somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সময় আম জনতার পক্ষে রায় দেয়

০৮ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শেষ বিচারে রাজনীতিই একমাত্র নিয়ামক। জনগণের সকল কথা, বেদনা এমনকি জীবনাচার সবই রাজনৈতিক। একটি দারিদ্র্যমুক্ত অধিকার সংবেদনশীল বাংলাদেশ গড়তে হলে রাজনীতিতে যেমন জনঅংশগ্রহণ ও অভিগমনের আরো বেশি সুযোগ তৈরি করতে হবে সাথে সাথে রাজনৈতিকদেরও জনমুখী হতে হবে। জনঅংশগ্রহণ ও অভিগমনের মানে কিন্তু সকল নাগরিকই কোন দল বা ব্যক্তিদলের খাই না খাই (নিরঙ্কুশ) সমর্থক হবেন তা নয়। বরং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও চর্চায় জনমত ও চাহিদার প্রতিফলন থাকা এবং সম্মান দেখানো অনেক বেশি বাঞ্চনীয়। আজকালকার সময়ে অনেকে রাজনৈতিকবুদ্ধিজীবী অমুক মার্কা জিন্দাবাদ কিংবা অমুক ভাই ধন্য হোক-আমজনতার এমন শ্লোগানকে জনগণের মৌলিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিকদের প্রতি জনসম্মান প্রদর্শনের ইঙ্গিত বলে ধারণা করেন। অবশ্যই এ ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটি প্রচলিত রাজনৈতিক সময়ে এক ধরণের ‘মিথ’। মনে রেখে এগুনো ভালো যে, মিথ মানে মিথ। মিথ সর্বদা সর্বকালে বাস্তবতার উল্টোপিঠে অবস্থান করে এবং সত্যকে মেনে নিতে চায় না। কিন্তু কে না জানে সত্যই যে একমাত্র বিষয়, যা মরে না। যে কোন সময়ে তা জেগে ওঠে মিথ্যাকে চুর্ণবিচুর্ণ করে। তাই সময় থাকতে সত্য বা কিছুটা সত্য কিংবা বিন্দুসত্য হলেও আমাদের চর্চার মধ্যে জায়গা করে দেয়া ভালো। অসংবেদনশীল রাজনীতি সাধারণ মানুষের চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতাকে প্রভাবিত ও বিপদগামী করে। তাই জনগণ আমাদের ঐতিহাসিক সমাজ রাজনীতিতে কোনো অবদান রাখতে পারে না। বরং নিজেকে নিয়োজিত করে অজনকেন্দ্রিক বিপদশঙ্কুল বাণিজ্যমার্কা ও উপরতলার রাজনীতিতে। অথচ এ রাজনীতির প্রধান নিয়ামক পুঁজি এবং ক্ষমতা। এখানে জনগণ অনেক অনেক অনেক বেশি গৌণ। বরং এখানে জনকল্যাণ নয় মুনাফার কল্যাণ একমাত্র বিষয়। জনগণ এখানে নায়ক হয় না মাঝে মাঝে দেবতা তুষ্টির তরে ‘ভোগ’ হয়। পান্তা আর নুনে গড়া নিজের রক্ত দিয়ে মুনাফার দালানের গাঁথুনি শক্ত করে। তাই জনকল্যাণকর রাজনীতি চর্চার জায়গা তৈরি করতে হবে। রাজনীতির বিষয়াসয় এবং সার্বিক প্রাসঙ্গিকতায় জনগণকে বসাতে হবে কেন্দ্রবিন্দুতে।

কিন্তু তা কেমন করে। আমাদের সকল রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে ? মিলিটারির বন্দুক দিয়ে ? সাদা কলারের সিভিল সোসাইটি? নাকি বিদেশ থেকে কিছু লোক আমদানি করে? কী হবে সমাধান। আমাদের সমাধান আমাদেরই বের করতে হবে। বিগত সময়ের চর্চা, সংস্কৃতি, জনদাবি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসই সেই জিজ্ঞাসুজবাবের পথসোপান তৈরি করবে। অবশ্যই এ পথসোপান তৈরি পথেও রাজনৈতিকদের একাগ্রতা ও সততা থাকতে হবে। সরকার আসা সরকার যাওয়া, এমপি মন্ত্রী বনে যাওয়ার যে সংস্কৃতি তাকে পরিণত করেতে হবে জনস্বার্থে। জ্ঞানসমাজে আমজনতার অস্তিত্বকে স্বীকার করা হয় না। মনে করা হয় তারা কিছু জানে না। হয়তো কতখানি জানে কতখানি জানে না তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে কিন্তু তাকে অনুপস্থি করার কার্যকারণ তৈরি করা মানে নিজের জন্য নিজে বিপদ তৈরি করা। চিকন বুদ্ধি, মোটা চাক্কা, গতরভরা চর্বি, ঝোলা ভর্তি টাকা এসব ক্ষণস্থায়ী মজা লুটে ঠিকই। কিন্তু জনদাবি এবং অবিশ্বাস একসময় এসব হাম্বড়তাকে তুলা ধুনো করে। শেষ বিচারে জনরায় তৈরি হয় তার স্ব-ব্যক্তিত্বে, এক্কেবারেই আমজনতার মত রুক্ষ হয়ে। মাটিতে মিশে যায় জনবিরোধী, ব্যবসামার্কা রাজনীতি ও সিদ্ধান্তের কাঠামো, কাঠামোর সহভাগী আর চাকুকররা।

তাই সকল বিপদ মাথায় রাখা ভালো। উচিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে পরিবর্তন করা। নিজে নিজের বদল করতে চাইলে তা অনেকখানি আরামের হয়। কিন্তু বিউটিশিয়ান করলে তাতে চোট লাগার সম্ভাবনা থাকে। তাই রাজনৈতিক খেলোয়াড়রা অনেক বেশি অবদান রাখবেন মিথ্যামিথ্যির নবসংস্কৃতির পরিবর্তনে। নয়তো কে জানে জনগণ যদি পুঁষে ওঠে আরেকটা ৯১’র জন্ম দেয়।

বিঃ দ্রঃ : আমাদের গণতান্ত্রিক চর্চায় একটা মজার বিষয় যোগ হয়েছে। যে দল সরকার গঠন করে তার বাইরে যারা থাকেন তারা ‘বিরোধী দলে’র পরিবর্তে ‘বেসরকারি দল’ হয়ে যান। সরকারি দলের আচার আচরণ যে এ সুযোগ তৈরি করে তা নয়; একই সাথে বিরোধী দলও নিজেকে এমনটি ভাবতে পছন্দ করেন এবং এ সুযোগ গ্রহণ করেন। আমাদের নির্বাচণী ব্যবস্থার কারণে যে দল সরকার গঠন করে তারা ৪০ শতাংশের বেশি ভোট পায় না। তার মানে ৬০ শতাংশ ভোট তিনি পান না। তাহলে আমরা যে দল সরকার গঠন করে সে দলের যেমনতর স্বচ্চতা, জবাবদিহিতা প্রত্যাশা করি একই সাথে যারা ৬০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিরোদী দলে থাকেন তাদেরও স্বচ্চতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সময় এসেছে। সরকারি দল যেমন প্রতি বছর বছর তারা কী করেছেন কী তা করছেন তা নিয়ে জনশুনানীর ব্যবস্থা করতে পারেন। পাশাপাশি বিরোধী দলও এক বছর অন্তর অন্তর জনস্বার্থে (৬০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধি) কী করেছেন, কতখানি সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছেন, মানুষের অধিকার, দারিদ্র্য দূরীকরণসহ রাষ্ট্রের কল্যাণে কতখানি কাজ করেছেন তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। বিরোধী দল মানে কেবল বিরোধীতা নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলও সরকারের অংশ। তাছাড়া যে ভোটার ভোট দিয়েছে তার জন্য সে কি উপহার পেল, কতখানি নিশ্চয়তা পেল তা জানার অধিকার নিশ্চয়ই তার আছে।

আসুন সবাই এক সাথে গাই, আমার সোনার বাংলা/ আমি তোমায় ভালোবসি।
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×