আবার সংসদে সংসদ সদস্যদের কোন কোন বিষয়ে ভুমিকা খুবই গৌণ। তারমধ্যে একটি বাজেট। এখন নাগাদ বাজেট মূলত অর্থমন্ত্রী কেন্দ্রিক। বাজেটকালীন সময়ে ও অর্থ-সম্পদ বরাদ্দের প্রশ্নে বিদ্যমান Public Accounts Committee, Committee on Public Estimates and Public Undertakings সহ বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে আরো ৩৫টি স্টান্ডিং কমিটি থাকলেও তার কোনটি কোন প্রকার ভূমিকা রাখে না। আমাদের সংসদ বিগত ১০ বছর ধরে কেবলমাত্র West Mininsteral মডেল অনুসরণ করে কাজ সম্পাদান করে। সংসদীং কার্যপ্রণালী ও কার্য সম্পাদান প্রক্রিয়ার কাঠামো আরো পুনাঙ্গ করতে হবে। লাগাতার সংসদ বর্জন সংসদকে অকার্যকর ও দুর্বল করে তুলছে। অবশ্যই এসব গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক দিক নয়। দলের টিকেটে এমপি হবার পর তিনি আর দলের বাইরে ভোট দিতে পারেন না তাতে তার সংসদ সদস্য পদ চলে যায়। নিকট অতীতে আমরা বিএনপি’র সাংসদ আবু হেনার ক্ষেত্রে তা দেখেছি। এতে ব্যক্তির স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হয়। এসব কারণে এমপি আর জনপ্রতিনিধি না থেকে দলের প্রতিনিধি হয়ে যান। এ পদ্ধতিও গণতন্ত্রবান্বব নয়। গণতন্ত্রের জন্য বিপরীত রীতি বদল করা বাঞ্চনীয়।
রাজনৈতিক দলের বাইরেও বহুজাতিক কোম্পানি ও পুঁজিপতিরা অনেক বেশি ক্ষমতা ভোগ করে। রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের প্রতি নির্ভরতা প্রদর্শন করে। এতে করে দেশের ভেতরে একটি বিকল্প প্রশাসন তৈরি হয়। যদি নির্বাচিত সরকারের বাইরে অনেক বেশি ক্ষমতার অস্তিত্ব থাকে তাহলে বিশুদ্ধভাবে নির্বাচিত ও নীতিগতভাবে জবাবদিহিমূলক সরকার গণতন্ত্রের শর্ত পুরণ করতে পারে না।
এবার আসা যাক রাজনৈতিক দলের সাথে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক কেমন হবে। রাজনৈতিক দল যা বলবে তাই কী ঠিক কিংবা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার যদি মালিক জনতাই হয় তাহলে আমজানতা এত অসহায় কেন।
এ সম্পর্কের সোপান হিসেবে আমি রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারকে গুরুত্ব দিতে চাই। রাজনৈতিক দলসমূহের ইশতেহারই সাধারণ মানুষের সাথে দলের একটি সামাজিক চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এবং প্রত্যেকটি দল ইশতেহারকে সাজাতে হবে তেমনতর শর্তের ভিত্তিতে। আমরা যদি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি, আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামের ইশতেহার দেখি তাহলে দেখা যাবে তা অনেক বেশি মন্তব্যধর্মী, যত না তা সুপারিশধর্মী। প্রতিশ্র“তি প্রদানের ক্ষেত্রেও তা অনেক বেশি উচ্চাকাঙ্খী এবং অস্পষ্ঠ। জনগণের সেবা’র জন্য তেনারা ভোটপ্রার্থী হলেও দেখা যায় তাতে সেবার কথা, কী সেবা, কত সেবা, কোথায় সেবা এ রকম সরাসরি উদ্যোগের কথা ইশতেহারসমূহে থাকে না।
ইশতেহারে অবশ্যই তা উল্লেখ থাকতে হবে। এবং উল্লেখ থাকতে হবে এ ইশতেহার কিভাবে মনিটরং হবে, দল কিভাবে জনগণকে জবাবদিহি করবে। যদি দল ইশতেহার অর্জনে ব্যর্থ হয় তাহলে জনগণ কিভাবে তার বিকল্প গ্রহণ করবে তাও ইশতেহারে উল্লেখ করতে হবে।
ইশতেহারসমূহ প্রণীত হয় মূলত কেন্দ্রিয় চিন্তা নিয়ে। এতে স্থানীয় চিত্র বা প্রস্তাবনা খুবই কম থাকে। তাই স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রার্থীরা তাদের কেন্দ্রিয় ইশতেহারের স্থাণীয়করণ প্রকাশ করেতে হবে। যেখানে তিনি তা প্রস্তবনাসমূহ এবং জবাবদিহিতা কৌশলসমূহ বর্ণনা করবেন।
নির্বাচন হচ্ছে সমাজে ভালো নেতাদের বাছাই ও ক্ষমতায় প্রেরণের একটি আধুনিক ব্যবস্থা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনের দিন হবে একটি উৎসবের দিন এবং ক্ষমতা ভোগের দিন। কিন্তু আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক কথা আছে। একটি বাড়িতে যদি কোন উপলক্ষে ভোট হয় সেখানেও এখন নানা টুলস ব্যবহার করা হয়। ইলেকশান ইঞ্জেনিয়ারিং’ আমাদের এখানে হালে খুবই বলা-কওয়া একটি শব্দ। ৯০-এর পর তিনটি জাতীয় নির্বাচন চলে গেছে। আমরা আশা করেছিলাম আমাদের গণতন্ত্র্র অনেক বেশি পোক্ত হয়েছে; কিন্তু কৈই?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

