যখন খুব ছোট ছিলাম তখন প্রত্যেক ঈদে আমরা দাদা বাড়ি যেতাম।আমার দাদা বাড়িটা কুমিল্লাতে।ঢাকা থেকে বাসে করে যেতে এই পথটুকু আমার খুবই ভাল লাগত।যাওয়ার পথে রাস্তায় দেখা গ্রামের সেইসব কোমল দৃশ্যগুলো মনে গেঁথে যেত।বরাবরই ছোট থেকেই গ্রামের প্রতি আলাদা একটা টান অনূভব করি আমি।জন্মের পর থেকে ঢাকায় বাস,তাই গ্রামের নিরিবিলি মায়াময় শান্ত পরিবেশটা আমার মনকে ছুঁয়ে যায়।সেই ধানক্ষেত আর সরষেক্ষেতে বাতাসের ঢেউয়ের খেলা,মাঝেমাঝে ক্ষেতে কাজে ব্যাস্ত লোকজন,বাচ্চাদের মাটি নিয়ে খেলা করা,অনেক অনেক গাছপালার সবুজ,ছোট বড় পুকুর আর নিরিবিলি মাটির ঘর গুলো এখনো চোখে ভাসে।প্রায়ই আমি হারিয়ে যাই সেইসব স্মৃতির ভাবনায়।হঠাৎ চোখ ভরে যায়,গলাটা ব্যাথা করে উঠে।ভেতর থেকে কান্না বেরিয়ে আসতে চায়...কিন্তু কাঁদিনা।কারণ বাসার সবার চোখে আমি খুব শক্ত মনের একটা মেয়ে।কান্না আমার চোখে আসেনা বা ওরা দেখেনি কোনদিন।তাই প্রেসটিজ যাতে পাংচার না হয় সেইজন্য কান্নাটাকে যা ভাগ বলে বিদায় করে দেই।
আজ আর আমাদের দাদা বাড়ি যাওয়া হয়না,কেউ নাই ওখানে।সবাই যার যার মত ব্যাস্ত।এই পাথরের শহরটাকেই আঁকরে ধরে পরে আছে।কারো এত সময় কোথায় যে গ্রামের টানে ছুটে যাবে।দেশে-বিদেশের অনেক জায়গায় যাওয়া হয়েছে ,কিন্তু বাংলাদেশের গ্রামে গেলে যেই ভাল লাগায় মনটা ভরে উঠতো সেরকম কোথাও যেয়ে হয়নি।এখন প্রবল ইচ্ছা থাকা স্বত্তেও আর যাওয়া হয়না গ্রামে।সেই যে আমার নানা রংয়ের দিনগুলি কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।
"সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভুমি"------কথাটা শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য অন্য কোন দেশের জন্য বলে মনে হয়না আমার।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:৪০