somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুড়ছে বসুন্ধরা সিটি......

১৪ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টিউশনিতে আমি তখন। ফার্মগেটে। বেলা প্রায় আড়াইটা বাজে। ছাত্রী ইংরেজি প্রথম পত্রের অনুশীলন করছে। ক্লোজ টেস্ট উইথ ক্লু। আমি বারবার [ অথবা একটু পর পর ] বন্ধু অনিকের মোবাইলে ফোন করছি, আর ওপাশ থেকে জনৈকা অক্লান্ত কন্ঠে বলে যাচ্ছেন, 'দুঃখিত, এই মুহুর্তে মোবাইল সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না...অনুগ্রহ করে...' । আমি মহিলাটিকে অনুগ্রহ করতে করতে অস্থির হয়ে যেতে যেতে আবারো অনুগ্রহ করি।...এই সময় ছাত্রীদের কাজের মেয়ে দৌড়ে এসে খবর দেয়, 'বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লাগসে। জানলা দিয়ে দেখা যায়...' । পড়া ফেলে আমরা শিক্ষিকা এবং ছাত্রী দু'জনই বসার ঘরে জানালা'র কাছে যাই। ওদের বাসা থেকে বসুন্ধরা সিটির পেছনের অংশটা দেখা যায়। দেখলাম সামনের পাশটা থেকে দাউ দাউ করে আগুনের ধোঁয়া উড়ে যাচ্ছে বাতাসে। টিভি ছাড়া হলো, 'বসুন্ধরা সিটিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড'...এনটিভিতে দেখাচ্ছে......

ছাত্রীর পড়া এর মধ্যে মাথায় উঠেছে। আমি এদিকে দুঃখে মরছি, আজকেই ক্যামেরাটা নিয়ে বের হলাম না! ভাবছিলাম, শুক্রবার! পড়িয়ে তো বাসাতেই চলে আসবো!...আর ব্যাটারির চার্জও শেষ। সন্ধ্যায় যদি রবীন্দ্র সরোবর যাই, প্রাচ্যনাট এর শো আছে, 'কেরামতনামা'...তখন তো ছবি তুলতে হবে। ব্যাটারি তাই চার্জে বসিয়ে এসেছি। কিন্তু, আজই এই ঘটনা ঘটতে হবে! অন্যদিন সবসময় ক্যামেরা ব্যাগে থাকে, তখন হতে পারে না!...

একবার ভাবি বাসায় গিয়ে ক্যামেরাটা নিয়ে আবার আসবো পান্থপথ। ছাত্রীর বাসার জানালা দিয়ে দেখা দৃশ্যবন্দী করি মোবাইলের ক্যামেরায়। মন্দের ভালো! তাও তো দৃশ্যটা ফ্রেমে বাঁধানো থাকছে! দেখতে পারবো, দেখাতে পারবো।

এই করতে করতে বের হই ছাত্রীর বাসা থেকে। বাসায় যাবার উদ্দেশে। পান্থপথের মোড়ে এসে দেখি লোকে লোকারণ্য। খবর পেয়ে সব এদিকে আসতে শুরু করেছে। আমিও দাঁড়িয়ে যাই। নেচারালিস্টিক অব্জারভেশনের একটা আইডিয়া মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। মানুষজনের কথাবার্তা, রি-অ্যাকশনগুলো পর্যবেক্ষণ করতে থাকি। বিল্ডিং এর যে অংশে আগুন লেগেছে, সেখানে ছাদে এক লোক আটকা পড়েছে। তার কী হবে! এই নিয়ে মানুষের মুখে মুখে ব্যাপক গবেষণা। লোকটাকে কীভাবে উদ্ধার করবে, সে কী করবে, তার কী হবে, বাঁচবে কি মরবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

একটু আগেই মা ফোন দিয়েছে, আমি কোথায় জানতে। বলেছি পান্থপথের মোড়ে দাঁড়িয়ে জ্বলতে থাকা, পুড়তে থাকা বসুন্ধরা সিটি দেখছি। মা বলেছে তাড়াতাড়ি বাসায় ফরতে। আমি মা'কে ফোন দেই। বলি ভাইকে যেন বলে আমার ক্যামেরাটা দিয়ে যেতে। ছবি তুলবো। ভাই এসে ক্যামেরা দিয়ে যায়। আমি ক্যামেরা হাতে ঢুকে পড়ি লোকারণ্যে। ভিড় ঠেলে চলে যাই বসুন্ধরা সিটির সামনে। একটার পর একটা ছবি উঠতে থাকে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থেকে ছবি তুলি আর দহন দেখি। পুড়ছে বসুন্ধরা সিটি। দমকল বাহিনীর নলও নাগাল পায়না আগুনের। আগুন তার সমস্ত শক্তি দিয়ে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ফেলছে কাচে ঘেরা দালানের একাংশ, টাইল, দেয়াল......আর এত্ত বড় দালানের একটা অংশ কি অসহায়ের মত পুড়েই চলেছে!

অনেক ছবি। শেয়ার করতে চাই সবার সাথে। ফেসবুকে দিয়েছি অ্যালবাম করে। লিঙ্ক দিয়ে দিলাম। দেখে নিতে পারেন, পুড়ছে বসুন্ধরা সিটি......

Click This Link
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×