জবির উদ্দিনের কয়েক দিন ধইরা মনে শান্তি নাই। মাইয়া বড় হইছে। এখন বিয়ার বয়স; কোথায় মাইয়া একটু রইয়া সইয়া চলবো, তা না পড়ালেখার নাম কইরা ঠেঙার মতো দামড়া পোলাগো লগে রাস্তাত রাস্তাত চরে। মাইর ধইর দিয়াও কাম হয় নাই। তিন দিন ঘরে আটকাইয়া রাখছে, কোন লাভ হয় নাই। অনেক ভাইবা-চিন্তা জবির উদ্দিন ঠিক করলো মাইয়ারে বিয়া দিয়া দিবো। এরপর জামাইর বাড়িত যাইয়া শশুর-শাশুড়ীর কিলগুতা খাইয়া যদি ঠিক হয়। মনে মনে ছেলেও ঠিক কইরা রাখছে। অখন ফরিদ মিয়ার লগে আলাপটা পাড়ন কাম। ফরিদ মিয়া রাজি হইলেই সই। অবইশ্য রাজি না হইয়া কই যাইবো, মাইয়া আমার দেখতে শুনতে খারাপ না, জবির উদ্দিন মনে মনে ভাবে। ঠেঙা হইলেও সংসারের কাজকামেও মন আছে। পড়ালেখাও আছে। ফরিদ মিয়া রাজি না হইয়া উপায় কি? পুরা গ্রামে তার মাইয়াই বিএসসি পাশ দিছে। অখন এমে (এম.এসসি.) পড়ে। এটা ভাবতে ভাবতে জবির উদ্দিনের মন কিছুটা হালকা হয়। ফুরফুরা ভাব নিয়া ডাকে, ও পরীর মা, কৈ গেলা? একটু শুইনা যাওতো।
পরী ডাক নাম। ভালো নাম জান্নাতুল ফেরদাউস। কলেজে বন্ধুরা ডাকে ফেরদৌস বলে। বাড়ীতে আব্বা-আম্মা, আত্মীয় স্বজনরা পরী বইলাই ডাকে। আমরাও এই গল্পে ওকে পরী বলেই উল্লেখ করবো। পরী শব্দটি তুলনামুলক সহজ এবং উচ্চারণ বান্ধব বলে।
তো, জবির উদ্দিন যখন মেয়ের বিয়ের ব্যপারে পরীর মায়ের লগে যুক্তি পরামর্শে ব্যস্ত, পরী তখন জু'লজি সেমিনারে প্রেমিকের পরবর্তি চুম্বনের প্রত্যুত্তরে নিয়োজিত। পাঠক, আমি পরীর প্রেমিকটির কোন নাম দিবো না। এই গল্পে কিম্বা পরীর জীবনে এই প্রেমিকটির বিশেষ ভূমিকা নেই বিধায় তাকে আমি ইগনোর করে যাবো। না, কোন ক্ষোভ/ঘৃনা থেকে নয়, অগুরুত্বপূর্ন চরিত্র নিয়ে মাথা ঘামানোর অনিহায় এ ব্যবস্থা।
*
ফরিদ মিয়ার পৈতৃক নিবাস সন্দ্বীপ। নিজের ব্যবসা সূত্রে তিরিশ বছর হয় এই এলকায় স্থায়ি হয়েছন। একটা বাড়ী করছেন, জামি-জিরাতও কিছু করছেন এই তিরিশ বছরে। এলাকার মান্যগন্যদের মধ্যে তিনিও একজন। সালিশটালিশে নিয়মিত ডাক পান গত দশ বছর ধরে। তাঁর ছেলে আহমেদ জসিম; একটা প্রাইভেট ব্যাংকে আছে। চাকরিসূত্রে চট্টগ্রাম থাকে এখন। স্বভাবতই বিয়ের বাজারে তার বেশ দর। জবির উদ্দিন তাই নিজে সরাসরি প্রস্তাব না দিয়ে সোবহান প্রফেসরকে দিয়ে প্রস্তাব দেওয়াবেন বলে ঠিক করেছেন। সোবহান প্রফেসরের বাড়ীও সন্দ্বীপ, তাই এই চিন্তা। সোবহান প্রফেসর পরীদের ডিপার্টমেন্টের টিচার। প্রভাষক যদিও, কিন্তু সমাজে কলেজ শিক্ষকদের প্রফেসর খেতাবটি বাই ডিফল্ট তাঁরও জুটে গেছে।
এই বাই ডিফল্ট প্রফেসরের সফল ঘটকালিতে কোন এক কার্তিকের দ্বিতীয় শুক্রবার বাদজুমা পাঁচ লক্ষ এক টাকা দেনমোহরে পরীর রিয়ে হয়ে গেল সন্দ্বীপ নিবাসী মোঃ ফরিদ আহমেদের কনিষ্ঠ পুত্র মোঃ জসিম আহমেদের সাথে। বিয়ের পিড়িতে বসার আগে শেষ ফোনালাপে পরীর প্রেমিকের শেষ সংলাপ ছিল, স্যরি।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১১:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




