দিন হয়েছে এসেছে। বউ কে এনেছে সাথে। ঘুরেছে অনেক। ইতোমধ্যে ১৭০০ টাকা আয়ও করে ফেলেছে। কয়দিন পরে ফিরে যাবে। আবার আসবে মাস দুয়েক পরে। দারুন ব্যবস্থা।
ঘুরে ঘুরে শহরের গুপ্ত জায়গা গুলোও চেনা হয়ে গেলে। কে যেন বলছিল তরল বা সিদ্ধির ব্যবস্থার জন্যে। অবশ্য সকালে বগার ভয়ংকর জার্নির কথা মনে করে আর সে ব্যবস্থা হলোনা। ভালোই হয়েছে তাতে।
রহিম ভাই থাকার সবচেয়ে বড় সুবিধাটা এখন পাওয়া গেলো। গাড়ী ঠিক করা আসলেই বেশ ঝামেলা। ওনার পরিচিত বলেই দেখেশুনে বুঝে পছন্দসই একটা গাড়ী আমরা ভাড়া করলাম সাথে ড্রাইভারও । ৫০০০ টাকা ভাড়া ঠিক হলো। সাথে অবশ্য সে বলে দিলো বগা লেকের পাহাড়ে উঠতে গেলে জুয়েল বোম এর কর্মচারীরা আরও ৫০০ টাকা নেবে। লেকের শেষ অনেকখানি পথে আর সরকারী পথের ব্যবস্থা নেই। সেখানে হয় হেঁটে উঠতে হবে। না হলে জুয়েল ব্যোম নামক এক জন এর ব্যাক্তিগত পথে গাড়ী হাই রিক্স নিয়ে উপরে উঠাতে হবে। সেখানে তার নিজস্ব কাঠের ব্যবসা। আমরা অবশ্য হেঁটেই উঠেছিলাম ঐ পথ। কারণ সেটাই ভালো মনে হয়েছিল।
ভাগ্য ভালো ছিল বান্দরবানে সন্ধ্যা সাতটায় বন্ধ হওয়ার ব্যবস্থা ছিলনা। গাড়ী ঠিক করতেই আমাদের রাত ১১:৩০ টা বেজে যায়। দোকান দুএকটা খোলা পেয়ে সকালের জন্যে এবং এই লম্বা যাত্রা পথের জন্যে শুকনো খাবার দাবার কিনে নিলাম। আর সাথে অবশ্যই ১২ লিটার পানি। রহিম ভাই তার ডিলারশিপ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হতে দিয়ে দিলেন জোর করে কয়েকলিটার সফট ড্রিংকস।
তাড়াড়াড়ি শুয়ে পড়ব ভাবলেও অভ্যাস, ঘূমাতে ঘুমাতে সেই ১:৩০/২ বাজলোই। সকালে উঠে ৫টার মধ্যে রওয়ানা দেবোই বলে সবার মোবাইলে সেরূপে দেয়া হলো এলার্ম।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ১০:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

