somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চসেস্কুর রোমানিয়ায় বেড়ে ওঠা হেরটা মূলার

২৪ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গ্রহন : মির্কা আয়োরগুলেস্কু (রোমানিয়ান ভাষায় , রেডিও ফ্রি ইউরোপ এর জন্য ১৯৯৯ এ গৃহীত )
ইংরেজী অনুবাদ : মির্কা টিকুডিয়ান
বাংলা অনুবাদ : পুলক পাল ( চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণ এ প্রকাশিত)

সাহিত্যে ২০০৯ সালের ৮ অক্টোবর নোবেল পুরস্কার জিতেছেন রোমানিয়ায় জন্মগ্রহনকারী লেখক হেরটা মূলার। ১৯৯৯ সালে মূলার, যাঁর বাবা - মা ছিলেন রোমানিয়ায় জার্মান - ভাষী সংখ্যালঘু , রেডিও ফ্রি ইউরোপ/ রেডিও লিবার্টি এর রোমানিয়ার মালদোভা সার্ভিসের মির্কা আয়োরগুলেস্কুকে বলেছেন একনায়ক নিকোলাই চসেস্কুর শাসনামলে তার বেড়ে ওঠা, তার গোয়েন্দা পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার এবং তার এই পশ্চাদপট কিভাবে তার সৃজনকর্মে রূপায়িত হয়েছে তার গল্প।

আরএফই/আরএল ঃ আপনার সবগুলো উপন্যাসের মধ্যে কিছু সমিল আছে। এর সবগুলোরই শুরু রোমানিয়ায়। এটা কী একটি কুটাভাস নাকি একটা অনুপুঙ্খ যা জার্মান প্রচার মাধ্যমের কাছেও গোচরীভুত হয়েছে। আপনার কাছে এই দুই বিশ্বের মধ্যেকার বিভাজন সম্পর্কে কোন ব্যাখ্যা আছে কী ?

হেরটা মূলার ঃ না , এটা আমার কাছে খুব স্বাভাবিক বলে মনে হয়। আমি রোমানিয়ায় জন্মগ্রহন করেছি, আমি সেখানে বড় হয়েছি, এবং ৩২ বৎসর বয়স পর্যন্ত আমি সেখানে বসবাস করেছি। বরং দুর্বোধ্য এক মানসিক অবস্থায় আমি রোমানিয়া ত্যাগ করেছিলাম।আমি আমার প্রথম বই লিখেছিলাম রোমানিয়ায়। আমার প্রথম বই হল ” নিয়েডেরানযেন”(ঘরবফবৎঁহমবহ বা খড়ষিধহফ বা নীচুভূমি ), যা ছিল শিশুর চোখে দেখা জার্মান বনাত (ইধহধঃ- রোমানিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের একটি এলাকা ) সম্পর্কিত রচনা। সেই বইতে এবং অন্যগুলিতেও কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় হল একনায়কতন্ত্র। এছাড়া আমি আর কিছু জানতাম না। এছাড়া আমি আর কিছু দেখি নাই। এবং আমি সেই বিষয় নিয়ে রচনায় সচল থেকেছি। এবং আমার বিশ্বাস, বিশ্ব জুড়েই এক ধরনের সাহিত্য আছে , বিশ্বাসযোগ্য জীবনী সাহিত্য, যেগুলো প্রবাহিত হয়েছে চুড়ান্ত ঘটনাবলীর সমান্তরালে, লেখকদের জীবৎকালের সমান্তরালে। উদাহরণ স্বরূপ ১৯৫০ সাল, পূর্ব ইউরোপে তখনও গুলাগ(এঁষধম- হলো শ্রমশিবিরের প্রশাসনিক কর্তৃপ ) কিছু নির্দিস্ট রূপে বিদ্যমান ছিল। অথবা দৃষ্টান্ত স্বরূপ, শ্রম শিবিরসমূহ। এবং তারপর আমরা পেলাম জাতীয়-সমাজবাদী যুগ, হিটলারের কাল, ঈহুদিদের বিনাশ, এ বিষয়টি যা অনেক লেখক তাদের নিজের জীবনীর সমান্তরালে বর্ণনা করেছেন .... এ ধরনের সাহিত্য আমি বিশ্বাস করি কিউবা থেকে চীন অবধি সর্বত্রই পাওয়া যাবে।

আরএফই/আরএল ঃ সুতরাং এটা মোটেই ভৌগলিক ব্যাপার নয় যা কিনা পাঠকদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ?

হেরটা মূলার ঃ না। আমি মনে করি না ভৌগোলিক ভূ-প্রকৃতি গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিবেশ বা ভূ-প্রকৃতি প্রয়োজনীয় ... এবং আমি যেটা জানি , আমি যেখান থেকে এসেছি তা ভিন্ন আমার আর কোন ভূ-দৃশ্য নেই। আমার চরিত্রগুলো সেটাই প্রতিফলিত/অভিব্যক্ত করে যা একটি সমগ্রবাদী সমাজে বা ব্যবস্থায় মানুষের উপর ঘটেছিল। এবং আমি বিশ্বাস করি এটি সেই বিষয় নয় যা আমি পছন্দ করেছি কিন্তু এটা তাই যা আমার জীবন বরঞ্চ আমার জন্য পছন্দ করেছে। পছন্দ করার সেই স্বাধীনতা আমার ছিল না। আমি বলতে পারি না :” আমি এই বিষয় সম্পর্কে লিখতে চাই, অথবা অন্যকোন বিষয় ”। আমাকে যেটা উদ্বিগ্ন করে সেই বিষয় সম্পর্কে আমি লিখতে বাধ্য এবং সেই বিষয়গুলো যা আমাকে শান্তিতে বাস করতে দেয় না।

আরএফই/আরএল ঃ ঊনিশশো পঞ্চাশের দশকের শুরুতে রোমানিয়ার দণি পশ্চিমাঞ্চলের বনাত এলাকায় আপনি জন্মগ্রহন করেছিলেন।

হেরটা মূলার ঃ ১৯৫৩ সালে , যে বছর ষ্টালিন মারা যান ... অথবা যখন তার শরীর বরঞ্চ মৃত এবং তাকে সমাধিস্ত করা হয়েছিল, কারণ তার ধারণাগুলো আরো কিছুটা দীর্ঘায়ু হয়েছিল , হয়নি কী ?

আরএফই/আরএল ঃ সেগুলো কী আজো টিকে আছে ?

হেরটা মূলার ঃ হ্যাঁ, ঠিক, আমি মনে করি এখনো টিকে আছে। অনেক লোকের মাঝে। অথবা নিদেন পে সেই
ধারণাগুলোর অবশেষ। হতে পারে তার পুরো তত্ত্বটি যেরকমটি আগে ছিল সেইরকম দৃশ্যমান রূপে নাই, কিন্তু এটার অংশ বিশেষ... সেই নকশার অনেক পাথর এখনো চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, আমি নিশ্চিত।

আরএফই/আরএল ঃ স¤প্রতি, আমার মনে হয় এই সপ্তাহে ”ডার স্পাইজেল”(উবৎ ঝঢ়রবমবষ) - এ স্লোবাদান মিলোসেভিচ এবং সার্বিয়া সম্পর্কে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন।

হেরটা মূলার ঃ সত্যিকার অর্থে এটি কোন নিবন্ধ ছিল না, আরো অনেকের মতো আমিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিলাম ... আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এই যুদ্ধ সম্পর্কে আমি কি ভাবছি (কসভোতে)। এই সম্পর্কে আমি আগেও বলেছিলাম, বসনিয়া বা ক্রোয়েশিয়ার পূর্ববর্তী যুদ্ধগুলো সম্বন্ধে, তখন সেই সময়ে আমি (পশ্চিমা ) সামরিক হস্তেেপর পে ছিলাম, সেই সময়কার এই বিশ্বাস থেকে যে মিলোসেভিচ পিছু হটবেন না, যদি না বাইরের কোন শক্তি তাকে থামতে বাধ্য করে। এবং এেেত্রও আমি তাই করতে হবে মনে করি ( কসভো বিষয়ে )। আমি এই সত্য উপলব্ধি করে এতটা চরমপন্থী যে এই ব্যক্তি তৃতীয় যুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারে ... বা এমনকি চতুর্থযুদ্ধও, যদি আমরা স্লোভেনিয়াকে গোনায় ধরি... একজন ব্যক্তি যেখানেই তিনি যাচ্ছেন রেখে যাচ্ছেন নতুনসব অজস্র গোরস্তান এবং ১৯৮৯ (যখন তুলনা করা হয়েছিল) সালের পর থেকে পূর্ব ইউরোপের অনান্য দেশগুলো থেকে ভিন্ন একটি দিকে সে তার দেশকে নিয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয় সে এমন একটি জায়গায় পৌঁছে গেছে যেখান থেকে তার আর ফিরবার কোনো পথ নাই। সে তিনটি যুদ্ধে হেরেছে , এখন সে চতুর্থটিতে জয় চায়, কসভোতে। সম্ভবত তার তালিকায় এরপরে আছে মন্টিনেগ্রো, সেটি হবে তার পরবর্তী পদপে যদি না কেউ তাকে থামায়। আমি বিশ্বাস করি এই ব্যক্তি, যে কিনা আমার বিশ্বাসমতে একজন ষ্টালিনিষ্ট।

নৃতাত্ত্বিক নকশা বা বিন্যাস

আরএফই/আরএল ঃ আমার এই প্রশ্নের মাধ্যমে আমি আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইছি বনাত এলাকায়, যেখানে আপনি জন্মগ্রহন করেছিলেন। নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠির বসবাসের দিক থেকে এই জায়গাটি খুবই বৈচিত্রপূর্ণ ছিল। এখানে ছিল জার্মান স¤প্রদায়, সার্বিয়ান স¤প্রদায়, রোমানিয়ান স¤প্রদায় এবং হাঙ্গেরিয়ানরা।এটি ছিল এমন একটি বিন্যাস যা জাতিগত সংঘাত থেকে মুক্ত, যদি আমি সঠিকভাবে স্মরণ করতে পেরে থাকি।

হেরটা মূলার ঃ আমার মনে হয় বনাতে জাতিগত দ্বন্দ্ব ছিল, তবে বলতে হবে তা ছিল স্বাভাবিক মাত্রায়। কিন্তু তারপরও প্রত্যেক সমাজের সব ধরনের লোকের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকে। গভীরে প্রোথিত দ্বন্দ্ব আমাদের সবারই প্রয়োজন। আমাদের প্রতিবেশীর সাথে, সহকর্মীদের সাথে, আমাদের স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে, যা আমি বিশ্বাস করি স্বাভাবিক। তা না হলে আমি মনে করি জাতীয় সংখ্যালঘুরা রোমানিয়ানদের সাথে একসাথে বসবাস করতে পারতো না, যা তুমি উল্লেখ করেছো। তারা একই জায়গায় তাদের সাথে বসবাস করছিল। এটা আমাকে ফিরিয়ে নি”্ছে বহুসংস্কৃতিবাদিতার তত্ত্বে, এক দশক আগে যা জর্মানীতে খুব জনপ্রিয় ছিল হতে পারে এখনো আছে ... এটা দাবী করছিল আমরা সবাই একের মধ্যে মিশে যাবো , এক হযে উঠবো, কিন্তু এটা কাজ করেনি।

আরএফই/আরএল ঃ এবং আপনি চসেস্কুর রোমানিয়া থেকে জার্মানীতে আসছিলেন যখন সেখানকার পাসওয়ার্ড ছিল ” সমজাতীয়তা”।

হেরটা মূলার ঃ ঠিক তাই। আমি জানতাম যে এটার দ্বারা কী বোঝানো হয়। সুতরাং স্বাভাবিক ভাবে আমার ধারণা ছিল যে সেখানে যাওয়া প্রত্যেক স¤প্রদায় যাতে অনান্য স¤প্রদায়ের পাশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে। পুরানো সকল সংস্কৃতিকে মিশিয়ে নতুন একটিতে পরিণত করার সেখানে কোনো উপায় নাই। এটা একেবারেই কাজ করেনি। তিমিসোয়ারার (বনাত এর প্রধান শহর ) রাস্তায় কেউ একসাথে সব ভাষাই শুনতে পাবে ঃ রোমানিয়ান, জর্মান, হাঙ্গেরিয়ান, সার্বিয়ান, রোমানী... এটা তাই যেভাবে এটা অভ্যস্ত এবং এটা এভাবেই হওযা উচিত। কেউই তাদের সংস্কৃতিকে লুকাতে পারে না । ধরুন , যখন আমি ট্রেনে রোমানিয়ান ভাষা বলছিলাম , যেকেউ বুঝতে পারবে যে আমি একজন জার্মান নয়তো হাঙ্গেরিয়ান, কারণ আমার একটা জার্মান উচ্চারণ ভঙ্গি আছে। সেই সময়ে রোমানিয়ান ভাষায় আমার কোনো ব্যাকরণগত ক্রুটি হতো না , এখন সেসব প্রায়শই হয় , কারণ আমার চর্চার অভাব।

আরএফই/আরএল ঃ আপনি যখন শিশু ছিলেন, বনাতের জার্মান স¤প্রদায় দেখতে কেমন ছিল , বিতাড়ন,
সংশোধন এবং এতকিছুর পরে?

হেরটা মূলার ঃ আমি জন্মছিলাম ১৯৫৩ সালে। যেটা আমি আমার পরিবার থেকে জেনেছিলাম এবং স্মরণ করতে পারছি তা হলো আমার পিতামহ ছিলেন একজন “বোয়ের” (ইড়রবৎ বা খধহফষড়ৎফ বা ভূ-স্বামী ) এর মতো। এটা তাই যা আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার সময় কাগজেপত্রে উল্লেখ করতে হয়েছিল। তিনি খাদ্যশস্যের কারাবারও করেছিলেন। সুতরাং তিনি ভ্লাই ধনী ছিলেন। তখন তার দশ সিবলীং এর চেযে কম ছিল না এবং তিনি স্মরণ করতে পারতেন তার পিতামাতা আরো বেশীর জন্য উদ্বিগ্ন ছিলেন। “আমরা কি করবো যদি আমাদেও আরো সন্তান হয়? আমরা তাদেও কিভাবে খাওয়াবো?” সুতরাং আমার পিতামহ বৈভব এর মধ্যে জন্মাননি। তিনি কেবল কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন। তিনি একজন চাষা হিসাবে জন্মে ছিলেন এবং চাষাই রয়ে গিয়েছিলেন। আমার দাদা দাদীরা কখনোই তাদের রীতি পরিবর্তন করেননি, তারা কখনোই ছুটি নেননি বা ভ্রমণে যাননি। যদি অতিরিক্ত টাকা থাকতো তা দিয়ে তারা আরো জমি কিনতে অভ্যস্ত ছিলেন।

শ্রম শিবির

আরএফই/আরএল ঃ চাষারা সাধারণত ছুটিতে যায় না, যায় কী ?

হেরটা মূলার ঃ ঠিক তাই। আমার পিতামহী সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাজ করতেন যতণ পর্যন্ত না সে দাঁড়িয়ে থাকতে অসমর্থ হতো... এবং তারপরেই হতো বা হতে পারতো আরো অর্থ আরো জমি। তারা তাই করেছিল যা তাদের করতে হযেছিল । এবং তারপর, ১৯৪৫ সালের পরে, সবকিছু চলে গেল। জমিগুলো যৌথ খামারের অধীনে নিয়ে নেওয়া হলো। আমার মাকে ইউএসএসআর (সোভিয়েত ইউনিয়ন) এ নির্বাসন দেয়া হলো । শ্রম শিবিরে তিনি পাঁচ বছর কাটিয়েছিলেন, হিটলারের কৃতকর্মের জন্য “যৌথ অপরাধের” শাস্তি স্বরূপ। এই অন্তরীণকালকে তারা বলতো “আফবাওয়ারবিয়েট” (অঁভনধঁধৎনবরঃ), “পুর্নগঠন কাজ”। আমার পিতামহ এসব পরিবর্তনের সাথে কখনোই অভ্যস্ত হতে পারেননি। তিনি তখন একজন দরিদ্র ব্যক্তি হয়ে পড়েছিলেন। দাড়ি কামানোর জন্য তিনি এখন সপ্তাহে তিনবার নাপিতের কাছে যেতে পারেন না, যাতে তিনি অভ্যস্ত ছিলেন। মনে রাখবেন, এটা মোটেও কোনো ফেলনা ব্যাপার ছিল না। ওটাই ছিল তার সামাজিক জীবন। স¤প্রদায়ের লোকজনের সাথে দেখা সাাতের জন্য তিনি সেখানে যেতে অভ্যস্ত ছিলেন, সেটা ছিল তার অভিজাত্য। এটা ছিল একটা আচার বিশেষ যা সে ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। তার েেত্র যেটা ঘটেছিল তা হলো সামাজিক অবনমন। এবং আমার পিতামহ , এবং ঐ পিতামহদের পুরো প্রজন্মটাই নতুন কর্তৃপরে দ্বারা সমাজ তাড়িত হয়ে পড়েছিলেন্, যারা কখনই সমাজতন্ত্রকে গ্রহন করেননি। তারপর আমার মা ইউএসএসআর থেকে ফিরে এলেন ১৯৫০ সালে, শ্রম শিবিরে পাচঁ বছর কাটানোর পরে, মৃত্যু এবং দুর্ভিরে সাী হবার পরে...

আরএফই/আরএল ঃ আপনি কী জানেন তারা তাকে কোন এলাকায় পাঠিয়েছিলেন ?

হেরটা মূলার ঃ আমার মনে হয় এটা ছিল ইয়েকাটেরিনবার্গ (ণবশধঃবৎরহনঁৎম) অঞ্চল। তিনি ছিলেন কোন একটা নির্মাণ এলাকায় যেখানে কাছে কোথাও কয়লা খনিগুলো ছিল। এটা ছিল সামরিক কায়দায় পরিচালিত একটা শিবির, তারা ছিলেন পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে, তারা ছিলেন উৎপীড়িত। এবং তারা ছিলেন ুধার্ত , আবিরাম ুধার্ত। অধিকাংশ বন্দী ুধায় মারা গিয়েছিল।

আরএফই/আরএল ঃ সেই সময়ে আপনার মায়ের বয়স কত ছিল?

হেরটা মূলার ঃ যখন তারা তাকে অন্যত্র নিয়ে যায় তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর। প্রথমে তিনি আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। তিনি যে গ্রামে বাস করতেন সেরকম একটি গ্রামে সবাই সবাইকে চেনে, সুতরাং কর্মকর্তারাও চিনতেন, জানতেন যে কেউ একজন লুকিয়ে আছে, যাকে তারা ধরে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। তাই তারা আমার দাদাদাদীকে হুমকী দিয়েছিলেন যে যদি তারা আমার মাকে এনে না দেয় তাহলে তার পরিবর্তে তারা আমার দাদাদাদীকে ধরে নিয়ে যাবে। আমার মাকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল এবং তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বেরিয়ে আসার এবং নিজেই ফিরে এসেছিলেন।

আরএফই/আরএল ঃ অর্থাৎ তিনি ১৭-২২ বৎসর বয়স এর মধ্যবর্তী সময়ে শ্রম শিবিরে ছিলেন?

হেরটা মূলার ঃ হ্যাঁ। এবং ঐসব ঘটনাগুলো দ্বারা আমার শৈশব পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।শুধুমাত্র আমার েেত্র নয়, এ ধরনের বিষয়গুলো ঘটেছিল আরো অনেক পরিবারের েেত্র , পুরো গ্রাম জুড়ে, রোমানিয়ায় বসবাসরত পুরো জর্মান স¤প্রদায়ের উপরে। শিশু অবস্থায় আপনি রাজনৈতিকভাবে চিন্তা করতে পারবেন না। কি ঘটছে সে সম্পর্কে আপনার কোন ধারণা নেই, আপনার চারপাশে যা ঘটছে সেটা প্রকাশের জন্য আপনার কোন শব্দ নেই। কিন্তু সেখানে শব্দের চেয়েও ধারণ করবার অনান্য পদ্ধতি রয়েছে। আমাদের আচরণ অধিকতর জটিল, এটা শব্দাতীত। সুতরাং আমাকে আনেক কিছু হজম করতে হযেছে এবং আমি তার চাপ অনুভব করেছি। আমি কিছু একটা অনুভব করেছিলাম --- যদিও আমি জানতাম না সেটা কী --- যা ছিল শোচনীয়ভাবে অনৈতিক এবং বৈরী।

আরএফই/আরএল ঃ আপনি স্কুল যেতে শুরু করেছিলেন কোথায়?

হেরটা মূলার ঃ তিমিসোয়ারায়. আয়োসেফিন কোয়ার্টারে।

আরএফই/আরএল ঃ আপনার গ্রামের পরে এই শহরটি কী আপনার জন্য বড় একটি ধাক্কা ছিল ?

হেরটা মূলার ঃ হ্যাঁ, এটা ছিল ভিন্ন একটি জগৎ। আনেকটা এ কারণেও যে যখন আমি শহরে এসেছিলাম তখন আমি সঠিকভাবে রোমানিয়ান বলতে পারতাম না। আমি স্কুলে সাত বছর বয়স থেকে রোমানিয়ান শিখেছিলাম, কিন্তু আমাদের
স্কুলটা ছিল জার্মান, রোমানিয়ান ভাষা ছিল একটি ভিনদেশী ভাষা, অথবা বিদেশী বিষয়, যেমনটা ভূগোল, বা শারীরিক বিজ্ঞান। রোমানিয়ান ভাষা বিষয়ে আমাদের সপ্তাহে তিনটি কাস হতো: ব্যাকরণ, সাহিত্য, বানান এবং ঈশ্বর জানেন আরো কতো কী, কিন্তু আমাদের গ্রাম ছিল বিশুদ্ধ জার্মান, সুতরাং দৈনন্দিন কাজে আমার রোমানিয়ান বলার মতো কখনোই কোন সুযোগ ঘটেনি । শুধুমাত্র স্কুলে বলতাম, স্কুলের বাইরে কখনোই নয়। সুতরাং ১৫ বৎসর বয়সে যখন আমি তিমিসোয়ারায় চলে যাই সত্যিকার অর্থে তখন ভাষাটি আমি বলতে পারতাম না। কিন্তু এটা আমি সত্যিই খুব দ্রুত শিখে নিয়েছিলাম, শহরে, কারণ আমাকে শিখতে হয়েছিল, বলা যায়, আমি অন্য একটি ভাষায় নিজেকে অভ্যস্ত করে তুলেছিলাম। অন্যদিকে, যা আমি আগেও বলেছি, প্রত্যেক জাতীয় সংখ্যালঘু, জার্মানরাসহ, এক ধরণের ”নৃ-কেন্দ্রিকতায়” বসবাস করে, যা আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছে। গ্রামে ফিরে এসে একজন জার্মান মনে করে যে সে জানে ঠিক কোনটা একজন রোমানিয়ান , একজন হাঙ্গেরিয়ান , একজন সার্বিয়ান বা একজন জিপসীর মধ্যে অনৈতিক বা নেতিবাচক, এবং ঠিক তার উল্টোটাও সত্য। তারপর আমি শহরে রোমানিয়ানদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছিলাম এবং আমি অনুভব করতে পেরেছিলাম যে রোমানিয়ানদের সম্পর্কে আমি আমার পরিবারের কাছ থেকে যা জেনেছিলাম তা সবেেত্র যথার্থ ছিল না।

আরএফই/আরএল ঃ এর মিথলজিটা অবিকল হয়নি।

হেরটা মূলার ঃ ঠিক তাই। এবং যেকোনভাবে আমি আবিষ্কার করি যে, আমার পূর্বতন সকল শিা, যা ছিল অত্যন্ত বিশ্লিষ্ট, আমাকে আর সহায়তা করতে পারছিল না, যা আমাকে আমার জীবন ধারণে সাহায্য করতে পারেনি। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে তুমি যদি ৩০ কিলোমিটার ভ্রমণ কর, যা কিনা তোমার গ্রামে যাওয়াকে বোঝায় না সেটা কার্যত কোনোভাবেই আর দাঁড়ায় না। সুতরাং আমি সম্পূর্ণ এক নতুন নির্দেশনায় নিজেকে শিতি করে তুলতে শুরু করেছিলাম।

আরএফই/আরএল ঃ কিন্তু তিমিসোয়ারায় কী একটি জার্মান ”দ্বীপ”ও ছিল না?

হেরটা মূলার ঃ হ্যাঁ, কিন্তু এটা গ্রামীণ ছিল না। আমার মনে হয়, সারা বিশ্বেই শহুরে লোকজন, গ্রামীণ লোকজনদের থেকে আলাদা। তিমিসোয়ারায় একটা সাহিত্যিক গ্র“পে আমার কিছু বন্ধু ছিল যারা ”অ্যাকশনসগ্র“প্পি বনাত ” (অশঃরড়হংমৎঁঢ়ঢ়ব ইধহধঃ) নামে পরিচিত ছিল , যাদের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে। দূর্ঘটনাবশতঃ তাদের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল, বইপত্র পড়ার এবং বিভিন্ন সাহিত্যিক অনুষ্ঠানাদিতে যাওয়ার সূত্রে। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, সেই সময়ে কে জার্মান , কে রোমানিয়ান, কে হাঙ্গেরিয়ান এই ব্যাপারে আমি আগ্রহী ছিলাম না । আমার মনে হয় গ্র“পের সকল সদস্যরাও সেইরকমই ছিল। আমরা মতামতের প্রতি আগ্রহী ছিলাম, জাতীয়তার প্রতি নয়। মতাদর্শ,বা নৈতিক মান এবং রাজনৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন একটা স¤প্রদায়, তারা ছিল সেটাই, তখন যা আমি খুজঁছিলাম। সুবিধাবাদীদের আমি ঘৃণা করেছি। আমার একজন প্রতিবেশী ছিলেন, তিনি ছিলেন একজন অভিনেত্রী এবং প্রতি বছর কমরেড চসেস্কুর সম্মানে কবিতা আবৃত্তি করতেন। তিনি ছিলেন একজন জার্মান। কিন্তু তাতেও আমার দৃষ্টিতে তিনি একটুও মা পাননি , সেটা মৌলিক ব্যাপার ছিল না। সেটা আমার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল না, প্রয়োজনীয় ছিল মানসিকতাটা।

লেখক গ্র“প

আরএফই/আরএল ঃ কিন্তু তখনও , ”অ্যাকশনসগ্র“প্পি বনাত ”( অশঃরড়হংমৎঁঢ়ঢ়ব ইধহধঃ) শুধুমাত্র জার্মান লেখকদের দ্বারা গঠিত ছিল।

হেরটা মূলার ঃ হ্যাঁ, কিন্তু সেভাবে ব্যাখ্যা করা সহজ। এটা ছিল একটা স¤প্রদায় যাদের সাহিত্য নিয়ে কারবার এবং সেই সাহিত্যের ভাষা ছিল জার্মান। প্রসঙ্গত, আমি কিন্তু সেই গ্র“পের সদস্য ছিলাম না, এটা যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তখনও আমি লিখতে শুরু করিনি, কিন্তু ওখানকার আনেক সদস্যের আমি ছিলাম বন্ধু। পরবর্তীতে, যখন তারা তাদের গ্র“পের মেনিফেষ্টো প্রকাশ করেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল সাহিত্য রাজনীতি বিমুখ হবে না , এটা হওয়া উচিত ”সমালোচনামূলক”, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মতার্দশের উপর ভিত্তি করে, ভাবাদর্শ নয় তখনই কমিউনিষ্ট গোয়েন্দা পুলিশ হস্তপে করেছিল এবং তাদের নিজস্ব মতামত উপস্থাপন করেছিল।

আরএফই/আরএল ঃ যা ছিল ?

হেরটা মূলার ঃ যে আমরা হলাম শত্র“, রাষ্ট্রের শত্র“। সেই সময়েই আমাদের ঝামেলা শুরু হয়েছিল। ইউলিয়াম টোটোককে জেলে প্রেরণ করা হয়েছিল এবং স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, রিচার্ড ওয়াগনারকেও। তখন সেখানে কিছু লোককে কিছুদিনের জন্য হাজত বাস করতে হয়েছিল ---- তারা আমাকে আমার কোম্পানীর চাকুরী থেকে বহিস্কার করলো, যেখানে আমি স্নাতক হওয়ার পর থেকে কাজ করছিলাম। এরপর তারা গৃহ তল্লাশী শুরু করেছিল এবং আরো অনেক কিছু। তারা আমাদেরকে একটা গোষ্ঠি হিসাবে দেখতো। এবং অন্য যেকোন একজনের কৃতকর্মের জন্য আমাদের প্রত্যেককে দায়ী করা হতো, কারণ তারা আমাদের সেভাবেই দেখছিল। কিন্তু এই সব-জার্মান বিষয়টাতে ফিরে গিয়ে, এটা আমি অনেকবার বলতে চেয়েছি, যখনই আমরা কোন কিছুর পরিকল্পনা করছিলাম, রোমানিয়ান লেখকদের সাথে আমরা যোগাযোগ রাখছিলম। উদাহরণ স্বরূপ যখন আমরা আবেদন করার জন্য স্বার সংগ্রহ করছিলাম। কিন্তু তখন সেখানে স্বার করার মতো খুব বেশী রোমানীয় ছিল না। এবং কখনো কখনো তারা তাদের স্বার প্রত্যাহার করে নিচ্ছিল। এবং এটা এই আবেদন সংগঠকদের জন্য খুব খারাপ হচ্ছিল। প্রচুর স্বার নিয়ে পরে তাদের নাম মুছে দিতে বাধ্য হওয়ার চেয়ে কম স্বার থাকাও অনেক ভালো ছিল। সেটা আপনার অবস্থানকে দুর্বল করে। এটা সবসময় সংখ্যার
উপর নির্ভর করে না, কিন্তু প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত থাকার ওপরও নির্ভর করে। সেটা বেশ কয়েকবারই ঘটেছিল। এটার জন্য একটা ব্যাখ্যাও সেখানে ছিল। রোমানিয়ান লেখকরা বলতো ঃ “তোমরা হলে জার্মান, কিছু হলে পশ্চিম জার্মানীতে গিয়ে উঠতে পারবে, কিন্তু আমাদের কী হবে ?” একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত এটা ঠিক ছিল, কিন্তু সবসময়ের জন্য এটা কোনো ভালো অজুহাত ছিলনা। যাহোক, পল গুমা, রোমানীয় ভিন্নমতাবলম্বী লেখক, যিনি কিনা জার্মান ছিলেন না, তিনিও পশ্চিম জার্মানীতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কমিউনিষ্টরা তার মূখ বন্ধ করতে ব্যর্থ হবার পর। কিন্তু এটাও সত্য যে সেখানে আরো অনেকে ছিলেন যারা বিদেশে চলে যাননি। এবং তাদের কেউ কেউ বন্দী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

আরএফই/আরএল ঃ রোমানিয়ায় দুটো জার্মান সাহিত্যিক গ্র“প ছিল, আপনারটা ছিল তিমিসোয়ারায়, এবং অন্যটা ছিল কুজ-এ। তারা কম রাজনীতি সংশ্লিষ্ট ছিল, ঠিক কিনা ?

হেরটা মূলার ঃ হ্যাঁ, তারা তাই ছিল। সেটাই ছিল পার্থক্য। এবং সেই সময়ে এই ধরনের পার্থক্য আনেক কিছুই নির্দেশ করত। কুজে তারা যা করছিল তিমিসোয়ারায় আমাদের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। আমরা অনুভব করেছি আমাদেরকে অবশ্যই সরাসরি রাজনৈতিক হতে হবে এবং তারা তা করেনি। তারা তাদের ভাষা প্রকাশের েেত্র সতর্ক ছিল সেহেতু নিরাপত্তা কর্তৃপ, গোয়েন্দা পুলিশ , স্বাভাবিক ভাবেই তাদের কোন দোষ খুঁজে বের করতে পারেনি। কিন্তু আমরাও একটি ভিন্ন পরিস্থিতিতে ছিলাম। আমরা তিমিসোয়ারায় ছিলাম বেকার , তারা আমদেরকে চাকুরী থেকে বের করে দিয়েছে। তারা আমাকে ” টেহনোমেটাল”("ঞবযহড়সবঃধষ,") এর চাকুরী থেকে বহিষ্কার করেছিল, যে কোম্পানী যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ তৈরী করতো। আমি সেখানে প্রযুক্তিগত পরিভাষার অনুবাদকের কাজ করতাম, ট্রাক্টর এবং সেই সংক্রান্ত। তারা পূর্ব জার্মানী বা অষ্ট্রিয়া থেকে ট্্রাক্টর আমদানী করতো, মাঝে মাঝে এমনকি পশ্চিম জার্মানী থেকেও, আর আমাকে সেগুলোর ব্যবহার নির্দেশিকা অনুবাদ করতে হতো। আমি কখনোই সেগুলো সত্যিকার অর্থে বুঝতাম না। আমার ছিল অনেক অভিধান , যেগুলো আমাকে সবসময় একই শব্দের কমপে বিশটি বিকল্প দিতো। কিন্তু আমি কারখানার শ্রমিকদের জিজ্ঞাসা করতে অভ্যস্ত ছিলাম, তারা জার্মান এবং রোমানীয়ান বলতো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল তারা যন্ত্রগুলোর সাথে পরিচিত ছিল। আমি কারখানায় তিন বছর কাটিয়েছিলাম। প্রথম দুই বছর অনুবাদ বিভাগে , তারপর ভিন্ন একটি জায়গায়, একটি পিআর(চজ)বিভাগে, যদি তুমি তাই মনে করো।

গোয়েন্দা পুলিশ

আরএফই/আরএল ঃ যেটার “ রূপরেখা ” সম্ভবত গোয়েন্দা পুলিশ করেছিল।

হেরটা মূলার ঃ হ্যাঁ, এটা আমি পরে বুঝতে পেরেছিলাম। নিরাপত্তা কর্তৃপরে লোকেরা এসেছিল এবং বলেছিল যে যদি আমার কোন অতিথি থাকে, উদাহরণ স্বরূপ জার্মানী থেকে , তাদের সাথে দেখা করার পরে নিরাপত্তা কর্তৃপরে কাছে ”আমার অনুভূতি” অবশ্যই লিখে জানাতে হবে। তারা আমাকে আরো লিখে জানাতে বলেছিল জার্মানদের কাছে আমার রোমানিয়ান সহকর্মীরা, বিশেজ্ঞরা কী বলে তা। এবং তারা কিছু মনে করবে না যদি ঐ অতিথিদের সাথে আমি বাইরেও যাই--- যার পরিপ্রেেিত আমি তাদের বলতে বাধ্য হয়েছিলাম যে আমি বেশ্যা নই। আমি তাদেরকে এও বলেছিলাম যে মানুষের পর্যবেক হিসাবে আমি খারাপ, কারণ লোকজন সম্পর্কে আমার করা ধারণায় হাজার রকমের ভুল থাকে। কিন্তু নিরাপত্তা কর্তৃপর লোকটি বলেছিল সে এ বিষয়ে আগ্রহী নয় --- সে আমার অবিকল মতামত জানতে চাইত, সৎ, ব্যক্তিগত অভিমত। তারপর সে আমাকে দিয়ে লেখাতে চাইতো যে আমি তাদের সাথে সহযোগিতা করবো এবং আমি তাকে বলেছিলাম আমি এটা করতে পারবো না।

আরএফই/আরএল ঃ এবং তারপর ?

হেরটা মূলার ঃ সে সশব্দে দরজা বন্ধ করে দিত এবং বলতো ” আমি তোমাকে ঝামেলায় ফেলবো” অথবা ” আমি তোমাকে পানিতে ছুঁড়ে মারবো”, রোমানীয়ান গালিতে। সত্যিসত্যি সে আমাকে পানিতে ছুঁড়ে ফেলতো না, কিন্তু এরপর আমার আর কোনো শান্তি থাকতো না। অনেক সপ্তাহ প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭.৩০মিনিটে আমার বসের অফিসে আমাকে ডাকা হতো এসব বিষয়ে তার সাথে এবং কমিউনিষ্ট পার্টির সম্পাদকের সাথে এবং কমিউনিষ্ট যুব সম্পাদকের সাথে আলাপ করার জন্য। প্রত্যেকবার তারা আমাকে পদত্যাগ করতে বলতো এবং অন্য চাকুরী দেখতে বলতো, কিন্তু আমি তাদের বলতাম আমি কারখানায় কাজ করতে এতো ভালোবাসি যে আমি অন্য কোথাও যাওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারি না।আমি তাদের বলেছিলাম তারা যদি আমার থেকে পরিত্রাণ পেতে চায় তাহলে আমাকে তাদের বহিস্কার করতে হবে, এবং বলেছিলাম কেন আমাকে বহিস্কার করা হলো তার সুনির্দিষ্ট কারণ লিখিতভাবে জানাতে হŸে। সেটাই হল গোযেন্দা পুলিশের, নিরাপত্তা কর্তৃপরে সাথে আমার সহযোগিতা করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা। এরপর আমি শ্রমিক ইউনিয়নের লোকদের কাছে যাই,অভিযোগ করার জন্য, কিন্তু শ্রমিক নেতারা আমার কথা শুনতে পর্যন্ত চায়নি।

যা ঘটেছিল তা হলো একটি সামগ্রিক বিপর্যয়। আমি এখন এটা ভেবে হাসি। কিন্তু তখন আমি প্রায় স্নায়ু বৈকল্যের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম, যতণ না তারা আমাকে বহিস্কার করেছিল। প্রথমে তারা আমাকে একটি কম-দতা সম্পন্ন শ্রমিকের কাজের প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু আমি তা প্রত্যখান করেছিলাম।তারপর তারা আমাকে বহিস্কার করেছিল । আয়ের কোন উৎস ব্যতিরেকে আমি চলে এসেছিলাম। আমার তৎকালীন স্বামী রিচার্ড ওয়াগনারও তার সংবাদপত্রের চাকুরী থেকে বহিস্কৃত হয়েছিলেন। এবং সবকিছুর উপরে আমাকে প্রায় প্রতিদিন নিরাপত্তা কর্তৃপরে কাছে হাজির হওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। এবং সেখানে তারা আমাকে আমি জানি এমন কোনো বিষয়ে অভিযুক্ত করতো না , যেমন কারখানায় আমার কোন ঘটনা বা আমার সাহিত্যিক কর্মকাণ্ড। তারা আমাকে বলেছিল আমি নাকি বেশ্যা, টাকার জন্য আমি একজন আরব ছাত্রের সাথে শুয়েছি। আমার সাথে কখনোই কোন আরব ছাত্রের পরিচয় হয় নি, কিন্তু তারা আমাকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে তারা আমার একটি সুন্দর সাজানো বিচার করতে পারে, প্রত্যদর্শী এবং সবকিছু সমেত। তারা আমাকে এও বলেছিল আমি নাকি রোমানিয়ার বাজারে পাওয়া যায় না এমন পণ্যের ব্যবসা করি --- তারা আমাকে বলেছিল তিমিসোয়ারার পোপা সাপকা চড়ঢ়ধ ঝধঢ়পধ ষ্ট্রিটে আমি পণ্য বিক্রি করতে অভ্যস্ত, এটা সেখানে যেখানটায় জেলখানা ছিল । হতে পারে তারা আমাকে বলতে চেয়েছিল আমার শেষ পরিণতি কী হবে।

আরএফই/আরএল ঃ আপনার একটি বই ” আই ডোন্ট ওয়ান্ট এ মিটিং টুডে” কী ঐসব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রচিত।

হেরটা মূলার ঃ হ্যাঁ, এটা এমন একজন সম্পর্কে যার প্রতি সমন জারী করা হয়েছিল জিজ্ঞাসাবাদ করবার জন্য কিন্তু সে কখনোই সেখানে যায়নি।

আরএফই/আরএল ঃ পশ্চিম জার্মানীতে এসব বই এবং অভিজ্ঞতার অভিঘাত কী রকম? যে দেশটি কমিউনিজমের অভিজ্ঞতা লাভ করেনি ?

হেরটা মূলার ঃ ভালোকথা, আমার মনে হয় লোকজন নানাভাবে আগ্রহী। কেউবা রোমানীয়া সম্পর্কে আগ্রহী , অন্যেরা যেমন একনায়কতন্ত্র সম্পর্কে। একনায়কতন্ত্রের কৃৎকৌশল সম্পর্কে। স্বতন্ত্র ব্যক্তি বিষয়ে যিনি কিনা সমগ্রবাদী ব্যবস্থার শিকার হয়ে ধ্বংস হয়ে গিয়েছেন , একনায়কতন্ত্রের শিকার। প্রাক্তন পূর্ব জার্মানীতে, আমি অনুমান করছি উপলব্ধিটি কিছুটা ভিন্ন, তারা আনেক বেশী অবগত, সেরকমটাই বলতে হয়। আজকের জার্মানী এখনো ভিন্ন দুটি জাতি দ্বারা গঠিত, ভিন্ন জীবন যাপনের অভিজ্ঞতাসমেত। পূর্ব জার্মানরা সামাজিক আচরণের দিক থেকে পশ্চিম জার্মানীর চেয়ে পূর্ব ইউরোপিয়ানদের কাছাকাছি। পূর্ব জার্মানীতে এমন লোকজন আছেন যারা আমাকে আমার বইগ্রলো থেকে পড়ে শোনাতে আমন্ত্রণ জানান না কারণ তারা কমিউনিজম নিয়ে সমালোচনামূলকভাবে কথা বলতে চান না। এটি পূর্ব জার্মানীর একটি শক্তিশালী আদল, যেখানে তাদের একটা কমিউনিষ্টোত্তর পার্টি আছে, যার অনেক সমর্থক আছে, সাংস্কৃতিক প্রভাব সমৃদ্ধ জায়গার লোকজন সহ।

কিন্তু সেখানে পূর্ব জার্মানীতে এমন লোকজনও আছেন যারা আমাকে আমন্ত্রণ জানান। সামগ্রিকভাবে, আমাকে বলতে হবে পূর্ব জার্মানদের আমার সাহিত্যের প্রতি এক ধরনের ভিন্ন প্রতিক্রিয়া আছে। পূর্ব জার্মানীতে বেশীরভাগ লোকের একটা বিশুদ্ধ তাত্ত্বিক বা প্রমাণিক আগ্রহ আছে আমার বইগুলোর প্রতি, তেমনই বলতে হবে, যেহেতু পূর্বদেশীয়রা আমার গল্পগুলোতে তাদের নিজেদের অতীত এবং নিজেদের জীবনযাপনের মুখোমুখি হবে। এবং কিছু লোক এতে অস্বস্তি বোধ করবে। এরকম বহুবার, পূর্ব জার্মাানীতে আমার বইগুলো থেকে পাঠ করবার পর, দর্শকসারি থেকে প্রথম আমি শুনতে পেয়েছিলাম ঃ “ কিন্তু রোমানিয়ায় এখানকার চেয়ে ব্যাপারগুলো অবশ্যই অনেক খারাপ ছিল ” । এবং এরপর আমি তাদের বললাম ঃ “ এটা নির্ভর করে আপনি ব্যাপারগুলোকে কিভাবে দেখছেন তার উপর”। ষ্টাসি(ঝঃধংর) ধরণের, পূর্ব জার্মানীর গোয়েন্দা পুলিশ অফিসার, তার প্র“শিয়ান মনোভাব এবং রুতা সহ আমাকে তার বলকান সহকর্মী, রোমানীয়ান নিরাপত্তা কর্র্র্তৃপরে কর্মকর্তার চেয়েও বেশী সন্ত্রস্ত করে তুলেছিলেন। এবং তাদের আমি এও বলেছি যে, সামগ্রিকভাবে রোমানিয়ান এবং জার্মান কমিউনিজমের মধ্যে তেমন বড় কোন ফারাক নেই যেমনটা আনেক জার্মান বিশ্বাস করতে চায়। আমার এটা বলার প্রয়োজন ছিল এবং কিছু দর্শক সেটা পছন্দ করেননি।

আরএফই/আরএল ঃ আপনার তিমিসোয়ারা গ্র“পে তরুণ লেখকেরা ছিলেন কমিউনিষ্ট বিরোধী , কিন্তু বামপন্থী । এটা কী ঠিক? ওই পরিস্থিতির এখন কতটা অবশিস্ট আছে?

হেরটা মূলার ঃ হ্যাঁ, আমরা বামপন্থী ছিলাম এবং এটা কমিউনিষ্টদের আরো ক্রুদ্ধ করে তুলেছিল। আমরা কী একটি ডানপন্থী প্ল্যাটফরম ঘোষণা করেছিলাম, তাহলে আমাদেরকে ফ্যাসিষ্ট বলা তাদের জন্য সহজ হতো। কিন্তু আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল যে, যে ধরনের সমাজতন্ত্র রোমানিয়ায় আমাদের ছিল তা মোটেও বামপন্থী ছিল না, যা ছিল তা সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু। আমরা প্রাগ বসন্তের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলাম, যা ছিল ১৯৬০ দশকের শেষ দিকে চেকোস্লেভাকিয়ার পুর্নগঠন। এবং এটা ভুলে গেলে চলবে না যে তরুণ জার্মান হিসাবে আমাদের পিতামাতারা ছিলেন যারা কিনা হিটলারের জন্য যুদ্ধ করেছেন। আমার বাবা নিজে এসএস (ঝঝ) এর সাথে ছিলেন , স্বাভাবিকভাবেই আমরা পশ্চিম জার্মানীর সোশাল ডেমোক্রেটদের দ্বারা প্রচারিত বামপন্থী মতাদর্শের প্রতি আকৃষ্ট ছিলাম। আমরা স্কালডফ্্েরজ (ঝপযঁষফভৎধমব বা দোষ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা ) দ্বারাও পূর্বাচ্ছন্ন ছিলাম, যুদ্ধকালীন ব্যক্তিগত দায় সম্পর্কেও। আমার কাছে এই প্রশ্নগুলো ছিল গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যক্তিগত, কারণ এগুলো আমার এবং আমার বাবার মাঝখানে দাঁড়িয়েছিল, যিনি কখনই তার এসএস(ঝঝ) অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতেন না। এবং অতপর আমি রোমানিয়া সম্পর্কেও জেনেছি, রাষ্ট্র হিসাবে, তারা হিটলারের পে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তার নিজস্ব ধরনের ফ্যাসিজম ছিল। এবং এটা আমাকে উত্যাক্ত করতো যখন রোমানিয়া ১৯৫০ ও ১৯৬০ এর দশকে হিটলারকে সহযোগিতা করার জন্য তার সংখ্যালঘুদের দিকে আঙ্গুল তুলতো ( হাঙ্গিরিয়ানদের প্রতিও), যখন আমি জানতাম যে পুরো রোমানিয়া রাষ্ট্রই হিটলারকে সহযোগিতা করেছিল। সরকারী ভাষ্য ছিল এরকম ঃ জার্মান - ফ্যাসিষ্ট , হাঙ্গেরিয়ান-ফ্যাসিষ্ট, রোমানীয়ান মুক্তিযোদ্ধা লাল ফৌজের পাশে , ভালোর প।ে সুতরাং সবকিছু ছিল সত্যিকার অর্থে তালগোল পাকানো।

কিন্তু কমিউনিজমের অধীনে আমাদের বামপন্থী বিশ্বাসে ফিরে গিয়ে, আমি বলতে চাই পশ্চিমের কিছু বামপন্থীর মতো আমরা কখনোই চীনা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে বিশ্বাস করিনি, “হো চি মিন ” এর রাস্তার গানকে আমরা গ্রহন করিনি।কারণ এটা আমাদের নিজেদের জীবনেই প্রচুর ছিল, আমাদের ঘরে। ঐ ধরনের স্লোগান আমাদের বোকা বানাতে পারেনি। কিন্তু, আমি স্বীকার করি যে সেসময় , আমি পুর্নগঠিত ধরনের সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করতাম, একটা মানবিক অভিব্যক্তি সমেত। এখন আমি পিছন ফিরে দেখতে পারি এবং বলি ঃ “ঈশ্বর আমি কী বোকা ছিলাম”। এখন আমি জানি যে কেউ সমাজতন্ত্রকে পূর্নগঠন করতে পারে না, এটা অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে। এটা আপনি এখন এমনকি কিউবা অথবা চীনে দেখতে পাবেন, অথবা সার্বিয়ায়, আর উত্তর কোরিয়ার কথা নাই বা বললাম। সমাজতন্ত্র পুর্নগঠন অযোগ্য। আপনি যদি এটার পুর্নগঠন করে এটাকে গণতান্ত্রিক করেন তাহলে এটা আর সমাজতন্ত্র থাকবে না। এবং ুদ্র পরিবর্তন এবং সমণ্বয়, এগুলো সব বোকামো।

আরএফই/আরএল ঃ আপনার তারুণ্যের সময়কালীন বেশীরভাগ তরুণ জার্মান-রোমানিয়ান লেখক এখন জার্মানীতেই সমধিক পরিচিত।

হেরটা মূলার ঃ হ্যাঁ, সেখানে আমাদের বেশ
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×