------------------------
৫টা বললেই কি আর ৫টা হয়। রওয়ানা দিলাম যখন তখন ঠিক সকাল পৌণে ছয়টা বাজে। এর মধ্যে আবার রহিম ভাইকে জোর করে রাজী করাতে হলো। আর করিম ভাইকে তো এক রকম হাত ধরে টেনেই উঠানো হলো। ভয়েই যাবেন না।
সকালের স্নিগ্ধ বাতাস গায়ে লাগাতে লাগাতে সেই খালি পেটে আমরা রওয়ানা দিলাম। সারা রাত গাছপালা গুলো যে অক্সিজেন জমা করেছিল তা সব এখন বিলাতে লাগলো আমাদের। দূরে দূরে পাহাড়গুলোতে সবে সূর্য তেজদীপ্ত পরশ বুলাতে শুরু করেছে। সবুজ আর মেঠো রঙে সতেজ অনুভুতির হিল্লোল বইছে যেন। মেঘগুলো উড়ছে যেন আমাদের সাথে সাথে বন্ধুর পথে বন্ধু হয়ে।
পাহাড়ী অধিবাসী রা সাত সাকলে পানি আর খাবারের সন্ধানে পথে নেমেছে বিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্ন ভাবে। কোথাও দেখলাম হাঁটছে আবার দল বদ্ধ ভাবেও। জুম চাষের জন্যে রওয়ানা হয়েছে। তাদের হাঁটার মধ্যে কোন কান্তি ই নেই। কেউ হাঁটছে পিঠে ঝুড়ি নিয়েও। ঝুড়িতে লাকড়ি। কোন নারীর পিঠে দেখলাম বাচ্চাও বাঁধা। ওরা পারেও। তবে লক্ষণীয় সবার হাতে ই আগা সমান দাও।
রুমা বাজারের আগ পর্যন্ত অনেক উপজাতিকে মাঝে মাঝে দেখেছি। রুমা বাজারের পরে তেমন একটা চোখে পড়েনি। ওদিকটা আসলেই ভীষণ দুর্গম।
গতকালের চেনা পথ শেষ হলো সেই ১২ মাইলনামক স্থানে। ওখান থেকে আজ আমরা বামে চলে গেলাম। যতই সামনে যাই এলাকা হতে থাকে আরও গহীন। এক পাহাড় পেরিয়ে যখন অন্য পাহাড়ে যাই পেছনের পাহাড়ের পথ দেখে তখন মনে জাগে শংকা। ওমা! ঐ সরু পথ দিয়ে এঁকে বেঁকে এসেছে আমাদের গাড়ী। আবার সামনে দেখি অন্য পাহাড়ের পথ।
মাঝে মাঝে পাহাড়ের মোড় গুলো ভীষন ভয়ংকর রূপে আবির্ভূত হচ্ছিল। পশ্চিম দিকে তাকালে চিম্বুক পাহাড়ের উপর টাওয়ার টা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। রুমার আগ পর্যন্ত প্রায় চিম্বুক পাহাড় দেখা যায় কখনও ডানে কখনও পেছনে, কখনও বায়ে। এই যে এক দিক পরিবর্তন , এরই নাম বোধহয় পাহাড়ী ঘূর্ণন। ঘূরিয়ে প্যাচিয়ে এ পাহাড় থেকে ও পাহাড় পেরিয়ে পথ চলে গেছে তো গেছেই।
পাহাড়ে পাহাড়ে আগুন লাগানো শুর হয়ে গেছে সকালেই। অনেক ছোট ছোট পাহাড় জ্বলতে দেখলাম। দুপাহাড়ের মাঝে সমতলে দেখলাম অনেক জায়গায় তামাকের চাষ করেছে কেউ। অবশ্য রুমার কাছাকাছিই । আগে কোন সমতল চিন্তাই করা যাবেনা।
কলা আর আনারসে ভরে আছে জুম চাষ করা পাহাড়গুলো। ভাবতে অবাকই লাগে এই ঢাল বেয়ে নেমে নেমে কিভাবে চাষ করে!
কিছু কিছূ পাহাড়ে দেখলাম কেবল বিশাল বিশাল সেগুন গাছ আর গাছ। এইসব গাছের কাঠই সব চলে যায় আমাদের সভ্য শহর গুলোতে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ১০:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

