somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

প্রদীপ হালদার
আমি জাতিস্মর। সপ্তমবার মানব জন্ম। অষ্টমবার মানব জন্ম নিয়ে আবার পৃথিবীর বুকে ফিরবো। সীতারাম নন্দী(১ম), কৃষ্ণকান্ত নন্দী(২য়),কাশিমবাজার রাজা কৃষ্ণনাথ রায়(৩য়),বিজয়কৃষ্ণদুলাল পাল(৪র্থ),হরিদাস মুখার্জী(৫ম),রমেশ সাহা(৬ষ্ঠ),প্রদীপ হালদার(৭ম)।

ধাক্কা না দিলে কোন কিছুরই সৃষ্টি হয় না ।

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৮:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধাক্কা না দিলে কোন কিছুরই সৃষ্টি হয় না ।
সৃষ্টির মূলে ধাক্কা । ধাক্কা বা বল প্রয়োগ (force) না করলে কোন কিছুরই সৃষ্টি হয় না। এটা আমরা জানি না , তাই অকারণে আমরা ঝগড়া করি ।
আমি রেলগাড়ীর মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি । প্রচণ্ড ভিড় । ভেতরে কোন লোক ওঠার জায়গা নেই । পরবর্তী ষ্টেশানে রেলগাড়ীটা থামলো । লোকজনের চীৎকার কানে এলো । দরজার কাছে কেন দাঁড়িয়ে ? ভেতরে যান না দাদা ? অমনি দাদার ঝটপট উত্তর , জায়গা নেই ,ঠেলবেন না । চেঁচামেচি দুই তরফেই হয় দেখেছি । তারপর দেখা গেল , আমি যেখানে দাঁড়িয়েছিলাম সেখান থেকে আরও কিছুটা দূরে চলে গেলাম । এটাই ধাক্কা ।
এই ধাক্কা প্রয়োগ করে মানুষ যে কোন ভিড় গাড়ীতে ওঠে । আর মানুষকে ধাক্কা দিলে , ধাক্কা খাওয়া মানুষটির উত্তর , কেন ধাক্কা দিলেন ? আমার পায়ে পা দিলেন কেন ? তখন এটাই বলতে হয় - ধাক্কা না দিলে আপনি তো সরতেন না । আর আপনাকে সরাতে পেরেছি বলে আমি দাঁড়াবার মতো একটুখানি জায়গা পেয়েছি ।
অনেক সময় মানুষকে কথার মাধ্যমে ধাক্কা দেওয়া হয় । এটা করো । ওটা করো । আমরা করতে বাধ্য হই।
গায়ে হাত দিয়ে ধাক্কা দিলে তা সহ্য করা যায়। কথার ধাক্কা সহ্য করা কঠিন। কিন্তু ধাক্কা না দিলে আপনি আপনার দাঁড়ানোর জায়গা পাবেন না ।
পৃথিবীর সৃষ্টি সূর্যকে ধাক্কা দেওয়ার ফলে । আমাদেরও সৃষ্টি ঠিক সেইভাবে ।
ধাক্কা না দিলে যে যেখানে ছিল , সে সেখানেই থাকবে ।
সবাই বলছে ভূত নেই । আমার পাল্টা জবাব ভূত আছে , আছে তাই নয় , আমি ভূত ছিলাম , এটাই আমার দিক থেকে ধাক্কা বা বল প্রয়োগ । কোটি কোটি মানুষের ধাক্কার বিপক্ষে কেবল আমি একা ।
মৃত্যুর পর ধাক্কা বা বলপ্রয়োগ না হলে আমার শরীরের সব শক্তি বের হতে পারে না । তাহলে মৃত্যুর পর আমার শরীরের ভেতরে যে ধাক্কার সৃষ্টি হয়েছিল তার ফলস্বরূপ আমি ভূত হয়েছিলাম । ধাক্কা দিলে তবে মানুষ ভাল কথা বলতে শেখে । এটাই চিরন্তন সত্য । সৃষ্টির মূলে ধাক্কা ।

যে শত আঘাত সইতে পারে , ক্ষণিকের জন্য ভেঙে পড়ে না , তাকেই তো মানুষ বেশী ভালবাসে ।
তাই বুঝি মানুষ বেশী ভালবাসে নারীকে ।
আমাকে তো কেউ ভালবাসে না । অল্প আঘাতেই যে ভেঙে পড়ি । সত্যি কি ? না । সমগ্র পৃথিবীর সব মানুষের আঘাত সইবো । আর আমার সত্যকে প্রতিষ্ঠা করবো ।
নদী নিজের মতো চলে । প্রয়োজনে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করে । বেশী জল নিয়ে চলতে চলতে দুকূল ভাসিয়ে দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায় । তখন মানুষের দুর্দশার সীমা থাকে না । আবার জল কমে গেলে নদী কেমন শান্ত হয়ে যায় । আবার যখন জলই থাকে না , তখন নদী হলো শুকনো মরা নদী । তখন কেউ ফিরে তাকায় না ।
যখন হাজার চাপ আমাকে ঘিরে ধরে , তখন কেবল আমারই কষ্ট হয় , তা ঠিক নয় , আমার সাথে যারা থাকে , কষ্ট তাদেরই বেশী হয় । আমি ঘুমাতে না পারলে তাদেরও ঘুম হয় না ।
আবার সব চাপ সরিয়ে যখন আমি ঘুমিয়ে পড়ি , তখন আমার চারপাশে যারাই থাকে তারাও ঘুমিয়ে পড়ে ।
আর যখন কোন চাপই থাকে না , তখন যেন ঘুম আর ভাঙতে চায় না ।
গাছ কত আঘাত সহ্য করে , তাইতো ভালবাসি । ঝড়ের আঘাত , রোদের আঘাত , বৃষ্টির আঘাত , মানুষের আঘাত সহ্য ক'রে বেঁচে থাকে গাছ ।
যখন আমি বলেছি ভূত আছে ,তখন আমার কাছে আঘাত আসবে । যখন আমি বলেছি আমি ভূত ছিলাম , তখন হাজার গুণ আঘাত আমার দিকে আসবে । এই আঘাতে যখন আমি অস্থির হয়ে উঠবো , তখন সবাই অস্থির হয়ে উঠবে । আমার ঘুম কেড়ে নিলে তাদের ঘুম কি হারিয়ে যাবে না ? হারিয়ে যাবে যে ।
সব আঘাত সহ্য করে যখন আমি নদীর মতো এগিয়ে যেতে পারবো , সেদিনই মানুষ আমাকে ভালবাসবে , তার আগে নয় জানি ।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০১২ দুপুর ১২:৩০
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×