somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেয়েদের মনের মত একটি ছবি আর আমার কিছু কথা।

২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেই দিন একটা হিন্দি ছবি দেখলাম নাম--- ভিভাহ ,মানে হলো বিবাহ।খুব সুন্দর মিষ্টি একটা বিয়ের ছবি।সাধারণত একটা মেয়ে যেরকম স্বামী কল্পনা করে ছবিটাতে নায়কের চরিত্রটি ঠিক তেমনই।একটা মেয়ে একটা পরিবারে ছোট থেকে কত আদর যত্নে বড় হয়।মা,বাবা,ভাই-বোনদের সাথে তার কত না সুখ দু:খ,হাসি কান্না মাখা মধুর স্মৃতি থাকে।মেয়ের কিছু হলে প্রায় বাবা মা অস্থির হয়ে পড়েন,কিভাবে সব ঠিক হবে তার জন্য।মেয়েকে নিয়ে বাবা মায়ের কত চিন্তা।মেয়েটাও বাবা মায়ের সবকিছুর দিকে খেয়াল রাখে যাতে পারতপক্ষে তাদের কোন কষ্ট না হয়।

আমরা বেশীর ভাগ মধ্যবিত্ত পরিবারের বাংলাদেশী মেয়েরা বাবা মায়ের সম্মানের দিকে খেয়াল রেখে সবকিছু করার চেষ্টা করি।তারপর একদিন তাদের পছন্দে বিয়েটাও করি।প্রেম ট্রেম করার তেমন একটা সুযোগ হয় না বা অনেক সময় চারিদিকের অবস্থা ভেবে প্রেমের পথে অনেকে পা বাড়ায় না,পাছে না প্রেম করতে যেয়ে সব হারাতে হয়।তাই মা বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী পাত্রকেই বিয়ে করাই ভাল।কিন্তু সেভাবে বিয়ে করেও কি সব মেয়েরা সুখি হতে পারে?সবার কি সংসার টিকে থাকে? দেখা গেল বাবা মা দেখে শুনে খুব ভাল একজন পাত্র মেয়ের জন্য ঠিক করেছে।বিদেশে চাকরি করে,অনেক ভাল বেতন।মহা ধুমধামে মেয়ের বিয়ে দিল তার সাথে।কিন্তু বিয়ের পর মেয়েকে আর সেই ছেলে তার সাথে বিদেশে নেয় না,মেয়ে পরে থাকে বাবার বাসায় না হয় শশুর বাসায়।একাকী দিনযাপন করতে থাকে।বছরে ১/২ বার হয়ত স্বামী আসে কিছুদিনের জন্য,তারপর আবার সেই একা।আবার এমনও হয় বিয়ে করে মেয়েকে সাথে নিয়ে গেল ঠিকই কিন্তু সেখানে যেয়ে মেয়ে কিভাবে থাকছে তার খবর কিন্তু কেউ আর রাখছেনা।বাবা মা কে হয়ত মেয়ে বলে খুব ভাল আছে না হলে তারাও কষ্ট পাবে,কিন্তু তার ভেতরটা কষ্টে ফেটে যায়।কারণ তার স্বামীর হয়ত অন্য কোন মেয়ের সাথে সম্পর্ক আছে বা স্বামীটা তার মনের মত হয়না।

আচ্ছা প্রবাসী ছেলের সাথে না হয় নাই বিয়ে দিল বাবা মা,আজকাল আবার মানুষজন প্রবাসী ছেলেদের খুব একটা বিশ্বাস করে না।কিন্তু দেশের মধ্যে যারা আছেন তাদের কেউ কি বিশ্বাস করা যায়?এখনকার জেনারেশনের অবস্থা দেখলে তো মাথাই ঘুরে।যতদিন যাচ্ছে মানুষের চিন্তা ভাবনা ততোই বদলাচ্ছে।এখন সবকিছুর মত বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা ভাবনাতেও একটা পাশ্চাত্যের ছাপ চলে এসেছে।আজকাল ডিভোর্সের সংখ্যাও অনেক বেড়ে গেছে বাংলাদেশে।আমারই স্কুল কলেজের কিছু ফ্রেন্ডদের দেখি,খারাপ লাগে।কত শিক্ষিত চাকরী জীবি মেয়ে আছে যারা তার স্বামীর কাছ থেকে এতটুকু সম্মান পায়না।এমন কি তাদের স্বামীরা তাদের গায়ে হাত পর্যন্ত তুলে,মারধর করে।তাদের বাবা মা কে নিয়ে কটু কথা বলে,সম্মান করে না।এইসব দেখলে শুনলে খুবই খারাপ লাগে।কিন্তু কিছুই করার থাকে না। আবার ভাল মানুষও যে নাই সেটা বলছি না।ভাল ছেলেও আছে এখনো কিন্তু সেগুলো পরিমানে খুবই সামান্য।আসলে দোষ ছেলে মেয়ে উভয় পক্ষেরই আছে,কিন্তু আমরা যদি একটু সচেতন হই একজন আরেক জনের প্রতি তাহলেই অনেক সমস্যা থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে পারি।কিন্তু এখন আস্তে আস্তে সবাই একা থাকতেই অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে , নিজের মত চলার স্বাধীনতার জন্য।মাঝেমাঝে মনে হয় বিয়ে শাদী করার দরকারই বা কি,একাই বেশ ভাল থাকা যায়।

যাইহোক লেখা অনেক বড় হয়ে গেল,আপনাদের পড়তে পড়তে বিরক্ত লেগে না গেলেই হয়।এসব বলে কখনও শেষ করা যাবে না।পরিশেষে বলি,ভিভাহ ছবির নায়িকাটার মত যদি সব মেয়ের ভাগ্য হতো তাহলে বাংলাদেশের সব মেয়ে আজ সুখি হতো।কিন্তু ছবি তো ছবি আর আমরা আছি কঠিন বাস্তবে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৪৩
২১টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×