এখন বর্ষাকাল। আষাঢ় নিভু নিভু। শ্রাবণের লক্ষণ জেগে ওঠার কথা। কিছুদিন হল তা অবশ্য বেশ ভালোভাবেই বোঝা যাচ্ছে। সকাল সাড়ে সাতটায় মেস থেকে বের হলাম ঝকঝকে মিষ্টি রোদ মাথায় নিয়ে। ভার্সিটির বাস ছাড়ার সময়ও সূর্যের অমায়িক হাসি। অর্ধেক পথ যাবার পর সূর্য উধাও! খানিক পর একেবারে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি, চপলের ভাষায় ‘তুষার বৃষ্টি’। বাস থেকে নামার সময়ও একি অবস্থা। সন্দেহ নেই চমৎকার আবহাওয়া। এর ফলে নিজের ভিতর খানিকটা রবীন্দ্রভাব উদয় হওয়াটা অন্যায় কিছু হবার কথা না!
কিন্তু চার পাঁচ পা এগুনোর পর যে জাতীয় বৃষ্টি শুরু হল তাতে ভিজে ভিজে আমার পক্ষে রবীন্দ্রভাব বজায় রাখা সম্ভব হল না! সুতরাং সবার সাথে আমিও দিলাম ভোদৌঁড়। সেন্ত্রাল লাইব্রেরির নিচে আসতে আসতে যা ভেজার মোটামুটি ভিজে গেলাম। ‘petroleum & mineralogy’ ক্লাস। দেরিতে গিয়ে অযথা স্যারের দুর্বোধ্য ভাষার তিরস্কার শোনার প্রশ্নই আসেনা। আর যা ভেজার তা তো ভিজেই গেছি। সুতরাং ‘E’ বিল্ডিং বরাবর আরেকটা ভোদৌঁড় এবং তাতেও পৌঁছতে দুমিনিট লেগে গেল। বিল্ডিং এর সিঁড়িতে এসে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারলাম ভেজার আসলে অনেক কিছুই বাদ ছিল!
২
স্যার তখনো আসেননি। আচমকা cats & dogs ধরণের বৃষ্টি drizzling এ রূপান্তরিত হল। মিনিট দুয়েক পর সূ্র্যের সেই অমায়িক হাসি।
একে একে ক্লাসের বাকি ছেলেমেয়েগুলো হেলেদুলে আসতে লাগলো।
- কীরে এতো তাড়াতাড়ি এলি যে?
সাঈদ আসলে প্রশ্ন করলনা। ভদ্রতার খাতিরে যে বলা তাও না। ইচ্ছে হল বলল এবং বলেই চুলে গেল।
- খবর কী…
এটাও কোন প্রশ্ন না। কারণ জুনায়েদ কিছু না শুনেই চলে গেল।
- আরে তূর্য ভিজলে কীভাবে?
এতক্ষণে একটা প্রশ্ন হল। প্রশ্নকর্তা মাইন যাকে বিশেষ কারণে যুদ্ধাপরাধী বলে ডাকা হয়। যদিও মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাবা-মার সম্ভবত বিয়েও হয়নি!
প্রশ্ন শুনে মনে হল বৃষ্টির দিনে একটা মানুষ কীভাবে ভিজেছে তা একটি বিরাট কৌতূহলের ব্যাপার।
- আসার সময় বিডিআর গেট এর পুকুর থেকে দুটো ডুব দিয়ে এলাম।
যথেস্ট পরিমাণ অপমানজনক উত্তর। মাইন তাতে বিশেষ অপমানিত হয়ছে বলে অবশ্য মনে হলনা।
ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ মাসুদ একটা ফাইল হাতে ঘোরাফেরা করছিল। জিজ্ঞেস করলাম,
- ক্লাস হবেনা?
- না। জানিস না?
- আমাকে মিসকল দিবি না…
- চপল কে তো বলেছি তোকে জানাতে। ও জানায়নি?
[ এই লেখা আর আগানোর কোনো সম্ভাবনা দেখিনা!]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


