somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৃষ্টি ভেজা দিনগুলি.....

৩০ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অঝোরধারায় কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে শুনলে মনের ভেতরে একটা চঞ্চল শিহরণ এখনো জেগে উঠে।মন চলে যায় অতীতের ফেলে আসা মধুর কিছু স্মৃতির মাঝে,যেখানে মিশে আছে আমার শৈশব আর কৈশরের বৃষ্টি ভেজা দিনগুলি।ব্লগে বেশ কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি নিয়ে অনেকের খুব সুন্দর সুন্দর লেখা পড়ছি।বাংলাদেশের মানুষেরা বৃষ্টির আনন্দ নিচ্ছে শুনে অজান্তেই নিজের মনটা কেমন যেন আনচান করে উঠলো।

আমার এইখানে বৃষ্টি হলেও বাংলাদেশের মত কালবৈশাখীর ঝড় এখনো দেখিনি।সেই ঝড় দেখার জন্য প্রাণটা যেন ছটফট করে উঠছে।ছোটবেলার অভ্যস বৈশাখ মাসে কালবৈশাখীর ঝড় না দেখলে যেন মন ভরে না...:P সারা আকাশ কালো করে চারিদিক স্তব্ধ হয়ে থাকে কিছুক্ষণ, তারপরে হঠাৎ করে ঠান্ডা দমকা বাতাস শুরু হয়,সেই ঠান্ডা বাতাসটা আমার অনেক প্রিয়...ভাবলে এখনো কত ভাল লাগে।আকাশটা গাঢ় ধূসর কালছে রঙের হয়ে গেলে ঢাকার সাদা সাদা বিল্ডিং গুলো আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠে।তখন মানুষজনের ছুটোছুটি, ময়লা,পলিথিন ব্যাগ আর নানা রকম জিনিষের উড়াউড়ি দেখতে অনেক ভাল লাগত আমাদের বাসার বারান্দা দিয়ে।রাতের বেলা যখন ঝড়ের জন্য ইলেক্ট্রিসিটি চলে যেত,আমরা অন্ধকারের মাঝে বসে থাকতাম আর অদ্ভুত একটা ভাল লাগাময় ভয় লাগতো মনে।জোরে জোরে আলোর ঝলকানি দিয়ে বিজলী চমকাতো আকাশে আর আমি তাড়াতাড়ি দুহাতে কান চেপে ধরতাম, মেঘের ঘর্ষণের বিকট শব্দটা যেন আমার প্রাণপ্রিয় আত্মাটাকে বাইরে বের না করে দেয় সেজন্য....:D

স্কুল কলেজের জীবনে মাঝে মাঝে এই ঝড় বৃষ্টিটা কে ভীতিকর মনে হতো আমার কাছে।যখনই স্কুল বা কলেজে যাওয়ার জন্য তৈরী হয়েছি আর কিছুক্ষনের মধ্যে বের হবো,ওমনি বৃষ্টি শুরু।মেজাজটা যা খারাপ হতো,আমার আব্বু বলতো থাক আজকে আর যেতে হবে না,একা বাসায় বসে বসে বোর হতাম...:| কিন্তু একবার কলেজে চলে যেতে পারলে বৃষ্টির দিনের মজার শেষ থাকতো না।কত যে শয়তানি করতাম,কলেজের বারান্দায় আমরা বান্ধবীরা মিলে লাইন ধরে দাড়িয়ে থাকতাম,বাতাসে বৃষ্টির পানির ঝাপটা এসে লাগতো শরীরে।আর কলেজ ছুটির সময় বৃষ্টি হলে তো না ভিজে বাড়িই যেতাম না।আমাদের কলেজটা ছিল বি.ডি.আর এর ভেতরে,বেশ সুন্দর ছিমছাম জায়গাটা।বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে বি.ডি.আর এর মেইন গেট পর্যন্ত এসে তারপরে রিকশায় করে বাসায় আসতাম...:D একবার কোচিং করতে গেছিলাম স্যারের বাসায়,পড়াও শেষ হয়েছে আর অনেক জোরে শুরু হয়েছে ঝড়।সবাই তাড়াহুড়া করে চলে গেছে আর আমি রয়ে গেছি একা,কারণ আমার আব্বু আসবে আমাকে নিতে।একা একা দাঁড়িয়ে আছি আর ভাবছি চলে যাব কিনা,ভাল লাগছিল না একা দাঁড়িয়ে থাকতে।এদিকে ঝড়ও কমছিল না,হঠাৎ দেখি আমার একটা বান্ধবী আর তার মা যাচ্ছে।আমিও তাদের সাথে রওনা দিলাম,অঝোরে বৃষ্টি ঝরেই যাচ্ছে আর রাস্তায় এক হাঁটু পানি জমে গেছে।ওরই মধ্যে আমরা রিকশাও পাচ্ছিলাম না,হেঁটে হেঁটে অনেকদূর এসে রিকশা পেয়ে বাসায় গেলাম।যেয়ে দেখি ততোক্ষণে আব্বু আমাকে আনতে চলে গেছে....:-* ভয়ে আমার জান শেষ,তখন মোবাইলের এত চল ছিল না,তাই আমাদের মোবাইলও ছিল না যে বলবো আমি বাসায় চলে এসেছি।আব্বুর টেনশনের কথা চিন্তা করে সেদিন অনেক ভয় পেয়েছিলাম।আব্বু কোচিং এ আমাকে না পেয়ে টেনশন করে স্যার কে সব বলাতে স্যারও চিন্তায় পড়ে গেছিল,বাসায় আসার পরে আব্বুকে কোন ভাবে বুঝালাম যে আমার ভাল লাগছিল না তাই আমার বান্ধবীর আম্মুর সাথে চলে এসেছি,কিন্তু পরেরদিন কলেজে স্যার আমাকে ধরে বসেছে...বলে পাজী মেয়ে এইভাবে কেন চলে এসেছিলে আমাকেও না জানিয়ে, আমার বাসায় বসে থাকতে পারনি,যদি কিছু হত তাহলে কি হত।আমি আর কি করার চুপচাপ বকা শুনলাম...:|

অসম্ভব রকমের দূর্দান্ত ছিল সেই দিনগুলি।ফেলে আসা দিনের কথা মনে পড়লে বুকটা মুচড়ে কান্না আসে...:(( হাজার কান্নাকাটি করলেও সেসব দিন আর কখনো ফিরে পাবো না জানি...:( এখন বৃষ্টি হলেও আর ভিজতে ইচ্ছা করে না।শুধু জানালার ধারে বসে থেকে মুষলধারে বৃষ্টিঝরা দেখি,গান শুনি আর অতীতের মাঝে নিয়ে যাই নিজের ভেতরের অস্তিত্বটা কে....তখন আপন মনে একলাই হাসি।

আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি
আমায় আর কান্নার ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নেই....

Click This Link

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০০৮ রাত ১০:০৬
৫০টি মন্তব্য ৪৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×