ক্লাসে স্যার কখনো লেট করেন না। আজ করলেন! টানা দুঘন্টা পর ক্লাসে ঝড়ের গতিতে স্যারের আর্বিভাব। শিশিরের মতো ফোটা ফোটা ঘামের জ্যামিতিতে স্যারের হলুদাভ মুখের মানচিত্রে ভোরের মিষ্টি রোদ হাসে। যদিও এমন হাসির সাথে আমরা পরিচিত কিন্তু গতির সাথে নয়।
স্যারের হাসিতে সংক্রমিত হই আমরা। ছেলেরা , মেয়েরা।
হঠাৎ স্যার বলে বসেন-
একটু আগে আমি কুরবানী হয়ে গেছি! আমরা চমকে উঠি। সামনে রমজান। কুরবানী হওয়ার কী হলো?জিজ্ঞাসা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্লাসে।
এ্যাডভান্সরা বুঝে নেয় ব্যাপারটা। স্যার হাসতে থাকে। আমরা তাকিয়ে থাকি। মেয়েরাও তাই।
-ঝুলে থাকতে থাকতে অবশেষে হয়ে গেলো। স্যার কি হয়ে গেলো? মাথামুন্ডুতো বুঝি না।
-আরে বিয়েটা...!
এবার বোঝার আনন্দে এতক্ষণের বোকা টাইপের হাসিটা অধিক অনুরণেনে ক্লাস রুম ভরে ওঠে। আর মেয়েদের হাসির টেউ মিলিয়ে যেতে থাকে! চুপসানো মুখ গুলোই মেঘভর করে। আমি পৃথিবীর সব মেয়ের হাসি জয়া নামের একজন যে সদ্য আমাদের ভাবি হয়েছে তার ঠোঁটে খেলা করতে দেখি।
আমি ধরতে পারি না। সুমন, মেহেদীরা পারে। ওরা পারে কেননা কুরবাণীর অর্থ আগেই বোঝে ওরা। আমাদের মিষ্টি খাওয়ার বায়না এক সময় চা-টায় নেমে আসে।
ব্রেক নিয়ে চা-টা খাই। কিন্তু মেয়েরা পিছু টানে। কেনো টানে জানি না।
আমাদের কারোর কারোর কিংবা সবার বিয়ের ইচ্ছেটা সজীব হয়ে পকেটে উঁকি দেয়। ক্ষুধার্ত মানিব্যাগ ইচ্ছের টুটি চেপে ধরে। অর্ধ কুরবাণী ( ছিচকে প্রেম-রোমান্স)হওয়াকেই পাথেয় মনে হয়!আমাদের কেউ কেউ হয়ত মেঘে ঢাকা মুখে স্বপ্ন খোঁজে...
আসুন সবাই মিলে স্যারের জন্য দোয়া করি। যেনো তার কুরবাণী হওয়াটা সুখের হয়। (আমীন)
পুনশ্চ: স্যারের ক্লাসে বসেই লেখাটা ব্লগে দিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


