জিন্নাতুল হাসান ভাইয়ের এ্যাডসেন্স, ওয়ার্ডপ্রেস, ব্লগিং বিষয়ক ব্লগ bn.jinnatulhasan.com এ এখন থেকে নিয়মিত এই সিরিজ এর লেখাগুলো প্রকাশ পাবে। যারা ব্লগিং এর মাধ্যমে বা গুগুল এ্যাডসেন্সের মাধ্যমে অনলাইনে টাকা আয় করতে ইচ্ছুক, তারা এই সিরিজের লেখাগুলোতে চোখ রাখতে পারেন...
মূল লেখাঃ http://bn.jinnatulhasan.com/2010/10/4662

"এ্যাডসেন্স পাঠশালা-১
সুপ্রিয় ব্লগার বন্ধুরা, আশা করি ভাল আছেন। আজকে থেকে একটা নতুন সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছি যার নাম দিলাম “এ্যাডসেন্স পাঠশালা”। আশা রাখি এখন থেকে মাসে অন্তত একবার করে এ্যাডসেন্স ও ব্লগিং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে কিছু লিখবার চেষ্টা করব। আমার জ্ঞানের পরিধি খুব কম তাই লেখাগুলো সবার জন্য হেল্পফুল হবে না বলাই বাহুল্য। তারপরো যারা অনলাইনে আয় করার উদ্দেশ্যে ব্লগিং করতে চান তাদের জন্য ব্লগের টপিক নির্বাচনের উপায়, কিওয়ার্ড রিসার্চ কৌশল, বিভিন্ন রিসোর্স ব্যবহার করে কন্টেন্ট রাইটিং, ব্যাকলিঙ্কিঙ্ক, লিষ্ট বিল্ডিং, ওয়েব সাইট প্রমোশন, SEO সহ বিভিন্ন বিষয়ে কিছু সাজেশন শেয়ার করবার ইচ্ছে রাখি। প্রথম পর্বে কোন টেকনিক্যাল বিষয়ে না গিয়ে একটু কড়া কটু কিছু কথা বলতে চাই। কথাগুলো কেউ পার্সোনালি না নিয়ে পজিটিভলি গ্রহন করবেন এই আমার প্রত্যাশা। চলুন তবে শুরু করা যাকঃ
শুভবুদ্ধির উদয় হোক:
আমার আজকের এই লেখাটি নিয়ে অনেক বিতর্ক হতে পারে, কেউ কেউ হতাশ হয়ে পরতে পারেন কিন্তু কথাগুলো না বললেই নয় বলেই তড়িত সিদ্ধান্তে আজকের এই লেখায় হাত দিলাম। বেশকিছুদিন আগে আমার একটি লেখা এ্যাডসেন্স বিষয়ক প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিল। সবার সুন্দর সুন্দর মন্তব্য আর শুভকামনা নিঃসন্দেহে ছিল আমার জন্য একটি বড় প্রাপ্তি। সবার মন্তব্যগুলো পড়ার সময় কারো কারো ব্লগ/ওয়েব সাইটে ভিজিট করেছিলাম। প্রায় প্রতিটি ব্লগ দেখেই মনের মাঝে একটা হতাশা কাজ করেছে। কারন একটাই- অধিকাংশ ব্লগই একই রকম। ঘুরেফিরে প্রায় একই টপিকের উপর কাজ করা। কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে ব্লগ বানিয়ে তাতে এ্যাডসেন্স কোড বসিয়ে রাতারাতি বড়লোক হবার দুরন্ত প্রয়াস লক্ষনিয়। খুব বেশি হতাশা কাজ করে হাসান ভাই আর রিয়া আপুর কথা ভেবে। আপনারা জানেন তারা ফুল টাইম চাকুরি করেন। তার উপর নিজের ব্লগ আছে, সেই সাথে আছে হাজারো ঝুট ঝামেলা। এতো কিছুর পরো কোন আর্থিক লাভের আশায় না থেকে তারা আমার, আপনার জন্য সময় বের করে তাদের বাংলা ব্লগ ২টি বানিয়েছেন, এর পেছনে খেটেছেন, মূল্যবান সময় ও শ্রম ব্যায় করেছেন। তাদের এতো ত্যাগের ফসল কি এটাই আমরা এতোদিনে নামকাওয়াস্তে ব্লগ বানিয়ে টাকা আয়ের দিবা স্বপ্ন দেখব? প্রায় ২ ৩ বছর ধরে তারা নিরন্তর লিখে চলছেন। এই দীর্ঘ সময়ে কত লেখা, কত কমেন্টস পরেছে তাদের ব্লগে। সেসব থেকে কি আমরা এই শিক্ষা পেয়েছি?
খারাপ লাগে যখন দেখি আমাদের কেউ কেউ নায়ক নায়িকার ছবি দিয়ে বা সফটওয়্যার ডাউনলোডের লিঙ্ক দিয়ে (যা আবার এ্যাডসেন্সের নিয়মবিরুদ্ধ) ব্লগ বানিয়ে বসে আছেন, তাতে নিজের মূল্যবান মেধা শ্রম দিচ্ছেন। আপনাদের কি মনে হয় এতে ভবিষ্যত আছে? আপনি ব্লগ বানিয়েছেন ভাল কথা কিন্তু যখন এতে এ্যাডসেন্সের কোড বসিয়েছেন তখন বোঝাই যায় আপনার একটি বানিজ্যিক চিন্তা আছে। এতে দোষের কিছু নেই। সমস্যা হোল আপনি যে ভাবছেন এই ব্লগ থেকে আয় করবেন সেই আয় কিভাবে হবে ভেবে দেখেছেন কি? এ্যাডসেন্স থেকে আয় করবেন? করুন। পাঠক পাবেন কিভাবে? আপনার কি মনে হয় পৃথিবীর কয়েক হাজার বা লাখ লাখ বিনোদন আর ওয়ারেজ সাইট থাকতে পাঠক গুগলে সার্চ দিয়ে আপনাকে খুজে পাবে? পাবে না যে তা বলা যায় না কিন্তু তার পরিমান এতোই কম হবে যে আপনি যে পরিমান শ্রম আর সময় দিচ্ছেন তার তুলনায় আপনার প্রাপ্তিটুকু মূল্যহীন মনে হবে। প্রিয় পাঠক, এক মুহুর্তের সিদ্ধান্তে একটি ব্লগের কাজে হাত দেওয়া যায় কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পেতে হলে আপনার গোড়া শক্ত করতে হবে। ভুল টপিক সিলেকশন করে সারাবছর ধরে কাজ করে সাফল্য না পাবার চেয়ে একটি লাভজনক টপিক নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনে ৬ মাস গবেষনা করাও শ্রেয়, কেননা বাকি ৬ মাস আপনি যে কাজ করবেন তার ভবিষ্যত মোটামুটি নিশ্চিত।
কিভাবে ব্লগের টপিক নির্বাচন করবেনঃ
ব্লগের টপিক নির্বাচনের মূল এজেন্ডা হতে পারে দুটি বিষয়ঃ
1. আপনি যে বিষয় ভাল জানেন।
2. যে বিষয়ে কাজ করা লাভজনক।
আপনি যে বিষয়ে ভাল জানেন অবশ্যই সেই টপিকের উপর কাজ করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। সমস্যা হয় তখন যখন আপনার জানা বা ভাললাগার বিষয়টিতে ওয়েবে ভুরি ভুরি সাইট পাওয়া যায়। একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন ব্লগ বানান বা প্রোডাক্ট সেল করেন বা আর যাই করেন আপনার সাফল্য পেতে হলে ভিজিটর পেতে হবে। তীব্র প্রতিযোগিতামূলক টপিকে কাজ করলে আমার আপনার পক্ষে ৯৯.৯% ক্ষেত্রেই সম্ভব হবে না অন্য সবার সাথে প্রতিযোগিতা করে পাঠক পেতে। হয়তো ভাবতে পারেন সেই পপুলার টপিকের হাজার ভাগের একভাগ পাঠক পেলেই আপনি খুশি। বাস্তবতা হোল হয়তো এতে সাময়িক কিছু লাভ পাবেন কিন্তু আপনার ভবিষ্যত হবে বড্ড অনিশ্চিত। সেই তুলনায় অনেক কম পাঠক পেয়েও ব্যতিক্রমধর্মী টপিকে বা একটি নিশের লং টেইল কিছু কিওয়ার্ড টার্গেট করে কাজ করে বহুগুন বেশি সাফল্য পেতে পারেন। এবার আসি লাভজনক টপিক নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে। গুগলে সার্চ দিলে বা বিভিন্ন ব্লগ সাইটে ঢু মারলে দেখবেন অনেক টপিক আছে যার জন্য Estimated Avg. CPC এর হার অনেক বেশি। এই ধরনের টপিকে কাজ করলেই কি রাতারাতি সাফল্য পাবেন? অবশ্যই না। কেননা আমাদের দুর্ভাগ্য এখন ২০১০ চলছে। আমার আপনার অনেক আগেই সেই সব টপিকের উপর অনেক কাজ হয়ে গেছে এবং যারা কাজগুলো করেছেন তারা বেশ শক্ত কম্পিটিটর যাদের সাথে প্রতিযোগতা করে নিজের অবস্থান গড়ে তোলা আমাদের অনেকের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে পড়বে। সুতরাং এভাবেও হয়তো সাফল্য আসবে না।
তাহলে উপায়?
ভাবছেন এভাবে চিন্তা করলে তো সামনে আর কেউ নতুন কোন সাইট বানাবে না। আসলে তাই। এভাবে চিন্তা করলে ব্লগের টপিক খুজে পাওয়া কঠিন কিন্তু আপনি যদি একটু বুদ্ধি করে এর মাঝ থেকেই সেই লাভজনক টপিকটি খুজে বের করতে পারেন যে টপিকের উপর আপনার খুব বেশি জ্ঞান না থাকার পরো কেবলমাত্র আগ্রহ থাকায় নিয়মিত কাজ করে যেতে পারবেন তবে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পেতে পারেন। আমরা ব্লগিং শুরু করি অন্ধের মতো। কি লিখব কেন লিখব তা বিশ্লেষন না করেই কাজে হাত দেই। অথচ একটু সময় নিয়ে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে বিষয়টি নিয়ে মাথা খাটিয়ে একটা আউটলাইন তৈরি করে সে অনুযায়ি এগুতে পারলে সাফল্যের সম্ভাবনা বহু গুন বেরে যায়। কিওয়ার্ড রিসার্চ কথাটা যতো সহজে বলা যায় বাস্তবিক অর্থে তা অনেক বেশি জটিল আর কিছুটা অনিশ্চয়তায় ঘেরা । সামনের পর্বগুলোতে এ বিষয়ে সহজ কিন্তু কার্যকর কিছু সাজেশন শেয়ার করার চেষ্টা থাকবে। আজ পর্যন্তই। ভাল থাকুন সবাই…Happy Blogging."
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



