somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যত>>জালাল কবির

১১ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীর আদিকাল থেকে মানুষ খাদ্য অন্বেষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচার জন্য সব সময়েই সে যাযাবর হিসেবে এক সন্তান থেকে আরেক সন্তানে আস্তানা গেড়েছে। এ যুগের মত পাসপোর্ট, ভিসা ইত্যাদি কিছুই ছিলনা। কোন অপরিচিত আগন্তক অন্য কোন এলাকায় বা দেশে বেড়াতে গেলে তাকে সম্মানের সাথে মেহমান হিসেবে গণ্য করা হত। আর রাজ-দূত হলে তো কথাই ছিলনা। উপহার আর উপঢৌকনে সমৃদ্ধ করা হতো সেই দলকে। তৎযুগে মানুষ একসন্তান থেকে আরেক সন্তানে যেতে হলে দলবদ্ধ ভাবে যেত। তৎকালীন যুগে মানুষ নানাবিধ ভয়ের কারণে নিজেদের নিরাপদ মনে করতোনা। পথ হারিয়ে যাবার ভয়। ক্ষুধা এবং অসুখ বিসুখে আক্রান্ত হবার ভয়। জীব-জানোয়ারের আক্রমনের ভয়। ডাকাতের ভয়। জীন ভূতের ভয়। পথিমধ্যে খাদ্য এবং পানীয় যোগান না থাকার ভয় মানুষকে সর্বদাই ভীরু থাকতে বাধ্য করতো। কিন্তু এখন আর সেই যুগ নেই। শিক্ষা, ভাষা, পরিবহন, যোগাযোগ ও আধূনিক প্রযুক্তির বদৌলতে মানুষ পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে বেড়াতে যেতে পারে। আজকের যুগে মানুষ ব্যবসা বাণিজ্য, লেখাপড়া, প্রযুক্তি বিনিময়, অভিবাসন, চিকিৎসা, খেলাধূলা, প্রাকৃতিক রূপদৃশ্য এবং পৃথিবীর নানাবিধ সংস্কৃতিকে অবলোকন করার জন্য একদেশ থেকে আরেক দেশে ভ্রমন করতে যায়। মানুষ সারা বৎসর কাজ-কর্ম করে তার জীবন একঘেয়েমীতে ভরে উঠে। এই একঘেয়েমী থেকে মুক্তি পাবার জন্য সে নিজ বাসসস্থান ত্যাগ করে অন্যত্র কয়েকদিনের জন্য বেড়াতে যায়। এতে মন সুস্থ ও সুন্দর হয়ে উঠে। মানুষ মানসিক তৃপ্তি ভোগ করে বিশেষ আনন্দ পায়। তার দুশ্চিন্তা হালকা হয় এবং কর্মে নতুন উদ্দীপনা জাগে। আজকের যুগে ভ্রমন বা পর্যটন হচ্ছে মানুষের জীবনের এক বিশেষ অঙ্গ। পৃথিবীর বহুদেশ পর্যটন খাত থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে থাকে। এমন কিছু রাষ্ট্র আছে যাদের রাষ্ট্রীয় বাজেটের সিংহভাগ আয় হয় এই পর্যটন শিল্পের খাত থেকে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমনের সুবাধে এবং ক্যানাডার টরন্টোর একটি ভোকেশনাল ইনষ্টিটিউট থেকে “ট্রাভেল এন্ড ট্যুরিজম” এর উপর ডিপ্লমা নেয়ার পর পর্যটন শিল্পের উপর আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে আজকের এই নিবন্ধটি লিখছি।

প্রথমে ধরা যাক একটি দেশে অন্যদেশ থেকে মানুষ কেন ভ্রমন বা স্বল্পকালীন অবস্থানের জন্য যায়? এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে বহুবিধ। যা আমি একটু আগেই ষ্টার চিহ্নিত বাক্যে উল্লেখ করেছি। তবে বাংলাদেশের মত বিশাল জন অধ্যুষিত একটি দেশে কী এমন আকষর্ণ আছে যার জন্য বিদেশীরা এখানে আনন্দ-ভ্রমন করতে আসবে? সত্যিকথা বলতে গেলে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু নেই। যা আমাদের আছে তার চেয়ে অধিক আকর্ষণীয় এবং উপভোগ্য বিষয় আছে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে। আমাদের দেশে এমন কোন বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে বিদেশী ছাত্ররা এসে নতুন কোন টেকনোলজিকেল কিছু শিখবে, যা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে অত্যন্ত বিরল। তেমনি ভাবে এমন কোন উন্নত চিকিৎসা নেই যার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে রোগীরা আসবে এই দেশে চিকিৎসা নিতে। আমাদের দেশে যদিও অনেক পণ্য সামগ্রী তৈরী হচ্ছে ঠিকই কিন্তু ঐ গুলির উৎপাদন বিপুল সম্ভারে উন্নীত করে দেশ থেকে শুল্কমুক্ত হারে বিক্রির জন্য বিদেশী বণিকদের আকর্ষণ করার সম্ভাবনা ও নেই। কারণ এর সাথে জড়িত আছে আন্তর্জ্জাতিক বাজার প্রতিযোগিতা এবং তৈরী পণদ্রব্যের গুণগত মান। অপরদিগে সরকারী উদারনীতির আছে প্রচুর অভাব। এভাবে আমরা যে দিকে লক্ষ্য করিনা কেন আমাদের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মত স্পেশাল আকর্ষণীয় কিছু নেই। কক্সবাজার, সুন্দরবন আর বৌদ্ধবিহার দিয়ে কয়জন টুরিষ্টকে আমরা এদেশে আনতে পারবো? মুঘলী আমলের ক্ষয়ে যাওয়া কিছু মসজিদ আর যত্নহীন কিছু প্রাসাদ এর প্রতি কয়জন বিদেশীর মোহ আছে যে বাংলাদেশে আসবে? এর চেয়ে ভারতে আছে অজস্র সন্তান এবং উপাদান যা বিদেশী টুরিষ্টদের সর্বদাই আকর্ষণ করে। যে দেশের মানুষ রেলগাড়ীর ছাদের উপরে যাত্রী হিসেবে যাওয়া আসা করে। যে দেশের শহরগুলোতে পাবলিক পরিবহনের হালদশা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে বিধ্বস্থ অকেজো গাড়ীর মতন। এবং ঐ সমস্ত পরিবহনগুলোতে মানুষ বাদুর ঝুলা হয়ে যে ভাবে যাতায়াত করে তা দেখে একজন বিদেশী পর্যটকের বুকের হৃদস্পন্দন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সে নিজে ঐ পরিবহন ব্যবহার নাই করুক কিন্তু যে দেশে এমনতর অবস্থা, সেদেশের অন্যান্য সেক্টর গুলোতে আরও কত রকমের ত্রুটি এবং বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে তা খুব সহজেই একজন বিদেশী ট্যুরিষ্ট বুঝে নিতে পারে। ধনী এবং উন্নত দেশগুলো থেকে ট্যুরিষ্টরা অন্য দেশে বেড়াতে গেলে নিজেদের পরিবারের ছেলেমেয়ে সহ সকলেই যেতে চায়। কারণ প্রত্যেকেই নিজেদের স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের নিয়ে ছুটি উপভোগ করতে ভালবাসে। যেকোন দেশ থেকে পর্যটকরা আরেক দেশে যাবার পূর্বে সবচেয়ে যে বিষয়গুলো তারা বিবেচনা করে তা হচ্ছে যে দেশে তারা যেতে চায়, সে দেশ তাদের জন্য কতটুকু নিরাপদ? সে দেশের পানি এবং পানীয় দ্রব্য জীবানু মুক্ত কিনা? ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া এবং কীট-পতঙ্গের আক্রমনের সম্ভাবনা কতটুকু? হাসপাতালে বা ক্লিনিকের সাভিস কতটুকু উন্নত এবং তা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কি না। যাতায়াত ব্যবস্থা কতটুকু উন্নত এবং তা স্বাচ্ছন্দ্য ও আরামদায়ক কিনা। বাংলাদেশের পানিতে আর্সেনিক সমস্যা এখন আর কারো অজানা নয়। সুতরাং পর্যটকরা আর্সেনিকের ভয়ানক ভয়ে বাংলাদেশে আসতে চাইবেনা, এটাও একটি বড় কারণ। তবে বিশুদ্ধ বোতলজাত পানি হয়তো তাদের ভ্রমন উৎসাহকে নিরাশ করবেনা। উন্নত ও ধনী দেশের মানুষেরা মাছি, মশা, মাকড়সা, তেলাপোকা, বিছা, ইদুর, সাপ ইত্যাদি কতটুকু ভয় ও ঘৃণা করে তার একটি অবিশ্বাস্য উদাহরণ না দিলে বাংলাদেশের মানুষকে কিছুতেই বুঝানো সম্ভব নয়। যদি ওয়াসরুমে, (টয়লেটরুম) শোবার ঘরে কিংবা রেষ্টুরেন্টে বিদেশী অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েরা উপরিউক্ত কোন কীট-পতঙ্গ দেখতে পায় তাহলে ভুত দেখার মত ভয়ে ভয়ানক চিৎকার করতে থাকে। আর প্রাপ্ত বয়স্করা তা দেখলে “মাই গড” বলে মনে মনে প্রমাদ গুনতে থাকে। বিদেশী ডাকাত কিংবা সন্ত্রাসীরা পিস্তল হাতে নিয়ে ব্যাঙ্ক ডাকাতি করতে ভয় পায়না। কিন্তু সাধারণ মাকড়শা, তেলাপোকা ইত্যাদিকে তারা ভয় পায় যমের মত। এখন বুঝুন পাশ্চাত্যের মানুষের মনো-মানষিকতা। একবার ঢাকার মিরপুর রোডের পার্শে একটা খসাই লোকদের সামনে গরু জবাই করেছিল। পাশে ফেলে রেখেছিল সেই গরুটির ভড় ও চামড়া। আর সুত্রাপুর এলাকায় কয়েকটা বখাটে ছেলে একটা কুকুরকে কাঠের টুকরা ও হকি ষ্টীক দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। দুর্ভাগ্যবশত উভয় ঘটনাটি দু’জন বিদেশী প্রত্যক্ষ করতে পেরেছিল। কুকুরটিকে না মারার জন্য দুই ভ্রমনকারীরা পুলিশের সাহায্য চেয়েছিল, কিন্তু সেই পুলিশ ইংলিশ জানতোনা। ইংলিশ না জানলেও পুলিশ বিষয়টি ঠিকই আঁচ করতে পেরেছিল। সে কোন সদুত্তর না দিয়ে শুধুই বোকার মত হাসছিল। আর এমন অবজ্ঞার ভাব দেখাচ্ছিল যে, কুকুর নিধন কোন ব্যাপারই না। এই দু’ঘটনার পর বিদেশী পর্যটক তাদের নিজ ভাষায় যে মন্তব্য করেছিল তার অর্থ হলো ‘বাংলাদেশ একটি ভয়ঙ্কর জানোয়ারের দেশ’। পৃথিবীর কোন সভ্যদেশে খাবারের জন্য সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ্যে প্রাণী জবাই করাটা নেহায়েত অন্যায়। তা কেবল করবে কসাইখানায় কর্মে নিযুক্ত লোক যেখানে পরিচ্ছন্নতা, গোপনীয়তা ও স্বাস্থ্যবিধি আইন মেনে চলা হয়। আমাদের দেশে সাধারণ মানুষ কিংবা গরীব শ্রমিকরা যে ভাবে শহরের রাস্তার পাশে কিংবা খোলা নর্দমায় উবু হয়ে পেচ্ছাব করে আর মেথরেরা যে ভাবে ড্রেইন থেকে ময়লা তুলে সেই ময়লা ড্রেইনের পার্শে রেখে দিয়ে সুচিবা‌ঈ গন্ধ আকাশে বাতাসে ছড়ায়। তা দেখে বিদেশীরা মনে মনে তওবা করে এমন দেশে ভ্রমন করার সিদ্ধান্ত তাদের ভুল হয়েছে। এছাড়াও আরেকটি ক্ষুদ্র নেহায়েত জাতীয় অভ্যাসের কথা বলবো যা দেখলে বিদেশীরা আমাদেরকে নোংরা জাতি হিসেবে মনে প্রাণে ঘৃণা করে। সেটা হলো খ্যাঁত খ্যাঁত শব্দে মুখ থেকে একদলা কাশি কিংবা থুথু যেখানে সেখানে ফেলা, আর ফ্যাত ফ্যাত শব্দে নাক থেকে নাকের তরল মোম বের করে যেখানে সেখানে ফেলা। রোজা মাস আসলে মনে হয় সমস্ত বাংলাদেশ বুঝি থুথুতে ভরে যাবে। এমন ঐতিহ্যবাহী অভ্যাসগুলো চিরদিন লালন করে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নকে আমরা কতটুকু এগিয়ে নিতে পারবো? একটা দেশের সমাজ কতটুকু ভদ্র, সভ্য, মার্জিত ও ধৈর্যের প্রমাণ পাওয়া যায় অতি সহজে। সেই দেশটার যে কোন শহরের রাস্তায় যখন গাড়ী চলাচল করে তখন ১০ মিনিটের মধ্যে কত টি গাড়ীর হর্ণ বা ভেঁপু বাজে সেই মাপকাঠি থেকে উন্নত দেশের নাগরিক অতি সহজেই সেই দেশের চিত্র হৃদয়ঙ্গম করে নিতে পারে। যদি ১০ মিনিটে ১০টি হর্ণ বা ভেঁপু বাজে তাহলে মোটামোটি চলন সই হিসেবে সেই দেশটাকে গ্রাহ্য করা যায়। এখন যদি প্রতি মিনিটে বিভিন্ন গাড়ী থেকে ২৫বারের ও বেশী হর্ণ বাজে তাহলে সেই দেশটা কোন পর্যায়ে আছে তা কাউকে বুঝিয়ে বলতে হয়না। ঢাকা চট্রগ্রাম রাজশাহী সিলেট প্রভৃতি শহরগুলিতে প্রতি মিনিটে নয় প্রতি সেকেন্ডে বাজে ৩ বারের ও অধিক হর্ণ বা ভেঁপু। এখন অনুমান করুন কি অবস্থা? উন্নত দেশের পর্যটকরা শব্দ-দুষণে অত্যন্ত হতাশা এবং বিরক্তি বোধ করে। প্রিয় পাঠক এই বিরক্তি বোধ ও হতাশা শব্দগুলোকে আপনারা সাদামাটা হিসেবে মনে সন্তান দেবেননা। এই শব্দগুলো পর্যটকদের ভ্রমন-বিমুখ করার জন্য টনিকের মত কাজ করে। ভ্রমনের জন্য প্রত্যেক পর্যটকদের একটা বাজেট থাকে। সকল বিদেশী আমাদের দেশে আসলে কেবল দামী দামী পাঁচতারা, তিনতারা ইত্যাদি হোটেলে থাকতে আসবে এমনটি ভাববার অবকাশ নেই। ট্যুরিষ্ট বা পর্যটকরা পরিস্কার ছিমছাম ‘মটেল’ পছন্দ করে আরও বেশী। শহরের কোলাহল অপেক্ষা কিঞ্চিত নিরিবিল এবং ছায়াঘেরা আবাসস্থল তাদের অনেক বেশী পছন্দ। সমুদ্র সৈকতে অবস্থিত আবাসিক হোটেল একচেটিয়া ভাবে সকলে পছন্দ করেনা। আমাদের দেশে আন্তর্যাতিক মান সম্পন্ন হোটেল ব্যতীত যে সকল ইকোনমি (নায্য ভাড়া) হোটেল ও উন্নত হোটেল আছে সেগুলো বিদেশীদের কাছে পছন্দের তালিকায় নেই। এর কারণ হিসেবে খোঁজ নিলে দেখা যাবে হোটেল গুলোর আবাসিক পরিবেশ এবং সার্ভিস কোনটাই উন্নত মানের নয়। অধিকাংশ হোটেল গুলোর দরজা জানালা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও যানবাহন চলাচলের শব্দ দুষণে দুষিত। এমনকি যে সমস্ত কর্মচারীরা হোটেল সার্ভিস দিচ্ছে তারাও উচ্চ স্বরে যখন তখন কথা বলে। একজন পর্যটক বা হোটেলে অবস্থিত বর্ডারের শব্দদুষণে কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা সে সর্ম্পকে তাদের কোন হুস নেই, শ্রদ্ধা ও নেই। এ সমস্ত হোটেলের ওয়াশরুম বা টয়লেট গুলো পর্যাপ্ত ভাবে পরিস্কার নয়। ইংরেজীতে নীট এন্ড ক্লীন বলে যে শব্দটি আছে সেটির ধারে পাশে ও নেই এসব টয়লেট। প্রত্যেক বিদেশীরা আশা করে খানা পিনা, লেপ বিছানা যাইহোক টয়লেট রূমটি হবে দাগমুক্ত বা স্পটলেস। অধিকাংশ বিদেশীরা আশা এবং ইচ্ছে করে একটি দেশের সাধারণ রেস্তোরায় কিংবা মধ্যম মানের রেষ্টুরেন্টে খাবার খেয়ে সেই সমাজের খাদ্য সংস্কৃতির সাথে জীবন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে। কিন্তু হায়! এসমস্ত মধ্যম মানের কিংবা তারচেয়ে একটু উন্নত রেস্তোরা গুলোতে সার্ভিস বয়দের টেবিল পরিস্কার করার নোংরা ন্যাপকিন ও মাছির সর্বত্র আনাগোনা দেখার পর, অধিকাংশ পর্যটকদের খানা খাবারের রূচী হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। প্রত্যেক বিদেশী পর্যটকরা কোন দেশের শহরে কিংবা মফস্বল এলাকায় বেড়াতে গেলে প্রথমেই তারা সেখানকার যাবার রাস্তার নির্দেশনা বই (বা রোড ম্যাপ) খুঁজ করেন। কিন্তু আমাদের এমনই দুর্ভাগ্য যে, এই একবিংশ শতাব্দির দোর গোড়ায় পৌছেও আমরা অন্যান্য দেশের মত উত্তম, সহজবোধ্য ও তথ্যপূর্ণ (ডিটেইল্‌স) ঝকঝকে রোড ম্যাপ উপহার দেবার ক্ষমতা রাখিনি। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এযাবৎ পর্যন্ত যে রোড ম্যাপ তৈরী করেছে তা এতটুকুই যাকে আমরা বলে থাকি “নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল”। আমাদের আরও দূর্ভাগ্য এই যে, দেশের প্রত্যেকটি শহর কিংবা গ্রাম গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিত ভাবে। যেখানে ইচ্ছে সেখানে মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী তৈরী করেছে। এতে শহর এবং গ্রামগুলো এলোমেলো ও অপরিকল্পিত ভাবে বিস্তার লাভ করেছে। একারণে আজ পর্যন্ত একটি রাস্তা তৈরী করতে কিংবা পানি নিষ্কাশন প্রণালী তৈরী করতে আমাদের ঝগড়া ফ্যাসাদ এবং মামলা মকদ্দমার অন্ত নেই। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলিতে যেখানে ইচ্ছে সেখানে ঘর-বাড়ী তৈরী করা যায়না। সেখানকার পৌরসভার একটা সঠিক প্ল্যান বা লিখিত পরিকল্পনা থাকে। যারফলে শহর কিংবা গ্রাম যতই বিস্তার লাভ করুক সেখানকার ভূচিত্রটির (ল্যান্ডস্ক্যাপ) নমুনা ও ইতিহাস ঠিক থাকে। যারফলে সঠিক মানচিত্র ও তৈরী করা যায় ভালভাবে।

উপরে উল্লিখিত পর্যটনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক দিক উল্লেখ করা হলো, যা উল্লেখ না করে উপায় নেই। এভাবে আরও অনেক নেতিবাচক দিক আছে যা উল্লেখ করে বক্তব্যকে দীর্ঘায়িত করতে যাচ্ছিনা। তবে অন্যান্য নেতিবাচক দিকগুলো পর্যটন ব্যবসার জন্য এত মারাত্মক বা হুমকী কারণ নয়। বিশেষ বিশেষ নেতিবাচক কারণগুলো উল্লেখ করার পরও আমরা যদি আশা করি যে আমাদের দেশে বেশী করে পর্যটক আসুক তাহলে আমাদেরকে অনেক দায়-দায়িত্ব সুষ্টুভাবে পালন করতে হবে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি আমাদের সরকার এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সংস্থা সমুহ যদি সত্যিকারে মুনাফা অর্জন করতে চায় তাহলে নীচের প্রস্তাবগুলি অত্যন্ত সুচিন্তিত ভাবে কাজে লাগালে অবিশ্বাস্য রকমের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে। এতে কোন সন্দেহ নেই।

(নিরাপত্তা)

(১) পর্যটকদের ভ্রমন কালীন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। বিদেশী পর্যটকরা যাতে সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্ত না হন সেই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ত্বের সাথে বিবেচনা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। যে সমস্ত পরিবহন ( জলে ও স্থলে) পর্যটকদের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে সেগুলো হতে হবে সুন্দর, নিখুঁত এবং যান্ত্রিক ত্রুটিহীন। এসমস্ত পরিবহনগুলোর রঙ থাকবে সাদা এবং সবুজ বিশেষ ডিজাইনের। প্রত্যেকটি পরিবহনের বাহির পার্শে বেশ কয়েকটি দেশের ছোট্ট ছোট্ট পতাকা যাতে শোভা বর্ধন করতে পারে তার ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রত্যেক পরিবহনে কমপক্ষে ২ জন (অস্ত্রধারী) নিরাপত্তা-রক্ষী রাখার ব্যবস্থা করা। এসব রক্ষীদের বিশেষ ইউনিফর্ম থাকা অবশ্যই প্রয়োজনীয়।

(২) কোন অসুখ বিসুখে কিংবা দুর্ঘটনায় পর্যটকরা যাতে দ্রুত পুলিশ, এম্বুলেন্স ও জরুরী ভিত্তিতে ডাক্তার সহ ক্লিনিকের ব্যবস্থা পেতে পারে সেই ব্যবস্থার প্রতি বিশেষ আয়োজন রাখা।

(৩) হোটেল, মটেল এবং খাবারের রেস্তোরা গুলোতে সার্ভিস এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি সুতীক্ষ্ণ ভাবে নজর রাখতে হবে। খাদ্য তালিকাগুলোতে কি কি মশল্লা এবং ক্যামিকেল ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলোর ডিটেইল্‌স তথা ইনগ্রিডিয়েন্ট কি কি তার উল্লেখ থাকা খুবই প্রয়োজন।

(৪) হোটেল, মটেল গুলোতে কম্পিউটার ও ইন্টারন্যাট ব্যবহারের সুযোগ সুবিধা থাকা।

(৫) শব্দ দুষণ, ও জনসাধারনের যেখানে সেখানে প্রস্রাব, কফ, থুথু ও ময়লা ফেলে রাখার জন্য সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি ও জরিমানার ব্যবস্থা করা। এব্যাপারে দেশের টেলিভিশন, রেডিও এবং মাইকযোগে প্রচার চালানের সুব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরী। কারণ সাধারণ দিন মজুর ও শ্রমিক মানুষেরা পত্রিকা পড়তে জানেনা। একারণে উপরের মিডিয়াগুলো দেশের উন্নয়নের খাতিরে বিনামূল্যে যাতে প্রচার কার্য চালাতে পারে তার ব্যবস্থা করা।

(৬) অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত এই পাঁচ মাস (পর্যটন ঋতু হিসেবে) কোন রাজনৈতিক দল মিছিল এবং হরতাল করতে পারবেনা বলে আইন করে নেয়া। অথবা বিকল্প হিসেবে এই পাঁচমাসের মধ্যে র্নিদিষ্ট যে কোন চারদিন মিছিল হরতালের জন্য বরাদ্দ করে নেয়া।

(৭) কোন ভিখারী যাতে পর্যটকদের বিরক্ত করতে না পারে সে জন্য উপরে উল্লিখিত ৫নং বক্তব্যের আওতায় একটা ব্যবস্থা করা।

(৮) যেহেতু আমাদের দেশের ভ্রমন বিষয়ক বই ও তথ্যপূর্ণ ম্যাপ এর অভাব রয়েছে সেকারণে ট্রেনিং প্রাপ্ত দ্বিভাষী কিংবা বহুভাষী গাইড থাকা প্রয়োজন। তারা পর্যটকদের সহাবস্থানে থেকে তাদেরকে সর্বদাই সাহায্য করবে।

(প্রচারণা)

(১) “হাও টু বিহেইভ উইথ ফরেনার্স” (বিদেশীদের সাথে কি ভাবে সদ্ব্যবহার করবেন ) এই বিষয় এবং ভ্রমন বিষয়ের উপর যারা অফিস এবং মাঠ কর্মী হিসেবে নিযুক্ত আছেন কিংবা নিযুক্ত হবেন তাদের জন্য কমপক্ষে সাত দিনের জন্য একটা ট্রেনিং এর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

(২) আজকাল বিদেশী পর্যটকরা কোথাও ভ্রমনে যেতে হলে প্রথমেই সেই দেশ কিংবা সেই অঞ্চলের (যে অঞ্চলে বেড়াতে যাবে) উপর কোন ভ্রমন তথ্য পাওয়া যায় কিনা সেটা প্রথমেই খোঁজ করে কম্পিউটারের ইনটারনেট ওয়েব পেইজে। সেজন্য বাংলাদেশ ভ্রমনের উপর প্রচুর জমকালো ছবি সহ ভ্রমন তথ্যে ঠাসা একটি ওয়েব পেজ তৈরী করে তা ইন্টারনেটে প্রচার দিতে হবে।

(৩) বর্তমানে বাংলাদেশ ভ্রমনের উপর যে সব তথ্যাদি পাওয়া যায় তা গুণগত মানে তত উন্নত নয়। বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত ছবি, ম্যাপ এবং প্রচারপত্রের যে নমুনা তাও আধুনিক যুগের সাথে অর্থাৎ পর্যটকদের আকর্ষন করার মত যথেষ্ট উন্নত নয়। অচিরেই এসব বদলাতে হবে, না হয় আপডেট করতে হবে।

(৪) বাংলাদেশে ভ্রমনের জন্য, বাংলা কার্তিক মাস থেকে ফাল্গুন মাস অর্থাৎ ইংরেজী অক্টোবর মাস থেকে ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত দেশের আবহাওয়া পর্যটকদের জন্য উপযুক্ত হিসেবে প্রচার দিতে হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে যে ধরনের ইনফরমেশান ও ব্রুশার (ছাপানো প্রচারপত্র) পাওয়া যায় সেগুলোর আপডেট করতে হবে। যে সমস্ত ইনফরমেশান (আবশ্যিক হিসেবে ) থাকতে হবে তা হলো (ক) দেশের ভৌগলিক অবস্থান ও আবহাওয়ার বহুমুখী তথ্য ইনফরমেশন (খ) যোগাযোগ বা পরিবহনের কমপ্লিট গাইড ও ম্যাপবুক (গ) পরিবহনের সময়সূচী এবং সরকারী ছুটি ও দেশের বিভিন্ন উৎসবের খবর ও তথ্যাদি। (ঘ) একজন পর্যটক বাংলাদেশে বেড়াতে আসলে তিনি কি কি উপভোগ বা এনজয় করতে পারবেন তার একটা তালিকা (ঙ) বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকদের জন্য যে সব আন-র্যাতিক সংস্থা বা কোম্পানী সমুহ বই, লিফলেট, ম্যাপ ইত্যাদি প্রকাশ করে থাকে সে সমস্ত কোম্পানীগুলোর সাথে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের আপডেইটেড ভ্রমন বিয়য়ক গাইড বই প্রকাশের ব্যবস্থা করা। (চ) বিদেশে অবস্থিত প্রত্যেকটি দূতাবাস কমপ্লিট ভ্রমন গাইডের যাবতীয় তথ্যাদি নিজ সংগ্রহে রাখবে এবং নিয়মিত ভাবে তার প্রচারের ব্যবস্থা করবে। (ছ) সিডনি, ব্যাঙ্কক, দিল্লী, টোকিও, রোম, ইস্তাম্বুল, আমর্ষ্টাডাম, প্যারিস, লন্ডন ও নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত আন্তর্যাতিক মান সম্পন্ন মেগাজিন গুলোতে বাংলাদেশের পর্যটনের জন্য প্রচার বা বিজ্ঞাপন দিতে হবে।

(পর্যটকদের জন্য উপভোগ্য বিষয়)

অধিকাংশ বিদেশী পর্যটকরা অন্য দেশে আসে একটু ভিন্ন স্বাদ, আনন্দ (ফাআন) ও অভিজ্ঞতা পাওয়ার জন্য। এতে তার মনের ক্লেশ দুর হয়, হতাশা হালকা হয় এবং মানষিক ভাবে তারা চাঙা হয়ে দেশে ফিরে পুরো উদ্যমে কাজ করতে শুরু করে। অনেক বিদেশী পর্যটকরা আসে এদেশের সাথে কোন ব্যবসা বাণিজ্যের সুযোগ সুবিধা আছে কিনা তা দেখতে। তৎসঙ্গে তারা জানতে ও দেখতে চায় এদেশের সার্ভিস ব্যবস্থাটা কতটুকু মানসম্পন্ন ও বিশ্বস্ত। এখন বিভিন্ন ধরনের কার্য-নির্বাহী অফিসগুলোতে গিয়ে যদি বিদেশীরা বুঝতে পারে সেখানে চলছে মান্ধাতা আমলের সব ব্যবস্থা, প্রাণহীন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, এবং প্রভু-চাকর সম্পর্কের ব্যবস্থায় অহঙ্কারের বিশাল বুলি। তাহলে সব গুড়েবালি। ঘাটে ঘাটে ফাইল আটকানো, অহেতুক সময়ক্ষেপনের বাহানা, কথা দিয়ে কথা না রাখা, অতিরিক্ত তোষামোদ ইত্যাদি বিয়য়গুলি যখন তাদের জ্ঞানে ধরা পড়ে তখন তারা হতাশা ও বিরক্তিতে আমাদেরকে একটি অলস, বখাটে, জাতি হিসেবে মন্তব্য করে। অফিস, ব্যাঙ্ক, পরিবহন ইত্যাদিতে লাইন ভঙ্গ করা আমাদের একটি জাতীয় অভ্যাস। এই অভ্যাসের জন্য আমরা একটি হৃদয়-বিদারক গালি খেয়ে থাকি। যা আমি এখানে উল্লেখ করছি বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করার জন্য। প্লিজ কেউ যেন আমাকে মন্দ না ভাবেন। আমি নিজের কানেই শুনেছি বিরক্তিতে ধৈর্য্যহারা হয়ে লাইন ভাঙার জন্য পর্যটকরা বলে থাকে “দে আর দ্যা মাদার ফার্কাস ” এখন অবস্থা বুঝুন, আমাদের জাতীয় ব্যক্তিত্বের অস্তিত্ব কোথায়?

প্রচুর বিদেশী পর্যটকরা আমাদের খানাপিনা, খেলা-ধুলা, আতিথেয়তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় আশয়গুলো জানতে বুঝতে ও উপভোগ করতে চায়। তারা আমাদের পুরানা ঐতিহ্যবাহী অনেক সিসটেমকে ও দেখতে ভালবাসে। যা আমাদের কাছে বা আমাদের জীবনের জন্য অতি সাধারণ, সেগুলো অনেক সময় তাদেরকে অদ্ভুত আনন্দ এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে থাকে। সুতরাং পর্যটকদের আনন্দ উপভোগের জন্য এমন অনেক বিষয়বস্তু আমি উল্লেখ করবো যা হয়তো একজন বাংলাদেশী হিসেবে আপনার কাছে কোন মুল্যই নেই। মনে রাখবেন, যে সমস্ত খাদ্য পানীয় কিংবা নাইট ক্লাবের কালচার পর্যটকদের নিজ দেশে অবাধে ভোগ করার সুযোগ আছে সেসব ব্যাপারগুলো তারা বিদেশে এসে ভোগ করার জন্য মুখাপেক্ষী নহে। কেবল খাদ্যের ব্যাপারে (অত্যন্ত কমন) একটি বিষয়ে বিশেষ নজর দিলে খুব ভাল হয়। যেমন; অধিকাংশ বিদেশীরা রাত্রিকালীন খাবারের সময় (ডিনার) ওয়াইন বা শরাব পান করতে ভালবাসে। মাংশের খাবার হলে লাল শরাব এবং মাছ জাতীয় খাবার হলে সাদা শরাব পছন্দ করে। এজন্য উচিত হবে যদি আমাদের দেশের নিজস্ব তৈরী কোন শরাব থাকে তা পরিবেশন করা, কারণ পর্যটকরা উপভোগ করতে চায় যে দেশে বেড়াতে এসেছে সেই দেশের কোন প্রস্তুত জিনিস। যদি না থাকে তাহলে চেষ্টা করতে হবে ভারত কিংবা থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশের কোন ভাল শরাব আছে কি না। এটি একটি সাধারণ ব্যাপার কিন্তু তার মধ্যে বিদেশীদের একটা আগ্রহ আছে, আছে নতুনত্ত্বের প্রতি আকর্ষণ। উদাহরণ স্বরূপ বলছি এখন যদি জার্মান পর্যটকদের কাছে জার্মান শরাব আপ্যায়ন করা হয়, তবে সেটা তাদের কাছে কোন নতুনত্ত্বের স্বাদ ও আনন্দ দেবেনা। যদি পশ্চিম-এশিয়া ভিত্তিক কোন প্রডাক্ট আমাদের হাতে না থাকে তাহলে একদল জার্মান পর্যটকদের জন্য জাপান, কোরিয়ান কিংবা অষ্ট্রেলিয়ান শরাব পরিবেশনের সুযোগ থাকা উচিত। একই ভাবে বিভিন্ন স্বাদের চা কিংবা এমন কিছু শীতল পানীয়ের কথাও উল্লেখ করা যায়। যা টাটকা ফলমূল থেকে নিজস্ব আইডিয়ায় তৈরী করা হয়েছে। কিংবা তৈরীর জন্য নিজস্ব গোপনীয় রেসিপি বা ফর্মুলা রয়েছে।

(১) অতএব বিদেশী পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন আইটেমের খাদ্য তালিকা থাকা উচিত যার স্বাদ গন্ধ হবে আলাদা আলাদা। একই ভাবে বিভিন্ন ধরনের স্যালাদ এবং ডের্জাট বা মিষ্টি জাতীয় নরম কেক, পিঠা, শাপটা ইত্যাদি থাকা উচিত। এ্যপিটাইজার কিংবা স্ন্যাক হিসেবে বিভিন্ন আইটেম নিজ নিজ আইডিয়ায় তৈরী করে পরিবেশন করা যায়। খেয়াল রাখতে হবে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও কোয়ালিটি বা গুণগত মান যেন সব সময়ই এক সমান থাকে।

(২) পর্যটকদের সমুদ্র সৈকতে সাতার কাটা ছাড়াও স্কুবা ডাইভিং (ডুবুরীর মত অগভীর সমুদ্রের তলদেশে গিয়ে মাছ দেখা বা ঝিনুক, শঙ্খ, প্রবাল ইত্যাদি সংগ্রহ) এর জন্য প্রয়োজনীয় টুলস বা সরঞ্জাম যোগাড় করে রাখা।

(৩) সমুদ্র সৈকতে বায়ু সেবন এবং সুর্যাস্ত বা সুর্যোদয় অবলোকন করা ছাড়াও বাচ্চাদের খেলাধূলা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকা। আর বড়দের জন্য ভলিবল, রাগবি, সিঙ্গুল বোট ড্রাইভ (প্লাষ্টিকের তৈরী খুব ছোট্ট নৌকায় পাল লাগিয়ে বাতাসের তালে তালে চালানো) ইত্যাদি খেলার ব্যবস্থা রাখা। খেলা-ধুলার পর পর্যটকরা যাতে বিভিন্ন স্বাদের সী-ফুড (সামুদ্রিক খাদ্য) বার-বি-কিউ স্টাইল, গ্রীলে পুড়ানো, প্যান বা তাওয়ায় ভাজা, কাজুন ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন মশল্লায় তৈরী খাদ্যের সুযোগ পায়, সেই ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন।

(৪) বড় বড় নদীতে বা বিলে ঝিলে আমাদের দেশীয় নৌকা বাইচ এর প্রতিযোগিতা দেখানোর ব্যবস্থা করা। এই ব্যবস্থায় কয়েক দল নৌকা বাইচ টিম সর্বদাই পেশা হিসেবে নিযুক্ত থাকবে এবং প্রতিদিন (টিকেটের বিনিময়ে) বিদেশীদের তারা এই খেলা দেখাবে। এতদ্ব্যতীত পর্যটকরা নিজ হাতে বৈঠা দিয়ে ডিঙ্গি নৌকা বেয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা লাভ করবে। তদ্রুপ কলাগাছের তৈরী ভেলা কিংবা আঁটিবাধা বাঁশের তৈরী ভেলা লগি দিয়ে কি ভাবে বাইতে হয় তা পর্যটকরা নিজ হাতে করবে। পর্যটকদের জন্য এসব হচ্ছে খুবই আনন্দের বিষয়। দক্ষিণ আমেরিকার কষ্টারিকায় এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যটকরা প্রচুর আনন্দ উপভোগ করে, এজন্য তারা পয়সা খরচা করতে মোটেও দ্বিধাবোধ করেনা।

(৫) সুদূর কোন মাঠে আমাদের জাতীয় খেলা কাবাডি, শ্বাসধরা, দাড়িয়া বাধা, কানামাছি, হাড়িভাঙ্গা ইত্যাদি পেশা হিসেবে গ্রহণ করে বিভিন্ন টিম দ্বারা (টিকেটের বিনিময়ে) তা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা। পর্যটকরা হাড়িভাঙা ও কানামাছি খেলে প্রচুর আনন্দ পাবে। কারণ তারা এসব জীবনে দেখেনি। পর্যটন এলাকাগুলোতে দেশের উন্নত মানের টিম দ্বারা যদি প্রতিযোগিতামুলক খেলা দেখানোর সুযোগ করা হয় তাহলে সেটা পর্যটকদের জন্য হবে অত্যন্ত আকর্ষণ ও আগ্রহের বিষয়। সেগুলো হচ্ছে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, বাসকেট বল ইত্যাদি।

(৬) তদ্রুপ ষাড়ের লড়াই, মহিষের লড়াই, মোরগের লড়াই, সাপের নাচ ইত্যাদি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা।

(৭) টিকেটের বিনিময়ে জুয়েল আইচের মত যাদু দেখানো এবং কিছু সার্কাসের খেলা-ধূলার ব্যবস্থা করা

(৮) কুটীর শিল্প প্রদর্শনীর ব্যবস্থাঃ যেমন; তাত কি ভাবে বুনা হয়, মাছ ধরার জাল কি ভাবে হাতে তৈরী হয়, শীতলপাটি, ছাতা, মাটির বাসন কোশন কি ভাবে তৈরী হয় ইত্যাদি।

(৯) মাছ ধরার নানাবিধ হাতিয়ার ও তার ব্যবহারের প্রদর্শনী (প্রয়োজন বোধে তা আগে থেকেই সুন্দর ও নিখুঁত ভাবে ভিডিও ক্যাসেট তৈরী করে তা থেকে দেখানো যেতে পারে।

(১০) অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ের গীত, উপজাতিদের নানাবিধ নাচ প্রদর্শন করা যেতে পারে, তবে তার ইংলিশ অনুবাদ অবশ্যই থাকতে হবে। ঘোষক কিংবা গাইড সেটা সময়ে সময়ে ইংরেজীতে বলে যাবেন। কিংবা আগে থেকেই সুমধুর কন্ঠে রের্কড করা থাকলে তা বোতাম টিপে বাজিয়ে শুনানো যাবে।

(১১) প্রাচীন কাল থেকে আমাদের দেশে যে সমস্ত হাতের তৈরী বাদ্য যন্ত্র সমুহ ব্যবহার করা হয় তার যুতসই একটা প্রদর্শনী এবং তা কি ভাবে বাজানো হয় দু/চার মিনিট বাজিয়ে তা পর্যটকদের দেখানো হলে সেটা হবে বিদেশীদের জন্য একটি চমক।

(১২) হল রুমের স্টেইজে অতীতে কি ভাবে হামান দিস্তা এবং ঢেঁকির সাহায্যে ধান থেকে চাল আলাদা করা হতো, কি ভাবে তামাক এবং হোঁকা-ছিলিম এর ব্যবহার করে ধূমপান করা হত, কি ভাবে কাঠের তৈরী খড়ম ও খড়মী পায়ে ব্যবহার করা হত, কি ভাবে শীল-পাঠা ব্যবহার করে মরিচ মশল্লা পেষণ হত, (যা আজকের যুগে জিমনাষ্টিক মেশিনে বাহু ব্যায়াম হিসেবে চর্চা করা হয়) কি ভাবে দড়ির তৈরী শিকা ও বাং দিয়ে ভারসাম্য রক্ষা করে ভার বহন করা হয় তা বাস্তব ভাবে দেখানো পর্যটকদের জন্য অতি আনন্দের ব্যাপর। বিষয়গুলো আমাদের কাছে অত্যন্ত হাস্যকর মনে হলেও পর্যটকরা তা অত্যন্ত সিরিয়াস ভাবে গ্রহণ করে আর আনন্দ ও অভিজ্ঞতার জন্য তারা নিজেই এতে অংশ গ্রহণ করার জন্য অতিশয় উৎসাহী হয়ে উঠে।

(১৩) বিয়ে প্রত্যেক কালচারে একটি গুরুত্ত্ব্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের সমাজে বিয়ে হচ্ছে ‘যোগাড় বা এরেইঞ্জ ম্যারেইজ’। আধুনিকতার লেবাছ পরানোর জন্য কেউ কেউ এটাকে প্রপোজেল মেরেইজ বা প্রস্তাবিত বিয়ে হিসেবে উল্লেখ করেন। আমাদের সমাজে বিয়ের ব্যাপারে একজন ঘটক কি ভাবে দূতিয়ালী করেন? কি ভাবে পালকীর প্রচলন ছিল ? গায়ে হলুদ, পান সুপারীর গুরুত্ব, মেহমান আপ্যায়নের গুরুত্ব, মোটামোটি বিয়ে ব্যবস্থাটা কি ভাবে সম্পন্ন হয় এর উপর ইংরেজীতে নাটক বা ড্রামা হিসেবে উন্নত মানের ষ্টেইজে দেখানো হলে তা হবে পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত উচু মানের একটি বিষয়। শুধু বিয়ে কেন আমাদের জীবনের অন্যান্য সামাজিক অবস্থার উপরে অঙ্কিত নাটক সমুহ ইংরেজীতে করা হলে তা হবে পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিষয়।

(১৪) সংস্কৃতিতে প্র্যাকটিস বা অনুশীলন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষ জাতি চেষ্টা ও অদম্য উৎসাহের ভিতর অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে, তা আমরা প্রত্যেক্যেই জানি। আমাদের দেশের প্রাণশক্তিতে ভরপুর শিক্ষিত যুবকরা যদি একক কিংবা গ্রুপ হয়ে (দেশীয় বাদ্যযন্ত্র দ্বারা) ইংরেজীতে বাউল ভাটিয়ালী সুর প্রয়োগ করে গান গেয়ে শুনাতে পারে তাহলে পর্যটকদের কোন অভাব হবেনা আমাদের মাতৃভূমিতে।

(১৫) বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় টেনিস খেলা এবং গল্‌ফ খেলার সুযোগ সুবিধা অবশ্যই থাকতে হবে। আমাদের যে সব ঐতিহাসিক সন্তান, যাদুঘর, প্রাসাদ, মন্দির, মসজিদ, পুরোকীর্তি সমুহের নিদর্শন রয়েছে সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করে তা আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। প্রত্যেকটি দর্শনীয় সন্তানের তথ্যাদি (ডিটেইল্‌স) অর্থাৎ একটি প্রাসাদ কিংবা মসজিদের কথাই ধরা যাক, সেটা কখন কি ভাবে তৈরী হয়েছিল? কে তৈরী করেছিল? এর পেছনে কি গুরূত্বপূর্ণ কোন কাহিনী আছে? এই স্থাপত্যগুলির কারুকার্য ও গঠনশৈলীর নান্দনিক দিক কি? শৈল্পিক মেধা ও মননের যে ভাস্বর দিক আছে তা অবশ্যই পর্যটকদের দেখাতে ও বুঝাতে হবে। উত্তর বঙ্গের পাহাড়পুর, মহাস্থানগড় প্রভৃতি এলাকায় থাকার জন্য আবাসিক মটেল ব্যবস্থা করতে হবে। পঞ্চগড় হয়ে পর্যটকরা যাহাতে ভারতের শিলিগুড়ি, গ্যাঙ্গটক প্রভৃতি সন্তানে ভ্রমনে যেতে পারে সে রকম যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে।

(১৬) সুন্দরবন, সিলেট এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশের যে যে এলাকায় বনাঞ্চল রয়েছে তার পরিচর্যা ও উন্নয়ন ঘটাতে হবে। সেগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির পাখী, প্রজাপতি ও মৌমাছি এসে যাতে নিরাপদে খাবার খেতে পারে ও বাসা বাধতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। আজকাল বিশ্বের প্রচুর বিদেশী পর্যটকরা ‘পাখী-দেখা’ বিষয়টিকে অত্যন্ত শখ ও আনন্দের ব্যাপার হিসেবে বিবেচনা করেন। বহুজাতিক আকর্ষণীয় রঙ্গের প্রজাপতি, মৌমাছি ও এর অন্তর্ভূক্ত। পর্যটকরা এসব প্রাণীর উড়াউড়ি, গান ও জীবন যাত্রার প্রচুর দিক রের্কড করেন, ছবি তুলেন, যা শখ এবং গবেষণার উপকরণ হিসেবে বিবেচিত।

(১৭) শহরের দোকান পাট ছাড়াও সাধারণ পর্যটন এলাকাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের (সুভেনীর) কুটীর শিল্পের ছোট্ট ছোট্ট দ্রব্য সামগ্রী, আর্ট বা কলা-নৈপুণ্যের প্রতিনিধিত্ব করে এরকম পণ্য ও বাচ্চাদের খেলাধুলার সামগ্রী সহ ঘর সাজানোর বা উপহার দেয়ার মত অসংখ্য দ্রব্য সামগ্রী বিক্রির ব্যবস্থা থাকতে হবে। এতদ্ব্যতীত কাপড় চোপড়, ফ্যাশন, সাজ, পারিবারিক ভাবে ব্যবহৃত হয় এরকম সরঞ্জামাদি বিক্রির ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

(১৮) উপরে বর্ণিত বিষয়গুলির উপর আস্থা রেখে পর্যটকদের জন্য বহুমুখী প্যাকেইজ ট্যুরের ব্যবস্থা করা যায়। বিষয়টি পুরোপুরো বাণিজ্যিক হিসাবে জাতীয় ভাবে গ্রহণ করলে তা থেকে যথেষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যাবে। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে বাণিজ্যিক খাতে নিয়ে আসতে হলে যে প্ল্যান, বাজেট ও টিম ওয়ার্কের দরকার তা দু’টি পাঁচসালা পরিকল্পনার আওতায় (১ম ও ২য় পাঁচসালা) এনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। বিষয়টি সহজ নয়, অবশ্যই জটিল এবং বর্তমান বিশ্বে এটা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামুলক ব্যবসা। উক্ত পরিকল্পনার আওতায় কি কি করতে হবে সে জন্য একটি মাষ্টার প্ল্যানের দরকার। যা সম্পূর্ণভাবে আমার বিবেচনায় ও পরিকল্পনায় আছে। প্রয়োজন শুধূ সরকারী বাজেট এবং পৃষ্ঠপোষকতার। আমি অনেকটা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি বাংলাদেশে বর্তমানে যেসব কাঁচামাল রফতানী করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে তার থেকে দ্বিগুন বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যা
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×