সবুজ এই মাঠ ধীরে ধীরে লাল হয়ে যাচ্ছে সুর্যাস্তে
এমন সন্ধ্যায় সব ঘরের উঠানে গভীর রাতের মত অন্ধকার
আর ঘরের ভেতর মায়ের পেট থেকে
পৃথিবীতে আসছে এক শিশু
পৃথিবী এখানে গোলাপের মত নতজানু শিশুর জন্মে
আবার পৃথিবী শেয়ালের মত ধুরন্ধর শিশুর কবরের পাশে
পৃথিবী এখানে গোলাপের মত গভীর রঙ-এ স্থির
পৃথিবী যুদ্ধের রক্তের রঙ্গে ফুটে ওঠা ফুল
সেই ফুলের গন্ধে স্বাধীনতাহীন উড়ছে স্বাধীন দেশের পতাকা
যে শিশুটা জন্মালো তার শরীরের উপর সেই পতাকা কি
তার শীতের থেকে গরম হবার চাদর
নাকি তার কাফনের লাশ??
দ্যাখো আমি সেই শিশু তোমাদের ভীড়ে রক্তাক্ত তরুণ আজ
আমি আমার বাবার চোখে দেখেছি এই দেশের সুর্যোদয় থেকেপায়ের কাছে থমকে থাকা সেই সুর্যের মূমুর্ষূ গোঙ্গানী
তোমার কাছে প্রেমের চিঠি লিখেছি সেই গোঙ্গানীর ভাষায়
হতাশ এক যুবক ভেবে
তুমি সেই চিঠি পুড়িয়েছো কোন শহীদ দিবসে
আজ আমি দেখি জীবিত শহীদদের বিকেলের আড্ডায়
চায়ের কাপ থেকে উড়ছে নিরুদ্দেশ চায়ের ধোয়া
তুমি বিষের কোন তীব্র কাপ ভেবে
মাঝে মাঝে চুমুকে পান করো আমার জ়ীবন ,
যার মায়ের কাছে সে ছিলো
একটা রক্তলাল গোলাপের জন্ম কালো কালো সন্ধার ভীড়ে
সেই গোলাপের বাগানে দুই ডাইনীর প্রাসাদ আজ
রক্তের গর্বে যাদের প্রাসাদ ঢেকে আছে রক্তের আলোকসজ্জায়
সেই গোলাপের বাগানে সামরিক পশু তার হিংস্রতা মেপে নিতে
সমস্ত গোলাপের লাল কামানে ভরে
কবরের মত দেশের সবুজে ছেটায় মানুষের রক্ত
সবুজ মাঠে আমাদের নিঃসংগ হতাশায় মৃত্যুতে
লাল হয়ে থাকে মানুষের ছন্দে নেচে চলা সুর্য
বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংময় হয়ে ওঠে তোমার বেশ
আমাদের জন্মের অনেক অনেক আগেই
চারদিকে তোমার মৃত্যুর উৎসব এর আবেশ
বাংলাদেশ , ভ্রুণেই মরা শিশুর স্বদেশ
বাংলাদেশ, গুপ্তহত্যার স্বপ্নে মাথা রাখি বালিশে
বাংলাদেশ, ভুল হাতে পরানো রাণীর বেশ
বাংলাদেশ, খুন হওয়া স্বপ্নে ওড়া পতকার রেশ
বাংলাদেশ , জীবিত বদ্বীপে মৃতদের স্বদেশ
বাংলাদেশ , আমি ও আমরা নেই
তবু হাতে হাত রেখে বলি
এইতো আছি বেশ
বাংলাদেশ , মুখোশধারী খুনীদের হাতে
নিজের ধূলো বা ছায়ার প্রাসাদে
খুন হয়ে যাওয়া যুদ্ধশিশুর স্বদেশ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


