somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেউই কি বুঝলো না?

১৩ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা ফোরামে কিছু ভাইদের সাথে আলোচনা প্রসঙ্গে কিছু কথা আসে। যা আমি পরে চিন্তা করে কোনোকিছু ভেবে-চিন্তে বের করতে পারলাম না।
মূলকথায় আসি…

সনাতন ধর্মাবলম্বী হিসেবে ধরা হয় ঈশ্বর বিভিন্ন আবার এক। তিনি যেমনি সাকার আবার তেমনিই নিরাকার। তার যেমনি কোনো রূপ নেই আবার তেমনি আছে। তার যেমন আদি নেই তেমনি অন্তও নেই। আবারও বলছি তিনি যেমনি অদ্বিতীয় তেমনি বহুবিধ। তা না হলে কি তিনি ঈশ্বর? সর্বশক্তিমান? পরমেশ্বর? সর্বোচ্চ আসনটিতে অধিষ্ঠিত তো তিনিই হতে পারেন যিনি সকল ক্ষমতার অধিকারী। তিনি যেমনি চাইবেন তেমনিই হতে পারবেন।
আগেকার দিনগুলোতে মানুষজন ঈশ্বরকে রূপ দিয়ে পূজা-আরাধনা করত। এখনকার দিনে যদিওবা হয়, তবে বর্তমান কালে বেশীরভাগই নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনায় মগ্ন। পাঠককে একটা বিষয় আমি এখানে জানিয়ে দিতে চাই, তা হলো, বর্তমান সময়ের মুসলমানদের ‘আল্লাহ’ বা খ্রীষ্টানদের ‘গড’ সবাই কিন্তু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতেও ঈশ্বরই দাঁড়ায়। কারণ ‘গড’ বা ‘আল্লাহ’ যেমন নিরাকার তেমনি সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও মনে করে ঈশ্বর সাকারও হতে পারে আবার নিরাকারও। খ্রীষ্টানরা বা মুসলমানেরা যেমন তাদের নামকরণে ‘গড’ বা ‘আল্লাহ’কে সর্বশক্তিমান মানে, অদ্বিতীয়, এক, অভিন্ন মানে, তেমনি সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও কিন্তু ঈশ্বর/ভগবানকে এক বা অভিন্ন জ্ঞানে জানে।
পাঠক এখানে একটা বিষয় হয়ত লক্ষ্য করবেন যে আমি ‘সনাতন ধর্মাবলম্বী’ বলছি ‘হিন্দু ধর্মাবলম্বী’ না বলে। কারণ, হিন্দু শব্দটিই এসেছে প্রাচীন পারস্য/গ্রীকদের (পশ্চিমাদের) ভারতবর্ষ ভ্রমণকালে সিন্ধু নদের উপত্যকায় বসবাসকারী লোকজনকে উদ্দেশ্য করে। যেহেতু তারা (পশ্চিমারা) ‘স’-এর উচ্চারণ করতে অসক্ষম ছিল তাই তার এর স্থলে ‘হ’ এনে “হিন্দু” শব্দের উৎপত্তি ঘটায়। এর ইংরেজী নাম দেয় তারা “Indu” (Plural- Indus)। ধারণা করা হয়, এ থেকেই India শব্দটির উৎপত্তি। যেমনভাবে ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কারের পর সেখানকার স্থাণীয়দের নাম দেয় “Red Indian” (কারণ সে মনে করেছিল সে ইউরোপ থেকে ইন্ডিয়াতে এসে পড়েছে, তাই লোকজনকে Red Indian লাল বর্ণের জন্য নামকরণ করে)। তাই বলে কি ইতিহাস দেখেনি এইসব লোক আসলে কোথাকার ছিল? এদেরকে পরবর্তীকালে বই-পুস্তকে Native Americans বলে সম্বোধন করা হয়েছে। তেমনিভাবে আজ যদি আমরাও সেই প্রাচীন পারস্যদের ন্যায় সিন্ধু নদের উপত্যকায় বসবাসকারী লোকদের “হিন্দু” বলে থাকি, তাহলে কি আমরাও একই ভুল করছি না।
যা হোক, আমার মূল কথা এ নিয়ে ছিল না। আমি এ বিষয়টি স্পষ্ট করতে চাই যে, প্রত্যেকটি ধর্ম-বিশ্বাস তাদের নিজেদের মতাদর্শ নিয়ে গড়ে উঠেছে। কিন্তু তাদের সন্ধিক্ষণ সেইখানেই যেখানে আমরা সকলে এক। যেমনভাবে নদী-নালা সকলে গিয়ে সেই সাগরে গিয়ে মেশে, তেমনি করে আমরা (মুসলিম, খ্রীষ্টান, সনাতন ধর্মীরা) সকলেই কিন্তু একই সর্বশক্তিমানের আরাধনা করছি। আজ যদি আপনার এলাকায় বন্যা-সাইক্লোন শুরু হয় তখন একজন মুসলিম যেমন আল্লাহর নাম নেবে তেমনি একজন সনাতন ধর্মীও ভগবানের নাম নেবে। তখন যদি বন্যা-সাইক্লোন বন্ধ হয়ে যায় ওপরওয়ালার কৃপায় তখন কি এটা আল্লাহর গুণে হয়েছে নাকি ভগবানের? নাকি এটা সত্য যে, তারা সবই তো এক যেকারণে মুসলিমের নামাযে বা সনাতন ধর্মীর প্রার্থনায় একইজনের শরণাপন্ন হয়েছে মানবজাতি। তখন তিনি সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন।
এ নিয়ে লিখলে অনেকই লেখা যায় কিন্তু আমি যতটা পারি সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করব।
একটা উদাহরণ দেবার চেষ্টা করছি এখানে: একজন লোক (মুসলিম) যদি এ্যাক্সিডেন্ট করে তখন তার জরুরী রক্তের প্রয়োজন পড়ল। এখন যদি তার রক্তের গ্রুপ এ-নেগেটিভের সাথে আরেকজন লোকের (সনাতন ধর্মী) রক্তের মিল পাওয়া গেলে তার রক্ত মুমূর্ষ লোকটির কাজে লাগবে না। রক্তের বর্ণ কি মুসলিম বা সনাতন ধর্মীর ভিন্ন। নাকি দুইই লাল? তাই বলে কি বলব এ ওর থেকে এসেছে (ধর্মানুসারে) নাকি বলব আমরা সকলেই তো একই মানবজাতির অংশ তাই আমাদের সকলই এক হওয়াটাই স্বাভাবিক।
তাহলে যদি মানবজাতির একাত্মতা থাকে দেহে, মনে (বৈজ্ঞানিক ও মানসিকভাবে) তখন কি আমরা এও বলতে পারি না যে, ঈশ্বর/আল্লাহ/গড একই। যেমনি করে ঈশ্বরের ক্ষমতা আছে বন্যা-সাইক্লোন হঠাৎই বন্ধ করে দেবার তেমনি আল্লাহরও তো আছে একই শক্তি। তাহলে পার্থক্যটা কোথায় থাকল। নাকি আমরা মানবজাতিই নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদটা তৈরি করেছি?
নিজেকে নিজে প্রশ্ন করুন। দেখবেন কথাগুলো যা বললাম তা সত্যই।

[কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেবার জন্য এ লেখা নয়। শুধুমাত্র আমাদের মানুষদের মধ্যে যে দূরত্ব সে দূরত্বকে যতটুকু পারি ঘুচানোর চেষ্টা। যদি এতে আরো ধর্মীয় বিভেদ তৈরি হয় তাহলে আমার প্রচেষ্টা শুধু বৃথাই হবে না, অনর্থক ধরে নেব।]


মূলপোস্ট
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×