আমরা কেমন আছি?
আমি ভালো আছি, আপনারা ভালো আছেন কিংবা আমরা সবাই ভালো আছি-এ কথাটি সত্যি করে বুকের ভেতর থেকে বের হয় কিনা আমার জানা নেই। বিলকুল আমরা ভালো নেই। বিকল সামাজিক কাঠামো আমাদের ভালো থাকতে দিচ্ছে না। সর্বত্র একটা নাজানা ‘অনিয়ন্ত্রণ’ কাজ করছে আমাদের র›েদ্ধ্র র›েদ্ধ্র্র।
স¤প্রতি, বাহিরবিশ্বে মনযোগ-কাড়া কিছু রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। জর্জিয়ায় এনজিও ও সেনাবাহিনীকে সক্রিয় করে একটি সিভিল ক্যু হয়েছে; ভেনিজুয়েলায় মিনি অভ্যুত্থান করে সামাল দেয়া যায়নি, তবে আবার চেষ্টা চলছে শাভেজ সরকারকে সরানোর জন্য; আর্জেন্টিনায় বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ এর ‘ সংস্কার’ কে এগিয়ে নিতে গিয়ে জনবিক্ষোভের মুখে পালাতে হয়েছে শাসকদের; মজার বিষয় হয়েছে ব্রাজিলে, আমেরিকার নাকের আগায় বাম ও প্রগতিশীলরা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছে। একই সাথে ভারত বামফ্রন্ট জোট সবকিছুকে ছাড়িয়ে ১৯৩ আসনের মধ্যে ১৩৫ আসনে জয় লাভ করেছে।
আপনারা সবাই মানবেন যে, হালে আমরা এবং আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ একটি টানটান ও গুমোট সময় পার করছি। তাই আমি বাহিরবিশ্বের ঘটনাসমূহকে আমাদের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে বলে মনে করি। ইতোমধ্যে আমাদের রাজনৈতিক মহল ও অন্যরা এমনতর বিষয়াবলীর আলামত দেখতে পাচ্ছেন বলে দু’একবার বলেছেন।
স্বাধীনতার ৩৫ বছরে আমরা বাস করছি। কিন্তু মুক্তি পেয়ে আমরা কেমন আছি, এটা একটা বড় প্রশ্নবোধক। বিগত ১৫ বছরে আমাদের অর্থনীতি আকার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সাথে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় দেড় গুণ। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ৪৮ থেকে ৪২ এসেছে। এভাবে চলেলে ১৫ বছর পর আমাদের অর্থনীতির আয়তন ৬০ বিলিয়ন ডলার থেকে ১৪৪ বিলিয়ন ডলারে পৌছবে। এটি আশাব্যঞ্জক বলবো। এমনতর অর্থনৈতিক সমীকরণ আমাদের মনে আশা তৈরি করে।
কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়।
ইদানিং মানুষ কথা পাড়ে, দেখ দেশ থাকে কিনা/ অমুকে দেশ বেচে দিবে/ অমুকে দেশের সব টাকা বিদেশে নিয়ে যায়। এসব কথা প্রকাশ্যে বলাবলি হয়। তার মানে দেশের সাথে যারা সম্পর্কিত ও ব্যবস্থাপনা পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন তাদের প্রতি সাধারণ মানুষ বিভিন্ন প্রশ্ন তৈরি করছে। কিন্তু কেন করে? সাধারণ মানুষের অভিব্যক্তি ‘ যাদের ভোট দিই তারা ভোটের আগে আমাদের থাকে আর ভোটের পরে ‘দলের লোক’ হয়ে যায়। আমাদের কথা শুনেন না। আমাদের উন্নয়ন হয় না। তাত্বিকভাবে দেখলে বোঝা যায়, মানুষ আসলে ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে। হতে পারে এ ব্যবস্থার ওপর ‘জননিয়ন্ত্রণ’ থাকে না বলেই মানুষ বিগড়ে যায়। নানা প্রশ্ন তোলে।
কিন্তু, আসলেই এ প্রশ্নগুলো অমূলক কীনা? রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য লাগে একটি সরকার। আর সরকার গঠন হয় রাজনৈতিক দল থেকে। এবং প্রক্রিয়াটি হচ্ছে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোট। আর যে পদ্ধতি অনুসরণ করে আমদের দেশ পরিচালিত হয় তার নাম গণতন্ত্র।
নেবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন বলেছেন, গণতন্ত্রে জটিল আকাঙ্খা থাকে, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে নির্বাচন ্এবং নির্বাচনের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয় অর্š—ভুক্ত। এর জন্য মুক্তি ও স্বাধীনতা রক্ষা, আইনগত অধিকার মেনে নেয়া, মুক্ত আলোচনা নিশ্চিত করা এবং সংবাদপত্র ও নিরপেক্ষ মতামত পরিবেশনের নিশ্চয়তা দরকার হয়।
কিন্তু আমাদের দেশে এখন নাগাদ সেভাবে গণতন্ত্রায়ন হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরও গণতন্ত্র চর্চা করা হয় না। রাজনৈতিক দলের অধিকাংশ কমিটি গঠন হয় ওপর নেতাদের ইচ্ছামত। এত সাধারণ সদস্যদের মতামত থাকে না। এমন কি বড় দল সমূহের কোন সদস্য তালিকা নেই। আপনাদের মনে আছে, কিছুদিন আগে এ হলে একটি দলের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে একজন সাংসদ টেবিলের ওপর ওঠে অন্য একজন সাংসদকে মারতে উদ্যাত হয়েছিল। আবার দলের গঠনতন্ত্র মোতাবেক কোন সম্মেলনই হয় না। সদস্যদের বেশিরভাগই দলের গঠনতন্ত্র পড়াশোনা করেন না। দলগুলো বছরে কী পরিমাণ চাঁদা গ্রহণ করে, আয় করে এবং কি পরিমাণ কোনখাতে ব্যয় করে তার কোন হিসাব কখনো প্রকাশ করা হয় না। এতে করে অর্থনৈতিক সুশাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। নির্বাচনকালীন সময়ে টাকাওয়ালারা দলের প্রার্থীতা কিনে। দলও তাদের মনোনয়ন দেয়। এসব হয় এক্কেবারে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। অনেক সময় দুনীতিবাজ, ঋণখেলাপি, কালোবাজারীরা দলের মনোনয়নে ভোট করে এবং সাংসদ নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চা করতে হবে। ‘ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি’ তৈরি কাজ দল থেকে শুরু করতে হবে। দলগুলো তাদের প্রার্থীদের সকল তথ্য পুস্তিকাকারে প্রকাশ করেত হবে এবং তা একই সাথে ওয়েব সাইটে প্রকাশ করতে হবে। এটি জনগণকে তথ্যভিত্তিক ক্ষমতায়িত করবে। আর হাঁ রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিবন্ধিত হতে হবে।
নির্বাচিত হবার পর সংসদ সদস্যগণ আর জনগণের কাছে আসেন না। তারা তাদের মত পরিকল্পনা করেন। অনেক সময় দেখা যায় স্থানীয় সরকারের বহুকাজ সংসদ সদস্যগণ করে ফেলছেন। এতে স্থানীয় সরকারের কাজ বাধাগ্রস্থ হয়। তাই স্থানীয় সরকার ও সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরো সুনিদিষ্ট করতে হবে। স্থানীয় উন্নয়নে এমপিদের ভূমিকা বিধান বাতিল করা খুবই জরুরি। একই সাথে এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

