
স্বপ্ন ছিল এমন! হলো কি!!
সব সময় মনের মাঝে একটা জেদ কাজ করতো । কারণ ক্লাসের রোল কল করলে প্রথমে অনেকের নাম থাকতো। আমি কয়েকজনের পরে আসতাম। তবে পরে আসার কারণেই যে জেদ বিষয়টা আসলে তেমন না। কিছুটা বড় হওয়ার ইচ্ছা (তখন মনে হতো অনেক বড় হয়ে গেছি অলরেডি) এবং নারীকুলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সম্পর্ক।
তার নাম ডালিয়া আদর করে সবাই তাকে ডালি বলেই ডাকে, চেনে। যাই হোক কাহিনী সময়কাল ক্লাস ফোর। ক্লাসে মেয়েদের জন্য আলাদা করে চেম্বার করা থাকতো, ডাক্তারদের মতো অনেকটা। তারা পুরো জাতি সেখানে বসেই স্যারের কিচির মিচির শুনতো এবং ক্লাস শেষে বাধ্যগত ছাত্রীর মতো কক্ষ ত্যাগ করিতো। তাদের জন্য হৃদয়ে অনেক টুকাটুকি হয়েছে, তবে বিশেষ কোনো ফল হয়নি। তারপরও আশাবাদী জাতি তার চোখ ঠিকই জায়গা মতোন ফিট করে রাখে। এতে কিছু অবশ্য পাওয়া যায়।
কারণ ধৈর্য্য খুব কড়া জিনিস। দেরিতে হৈলেও কামে লাগে। আমার ক্ষেত্রে কিভাবে কাজে লাগছিলো সেটাই আসলে বলার বিষয়। আমাদের ক্লাসের জয়নাল বেচারা এতোটাই উচ্চ প্রজাতির ছিলো যে, তার সাথে নারী জাতির বেশ দিল দরিয়া ভাব। এতে করে লিলিপুট (জয়নাল একটু তালগাছ টাইপের ছিলো) যারা ছিলো তারা বেশ হতাশার মধ্যেই দিন কাটাইতো। আমি নিজে সে গোত্রেই বসবাস করার কারণে নিজেকে নিয়ে অনেক টেনশন কাজ করতাছিল। তখন এমন হয়ে গেলো নায়িকার বাসায় যেতাম কয়েকদিন পর পর। কখনো এক সাথে টানা কয়দিন। বাহানা কিছু খুঁজতাম যাওয়ার জন্যি। এতে করে কিছুটা সখ্যতা গড়িয়া উঠলু। খেলাধুলাতেও সঙ্গী হওয়া গেল (ছোটদের খেলা)। অবশ্য তখন অনেক খেলার কথাও জানতে শুরু করছিলাম।
আমি তো কাজে, অকাজে রমণীর দিকে তাকিয়া থাকি, ভাবি ভবিষ্যতে ওরে কি করা যায়। বান্ধবী থাকবো নাকি নিজে মরার জন্য তাকে সঙ্গী হিসেবে রাখবো। দ্বিতীয় চিন্তার অন্যতম কারণ ছিলু সে ছিলো বামণ প্রকৃতির। তবে সেটা জাতীয় মাপ অনুযায়ী সাধারণ বৈশিষ্ট্য ধারণ করতো অবশ্যই। তবু চিন্তা বলে কথা। ক্লাসে, স্কুলের মাঠে, বাসায়, ওদের বাসায় বাদ যেতো না কিছুই। এতে করে আমার আস্থা কিছুটা বাড়লো। কিন্তু চোরের সারা যুগ, গৃহস্থের এক রাইত এই ঘটনা আমার জীবনকে রঙ্গে রাঙ্গিয়ে দিলো। আমি হয়ে গেলাম মহান প্রতিহিংসা পরায়ণ। তার প্রতিশোধ আজও নিতে পারি নাই। স্কুলে গণিত ক্লাস। শফিক স্যার একটু বেত্তমিজ টাইপের লোক। সে হাতের লাঠি। , কান ধরা, পায়ের নিচে মাথা ধরায়ে পিটানোর মতো আরো অনেক কায়দা কানুন সঠিক ভাবে প্রয়োগ করতো আমাদের মতো বাচ্চা কাচ্চাদের ওপর।
আমি ক্লাসে আনমনে ডালির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ভুলে যাই ক্লাসের কথা। স্থায়িত্ব মিনিট দুয়েক হবে। আর বেশি ছিল কিনা মনে নাই্। আমার নিজে একটা বাজে অভ্যাস হলো চোখের পাতাও বেশি পড়ে। হঠাৎ স্যার গণিতের জ্ঞান বোর্ডে লেখা যা আছে জিজ্ঞাসিলেন। আমি আবুল বলিতে পারলাম না। ইতোমধ্যে কু-মতী ডালি স্যারের কাছে বিচার দিয়া দিলু ওরে নাকি আমি একের পর এক চোখ মারিয়াই যাইতাছি। অন্য মাইয়াগুলাও ঢোল বাজাইছিল। আমি বোকার মতো চাইলাম। আর বলিলাম তাহার দিকে আমি টিপাটিপির নজরে দেখি নাই। কিন্তু বলদ মাস্টারের কাছ থেকে নিস্তার হৈলু না। কয়েক প্রকারের মাইর উপলদ্ধি করার পর ক্লাসে নিরবতা চলে আসলো। আমিও নিরব। মনে মনে গালির বন্যায় ভাসায় দিছিলাম ক্লাস। পরে ডালি রে ফালি ফালি করার গোপন ইচ্ছা বয়ে বেড়াইছি। তেমন কিছুই হয় নাই। পরিকল্পনা এখনো পরীর কল্পনায় আছে। সে এখন ব্যাংকের এক বলদকে নিয়ে, নাট বল্টু একটা সহ বসবাস করে। আমি প্রতিক্রিয়া নিয়া বসে আছি।
এরপর
পরের বছর ডালি যখন আমার চেয়ে কম নাম্বার পেয়ে ৩ থেকে ৪ এ যায় আর তার পরের বছর সবগুলা মেয়ে যখন আমার নিচে যায়, মানে মুই ফাস্টু অই। সেদিন ব্যাপক মজাই লাগছিল। কারণ ৬ষ্ঠ শ্রেণীর আগ পর্যন্ত ১,২,৩ সব সময় নারী জাতির অধিকারে ছিল। এ নিয়ে ক্লাসের পুলাগের কষ্টের অন্ত ছিলো না (যদিও পুলারা পড়ালেখায় বড়ই উদার মনোভাব নিয়া না পড়িয়া, না লেখিয়া, অনেকে মাইর খাইয়াও দিন কাটাইয়া দিতো)।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

