somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জ্যোৎসনা রাতের মোহটা আজও কাটলো না.....

১২ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জ্যোৎসনা রাতের অসম্ভব সৌন্দর্য নিয়ে অনেক বড় বড় লেখক কবিদের অনেক গল্প কবিতা পড়েছি।তাই নতুন করে আমি আর কি লিখব।তারপরেও আমার যে অনুভূতি পূর্ণিমার চাঁদ আর জ্যোৎসনার রাতকে নিয়ে তাই আপনাদের সাথে একটু শেয়ার করলাম,বিরক্ত লাগলে ক্ষমা করবেন আশা করি.....:|
ছোটবেলায় যখন পূর্ণিমার রাত হত,আমি অবাক হয়ে আমার ঘরের জানালা দিয়ে সেই চাঁদ দেখতাম।তখন আমার নানীর কাছে গল্প শুনতাম পরীদের।এই পূর্ণিমার রাতে নাকি অসংখ্য পরী তাদের রথে ( পরীদের দেশের প্লেন টাইপের কিছু হবে হয়ত,যাকে রথ বলে) করে পৃথিবী ঘুরতে বের হয়।তাদের রথটা খুব সুন্দর রং বেরং এর আলো দিয়ে সাজানো থাকে,রথের ভেতরে পূর্ণিমার আলোয় সারা রাত ধরে চলে পরীদের নাচ গান।পৃথিবী তখন থাকে ঘুমে অচেতন।তো আমি নানীকে বলতাম,আমি কেন পরীদের দেখতে পাইনা ( আমার আবার পরী দেখার অনেক শখ এখনো,কিন্তু আজও দেখলাম না..../:) ) নানী আমাকে বলতো তুমি জেগে থাকলে দেখতে পাবে,গভীর রাতে দেখা যায় যখন পরীরা সব বাগানে ফুল ফোটাতে আসে।আমাদের বাগান ছিল না কিন্তু আমার আম্মুর শখের কিছু গোলাপ ফুলের গাছ ছিল বারান্দায়।আমিও যথারীতি পরী দেখার জন্য রাত জেগে থাকতাম।বারান্দার দরজাটা খুলে বিছানায় শুয়েশুয়ে একবার ফুল গাছ দেখতাম আর একবার চাঁদটাকে দেখতাম।কখন পরীরা রথে করে আসবে আর আমাদের বারান্দায় নেমে সব গাছে ফুল ফোটাবে।সেই অপেক্ষা করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে যেতাম বুঝতামই না।সকালে ঘুম থেকে উঠেই বারান্দায় দৌড়,দেখতাম সব গাছে সুন্দর সুন্দর গোলাপ ফুটে রয়েছে।দেখেই মনটা ভরে যেত ( গোলাপ ফুল দেখলেই আমার মন ভরে যায়,আর নিজের গাছের হলে তো কথাই নাই ) খুশি হয়ে যেতাম যে পরীরা ফুল ফুটিয়ে গেছে,কিন্তু পরক্ষণেই মন খারাপ হয়ে যেত কেন আমি ঘুমিয়ে পরেছিলাম।খুব দুঃখ পেতাম পরীদের দেখতে পাইনি বলে।এটা ছিল আমার ছোটবেলার পূর্ণিমার রাতের ডিউটি....পরী দেখার আশা....:)

যখন কিছুটা বড় হলাম তখন বুঝলাম যে এই গুলো সব কল্পনায় বানানো গল্প,কিন্তু পূর্ণিমার চাঁদের প্রতি মোহটা গেল না।এই রাতে মাঝেমাঝে ছাদে চলে যেতাম।দেখতাম পৃথিবীটাকে কি অদ্ভুত লাগছে জ্যোৎসনার আলোয়।বেশী দূর চোখ যেত না কারণ ঢাকা শহরের উঁচু বিল্ডিং এর জ্বালায় চোখ আটকে যেত সীমার মধ্যে,আর দিনের আলোয় যে বিল্ডিং দেখতাম রাতের পূর্ণিমার আলোতেও সেই একই উঁচু উঁচু ইট পাথরের বাড়ি ঘর দেখতে বেশীক্ষণ ভাল লাগত না।এই রাতে গাড়িতে করে লং ড্রাইভে যেতে বেশী ভাল লাগে,শহর থেকে কিছু দূরে কোলাহল মুক্ত গ্রামের পরিবেশে পূর্ণিমা দেখার আনন্দই অন্যরকম।একবার দাদার বাড়ি থেকে ঢাকায় ফেরার পথে দেখেছিলাম পূর্ণিমা,অসম্ভব সুন্দর দৃশ্য ছিল সেটা।আজও চোখে লেগে আছে।চারিদিকে শুধু মাঠ আর মাঠ,ক্ষেত,কিছু কিছু ছোট ঘর আর তারা ভরা আকাশে মস্ত বড় একটা পূর্ণিমার চাঁদ।সেই চাঁদের জ্যোৎসনার আলোতে চারিদিক মোহনীয় হয়ে ছিল।রাতের আঁধারেও সব কিছু কি পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল।কি অসম্ভব সুন্দর এই পৃথিবী।গাড়ি দিয়ে আসছিলাম আর তখনও মনে মনে পরীদের খুঁজছিলাম,যদি দেখতে পাই....:|
এখনও যখন দেখি আকাশে পূর্ণিমা, শত কাজের মাঝেও আমার চোখ যাবেই সেই চাঁদের দিকে।একটু পর পর জানালা দিয়ে চাঁদটাকে দেখেনি।না হয় বারান্দায় বসে জ্যোৎসনার আলোটা উপভোগ করি কিছুক্ষণ।আমার রুমের বারান্দাটা বেশ বড়,ঐখান থেকে আকাশটা অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়।আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে তারার আর পূর্ণিমার অসম্ভব নৈসর্গিক সৌন্দর্য প্রাণ ভরে উপভোগ করি।

মাঝেমাঝে মনে হয় আমার মত সবাই যদি পূর্ণিমার এই রাতটা উপভোগ করতে পারত।কিন্তু সবাই তা পারে না।এখন যারা না খেয়ে রাস্তার ধারে জীবন যাপন করছে তাদের কাছে এই সব কখনো ভাল লাগার কথা না।যারা এখন ক্ষুধার জ্বালায় মরছে তাদের কাছে এই পূর্ণিমার চাঁদটাকেও মনে হয় একটা ঝলসানো রুটি।সুকান্তের একটা কবিতায় পড়েছিলাম অনেক আগে....

ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়
পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।

পৃথিবীর সবাই যদি পেট ভরে দুবেলা খেয়ে ভাল ভাবে বাঁচতে পারত তাহলে সবার কাছেই পৃথিবীটা অসম্ভব সুন্দর হত।তখন সবাই এই পূর্ণিমা রাতের চাঁদের আলোর জ্যোৎসনা উপভোগ করতে পারত,ঠিক এখন যেমনটা আমি করছি।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ২:০৮
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×