-----------------------
শুনে এসেছি রুমা বাজারের আগে গাড়ীতেই পার হতে হবে সাঙ্গু নদী। আগে কখনও নদীর উপর দিয়ে গাড়ী চলেছে আর আমি বসে আছি এমন হয়নি। বেশ থ্রিলে ছিলাম। কিন্তু নদী আর সামনে আসেনা।
নদীর প্রায় ১ কিমি আগে আমাদের থামতে হলো দূর্ধর্ষ দশ ( ই বি আর ১০) নামের আর্মি ক্যাম্পে। এটি বিশাল একটা মাল ভুমি টাইপ পাহাড়ে অবস্থিত। ১২ মাইলের ঐ মোড়ে আগেই আর্মি ক্যাম্পে ইনফর্ম করে আসতে হয়েছিল। ওরা বলে দিয়েছিল এই ক্যাম্পে এসে নাম ধাম লিখতে হবে। সবাই যার যার নাম ঠিকানা বলে দিলাম। ওরা লিখল। তারপর ক্লিয়ারেন্সের জন্যে ফোন করল রুমায়। ক্লিয়ারেন্স আসতে আসতে আমাদের সাথে আর্মির ঐ সময় দায়িত্ব প্রাপ্ত তিনজন সুখ দুখের গল্প জুড়ে দিল। আমরা ওদেও কষ্টের কথা শুনছিলাম। ওরা শুনছিল আমাদের ভ্রমনের উদ্দেশ্য।
এর মধ্যে আমরা সকালের নাস্তা সেরে নিলাম। নাস্তা মানে বিস্কুট আর পানি কেবল। প্রায় ১৫ বিশ মিনিট অপেক্ষা করতে হলো।
রুমা ক্যাম্প থেকে ক্লিয়ারেন্স এল অবশেষে । আমাদের যাত্রা আবার শুরু হলো। ক্যাম্প থেকে এক সৈনিক কে গাড়ীতে উঠিয়ে নামিয়ে দিলাম নদীর তীরে।
এই ক্যাম্প পর্যন্তই পাকা রাস্তা এর পর রাস্তায় আর কোন পীচ নেই। গাড়ীর ভেতর বসে এত বেশী হেলতে দুলতে হচ্ছিল মনে হচ্ছিল গেলো গেলো হাড় গোড়।
নদীর দেখা মিলল। ব্রীজ হচ্ছে দেখলাম। কেবল পিলার তৈরী হয়েছে। কাজ বন্ধ আপাতত। রাস্তা থেকে নদীর তীওে নামার পথটা ৬০ ডিগ্রির কম খাড়া হবেনা। ইটাও বিছানো নেই। পুরা কাঁচা। সেই ভয়ংকর ঢাল পেরিয়ে আমার নদীর বুকে এসে থামলাম। বেশী চওড়া না। দেখলাম মানুষ জন হেঁটেই পার হচ্ছে। যাবার সময় গাড়ীতে থাকলেও ফিরে আসার সময় আমরাও হেঁটে পার হয়েছিলাম। হাঁটু সমান পানি। এখান থেকে নৌকাতেও বান্দরবান যাবার ব্যবস্থা আছে জানলাম। কাঠ নেয়া হয় মূলত এই পথেই। তবে বর্ষাকালে পানি বাড়লেই সুবিধা হয়।
নদীর ওপার থেকেই রুমা উপজেলা যে শুর হলো তা এলাকার চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। এই দুর্গম পাহাড় মাঝে হঠাৎ যেন জীবনের প্রাণবন্ত সামবেশ। পাকা ঘরবাড়ী দেখা যাচ্ছিল। দেখরাম স্কুল কলেজও আছে এখানে। একটু বেশী সমতল জায়গা থাকায় অনেক রকম চাষবাসও হচ্ছে । এবং সবচেয়ে আশ্চর্য হলাম রুমা বাজারে উপস্থিত হয়ে সেখানে মফস্বল শহুরে ভাব প্রবল। বিদ্যুৎ ও আছে।
পেছনের পাহাড়ী পথে এই ব্যাপারটা আমাদের অবাক করেছিল। পাহাড় এর উপর দিয়ে এ পাহাড় হতে ও পাহাড়ে বৈদ্যতিক খুটি বসিয়ে বসিয়ে বিদ্যুৎ নেয়া হয়েছে। মানুষ কি না পারে।
রুমা বাজারে বেশীর ভাগ অধিবাসীই ব্যোম আর মারমা হলেও কিছু বাংগালীও চোখে পড়ল। ওখানে শহরের মধ্যবর্তী একটা উঁচু পাহাড়ে উঠতে হলো আমাদের । কারণ ওটা আর্মি ক্যাম্প। সেখানে আবার সবার নাম ধাম বৃত্তান্ত লিখতে হলো। জানলাম এখান থেকে নির্দিষ্ট ভাড়া দিয়ে গাইড নিয়ে সামনের দুর্গম পথে যেতে হয়। আমাদের সাথে রহিম ভাই ( বান্দরবানের স্থানীয়) থাকায় আর ড্রাইভার বলল সে বগা লেক গেছে আগে তাই গাইড নেয়ার ব্যাপারটা এড়ানো গেলো।
আর্মি পারসন যখন সবার নাম লিখছিল তখন যেই জীবন ভাই বললেন তার নাম জীবন দাস ওমনি জোরে বলে উঠল আর্মি পারসন , আপনি হিন্দু। হিন্দু তো অবাক হবার কি আছে বুঝলাম না। তবে জীবন ভাই মাইন্ড করলেন প্রচুর।
এখানে প্রায় ৩০ মিনিট সময় কেটে গেলো। আসলে এই সব সময় বাদ দিলে বগা লেকে যেতে ২:৩০ বেশীর লাগার কথা নয়। বান্দরবান থেকে রুমার দূরত্ব ৪০ কিমি। আর বগা লেকের ৬৯ কিমি। আর এই শেষ ২৯ কিমিই হলো আসল ভয়ংকর পথ।
পেটে ইদুর চোঁ চোঁ করছিল। কিন্তু খাবার মতো তেমন কিছু চোখে পড়ল না বা খেতে কেনো যেন ইচ্ছে করলোনা রুমা বাজারে।
হালকা বিস্কুট পানি খেয়ে আবার আমরা রওয়ানা দিলাম। রুমা বাজারে মিনারেল ওয়াটার পাওয়া যায়। তবে এর পরে আর প্রকৃত অর্থে কোন পানির সংস্থানই নেই লেক আর নদী ছাড়া।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

