আমরা বেশীর ভাগ মধ্যবিত্ত পরিবারের বাংলাদেশী মেয়েরা বাবা মায়ের সম্মানের দিকে খেয়াল রেখে সবকিছু করার চেষ্টা করি।তারপর একদিন তাদের পছন্দে বিয়েটাও করি।প্রেম ট্রেম করার তেমন একটা সুযোগ হয় না বা অনেক সময় চারিদিকের অবস্থা ভেবে প্রেমের পথে অনেকে পা বাড়ায় না,পাছে না প্রেম করতে যেয়ে সব হারাতে হয়।তাই মা বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী পাত্রকেই বিয়ে করাই ভাল।কিন্তু সেভাবে বিয়ে করেও কি সব মেয়েরা সুখি হতে পারে?সবার কি সংসার টিকে থাকে? দেখা গেল বাবা মা দেখে শুনে খুব ভাল একজন পাত্র মেয়ের জন্য ঠিক করেছে।বিদেশে চাকরি করে,অনেক ভাল বেতন।মহা ধুমধামে মেয়ের বিয়ে দিল তার সাথে।কিন্তু বিয়ের পর মেয়েকে আর সেই ছেলে তার সাথে বিদেশে নেয় না,মেয়ে পরে থাকে বাবার বাসায় না হয় শশুর বাসায়।একাকী দিনযাপন করতে থাকে।বছরে ১/২ বার হয়ত স্বামী আসে কিছুদিনের জন্য,তারপর আবার সেই একা।আবার এমনও হয় বিয়ে করে মেয়েকে সাথে নিয়ে গেল ঠিকই কিন্তু সেখানে যেয়ে মেয়ে কিভাবে থাকছে তার খবর কিন্তু কেউ আর রাখছেনা।বাবা মা কে হয়ত মেয়ে বলে খুব ভাল আছে না হলে তারাও কষ্ট পাবে,কিন্তু তার ভেতরটা কষ্টে ফেটে যায়।কারণ তার স্বামীর হয়ত অন্য কোন মেয়ের সাথে সম্পর্ক আছে বা স্বামীটা তার মনের মত হয়না।
আচ্ছা প্রবাসী ছেলের সাথে না হয় নাই বিয়ে দিল বাবা মা,আজকাল আবার মানুষজন প্রবাসী ছেলেদের খুব একটা বিশ্বাস করে না।কিন্তু দেশের মধ্যে যারা আছেন তাদের কেউ কি বিশ্বাস করা যায়?এখনকার জেনারেশনের অবস্থা দেখলে তো মাথাই ঘুরে।যতদিন যাচ্ছে মানুষের চিন্তা ভাবনা ততোই বদলাচ্ছে।এখন সবকিছুর মত বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা ভাবনাতেও একটা পাশ্চাত্যের ছাপ চলে এসেছে।আজকাল ডিভোর্সের সংখ্যাও অনেক বেড়ে গেছে বাংলাদেশে।আমারই স্কুল কলেজের কিছু ফ্রেন্ডদের দেখি,খারাপ লাগে।কত শিক্ষিত চাকরী জীবি মেয়ে আছে যারা তার স্বামীর কাছ থেকে এতটুকু সম্মান পায়না।এমন কি তাদের স্বামীরা তাদের গায়ে হাত পর্যন্ত তুলে,মারধর করে।তাদের বাবা মা কে নিয়ে কটু কথা বলে,সম্মান করে না।এইসব দেখলে শুনলে খুবই খারাপ লাগে।কিন্তু কিছুই করার থাকে না। আবার ভাল মানুষও যে নাই সেটা বলছি না।ভাল ছেলেও আছে এখনো কিন্তু সেগুলো পরিমানে খুবই সামান্য।আসলে দোষ ছেলে মেয়ে উভয় পক্ষেরই আছে,কিন্তু আমরা যদি একটু সচেতন হই একজন আরেক জনের প্রতি তাহলেই অনেক সমস্যা থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে পারি।কিন্তু এখন আস্তে আস্তে সবাই একা থাকতেই অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে , নিজের মত চলার স্বাধীনতার জন্য।মাঝেমাঝে মনে হয় বিয়ে শাদী করার দরকারই বা কি,একাই বেশ ভাল থাকা যায়।
যাইহোক লেখা অনেক বড় হয়ে গেল,আপনাদের পড়তে পড়তে বিরক্ত লেগে না গেলেই হয়।এসব বলে কখনও শেষ করা যাবে না।পরিশেষে বলি,ভিভাহ ছবির নায়িকাটার মত যদি সব মেয়ের ভাগ্য হতো তাহলে বাংলাদেশের সব মেয়ে আজ সুখি হতো।কিন্তু ছবি তো ছবি আর আমরা আছি কঠিন বাস্তবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

