somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই নাকি বাঙালী?

০৫ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সম্প্রতি কিছু ঘটনা ঘটেছে নিউইয়র্ক সহ বিভিন্ন স্থাণে যা আমার মনকে খুব নাড়া দিয়েছে। এ নিয়ে লিখব লিখব করে আর লেখা হচ্ছিল না। বিষয়টি আসলে আমাদের বাঙালীদের কিছু জিনিস নিয়ে।

মূল কথায় আসি...
প্রবাসে (নিউইয়র্ক) গত ৬-৭ বছর ধরে যে আছি, এর মাঝে নানা অভিজ্ঞতা হয়েছে। বাঙালী/বাংলাদেশীরা প্রবাসে থাকলেও দেশীয় আচার-আচরণ, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি সকলই যথাযথভাবে পালনের যতটা সম্ভব চেষ্টা করে। আমি বয়সে ছোট হিসেবে কোনো গ্রুপ বা গোষ্ঠীতে যতটা সম্ভব চেষ্টা করি না জড়িত হবার। যদিও এদের উদ্দেশ্য লোকহিতকর, তবুও কোনো নির্দিষ্ট দলে যোগ দিতে চাই না এই কারণেই যাতে অন্য দল বা লোকেরা মন খারাপ না করে বা দূরে ঠেলে না দেয়। সবার সঙ্গে যতটা সম্ভব ভালো সম্পর্ক রাখারই চেষ্টা করি। এইসব দল বা গ্রুপ বিভিন্ন অঞ্চল (যেমন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, কুমিল্লা ইত্যাদি), ধর্মীয়, অথবা সাংস্কৃতিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।
মূলত যে কারণে এই লেখাটি লিখছি তা আসলে কিছুদিন আগে নিউইয়র্কে ঘটে যাওয়া কিছু আঞ্চলিক সমিতির কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে। প্রথমদিকে এইসব সমিতি ভালো মতো চললেও পরের বছরগুলোতে এদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়। মূলত সমিতির বা দলের নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এ ধরনের অনৈক্যের সূচনা হয়।
এর মধ্যে সেদিন স্থাণীয় এক পত্রিকায় পড়লাম এখানকার জালালাবাদবাসী এসোসিয়েশনের (এটি আমেরিকায় সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সংগঠন) এই বছরের কমিটি গঠনের নির্বাচনে নানা রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মতানৈক্যের এক পর্যায়ে দু'পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, মারামারি সংঘটিত হয়। পরে পুলিশ এসে একজনকে নাকি ধরেও নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। হতাহতও হয়েছে কিছু লোক। এইসব হতাহতের মধ্যে নতুন প্রজন্মের কিছু কিশোর-কিশোরীও নাকি আছে। আবার সেই রিপোর্টে আরও পড়েছি যে, এবারের জালালাবাদবাসী এসোসিয়েশনের নির্বাচনে নাকি অর্ধ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ করা হয়েছে।
এত কিছুর পরে আবার গত সপ্তাহের অথবা এর আগের সপ্তাহের (ঠিক মনে করতে পারছি না) পত্রিকায় দেখলাম চট্টগ্রাম এসোসিয়েশনের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে মারামারি, হানাহানি হয়ে গেছে। ছবিতে দেখিয়েছে পুলিশ এসে আহত অবস্থায় একজনের পাশে বসে।
এইসব খবর পড়ে বা দেখে শুধু প্রশ্নই আসল মনে। এই কি বাঙালীর পরিচয়? প্রবাসে এসেছে সন্তানদের মানুষ করতে, নিজেদের ভাগ্যোন্নয়ন করতে, দেশের সম্মান বাড়াতে। আর এইসব হাঙ্গামা কি দেশের সম্মান খুব বৃদ্ধি করবে? একটু মর্যাদা (সংগঠনের প্রেসিডেন্ট হলে) পাবার জন্য এত কিছু করা কি আমাদের রূপ বিশ্বে অন্যান্য দেশের লোকদের কাছে কি খুবই বাড়ায়? স্থাণীয় সরকার কি দেখছে না বাঙালী/বাংলাদেশীদের কি রকম আচরণ? এমনিতেই বাংলাদেশের গত কয়েক বছরের রেকর্ডে (দুর্নীতিতে টানা ৫ বছর চ্যাম্পিয়ন) বিদেশীরা একটু নিচু দৃষ্টিতে দেখে বাংলাদেশীদের, তার ওপর আবার এমন কর্মকান্ড...হায় রে কপাল!
উপরন্তু, আমার মাথায় ঢুকল না যে বাংলাদেশীরা তাদের সন্তানদের দেশীয় আচার-সংস্কৃতিতে মানুষ করতে চেষ্টা করে সুদূর প্রবাসে, তারা কি করে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের সামনে এমন হীন কাজ করতে পারে? বেশীরভাগ বাচ্চারাই এদেশে জন্ম। তাই তারা ঠিকমতও জানেও না তাদের পিতৃগত বা মাতৃগতভাবে সংস্কৃতি সম্পর্কে। আর এই যদি দেখে তাদের বাবা-মা করছে তাদের সামনে, তাহলে এই প্রজন্ম কি শিখবে?
শুধু এটুকুই নয়, আমি যদিও বেশী বুঝি না টাকা-পয়সার হিসাব তবুও একটি সংগঠনের নির্বাচনের ব্যয় যদি জানতে পারি অর্ধ মিলিয়ন ডলার তাহলে তো মাথাই ঘোরপাক খেতে থাকে। ঠিকমত একটা বাসা নিয়ে থাকতে পারি না, অথচ এরা এত ডলার খরচ করে নির্বাচনে(!) এর চেয়ে যদি দেশের দুস্থ-হতদরিদ্র লোকদের এক বেলার খাবারেরও ব্যবস্থা করতেন এইসব লোকগুলো তাহলে না জানি কতগুলো প্রাণ বেঁচে যেত। একেই বলে কপাল! যার নাই, তার কিছুই নাই! আর যার আছে, তার নির্বাচনে ব্যয় করার জন্য ভুরি ভুরি ডলার আছে!
আবার পাঠকের নিকট শেষ প্রশ্ন, এই কি বাঙালী? এই কি মোদের পরিচয়? এই কি আমাদের স্বভাব?

মূলপোস্ট
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:২৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×