somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রোজ হাশরের ময়দানের মত উত্তপ্ত ঢাকাকে আশুন স্বজীব করে তুলি… ....

২০ শে মে, ২০০৯ রাত ১০:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বছর কুড়ি আগেও এই শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর বাড়ির উঠোনে আম, কাঠাল, পেয়ারা, কুল…. কত রকম ফল-ফলাদির বৃক্ষ শোভা পেত! ভোরে ঘুম ভংতো চেনা-অচেনা অসংখ্য পাখির কিচির-মিচিরে। সারাদিন চলতো সেই কিচির-মিচির… সন্ধে হলে তা বেড়ে যেত কয়েকগুন। বেশ ক`বছর হয়ে এলো, এই শহরে পাখির ডাক শোনা এখন বিঢ়ল ঘটনা। পাখি দেখতে এখন আমাদের যেতে হয় পাখি মেলায়! খাল-বিলের যা অবস্থা, তাতে পাখিপাখি মেলার আয়োজনও আর বেশিদিন করা যাবে বলে মনে হয় না।
প্রিয় শহর ঢাকা আজ মরুভূমির চেয়েও বেশি উত্তপ্ত…।যারা এসি গাড়িতে চলেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রীত অফিসে বসে কাজ করেন, এ লুহাওয়া তাদের হয়ত স্পর্শ করে না, কিন্তু আমরা যারা সাধারন জীবন যাপন করি, পাবলিক বাসে যাতায়াত করি, আমাদের প্রতি মূহুর্তে উপলব্ধি করতে হচ্ছে প্রিয় শহর ঢাকা আর মাত্র কবছরেই পুরোপুরি ধ্বংস হতে চলেছে।

লক্ষ-লক্ষ গাড়ির ইঞ্জিনের উত্তপ্ত গরম হাওয়া, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক-বিমা, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, হোটেল-রেস্টুরেন্ট সহ প্রতিটি গৃহে প্রতিনিয়ত চলছে অসংখ্য প্রযুক্তির ডামাডোল। এসব থেকে নির্গত কাবর্ন-ডাই-অক্সাইড শুষে নেয়ার মত পযার্প্ত থাকাতো দূরে থাক, তার দশ ভাগের এক ভাগওনেই। ফলে শহরের বাতাস এখন ওয়েদারের চেয়ে অনেক বেশি উত্তপ্ত ও বিষাক্ত।
অন্যদিকে আমাদের বাসস্থানের ব্যাবস্থা করতে গিয়ে হৃদয়বান রিয়েল স্টেট ব্যাবসায়ীরা খুঁজে-খুঁজে শহরের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা অবশিষ্ট দু‍ একটি গাছও কেটে সাফ করে ফেলেছেন মহামান্য রাজউকের অনুমতি নিয়েই! পরিকল্পণাহীন উন্নয়ণ কাজের জন্য দেধার্ছে কাটা হচ্ছে বৃক্ষ। কাবর্ন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে বিশুদ্ধ বাতাসের এক মাত্র পরিবেশক বৃক্ষকে আমরা এই শহরে প্রায় বিলুপ্ত করতে চলেছি। শহরের মাইলের পর মাইল রাজপথ যেন উত্তপ্ত গরম কড়াই! ক্লান্ত পথিকের বিশ্রমের জন্য এক টুকরো শীতল ছায়ার আয়োজন নেই কোথাও। প্রচন্ড তাবদাহে অসুস্থ হচ্ছে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। যে শহরটির সূচনা হয়েছিল বুড়িগঙ্গার কোল ঘেষে মাতাল হাওয়ার দোলে, আজ তা কঙ্ক্রিটের জঞ্জালে ভরা উত্তপ্ত বিষাক্ত বাতাসের এক যন্ত্রনাভূমি। এ যেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে ধ্বংষ প্রয় এক নগরি! কিছুইকি করার নেই আমাদের…???
এদেশের সরকারের কাছে কোন মহৎ উদ্দোগ প্রত্যাশা করাটা বোকমি না হয়ে ভাঁঢ়ামিও হয়ে যেতে পারে! তাই আসুন সকলে মিলে একটি নাগরীক উদ্দোগ গ্রহণ করি। পুরো ঢাকাকে কমপক্ষে হাজার পাচেক কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়াসহ দ্রুতবর্ধনশীল বৃহদাকর বৃক্ষ রাজিতে সুশোভিত করে তুলি। রাজপথের প্রতিটি ফুটপাথের এক ফিট পরিমান মাটি ভরাট করে উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের পরামর্শ অনুজায়ী মাঝাড়ি আকারের বৃক্ষের বেস্টনি গরে তুলি। আইল্যান্ডগুলি নীম গাছে ঢেকে দিই। প্রতিটি অফিস, বাড়ির ছাদ, রুম এবং ঝুলবারান্দা ছোট ও মাঝাড়ি আকারের গাছ দিয়ে ঢেলে সাজাই। এতে প্রিয় শহর ঢাকা কিছুটা হলেও প্রাণ ফিরে পাবে। আমরা পাবো সস্থি।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×